বিশ্ব নেতৃবৃন্দের সঙ্গে প্যারিসে অনুষ্ঠিত ওয়ান প্লানেট শীর্ষ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা : অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে যৌথ কমিশন গঠনে হাসিনা-ম্যাক্রঁ ঐকমত্য

| December 18, 2017


নিজস্ব প্রতিবেদক : প্যারিসে ২০১৫ সালে বিশ্বের ১৮৮টি দেশের ঐকমত্যের ভিত্তিতে জলবায়ু চুক্তি সই হয়। এর দুই বছর পূর্তি উপলে পুনরায় প্যারিসেই ওয়ান প্লানেট সম্মেলনে মিলিত হন বিশ্ব নেতারা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওয়ান প্লানেট শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিয়ে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশ কিভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে; সে বিষয়টি তুলে ধরেন। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় অভিন্ন প্রচেষ্টা এগিয়ে নিতে সরকারি ও বেসরকারি অর্থায়ন কিভাবে কাজ করে তা নির্ধারণ এই সম্মেলনের মূল বিষয় হিসেবে তুলে ধরা হয়। সম্মেলনে ২ হাজার অংশগ্রহণকারীর মধ্যে অন্তত ১০০টি দেশের নেতৃবৃন্দ, বেসরকারি সংস্থা, ফাউন্ডেশন এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে সমষ্টিগত কর্মকা-কে দ্রুত এগিয়ে নেয়ার ল্েয বিশেষ করে অভিযোজন এবং প্রশমনের জন্য নতুন অর্থ প্রদানের উপায় খুঁজতে সকল েেত্রর শত শত বৈশ্বিক নেতার জোটই হলো ওয়ান প্লানেট সম্মেলন।
প্যারিসে ওয়ান প্লানেট শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেয়ার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১২ ডিসেম্বর ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রঁর সঙ্গে এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকে বাণিজ্য, অর্থনীতি ও অন্যান্য অগ্রাধিকার েেত্র সহযোগিতার সুযোগ-সুবিধা অনুসন্ধানে বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের মধ্যে একটি যৌথ কমিশন গঠনে সম্মত হন ইমানুয়েল ম্যাক্রঁ ও শেখ হাসিনা।
বৈঠকে উভয় নেতা অত্যন্ত আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট দ্বিপীয় ও বৈশ্বিক বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা করেন। বৈঠকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু জলবায়ু পরিবর্তনসহ ৫টি বিষয়ে আলোচনা হয়। দুই নেতার আলোচনায় রোহিঙ্গা ইস্যু এবং সন্ত্রাসবাদ দমনে বাংলাদেশের অব্যাহত অগ্রগতির প্রসঙ্গটিও উঠে আসে।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ফরাসি প্রেসিডেন্টকে বলেন, আপনার নেতৃত্বের প্রতি বাংলাদেশের মানুষের অত্যন্ত আগ্রহ ও আন্তরিকতা রয়েছে। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় বাংলাদেশের সমর্থনে ফরাসি সরকার ও জনগণ বিশেষ করে ফরাসি ঔপন্যাসিক আঁদ্রে মালরোর ভূমিকার কথা স্মরণ করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফরাসি প্রেসিডেন্টকে তাঁর সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। ফরাসি প্রেসিডেন্ট আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং আগামী বছরের শুরুর দিকে তার দণি এশিয়া সফরের সময় বাংলাদেশ সফরের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশে বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ীরা অধিকতর সম্পৃক্ততার সুযোগ পাবেন এমন অগ্রাধিকার খাতগুলোতে সহায়তা দেয়ার েেত্র তার আগ্রহ প্রকাশ করেন। জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার জ্বালানি, অবকাঠামো, ওষুধ শিল্প, আইসিটি ও বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং শক্তিশালী আঞ্চলিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।
বৈশ্বিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সরে যাওয়া এবং প্যারিস জলবায়ু চুক্তির দুই বছর উদযাপনের পরে হতাশা ও নেতৃত্বশূন্যতার মাঝে আলোচনার জন্য এই সম্মেলন আহ্বানের উদ্যোগ নেয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টকে ধন্যবাদ জানান। প্রধানমন্ত্রী এ বছরে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে গ্লোবাল প্যাকট ফর এনভায়রনমেন্ট বিষয়ে বৈঠক আয়োজনে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের উদ্যোগের কথা স্মরণ করেন।
শেখ হাসিনা ম্যাক্রঁকে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সম্মেলনে সম্মিলিত পদপে গ্রহণে আপনার নেতৃত্বে এর কার্যক্রম দেখতে চাই। প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান হুমকি তুলে ধরে বলেন, তাঁর সরকার নিজস্ব তহবিল থেকে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় তহবিল গঠন করেছে এবং সমস্যার সমাধানে বেশকিছু পদপে গ্রহণ করেছে।
শেখ হাসিনা ও ম্যাক্রঁ জ্বালানি নিরাপত্তা এবং সোলার এনার্জি খাতে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেন। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট সর্বশেষ রোহিঙ্গা পরিস্থিতি সম্পর্কে এবং এই ইস্যুতে ফ্রান্সের কাছে বাংলাদেশের প্রত্যাশার কথা জানতে চান।
এই পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী ম্যাক্রঁকে বলেন, প্রায় ১০ লাখ মিয়ানমারের নাগরিক বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে ঢুকে পড়েছে, এরা পরিবেশ বিপর্যয়ের পাশাপাশি সকল েেত্র ব্যাপক সমস্যা সৃষ্টি করছে। শেখ হাসিনা গত সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে উপস্থাপিত তাঁর ৫ দফা প্রস্তাব পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, তিনি জাতিসংঘে যে প্রস্তাব দিয়েছেন সেভাবেই রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান হতে পারে। মিয়ানমার নাগরিকদের তাদের দেশে ফেরত পাঠাতে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে স্বারিত দ্বিপীয় চুক্তির কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, তবে এই সংকটের সমাধানে আমরা বিশ্ব সম্প্রদায়ের অব্যাহত সমর্থন এবং আন্তর্জাতিক চাপ চাই। আন্তর্জাতিক সমর্থন ছাড়া দ্বিপীয় চুক্তি বাস্তবায়ন অসম্ভব হয়ে উঠবে।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রঁ রোহিঙ্গা সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য তাদের অব্যাহত মানবিক সাহায্য এবং সকল বিশ্ব সংস্থায় ভূমিকা রাখার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করেন।
সন্ত্রাসবাদ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের জিরো টলারেন্স নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, সন্ত্রাসবাদ একটি বৈশ্বিক সমস্যায় পরিণত হওয়ায় সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বাংলাদেশের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর গাড়ি থেকে নেমে এলে এলিসি প্যালেসে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রঁ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক অভ্যর্থনা জানান। এ সময় প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার জানানো হয়। বৈঠক শেষে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানাতে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট প্রধানমন্ত্রীর গাড়ির কাছে এগিয়ে আসেন। এটি ছিল বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে প্রেসিডেন্টের প থেকে উষ্ণ শুভেচ্ছা।
রোহিঙ্গাদের আগমনে পরিবেশের
ওপর মারাত্মক তিকর প্রভাব
পড়েছে : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
ওয়ান প্লানেট সম্মেলনে অংশগ্রহণ করতে প্যারিস এসে সম্মেলনের ফাঁকে এক উচ্চপর্যায়ের সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, রোহিঙ্গা সংকট আমাদের বন ও পরিবেশের ওপর মারাত্মক তিকর প্রভাব সৃষ্টি করেছে। এর ফলে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিযোজনের ওপর মারাত্মক চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি হয়েছে। মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা আসার ফলে বাংলাদেশ বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। মানবিক কারণে আমরা কক্সবাজারে ১ হাজার ৭৮৩ হেক্টর বনভূমির ওপর তাদেরকে আশ্রয় দিয়েছি। তবে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত তিকর প্রভাবের কারণে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম, যদিও এই ঝুঁকির জন্য আমরা দায়ী নই। আমরা সীমিত সম্পদ নিয়ে জলবায়ু পরিবর্তনের পরিণতি প্রশমন ও অভিযোজন করে যাচ্ছি।
