রাজনীতি

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচন : কঠিন লড়াইয়ের প্রস্তুতিতে উজ্জীবিত আওয়ামী লীগ-বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক : আগামী ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে উপনির্বাচন এবং দুই সিটির ৩৬ ওয়ার্ডে ভোট হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ। জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে এ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হবে। এজন্য ২৪ ও ২৫ ফেব্রুয়ারির এসএসসি পরীা পিছিয়ে দেয়া হয়েছে। আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে শিা মন্ত্রণালয় ও বোর্ড কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে এ সিদ্ধান্তের কথা সাংবাদিকদের জানান ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব। বৈঠকে ঢাকা উত্তরের মেয়র নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার বিষয়টি অনেকটা নিশ্চিত হওয়ায় কঠিন লড়াইয়ের প্রস্তুতিতে উজ্জীবিত হয়ে উঠছেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। সকল রাজনৈতিক দল বিশেষ করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা ইতোমধ্যে ব্যক্তিগত পর্যায়ে ভোটের প্রচার-প্রচারণা শুরু করে দিয়েছেন। এর মধ্যে কেউ কেউ দলের শীর্ষপর্যায় থেকে সবুজ সংকেত পেয়েছেন; আবার কেউ কেউ দলীয় মনোনয়ন লাভের আশায় নানামুখী চেষ্টা-তদবির করে যাচ্ছেন।
আনিসুল হকের মৃত্যুতে শূন্য হওয়া ঢাকা উত্তরের মেয়র পদে ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে ভোট করতে জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে তফসিল ঘোষণার কথা রয়েছে নির্বাচন কমিশনের। ইসি সচিবালয় বলছে, নিয়ম অনুযায়ী ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এ নির্বাচন শেষ করার আইনগত বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এর আগে ২৪ থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ভোটের তারিখ চূড়ান্ত হতে পারে বলে আভাস দিয়েছিলেন ইসি কর্মকর্তারা। ইসি কর্মকর্তারা জানান, কমিশনের পরবর্তী সভায় ১১ জানুয়ারির মধ্যে তফসিল ঘোষণা করার প্রস্তাব রাখা হবে। ২৪ ও ২৫ ফেব্রুয়ারির পরীা যেহেতু পিছিয়ে যাচ্ছে তাই ভোট কেন্দ্র ঠিকঠাক করতে দু-একদিন সময় লাগবে। সেজন্য ২৫-২৬ ফেব্রুয়ারি উপযুক্ত সময় বিবেচনা করা যেতে পারে। ৩১ জানুয়ারির মধ্যে মনোনয়নপত্র দাখিল শেষ করার চিন্তা করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে সম্প্রসারিত সীমানায় ঢাকা উত্তর ও দণি সিটি করপোরেশনের নবগঠিত ৩৬টি সাধারণ ও ১২টি সংরতি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদেও একই দিনে ভোট করতে চায় ইসি। নির্বাচন কমিশনের ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, সব ধরনের জটিলতা পেরিয়ে তফসিল ঘোষণার প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। ২৪ ফেব্রুয়ারির পর সুবিধাজনক দিনে ভোটের তারিখ ঠিক করে এই তফসিল ঘোষণা করা হবে। তিনি বলেন, তফসিল ঘোষণার আগেই জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহের মধ্যে ঢাকা উত্তর ও দেিণর নির্বাচনি এলাকায় লাগানো সব ধরনের আগাম পোস্টার ও ব্যানার সরিয়ে ফেলার নির্দেশনা দেবে কমিশন।
