বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সংগঠনকে সুশৃঙ্খল ও শক্তিশালী করতে যেকোনো ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত আছি

| December 18, 2017

তরিকুল ইসলাম, সভাপতি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ

তরিকুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার আগে থেকেই পারিবারিক সূত্রে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় স্নাত আওয়ামী লীগের রাজনীতি সম্পর্কে সচেতন। উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করতে এসে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সংযুক্ত হন। বাগেরহাটের সন্তান ঢাকার একটি স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের হাল ধরে এগিয়ে চলেছেন। তার পথ চলার সেই সফল কাহিনি এবং নানা প্রতিবন্ধকতা তুলে ধরেছেন এস এম আল-আমিন। দেশের ছাত্র রাজনীতির অতীত ও বর্তমান হালচাল ও শিক্ষা ব্যবস্থা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ সভাপতি তরিকুল ইসলামের সাথে কথা বলেছেন প্রতিষ্ঠানেরই সাংবাদিক সমিতির সাবেক সভাপতি এস এম আল-আমিন। উভয়ের আলাপচারিতার উল্লেখযোগ্য অংশ স্বদেশ খবর পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।
এস এম আল-আমিন : ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে ছাত্র রাজনীতিতে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
তরিকুল ইসলাম : জননেত্রী শেখ হাসিনা তাঁর একটি প্রবন্ধে ছাত্র রাজনীতির মূল লক্ষ্য সম্পর্কে লিখেছেনÑ ‘ছাত্র রাজনীতির মূল লক্ষ্য হচ্ছে সমাজ, দেশ ও রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বদানে নিজেকে গড়ে তোলা।’ (শেখ হাসিনা রচনা সমগ্র ১, পৃঃ ১৭৯) এজন্য তিনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার উপযুক্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছিলেন ১৯৯৪ সালের প্রথম থেকেই। নেত্রীর এই প্রত্যাশা অনুসারে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও তাঁর স্বপ্ন বাস্তবায়নে নিজেকে উৎসর্গ করতে চাই। যে আদর্শ ও স্বপ্ন নিয়ে ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন সেই সংগঠনে কাজ করতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি। আর সেই সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর সেই আদর্শের সংগঠনকে সুশৃঙ্খল ও শক্তিশালী করতে যেকোনো ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত আছি।
এস এম আল-আমিন : জগন্নাথের ছাত্রলীগের কমিটিতে বিভিন্ন আঞ্চলিক গ্রুপ বা উপগ্রুপ আছে। এটা কেন? গ্রুপিংয়ের কারণে কি সংকট তৈরি হয়? সংকট হলে সমাধান কী?
তরিকুল ইসলাম : জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগে বিভিন্ন আঞ্চলিক উপগ্রুপ সৃষ্টি হয়। তবে সেগুলো সৃষ্টি হয় নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে। এ আঞ্চলিক উপগ্রুপ সৃষ্টির সুবিধা হলো ওই অঞ্চলের ছাত্রদের মধ্যে এক ধরনের ঐক্য গড়ে ওঠে। আর এ গ্রুপিংয়ে সামান্য সংকট সৃষ্টি হয়। তবে সেটা রাজনীতিতে তেমন কোনো প্রভাব ফেলে না। নতুন কমিটি ঘোষণা হলে সে সংকট শেষ হয়ে যায়।
এস এম আল-আমিন : রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ছাত্র ও নেতা হিসেবে শিক্ষার সুন্দর পরিবেশ রক্ষায় আপনার ভূমিকা কী হবে?
তরিকুল ইসলাম : শুধু একজন ছাত্রনেতা হিসেবে নয় একজন ছাত্র হিসেবে আমি চাই ক্যাম্পাসে সবসময় শিক্ষার ভালো পরিবেশ বজায় থাকুক। আর একজন সাধারণ ছাত্রের চাহিদা হিসেবে আমি সবসময় শিক্ষার উত্তম পরিবেশ বজায় রাখতে সব ধরনের কাজ করে যাবো। শেখ হাসিনা ‘স্কুল জীবনের কিছু স্মৃতিকথা’ (সাদা কালো) প্রবন্ধে লিখেছেন, ‘আমাদের দেশে ছাত্র রাজনীতির ঐতিহ্য ছিল অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবার আন্দোলন করার জন্য। ছাত্র রাজনীতির এই ঐতিহ্য নষ্ট করার জন্য আইয়ুব খানের আমলেই ছাত্র রাজনীতিতে অস্ত্রধারীদের মহড়া শুরু হয়। মেধাবী গরিব ছাত্রদের অর্থ দিয়ে ছাত্র রাজনীতি ধ্বংসের এই চক্রান্ত আজও বিদ্যমান।’ তবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অস্ত্রধারীদের মহড়ার মাধ্যমে ছাত্র রাজনীতি ধ্বংসের ষড়যন্ত্র করা হলে সকলের সহযোগিতা নিয়ে আমি তা প্রতিরোধ করে শিক্ষার পরিবেশ রক্ষা করব।
এস এম আল-আমিন : ছাত্র রাজনীতির মধ্য দিয়ে দেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতিবিদ তৈরি সম্ভব কি? কিভাবে?
তরিকুল ইসলাম : সবসময় ছাত্র রাজনীতির মধ্য দিয়ে ভবিষ্যৎ রাজনীতিবিদ তৈরি হয়। ছাত্র রাজনীতি হলো রাজনীতির প্রাইমারি লেভেল। আমি মনে করি যে নেতা অতীতে ছাত্র রাজনীতি করেননি তার রাজনীতি পরিপক্ব নয়। ছাত্র রাজনীতির মধ্য দিয়ে রাজনীতির প্রকৃত শিক্ষা অর্জিত হয়।
এস এম আল-আমিন : সারাদেশে বর্তমান ছাত্রলীগের কর্মকা- প্রশংসা পাওয়ার দাবি রাখে কি? তারা কি বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার আদর্শ ধারণ করে?
তরিকুল ইসলাম : অবশ্যই সারাদেশে ছাত্রলীগের কর্মকা- প্রশংসা পাওয়ার দাবি রাখে। ছাত্রলীগের প্রতিটি নেতাকর্মী বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার আদর্শ ধারণ করে। আর যারা এ আদর্শ ধারণ করে না তারা তো ছাত্রলীগ না। ছাত্রলীগ মানেই তো বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনা।
এস এম আল-আমিন : ছাত্র রাজনীতিকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হলে আপনার করণীয় কী হবে? কর্মীদের আদর্শ ও নৈতিকতার শিক্ষা দেবেন কিভাবে।
তরিকুল ইসলাম : ছাত্র রাজনীতিকে কেন্দ্র করে কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে আমি তা কঠোর হস্তে দমন করব। কেননা শৃঙ্খলা ছাত্রলীগের অন্যতম প্রধান শর্ত। যেখানে শৃঙ্খলা নেই সেখানে শান্তি থাকতে পারে না। আর যেখানে ছাত্রলীগের মূূলনীতি হলো শিক্ষা, শান্তি ও প্রগতিÑ সেখানে ছাত্রলীগ বিশৃঙ্খলা মেনে নিতে পারে না। প্রাতিষ্ঠানিক লেখাপড়ার পাশাপাশি বিভিন্ন বাস্তবধর্মী কর্মশালার মাধ্যমে ছাত্রলীগের কর্মীদের আদর্শ ও নৈতিকতার শিক্ষা দেয়া হয়।
এস এম আল-আমিন : বর্তমান সরকারের ভিশন ও মিশন বাস্তবায়নে আপনার পক্ষ থেকে কোনো অবদান রাখা সম্ভব কি? কিভাবে?
তরিকুল ইসলাম : শেখ হাসিনা সবসময় বলে থাকেন, ‘জনগণের ভাত ও ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করাই আমার রাজনীতি।’ আমিও তাই মনে করি। বর্তমান সরকারের ভিশন ও মিশনে কাজ করার জন্যই তো আমি রাজনীতি করি। আমি আমার ব্যক্তিগত স্বার্থের চেয়ে দেশ ও দলের স্বার্থকে বেশি প্রাধান্য দিই। শেখ হাসিনা সরকারের ভিশন ও মিশন বাস্তবায়নে আমি আমার অবস্থান থেকে কাজ করে যাচ্ছি এবং করে যাবো ইনশাআল্লাহ। আর দেশ ও জনগণের জন্য যে অবদান রাখার কথা তা আমার বুদ্ধি, পরামর্শ ও শ্রমের মাধ্যমে দিয়ে থাকি।
এস এম আল-আমিন : জাতীয় নির্বাচনে আপনারা কিভাবে সম্পৃক্ত হবেন? তরুণ সমাজকে শেখ হাসিনার আদর্শ গ্রহণ করতে কিভাবে উদ্বুদ্ধ করবেন?
তরিকুল ইসলাম : বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অবদান সম্পর্কে জননেত্রী শেখ হাসিনা লিখেছেন, ‘সুশাসন কাকে বলে? যে সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার মাধ্যমে মানুষের মনে আস্থা ও বিশ্বাস স্থাপন করতে পারে এবং খাদ্যের অভাব দূর করতে পারে, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে তাকেই তো অল্প কথায় সুশাসন বলে। জনগণের সমস্যা দূর করতে পারলেই তো রাজনীতি জনগণের কল্যাণের জন্য করা বোঝায়। আওয়ামী লীগ সরকার সবসময়ই জনগণকে কিছু দিয়েছে। এদেশের মানুষ যা অর্জন করেছে তার সিংহভাগ আওয়ামী লীগের দেয়া।’(কণ্ঠ আজিকে রুদ্ধ আমার, সবুজ মাঠ পেরিয়ে) জাতীয় নির্বাচনে আমরা শুধু ছাত্রলীগের কর্মী নয় দেশের শিক্ষিত সচেতন নাগরিক হিসেবে এদেশ ও এদেশের জনগণকে নিয়ে বঙ্গবন্ধু ও তাঁর সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরতœ শেখ হাসিনার স্বপ্নকে প্রচার করব। আমাদের এদেশের জনগণের ভাগ্যোন্নয়নে শেখ হাসিনা সরকারের যে কোনো বিকল্প নেই, তার বাস্তব চিত্র তুলে ধরব। আমরা বিভিন্ন প্রচার ও প্রচারণার মাধ্যমে শেখ হাসিনা সরকারের উন্নয়নের বিচিত্র বার্তা জনগণের কাছে পৌঁছে দেব এবং দেশের স্বার্থে, দেশের জনগণের স্বার্থে যে আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনা সরকারের কোনো বিকল্প নেই সেটা বুঝাতে চেষ্টা করব।
এস এম আল-আমিন : ভবিষ্যতে কেমন ছাত্র রাজনীতি দেখতে চান?
তরিকুল ইসলাম : জননেত্রী শেখ হাসিনা লিখেছেন, ‘আমরা শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাসের বিরোধী।’ তাঁর উৎসাহে বর্তমান শতাব্দীতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশ নির্মাণের জন্য নতুন প্রজন্মের সাহসী সৈনিকরা অনেকেই আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে এগিয়ে এসেছেন। আর জননেত্রী শেখ হাসিনার যুগোপযোগী নেতৃত্বের কারণে দেশ এগিয়ে চলেছে। আমার মতে, নেতা হবেন নরম তুলতুলে। সকল কর্মী নেতাকে ছুঁয়ে দেখতে পারবে- তিনি কেমন নেতা! আবার নেতার নির্দেশনায় থাকবে কঠোরতা। আমি ঠিক ওই রকম একজন নেতা হতে চাই, আমার কোনো কর্মী আমাকে ভয় পাবে না, তারা সবাই আমাকে ভালোবাসবে এবং শ্রদ্ধা করবে। আমার নির্দেশনাকে অক্ষরে অক্ষরে পালন করবে।
এস এম আল-আমিন : আপনাকে ধন্যবাদ।
তরিকুল ইসলাম : আপনাকেও ধন্যবাদ।

Category: ফিচার

About admin: View author profile.

Comments are closed.