শেখ হাসিনা বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করার ল্েয প্রণীত টেকসই উন্নয়ন কৌশলের মূলস্রোতে জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যু অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একটি উন্নয়নশীল দেশ হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যা মোকাবিলায় জিডিপির ১ শতাংশ ব্যয় করে আসছে। সকল অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং পরিবেশ বিষয়ক কর্মকা-ে ওয়াটার সাসটেইনেবিলিটি ইস্যুকে অগ্রাধিকার দেয়ার বিষয়ে বাংলাদেশের অঙ্গীকারের কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকার বৃরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রকল্প গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশে ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্য ও বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবন রায় ৫০ দশমিক ৭৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে একটি বিশাল প্রকল্প বর্তমানে চলমান রয়েছে। উপকূলীয় এলাকার জনগণকে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, ভাঙন এবং লবণাক্ত পানি থেকে রায় সবুজ বেষ্টনী সৃষ্টি করা হয়েছে। প্রায় ৬৭ হাজার হেক্টর জমি এসব এলাকায় বনায়নের জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকার আগামী ৫ বছরে বাংলাদেশে বনায়ন ২ শতাংশ বৃদ্ধির ল্েয প্রয়োজনীয় কর্মসূচি গ্রহণ করবে। ফলে বিদ্যমান বনভূমি ২২ শতাংশ থেকে প্রায় ২৪ শতাংশে উন্নীত হবে। শেখ হাসিনা জলবায়ু প্রতি ন্যায়বিচারের অঙ্গীকারপূরণ এবং ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালনের জন্য উন্নত দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, একমাত্র দায়িত্ব ভাগাভাগির মাধ্যমে আমরা বিশ্বকে নিরাপদ করতে পারি। আমাদের সম্মিলিত অঙ্গীকার ও কর্মকা- শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধিতে অবদান রাখবে।
বাংলাদেশে ফরাসি বিশেষ
অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের
প্রস্তাব শেখ হাসিনার
ওয়ান প্লানেট সম্মেলনে অংশগ্রহণ করতে প্যারিস এসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফ্রান্সের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এক প্রাতরাশ বৈঠকেও মিলিত হন। বৈঠকে তিনি ফরাসি কোম্পানিগুলোর প্রতি বাংলাদেশে একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের আহ্বান জানান।
প্রাতরাশ বৈঠকে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশকে সার্বিকভাবে শিল্পায়িত করতে আমরা দেশজুড়ে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলছি। আমি মনে করি প্রচলিত বাণিজ্যিক ত্রে ছাড়াও বাংলাদেশের অবকাঠামো, জ্বালানি ও সামুদ্রিক অর্থনৈতিক েেত্রও আরো ফরাসি বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে।
ফ্রান্সের বৃহত্তম নিয়োগকারী ফেডারেশন মুভমেন্ট অব দি এন্টারপ্রাইজেস অব ফ্রান্স (এমইডিইএফ) ১৩ ডিসেম্বর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল প্যারিস লা গ্রাঁদে এ প্রাতরাশ বৈঠকের আয়োজন করে। বৈঠকে শেখ হাসিনা বলেন, ফ্রান্সের প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে বিনিয়োগ করা প্রয়োজন। আর বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে বিনিয়োগ প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনাদের যেমন প্রতিযোগিতামূলক বিকল্প উৎস খোঁজা দরকার, তেমনি আমাদেরও রপ্তানি গন্তব্য বহুমুখী করা প্রয়োজন। আর এ দুয়ের সমন্বয় আমাদের দু’দেশের জন্যই লাভজনক অংশীদারিত্বের একটি যথার্থ পরিবেশ তৈরি করবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ বছর বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের ৪৫তম বার্ষিকী উপলে সহযোগিতার সম্ভাবনাময় নতুন নতুন ত্রে নিয়ে চিন্তাভাবনা করার এটি একটি উপযুক্ত সময়। বাংলাদেশ সুযোগ ও সম্ভাবনার দেশ, যার বৈদেশিক বিনিয়োগ ও বাণিজ্য নীতি এ অঞ্চলের অন্যতম সেরা ও বন্ধুত্বপূর্ণ। অনেক সমস্যা সত্ত্বেও বাংলাদেশ গত বছর ৭ দশমিক ২৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে, যা বিপুল সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি করেছে।
বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের মধ্যে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বেড়েছে দেখে তিনি উৎসাহিত বোধ করছেন উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের মধ্যকার দ্বিমুখী বাণিজ্যের পরিমাণ ২০০ কোটি মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। ফ্রান্স বর্তমানে বাংলাদেশের পঞ্চম বৃহত্তম রপ্তানি গন্তব্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের ক্রমসম্প্রসারণশীল অব্যাহত দ্বিপাকি অর্থনৈতিক সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় ২০১৫ সালে বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট নির্মাণ এবং তা উৎপেণের কন্ট্রাক্ট লাভ করে ফ্রান্সের থ্যালেস অ্যালেনিয়া স্পেস নামের সংস্থাটি। আমরা অত্যন্ত আনন্দিত যে, ২০১৮ সালের মার্চে এই স্যাটেলাইট উৎপেণের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ফ্রান্সের বহুজাতিক কোম্পানি টেকনিপ বাংলাদেশের ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় পর্যায়ের নির্মাণ কাজ করছে।
বাংলাদেশে ২০১৬-১৭ সালে ফরাসি বিনিয়োগ (এফডিআই) ১৪ দশমিক ৬৪ মিলিয়ন ডলারের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা ছাড় দেয়া অর্থনৈতিক সুবিধা গ্রহণ করে বিনিয়োগে এগিয়ে আসার জন্য ফ্রান্সের কোম্পানিগুলোকে প্রবলভাবে উৎসাহিত করছি। দণি ও দণি-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশে ১৬ কোটি মানুষের একটি বিশাল বাজার রয়েছে। ভৌগোলিক অবস্থানগত দিক থেকে বাংলাদেশ হচ্ছে আসিয়ান ও সার্কভুক্ত দেশসমূহের প্রাকৃতিক প্রবশ পথ। বাংলাদেশ আঞ্চলিক যোগাযোগ বাড়ানোর পদপে নিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ ল্েয এই খাতে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগও করা হয়েছে। ফলে বাংলাদেশে কেউ বিনিয়োগ করলে সমগ্র অঞ্চলের প্রায় ২০০ কোটি মানুষের বাজারে প্রবেশ করতে পারবে।
শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা লাভের পর থেকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে এ পর্যন্ত আসতে সক্ষম হয়েছে বাংলাদেশ। আমরা দারিদ্র্য বিমোচন, খাদ্য নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও পয়ঃনিষ্কাশন এবং সামাজিক নিরাপত্তার মতো খাতগুলোতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধন করেছি।
শেখ হাসিনা বলেন, প্রাইসওয়াটারহাউজ কুপারস (পিডব্লিউসি) চলতি বছরের প্রথম দিকে বাংলাদেশকে আগামী তিন দশকে বিশ্বের তিনটি দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দেশের একটি হিসেবে চিহ্নিত করেছে। বাংলাদেশের শক্তিশালী অর্থনীতির কথা এখন বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত।
প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রঁর সঙ্গে সফল বৈঠকের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, তারা দ্বিপীয় সম্পর্ক সম্প্রসারণ এবং দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই ওয়ান প্লানেট সামিটে তাঁর অংশগ্রহণ প্যারিস কাইমেট এগ্রিমেন্ট (কপ-২১)-এ বাংলাদেশের সমর্থনের কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সামনে এগিয়ে যেতে গৃহীত পদেেপ ফ্রান্সের নেতৃত্বের প্রশংসা করে বাংলাদেশ।
শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ সারাদেশে প্রায় ৪৫ লাখ হোম সোলার সিস্টেম (এসএইচএস) স্থাপন করেছে। এতে অন্তত ১ কোটি ৮০ লাখ মানুষ নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের সেবা পাচ্ছে। শেখ হাসিনা এমইডিইএফ নেতৃবৃন্দকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান এবং আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের সফর বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের মধ্যে দ্বিপীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। এমইডিইএফ ইন্টারন্যাশনালের সিইও ফিলিপ গাউটিয়ের নেতৃত্বে ফ্রান্সের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বেনকো স্যান্টানডের, বিপিফ্র্যান্স ফিনান্সসিমেন্ট, ক্রেডিট এগিকোলি করপোরেট অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক, গ্যামাল্টো টেক, নেভাল গ্র“প, এসটিএক্স ফ্রান্স, ফ্যাঙ্ক চাউটি, ফেব্রিসি বাউনেইক্স ও থালেস এলিনিয়া স্পেসের মতো বিখ্যাত ফরাসি কোম্পানির প্রতিনিধিগণ বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।

Tags:

Category: প্রচ্ছদ প্রতিবেদন

About admin: View author profile.

Comments are closed.