ফিচার

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্রন্থ প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠিত


জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তরের আয়োজনে ৯ জানুয়ারি ‘গ্রন্থ প্রকাশনা উৎসব’ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। এসময় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক প্রকাশিত গ্রন্থসমূহের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান বলেন, বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাকে ভুল ব্যাখ্যা দেয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা মানে হচ্ছে বিশেষ বিদ্যালয়, যেখানে মানুষ আলোকিত এবং উদার হয়। কিন্তু বর্তমানে সনদ বিতরণই বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন ধরনের বিশেষ কারিকুলাম, সাহিত্য চর্চা, বক্তব্য দেয়া, আবৃত্তি করা, বিভিন্ন ধরনের সাংস্কৃতিক কর্মকা-ে অংশগ্রহণ করা, মানুষের সাথে মেলামেশার চর্চা শেখানো উচিত।
তিনি আরো বলেন, গবেষণার মাধ্যমেই নতুন জ্ঞানের সৃষ্টি হয়। বর্তমানে উচ্চশিক্ষায় এবং গবেষণায় বরাদ্দের অভাব নেই, অভাব রয়েছে সক্ষমতার। গ্রন্থ প্রকাশনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরিহার্য এবং মৌলিক কাজ। বেশি বেশি বই পাঠের ফলে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গির উচ্চতা প্রসারিত হয়।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য আজকের দিনটি স্মরণীয় কারণ প্রথমবারের মতো জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্রন্থ প্রকাশনা উৎসব শুরু হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় আর কলেজের মধ্যে মূল পার্থক্য হচ্ছে কলেজ শুধু জ্ঞান বিতরণ করে, আর বিশ্ববিদ্যালয় জ্ঞান সৃষ্টি এবং বিতরণ করে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণাধর্মী কার্যক্রম পূর্ণাঙ্গভাবে বছর দু’য়েক আগে থেকে শুরু হয় এমফিল এবং পিএইচডি ডিগ্রিতে ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু করার মধ্য দিয়ে। বর্তমানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ১৪০ জনের মতো শিক্ষক বিভিন্ন ধরনের গবেষণায় জড়িত রয়েছেন। তাদের গবেষণা ফলপ্রসূভাবে শেষ হলে এগুলোও প্রকাশনা আকারে প্রকাশিত হবে বলে জানান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক মো. সেলিম ভূঁইয়া’র সভাপতিত্বে এবং রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. ওহিদুজ্জামানের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন পা-ুলিপি মুদ্রণ কমিটির আহ্বায়ক ও জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মিল্টন বিশ্বাস।
এছাড়াও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সৈয়দ আলম, আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সরকার আলী আককাস এবং লেখকদের মধ্যে মনোবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. অশোক কুমার সাহা, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মো. ইব্রাহীম খলিল, বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রাজিব ম-ল, মুদ্রণকারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষে নবযুগ প্রকাশনার স্বত্বাধিকারী অশোক নন্দী বক্তব্য প্রদান করেন।
উৎসব শেষে প্রথমবারের মতো জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রকাশনা উপকরণ বিক্রয় কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান। এই বিক্রয় কেন্দ্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রকাশনা বিক্রয় করা হবে। এসময় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, ইনস্টিটিউটের পরিচালক, বিভাগের চেয়ারম্যান, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, এবারের প্রকাশনা উৎসবে মনোবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. অশোক কুমার সাহা রচিত ঝড়পরধষ ওফবহঃরঃু, ওহফরারফঁধষরংস-ঈড়ষষবপঃরারংস ্ এৎড়ঁঢ় উবপরংরড়হ গধশরহম’, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নুরুল আমিন রচিত ‘রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর জীবন ও আদর্শের বিশ্বজনীনতা’, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মো. ইব্রাহীম খলিল রচিত ‘সামাজিক সমস্যা সমাধানে ইসলামের বিধান : প্রেক্ষাপট বাংলাদেশ’, বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রাজিব ম-ল রচিত ‘শওকত আলীর ছোট গল্প : বিষয় উন্মোচন ও ভাষার অন্তর্দেশ’ এবং নাট্যকলা বিভাগের প্রভাষক শামস শাহরিয়ার কবি রচিত ‘পীর পাঁচালি ধারার নাট্য : বাগেরহাট জেলার গাজীর গান’ প্রকাশিত গ্রন্থ হিসেবে স্থান পায়।
Ñপ্রেস বিজ্ঞপ্তি