প্রতিবেদন

৪টি নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং ১০টি উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়ন কর্মসূচির উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা : সরকারের নিরলস প্রচেষ্টায় বাংলাদেশের ৮৩ ভাগ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধা পাচ্ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক
১০ ডিসেম্বর দেশে আরো ৪টি নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং ১০টি উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়ন কর্মসূচি উদ্বোধন করা হয়েছে। ৪টি নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্র হচ্ছে শিকলবাহা ২২৫ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্ল্যান্ট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ১০০ মেগাওয়াট পাওয়ার প্ল্যান্ট, শাল্লা ৪০০ কিলোওয়াট সোলার পাওয়ার প্ল্যান্ট এবং সরিষাবাড়ি ৩ মেগাওয়াট সোলার পাওয়ার প্ল্যান্ট। শতভাগ বিদ্যুতায়িত উপজেলা ১০টি হচ্ছে ফরিদপুর সদর, রাজৈর, নওগাঁ সদর, কামারখন্দ, আখাউড়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর, শালিখা, মেহেরপুর সদর, মদন ও বেলাবো। এ ১০টিসহ এ পর্যন্ত ৩৬টি উপজেলাকে শতভাগ বিদ্যুতায়নের আওতায় আনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ৪টি নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং ১০টি উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়ন কর্মসূচি উদ্বোধন করেন।
ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশে এখন ১৬ হাজার ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। এছাড়া এখন থেকে জাতীয় গ্রিডে সোলার বিদ্যুৎ যোগ হয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, যদিও এটা খুব ব্যয়বহুল তারপরও ভবিষ্যতে এই সোলার বিদ্যুতের যে উৎপাদন হবে সেখানে ব্যবহারের অতিরিক্তটা আমাদের জাতীয় গ্রিডে চলে আসবে। প্রতিটি ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে এখন ৮৩ ভাগ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধা পাচ্ছে। প্রতিটি ঘরে বিদ্যুতের আলো জ্বালানোই আমাদের ল্য। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি দিয়েছিল ১৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আর আমরা দিচ্ছি ১৬০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।
ভিডিও কনফারেন্সে উচ্ছ্বসিত প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি দেশের উন্নয়নে বিদ্যুৎ অপরিহার্য। আমরা দেশের সুষম উন্নয়নে বিশ্বাসী। কাজেই আমাদের ল্য শুধু শহরেই নয় তৃণমূলের গ্রাম-গঞ্জের ঘরে ঘরে বিদ্যুতের সেবা পৌঁছে দেয়া। বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারের বিভিন্ন পদপে তুলে ধরেন। বিদ্যুতের বহুমুখীকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা যেমন সোলার পাওয়ার প্ল্যান্ট করছি, তেমনি পরামাণু ও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রও করছি। তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন করছি আবার ভারত থেকেও বিদ্যুৎ কিনে নিয়ে আসছি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রত্যন্ত এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে সোলার প্যানেল দিচ্ছি। আমরা প্রতিটি ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ দিচ্ছি। দুর্গম, চরাঞ্চল ও হাওর এলাকায় সোলার প্যানেলের মাধ্যমে আমরা বিদ্যুৎ দিচ্ছি। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সুনামগঞ্জের হাওরের উপজেলা শাল্লায় ৪০০ কিলোওয়াট সোলার বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কাজেই আজকে বিজয়ের মাসে এই যে সুযোগটুকু আমরা মানুষের জন্য করে দিতে পারছি সেজন্য আমি জনগণের কাছে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। আমাদেরকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছিলেন বলেই আমরা আজকে আপনাদের সেবা করার সুযোগ পেয়েছি। আর সুযোগ পেয়েছি বলেই আজকে এই উন্নয়ন আমরা করতে পারছি এবং এর ফলে মানুষ গ্রামে বসে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছে। শেখ হাসিনা বলেন, ‘লুটপাট, মানি লন্ডারিং, দুর্নীতি, ঘুষ, অত্যাচার, নির্যাতন ছিল বিএনপির কাজ। তাদের কাছে মতা মানেই ভোগ-বিলাসে গা ভাসানো। মতায় থাকতে তারা দেশকে ৫ বার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন বানিয়েছিল। জঙ্গিবাদ ও বাংলা ভাইয়ের সৃষ্টি, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন, আমার ওপর গ্রেনেড হামলাই ছিল তাদের কাজ। দেশের উন্নয়ন তথা মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে তারা কোনো কাজ করেনি।’
প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট নসরুল হামিদ বিপু গণভবন প্রান্ত থেকে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. তাজুল ইসলাম, বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ এইচ এম মুতাইরি, কুয়েতের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আল হায়াত এবং সৌদি এক্সপোর্ট প্রোগ্রাম ও সৌদি ফান্ড ফর ডেভেলপমেন্টের সিনিয়র কর্মকর্তারা এ সময় গণভবনে উপস্থিত ছিলেন।
শেখ হাসিনা সফটওয়্যার
টেকনোলজি পার্ক উদ্বোধন
দেশের আইসিটি সেক্টরের বিকাশে যশোরে যাত্রা শুরু করেছে শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক। ১০ ডিসেম্বর গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই আইটি পার্কের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর মাধ্যমে দেশের আইসিটি সেক্টরে সম্ভাবনার নতুন দুয়ার উন্মোচিত হলো। উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এর মাধ্যমে দেশে মেধাভিত্তিক অর্থনীতির দ্বার উন্মোচিত হলো।
পার্ক উদ্বোধনের সময় প্রধানমন্ত্রী দুই শিার্থী, একজন শিক, দুইজন আইটি প্রফেশনাল এবং হাইটেক পার্কের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ভবিষ্যতে আইসিটি খাতই দেশের রপ্তানিতে সবচেয়ে বড় অবদান রাখতে সম হবে।
শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৯৯ সালের ১৭ জুলাই আমাদের বিনিয়োগ বোর্ডের সভায় সিদ্ধান্ত দিয়েছিলাম আমরা একটা হাইটেক পার্ক করবো। কালিয়াকৈরে বিশাল জায়গা থাকাতে সেখানেই এই পার্ক স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হলো। জয়ই (প্রধানমন্ত্রীর ছেলে এবং আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়) আমাকে পরামর্শ দিল। সেখানে একটি হাইটেক পার্ক করলে আমাদের কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ, রপ্তানি বৃদ্ধিসহ অনেক কাজ আমরা করতে পারবো। প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেহেতু সেই সময় আমাদের এত আর্থিক সচ্ছলতা ছিল না, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও আমাদের সীমিত ছিল, তাই চিন্তা করলাম সেখানে কেউ বিনিয়োগ করতে এলে তাকে আমরা সুযোগ দেব বা কারো সাথে যৌথভাবে এটা আমরা করবো। দুর্ভাগ্যটা হলো ২০০১ সালে আমরা মতায় আসতে পারলাম না। বিএনপি মতায় এলো এবং যথারীতি অন্যান্য কাজের মতো এই কাজটিও পরিত্যক্ত পড়ে থাকলো।
প্রধানমন্ত্রী বিএনপি’র প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, এখন ডিজিটাল বাংলাদেশ নিয়ে কেউ আর ঠাট্টা বিদ্রƒপ করতে পারবে না। কারণ তখন বিদ্যুৎ সংকটের জন্য বিদ্যুৎ চলে গেলে আমাদের প্রতিপ (বিএনপি) বলে উঠতো, ওইতো ডিজিটাল বিদ্যুৎ গেল। এখন আর কেউ ঠাট্টা-তামাশা করে না; কারণ সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় সবাই এখন ডিজিটাল কর্মকা-ে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে।