প্রতিবেদন

অবৈধ নোটবুক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযানে দুদক

নিজস্ব প্রতিবেদক : নোট ও গাইড বই ছাপা ও বিক্রি সরকারি আদেশে নিষিদ্ধ। কিন্তু থেমে নেই এ ব্যবসা। অভিযোগ আছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কিছু কর্মকর্তা মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে অবৈধভাবে নোট ও গাইড বই ছাপাতে সহযোগিতার পাশাপাশি বাজারে বিক্রিতে সহযোগিতা করছে। শিা অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অসাধু কর্মকর্তা নোট ও গাইড ছাপা ও বাজারজাত বাণিজ্যের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ ঘুষ পেয়ে আসছে প্রকাশনা মালিকদের কাছ থেকে। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক নোট ও গাইড প্রকাশনাকারী ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে। ইতোমধ্যে দুদকের একজন উপপরিচালকের নেতৃত্বে একটি অনুসন্ধান টিমও গঠন করেছে। গঠিত অনুসন্ধান টিম প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে। দুদকের নির্ভরযোগ্য সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সূত্র জানায়, অনুসন্ধানে পাঞ্জেরী, লেকচার, জ্ঞানগৃহ, জুপিটার, পপিসহ বেশকিছু প্রকাশনী সংস্থা অবৈধভাবে নোটবই ছাপা ও বাজারজাতকরণের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ অর্জন করেছে বলে তথ্য পেয়েছে দুদক। অবৈধভাবে নোটবই প্রকাশের মাধ্যমে অর্থ ও সম্পদ অর্জন করায় এসব প্রতিষ্ঠানের মালিকদের সম্পদের খোঁজও করছে দুদক।
দুদক সূত্র জানায়, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তাকে ঘুষ দিয়ে এক শ্রেণির নোট ও গাইড প্রকাশনা সংস্থা অবৈধভাবে নোট ও গাইড ছাপা এবং বাজারজাত করে অবৈধ সম্পদ অর্জনের একটি অভিযোগ কমিশনে আসায় তা প্রাথমিকভাবে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। জনৈক অভিযোগকারী তার অভিযোগে বলেছেন, দেশে বিদ্যমান নোট বই (নিষিদ্ধকরণ আইন) ১৯৮০ (১৯৮০ সালের ১২নং আইন) থাকা সত্ত্বেও দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভিন্ন সরকারি সংস্থার কিছু কর্মকর্তা নিয়মিত মাসোহারা (অনৈতিক আর্থিক লেনদেন) নিয়ে এসব অবৈধ ব্যবসা পরিচালনায় সহযোগিতা করছেন। বেশ কয়েকটি প্রকাশনা সংস্থার কর্ণধারদের অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়টিও অভিযোগে রয়েছে। তাৎণিকভাবে এই অভিযোগের প্রেেিত দুদকের ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক নাসিম আনোয়ারের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম আকস্মিকভাবে নীলেেতর হযরত শাহজালাল মার্কেট, বাবুপুরা মার্কেট, বাকুশাহ মার্কেট, ইসলামিয়া মার্কেটের বিভিন্ন বইয়ের দোকানে অনুসন্ধান চালায়। টিমে কমিশনের সহকারী পরিচালক আবদুল ওয়াদুদ ও সহকারী পরিচালক মো. মাসুদুর রহমান অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। অনুসন্ধান অভিযানে দুদক টিম দেখতে পায়, বাজারের প্রতিটি দোকানে অননুমোদিত-নিষিদ্ধ গাইড বইয়ের ছড়াছড়ি। দ্বিতীয় শ্রেণি থেকে শুরু করে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত বিভিন্ন নামে বিভিন্ন কোম্পানির গাইডবই বিক্রি হচ্ছে। অনুসন্ধানে দ্বিতীয় হতে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত বাজারে প্রাপ্ত গাইডবইয়ের অন্যতম বেশকিছু প্রকাশনী সংস্থার বিরুদ্ধে অবৈধভাবে নোটগাইড ছাপা ও বাজারজাতকরণের তথ্য পাওয়া যায়।
এর মধ্যে পাঞ্জেরী, লেকচার, অনুপম, নবদূত, জননী, পপি ও জুপিটার প্রকাশনী অন্যতম। এসব প্রকাশনী সংস্থা ২য় শ্রেণি থেকে ৮ম শ্রেণির নোট ও গাইডবই অবৈধভাবে ছাপা ও বাজারজাত করে আসছে। বিভিন্ন বইয়ের দোকানে এসব প্রকাশনী সংস্থা থেকে প্রকাশিত নোট ও গাইডবই পাওয়া যায় খোলাবাজারে। এছাড়া ৯ম ও ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত বাজারে প্রাপ্ত গাইড বইয়ের ছাপা ও বাজারজাত করছে পাঞ্জেরী, লেকচার, অনুপম, রয়েল, আদিল, কম্পিউটার, জুপিটার ও কাসিক। এর মধ্যে কাসিক ইংরেজি ভার্সনের নোট, গাইডবই ছাপা ও বাজারজাত করছে।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির প্রকাশনী সংস্থা লেকচার, পাঞ্জেরী, জ্ঞানগৃহ, জুপিটার, পপি, মিজান লাইব্রেরি, কাজল ব্রাদার্স, দি রয়েল সাইন্টিফিক পাবলিকেশন্স অবৈধ নোট, গাইডবই ছাপা ও বাজারজাত করছে। এসব প্রকাশনীর গাইড বইসমূহের মধ্যে টেস্ট পেপার, সহায়ক বই, মেইডইজিসহ বিভিন্ন নামে নোট ও গাইডবই বাজারে বিক্রি হচ্ছে। শ্রেণিভিত্তিক গাইড বইয়ের পাশাপাশি ডিগ্রি, অনার্স ও মাস্টার্স শ্রেণির বিভিন্ন গাইডবই এবং প্রফেসর’স, ওরাকল, এমপিও, থ্রি ডক্টরস ও সাইফুরসের নামের চাকরিতে নিয়োগ সংক্রান্ত বিভিন্ন গাইডবই বাজারে রয়েছে এসব প্রতিষ্ঠানের।
দুদক সূত্র জানায়, দেশে ১৯৮০ সালের নোটবই নিষিদ্ধকরণ আইন এখনও বিদ্যমান রয়েছে। এই আইন অনুসারে গাইড ও নোটবই ছাপা ও বাজারজাত করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এছাড়া ২০০৮ সালে নির্বাহী আদেশে নোটবই ও গাইডবই নিষিদ্ধ করা হয়। দেশে নোট ও গাইডবই নিষিদ্ধের আইন থাকা সত্ত্বেও কিভাবে সব শ্রেণির নোট ও গাইডবই প্রকাশ্য বাজারে বিক্রি হচ্ছে বিষয়টি খতিয়ে দেখবে দুদক টিম এবং এই অবৈধ ব্যবসার মাধ্যমে যেসব প্রকাশনা সংস্থা অবৈধ সম্পদ অর্জন করছে তাদের বিষয়ে প্রাথমিভাবে অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। বিশেষ করে নোটবই (নিষিদ্ধকরণ আইন) ১৯৮০ (১৯৮০ সালের ১২নং আইন) অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে দুদক।