বাংলাদেশি ছাত্রছাত্রীরা চীনে স্কলারশিপ পেতে পারে যেভাবে

| December 18, 2017

চীন সরকার প্রতি বছর বাংলাদেশি ছাত্রদেরকে আন্ডার গ্র্যাজুয়েট, গ্র্যাজুয়েট, পিএইচডি, পোস্ট পিএইচডি, চাইনিজ ভাষা শিা প্রোগ্রামের আওতায় স্কলারশিপ দিয়ে থাকে। বাংলাদেশস্থ চাইনিজ দূতাবাসের কালচারাল শাখা এই দায়িত্ব পালন করে। চীনে স্কলারশিপ পাওয়ার জন্য কয়েক উপায়ে আবেদন করা যায়-
এক.
ক. বাংলাদেশস্থ চাইনিজ দূতাবাসের মাধ্যমে
বাংলাদেশে যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে চাইনিজ ভাষা শেখায় তাদের মাধ্যমে আবেদন করা। এটা সবচেয়ে সুবিধাজনক। এেেত্র চীনে আসা-যাওয়ার খরচসহ সব ধরনের সুযোগ সুবিধা পাওয়া যায়। বাংলাদেশে অবস্থানরত চাইনিজ টিচাররা রিকমেনডেশন করে, কাগজপত্রের কোনো ঝামেলা নাই। কারণ আপনি যেখানে পড়বেন সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিকের কাছ থেকে ইনভাইটেশন লেটার নিতে হবে না। এটা পজিটিভ পয়েন্ট। বাংলাদেশস্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের চাইনিজ শিকরা কাগজপত্র প্রস্তুত করতে সহায়তা করায় বৃত্তি পাওয়ার সম্ভাবনা নিশ্চিত বলা যায়। তবে সমস্যা একটাই উনারা চাইনিজ ভাষার ওপর একটা পরীা নেন তাতে যারা ভালো করে শুধু তাদের জন্য রিকমেনডেশন করেন।
অপরদিকে, বাংলাদেশ থেকে ইন্টারনেটে চায়নিজ টিচারদের সাথে যোগাযোগ করে ইনভাইটেশন লেটার সংগ্রহ করা অনেক কষ্টসাধ্য।
বৃত্তিগুলো চায়না স্কলারশিপ কাউন্সিল (ঈঝঈ) এর অধীনে দেয়া হয়। চীনের এডুকেশন মিনিস্ট্রি সুপারিশ করে এদের জন্য। তাই বৃত্তি পাওয়া নিয়ে কোনো টেনশন করতে হয় না।
আর বৃত্তি পাওয়া শিার্থীদের রিসিভ করার জন্য এয়ারপোর্টসহ সব জায়গায় চাইনিজ গভর্নমেন্টের লোক থাকে, যেমন-কুনমিং এয়ারপোর্ট, বেইজিং এয়ারপোর্ট। তাদের গাড়িতে করে নিয়ে যায় বেইজিং এয়ারপোর্ট থেকে বেইজিং ল্যাংগুয়েজ অ্যান্ড কালচারাল বিশ্ববিদ্যালয়ে। ওখানে অবস্থান শেষে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছে দেয়ার জন্য ট্রেনে উঠিয়ে দেয়। ট্রেন স্টেশনে পৌঁছালে বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়ি এসে নিয়ে যায়। বিদেশি শিার্থীদের জন্য এটা এক আলিশান ব্যবস্থা, যেন রাজকীয় অতিথি।
এছাড়াও কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের অধীন বৃত্তির জন্যও আবেদন করা যায় শুধুমাত্র চাইনিজ ভাষা শিার জন্য। তবে এতে একটাই সমস্যাÑ যাতায়াত খরচসহ সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছা নিজ দায়িত্বে।
খ. বাংলাদেশ সরকারের শিা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে
উনারাও কাগজপত্র বাংলাদেশস্থ চাইনিজ দূতাবাসে প্রেরণ করেন। তবে এই মাধ্যমে কাগজপত্রের বহু ঝামেলা পোহাতে হয়।
চায়না স্কলারশিপ কাউন্সিল (ঈঝঈ) এর অধীন বৃত্তির আত্ততায় সবকিছু ফ্রি [টিউশন, ডরমিটরি, অ্যাডুকেশন ম্যাটেরিয়াল, ল্যাব খরচ, হেল্থ ইন্সুরেন্স] আর লিভিং অ্যালাউয়েন্স হিসেবে প্রতি মাসে-
১. অনার্স – ১৪০০ ইউয়ান
২. মাস্টার্স – ১৭০০ ইউয়ান
৩. পিএইচডি – ২০০০ ইউয়ান
পিএইচডি, মাস্টার্স ছাত্ররা স্পাউস ভিসার অধীনে ফ্যামিলি নিয়ে আসতে পারেন কিন্তু অনার্স ছাত্ররা পারে না।
