প্রচ্ছদ প্রতিবেদন

‘ডাক টাকা’ ও জরুরি সেবা ৯৯৯ সার্ভিস উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টা : শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগিয়ে চলছে ডিজিটাল বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা

নিজস্ব প্রতিবেদক : ২০০৯ সালে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার যে প্রত্যয় ঘোষণা করা হয় তার অগ্রযাত্রা অব্যাহত আছে ২০১৭ সালেও। সরকারের ৯ বছরের প্রচেষ্টায় দেশ অনেকটাই ডিজিটালাইজড হয়েছে। দেশকে শতভাগ ডিজিটালাইজড করার ক্ষেত্রে বিভিন্ন সেক্টরে অনন্য অবদান রেখে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। এরই অংশ হিসেবে পোস্ট অফিসের মাধ্যমে দেশের মানুষকে ব্যাংকিং সুবিধার (আন-ব্যাংকড) আওতায় আনতে ‘ডাক টাকা’ নামে একটি সেবা চালু করেছে ডাক বিভাগ। মোবাইলের মাধ্যমে এই টাকা (ডিজিটাল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস) লেনদেন হবে। ১১ ডিসেম্বর সচিবালয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সম্মেলন কে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ডাক টাকার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়।
ডাক টাকা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, ডাক বিভাগের এই সেবা উদ্বোধন করতে পেরে আমি আনন্দিত। ডাক টাকায় সর্বনিম্ন দুই টাকা রেখে একাউন্ট পরিচালনা করা যাবে। একাউন্টে মাত্র দুই টাকা ব্যালেন্স থাকলেই এটি সচল থাকবে। বাংলাদেশ ব্যাংক এ প্রক্রিয়া শুরু করেছিল ১০ টাকা দিয়ে। গ্রামে বা ইউনিয়ন পর্যায়ে সাধারণত ব্যাংকের শাখা নেই। ব্যাংক করতে অনেক টাকা লাগে, সময় লাগে। এ কারণে আমরা চেয়েছি ডাকঘরের মাধ্যমে এই সেবা গ্রামের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে। যাতে তারা গ্রামে বসে টাকা লেনদেন, ভাতা পাওয়া ও খরচ করতে পারেন। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে এই টাকা লেনদেন ডিজিটাল বাংলাদেশেরই একটি অংশ। ২০২১ সালের মধ্যে দেশ তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে সরকার নানা উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। জনগণের সুবিধার্থে সরকার গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত ইন্টারনেট সার্ভিস চালু করেছে। যেকোনো মানুষ এখন ইন্টারনেট সুবিধার আওতায় চলে এসেছেন। গ্রামে থেকেই তারা সরকারের প্রায় ২০০টি সেবা নিতে পারছেন। তথ্যপ্রযুক্তির যুগে এখন আর কেউ চিঠি লেখে না। তাই ডাক বিভাগের কাজও অনেক কমে গেছে। কিন্তু এক সময় ডাক বিভাগ ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিভাগ। এই বিভাগকে কাজে লাগাতে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। মোবাইলের মাধ্যমে ডাক টাকা পাঠানো তারই একটি অংশ।
ডাক টাকা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সচিব শ্যামসুন্দর শিকদার এবং বিটিআরসির চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ ও বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানির এমডি প্রকৌশলী মশিউর রহমান প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে ডাক বিভাগকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল করা হবে। আমাদের ল্য ২০১৮ সালের মধ্যে ৩ কোটি ‘আন ব্যাংকড’ মানুষকে এই সেবার আওতায় আনা। মানুষের হাতের নাগলে সেবা পৌঁছে দিতে ডাক বিভাগ ইতোমধ্যে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ফলে অন্যান্য মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মতো ডাক টাকা দেশের মানুষকে ব্যাংকিং সুবিধার আওতায় আনতে সহযোগিতা করবে।
অনুষ্ঠানে টাঙ্গাইলের বাসিন্দা মর্জিনা বেগমের মোবাইল নম্বর দিয়ে হিসাব খুলে এই সেবার উদ্বোধন করা হয়। মর্জিনা বেগমের কোনো ব্যাংক হিসাব নেই। ডাক টাকা পাঠানোর বিষয়ে কারিগরি সহযোগিতা দিচ্ছে ডিমানি ও আইটিসিএল।
জানা গেছে, ডাক টাকা চালুর পাশাপাশি ইতোমধ্যে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে মোবাইল ব্যাংকিং। এক স্থান হতে অন্য স্থানে দ্রুততম সময়ে টাকা পাঠানোর অন্যতম জনপ্রিয় মাধ্যম এটি। বর্তমানে এ সেবা ব্যবহার করে মানুষজন শহর-গ্রাম কিংবা বিদেশ থেকে নির্বিঘেœ অর্থ পাঠাচ্ছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, সর্বশেষ অক্টোবর মাসে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে গড়ে প্রতিদিন লেনদেন হয়েছে ৮৯১ কোটি টাকা। এই সময়ে দেশে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের গ্রাহক সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৫ কোটি ৭৭ লাখ। এক মাসের ব্যবধানে সক্রিয় হিসাবের সংখ্যা ৬ দশমিক ৭৫ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৭৯ লাখ। গত সেপ্টেম্বর মাসে মোবাইল ব্যাংকিং সেবার আওতায় খোলা হিসাবের মধ্যে সক্রিয় হিসাব ছিল ৩ কোটি। প্রতিবেদনে দেখা যায়, গত অক্টোবর মাস শেষে ব্যাংকগুলোর মনোনীত এজেন্টের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৭৪ হাজার ৮৯২ জন। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের এই অগ্রযাত্রার পেছনে রয়েছে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের উদ্যোগ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে চলেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়।
দুই.