২০১৬ সালে বাংলাদেশস্থ চাইনিজ দূতাবাসের মাধ্যমে ৩৭ জনকে বৃত্তি দেয়া হয়েছে। ২০১৫ সালে দেয়া হয়েছিল ৪৫ জনকে।
বাংলাদেশে যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে চাইনিজ ভাষা শেখানো হয় সেগুলো হচ্ছে
১. আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট, ঢাবি
২. কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট, এনএসইউ
৩. ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়
৪. সিআরআই কনফুসিয়াস কাসরুম, শান্তা মরিয়াম বিশ্ববিদ্যালয়
দুই. সরাসরি চায়না স্কলারশিপ কাউন্সিল (ঈঝঈ), বেইজিং অফিসে আবেদন করা যায়। তবে যে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বেন ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিকের কাছ থেকে ইনভাইটেশন লেটার নিতে হবে। এেেত্র অবশ্য আগে থেকে চাইনিজ ভাষা জানার প্রয়োজন নেই। বর্তমানে যারা চীনে পড়ছেন তারা খুব সহজে তাদের স্বামী বা স্ত্রীর জন্য ইনভাইটেশন লেটার সংগ্রহ করতে পারেন।
সুযোগ সুবিধা উপরের উল্লেখিত ধারায় তবে এেেত্র যাতায়াত খরচসহ সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছা নিজ দায়িত্বে।
তিন. সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে যোগাযোগ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব বৃত্তির জন্য আবেদন করা যায়। এেেত্রও ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিকের কাছ থেকে ইনভাইটেশন লেটার নিতে হয়। এেেত্র অবশ্য আগে থেকে চাইনিজ ভাষা জানার প্রয়োজন নেই।
তবে এরা অনেক সময় ফুল স্কলারশিপ দেয় আবার অনেক সময় আংশিক। যেমন লিভিং অ্যালাউয়েন্স দেয় কিন্তু ডরমিটরিতে থাকার জন্য নিজেকে খরচ বহন করতে হয়, এটা একটা বড় সমস্যা। কেননা ডরমিটরি ফি অনেক, যেমন কোথাও কোথাও ৬০০ ইউয়ান। এডুকেশন ম্যাটেরিয়াল [ল্যাব খরচসহ] নিজেকে কিনতে হয় এবং যাতায়াত খরচসহ সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছাও নিজ দায়িত্বে। এছাড়াও হেলথ ইন্সুরেন্স খরচ নিজের।
বাংলাদেশে যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে চাইনিজ ভাষা শেখায় সেগুলোতে ভর্তি হওয়ার যোগ্যতা কমপে এইচএসসি পাস। আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট, ঢাবি তে ভর্তি হতে ভর্তি পরীা দিতে হয় কিন্তু অন্য ৩টা তে দিতে হয় না। সরাসরি ভর্তি হওয়া যায়। কারণ ঢাবি তে খরচ কম, ১ বছরের জুনিয়র কোর্স করতে সব মিলিয়ে ৩০০০ টাকা, তাই ওখানে ছাত্রদের চাপ বেশি।
দেশের যেকোনো পাবলিক, বেসরকারি কিংবা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স (সম্মান) করে এলে এখানে মাস্টার্স করা যায়। কিন্তু ডিগ্রি [অনার্স (পাস)] করে এলে এখানে মাস্টার্স করা যায় না। পুনরায় অনার্স করতে হয়। চায়না স্কলারশিপ কাউন্সিল (ঈঝঈ) ওয়েবসাইট যঃঃঢ়://বহ.পংপ.বফঁ.পহ/
বৃত্তির জন্য প্রতি বছরের এপ্রিল মাসে আবেদন করতে হয়। চীনে শিাবছর শুরু হয় আগস্ট মাসের শেষ সপ্তাহে।
গ্রন্থনা : মেহেদী হাসান

Category: ফিচার

About admin: View author profile.

Comments are closed.