জরুরি প্রয়োজনে শুধুমাত্র একটি ফোনকল নম্বর ‘৯৯৯’। ডায়াল করলেই প্রয়োজন অনুযায়ী সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে ছুটে যাবে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস কর্মী কিংবা অ্যাম্বুলেন্স। ভিকটিমকে উদ্ধার ও সহায়তা বা অপরাধীকে আটক করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করবে। বিনামূল্যে কল করে ফায়ার সার্ভিস বা অ্যাম্বুলেন্স কিংবা জরুরি প্রয়োজনে পুলিশি সহায়তা দিতে ‘জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র এবং প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর আব্দুল গণি রোডে অবস্থিত ডিএমপির সেন্ট্রাল কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টারে জরুরি এ সেবার উদ্বোধনকালে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, ‘উন্নত দেশগুলোর মতো জাতীয় জরুরি সেবা আমাদের দেশেও পাওয়া যাবে। ৯৯৯ নম্বরে কল করে যেকোনো মুহূর্তে সেবা মিলবে।’
৯৯৯ অপারেট করবে পুলিশ। কোনো অপরাধ সংঘটিত হতে দেখলে, প্রাণনাশের আশঙ্কা দেখা দিলে, কোনো হতাহতের ঘটনা চোখে পড়লে, কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে, অগ্নিকা-ের ঘটনা ঘটলে ও অ্যাম্বুলেন্সের প্রয়োজন পড়লে ৯৯৯ নাম্বারে ডায়াল করলেই সেবা পাওয়া যাবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নে বদ্ধপরিকর। আওয়ামী লীগের সেবা শুধু আজকের নয়, ভবিষ্যতের। আমরা চাই সরকারের সব সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে। এই সেবার মাধ্যমে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসসহ বিভিন্ন সংস্থাকে যেকোনো তথ্য সহজেই জানানো যাবে। সঙ্গে সঙ্গে তার প্রতিকারও পাওয়া যাবে। আমেরিকায় কোথাও আগুন লাগলে জরুরি নাম্বারে ফোন করা হলে সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিস এসে আগুন নেভায়। বাংলাদেশেও এরকম একটি সেবা আজ উদ্বোধন করা হলো।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ৯৯৯ নাম্বারটিতে ফোন করতে গ্রাহকের কোনো টাকা খরচ হবে না, এটি সম্পূর্ণ ফ্রি। এই কল সেন্টারের দায়িত্বে থাকা পুলিশের সদস্যরা ২৪ ঘণ্টা সেবা দেবেন। ২০১৬ সালের ১ অক্টোবর থেকে ২০১৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সেখানে পরীামূলকভাবে সেবা দেয়া হয়। তার ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সেবা প্রত্যাশীদের মধ্যে ৬৪ দশমিক ৮০ শতাংশ পুলিশি সেবা, ৩১ দশমিক ১০ শতাংশ ফায়ার সার্ভিস এবং ৪ দশমিক ১০ শতাংশ অ্যাম্বুলেন্সের জন্য ফোন করেছিলেন। গত ৮ অক্টোবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সভাশেষে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক সাংবাদিকদের বলেছিলেন, গত ১ বছরে ৯৯৯ নাম্বারে প্রায় ৩৩ লাখ কল এসেছে। তখন সকাল ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত কল করা যেত। তবে এখন থেকে ২৪ ঘণ্টাই কল গ্রহণ করা হবে। ছয় মাসের অভিজ্ঞতার আলোকে ভুল-ত্র“টিগুলো শুধরে নিয়ে ও নতুন নতুন যেসব সংযোজন-বিয়োজন দরকার ছিল, তা করে এই সেবাটি পুরোদমে চালু করার কথা জানিয়েছে কর্তৃপ। পুলিশ জানিয়েছে, ৯৯৯ সেবার প্রশিতি প্রতিনিধিরা জরুরি মুহূর্তে প্রয়োজন অনুযায়ী ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ বা অ্যাম্বুলেন্স সেবা প্রদানকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেবেন। এজন্য গত ১ বছরে অপারেটরদের প্রয়োজনীয় প্রশিণও দেয়া হয়েছে।
ডিএমপি’র ক্রাইম কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টারে ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে এ সেবা কার্যক্রমের উদ্বোধনের পর সজীব ওয়াজেদ জয় জাতীয় জরুরি সেবা কেন্দ্রের কল সেন্টার পরিদর্শন করেন। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব মোস্তাফা কামাল উদ্দীন, পুলিশ মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হকসহ পুলিশ বিভাগের শীর্ষ পর্যায়ের অনেক কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
৯৯৯ উদ্বোধনের পর রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, এটি ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার পথে একটি মাইলফলক। জরুরি সেবা বিদেশেও দেখেছেন, বাংলাদেশেও উপলব্ধি করবেন। সভাপতির বক্তৃতায় পুলিশ মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক বলেন, প্রাথমিক অবস্থায় একই সময় দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে আমরা ১২০টি কল রিসিভ করতে পারবো। এটা ৩০০-তে নিয়ে যাওয়া হবে। অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ফখরুল ইমাম ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দীন।
তিন.
‘শুভ সকাল, আসসালামু আলাইকুম।’ বলতেই ফোনের অন্যপ্রান্ত থেকে এক সেবাপ্রত্যাশী বলেন, ‘এইটা পুলিশের নাম্বার? আমার সাহায্য দরকার। আমি নদীতে আছি। লুট হইছে। পুলিশ পাঠান।’ ১২ ডিসেম্বর যখন পুলিশের জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’ কেন্দ্রের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের প্রস্তুতি চূড়ান্ত তখনই কেন্দ্রে আসে ফোনটি। এরপর ফোনটি দ্রুত কল ডেসপাচারের কাছে হস্তান্তর করেন কল টেকার। পরে তৎণাৎ ব্যবস্থা নেয়া হয়। বেলা ২টা ১০ মিনিটে ময়মনসিংহের পুরোহিতপাড়া থেকে আরেকটি কল আসে ৯৯৯ নাম্বারে। এক সেবাপ্রত্যাশী বলেন, ‘দুই করে একটি বাসায় আগুন লেগেছে, দ্রুত ফায়ার সার্ভিসকর্মীদের পাঠান।’ তখনই ময়মনসিংহ সদর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে বিষয়টি জানিয়ে দেন ৯৯৯ কল সেন্টারের সংশ্লিষ্ট কর্মী। পরে তিনি খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন আগুনে কিছু আসবাবপত্র পুড়েছে, তবে কেউ হতাহত হয়নি।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ৯৯৯ নাম্বারটিতে অপ্রচলিত এবং জনসচেতনতার অভাবে অপ্রয়োজনীয় কলই বেশি আসছে। তবে সেবাপ্রার্থীদের কলগুলো তিনটি পর্যায়ে পাঁচ স্তরের পুলিশ সদস্যরা এই সেবা দিচ্ছেন। এখন দিনে ১৫ হাজারের বেশি ফোন আসবে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে পুলিশ মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক বলেন, ‘বিপদের সময় মানুষ পুলিশকে ফোন করে। কিন্তু সারাদেশে পুলিশের এত ইউনিটের নম্বর মনে রাখা সম্ভব নয়। তাই আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর আমি একটি সংপ্তি নাম্বারে পুলিশি সেবা দেয়ার উদ্যোগ নেই।’
আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক জানান, ৯৯৯ নাম্বারে একসঙ্গে ১২০টি পর্যন্ত কল গ্রহণ করার সমতা আমাদের রয়েছে। এই মুহূর্তে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সেবা পুরোদমেই দেয়া যাবে। আপাতত সারাদেশে সরকারি-বেসরকারি সাড়ে ৪ হাজার অ্যাম্বুলেন্স তালিকাভুক্ত করা হয়েছে, যারা এই সেবা দেবে। ভবিষ্যতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকেও কল করে এ সেবা পাওয়া যাবে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ৯৯৯-এ যেসব কল আসে তার বেশিরভাগই ভুল করে আসা মোবাইল ফোনসংক্রান্ত। কারণ একটি অপারেটর ও উবারের নাম্বারের সঙ্গে এর মিল আছে। এরপর আসে ক্রাইং বা ব্লাইং কল। অপ্রত্যাশিত এসব কল অনেকে কৌতূহলে করে থাকে। কেউ হয়রানির জন্যও করে। তবে পুলিশ সদস্যরা অপোয় থাকেন সিএফএস কলের জন্য। এ কল পেলে পুলিশ ফায়ার সার্ভিস ও অ্যাম্বুলেন্সের সেবা নিশ্চিত করেন ৯৯৯ কর্মীরা।
কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা পুলিশ সুপার (এসপি) তবারক উল্লাহ বলেন, ২৬ অক্টোবর থেকে তারা পরীামূলকভাবে ৯৯৯ সেবা চালু করলেও জনসচেতনতা ছিল না। এখন মানুষ সচেতন হয়ে ফোন করে সেবা চাইবে বলে আমরা আশা করছি।