মেয়র পদে নির্বাচনের হালনাগাদ তথ্যও দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এতে বলা হয়েছে, মেয়র পদে সাধারণ ওয়ার্ড ৫৪, সংরতি ওয়ার্ড ১৮, ভোট কেন্দ্র ১ হাজার ৩৪৯, ভোটক ৭ হাজার ৫০০, ভোটার ৩৬ লাখ ৩৪ হাজার ৩৮৬ জন (পুরুষ ১৮ লাখ ৭৬ হাজার ৯৩১, নারী ১৭ লাখ ৫৭ হাজার ৪৫৫)। ২০১৫ সালে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ভোটার ছিল ২৩ লাখ ৪৫ হাজারের বেশি, কেন্দ্র ১ হাজার ৯৩, সাধারণ ওয়ার্ড ৩৬ ও সংরতি ওয়ার্ড ১২। ঢাকা উত্তর-দেিণ নতুন ৩৬ ওয়ার্ডে মোট ভোটার ১০ লাখ ৫৩ হাজার ৯৯৪, সম্ভাব্য কেন্দ্র ৪৮৭। ঢাকা উত্তরের ১৮ ওয়ার্ডে সম্ভাব্য ভোট কেন্দ্র ২৫৬, ভোটক ১ হাজার ৬৪৮, ভোটার ৫ লাখ ৭৮ হাজার ১৬২ জন (পুরুষ ২ লাখ ৯২ হাজার ৪৮৫, নারী ২ লাখ ৮৫ হাজার ৬৭৭)। ঢাকা দেিণ সম্ভাব্য ভোট কেন্দ্র ২৩১, ভোটক ১ হাজার ২৩১, ভোটার ৪ লাখ ৭৫ হাজার ৮৩২ জন (পুরুষ ২ লাখ ৪৪ হাজার ৩৪৮, নারী ২ লাখ ৩১ হাজার ৪৮৪)।
নির্বাচন কমিশনের এসব সিদ্ধান্তে প্রতীয়মান হয়, ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে ঢাকা উত্তরের মেয়র পদে উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি ঢাকা উত্তর সিটির সব ও দণি সিটির নতুন ১৮টি ওয়ার্ডের ভোটার ও সম্ভাব্য প্রার্থীরা এখন নির্বাচনি তফসিল ঘোষণা ও সংশ্লিষ্ট দলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপোয় আছে। সবাই তাকিয়ে আছে ঢাকা উত্তরের মেয়র পদে প্রার্থী মনোনয়নে রাজনৈতিক দলগুলোর সিদ্ধান্তের দিকে।
তফসিল ঘোষণার পরই দলীয় মনোনয়ন চূড়ান্ত করতে পারে আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ এ নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী অন্য রাজনৈতিক দলগুলো। যদিও ইতোমধ্যে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার জন্য সম্ভাব্য প্রার্থীদের জোর লবিং-গ্রুপিং শুরু হয়ে গেছে। প্রার্থী হতে আগ্রহীদের ব্যানার-পোস্টারও চোখে পড়ছে নির্বাচনি এলাকাগুলোতে। বিশেষ করে দুই সিটির নতুন ৩৬টি ওয়ার্ডে নারীদের জন্য সংরতি ১২টিসহ মোট ৪৮টি কাউন্সিলর পদে সরকারি দলের মনোনয়ন পেতে আগ্রহীরা এ বিষয়ে এগিয়ে আছেন। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী সম্পর্কে এরই মধ্যে কিছুটা ধারণা পাওয়া গেছে। তবে দুই সিটির নতুন ওয়ার্ডগুলোর কাউন্সিলর পদে কারা প্রধান দলগুলোর মনোনয়ন পাচ্ছেন তা জানতে জানুয়ারির মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত অপোয় থাকতে হতে পারে। তবে নির্ধারিত এলাকাভিত্তিক সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীরা সংশ্লিষ্ট জনসাধারণের আলোচনায় রয়েছেন। অনেকে ব্যক্তিগত ও দলীয় পর্যায়ে এলাকায় এবং কেন্দ্রে যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন সমানতালে। কে হচ্ছেন সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী তা নিয়েও সংশ্লিষ্ট এলাকায় এখন চলছে শেষ মুহূর্তের আলোচনা-সমালোচনা ও নানামুখী জল্পনা-কল্পনা।
আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য মেয়র পদপ্রার্থী বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি আতিকুল ইসলাম কয়েক দিন আগে জানান, আওয়ামী লীগের উচ্চপর্যায় থেকে তাকে সবুজ সংকেত দিয়ে প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। তার আলোকে তিনি এরই মধ্যে গণসংযোগ শুরু করেছেন। রাজধানীর কিছু এলাকায় আতিকুল ইসলামের পে ব্যানারও টানানো হয়েছে। তাতে ঢাকাবাসীর সর্বস্তরের জনগণের পে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে মো. আতিকুল ইসলাম আতিক ভাইকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে দেখতে চাই। তার পাশে বিশিষ্ট শিল্পপতি, সমাজসেবক ও তরুণ আওয়ামী লীগ নেতা পরিচয়ে আদম তমিজি হকের ব্যানারও দেখা যাচ্ছে।
এদিকে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীর পে এ ধরনের কোনো প্রচারণা চোখে না পড়লেও দলটির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং ২০১৫ সালে ডিএনসিসি নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আব্দুল আউয়াল মিন্টুর ছেলে তাবিথ আউয়াল রয়েছেন আলোচনায়। তিনি জানিয়েছেন, ডিএনসিসি নির্বাচনের জন্য বিএনপির প্রার্থিতার বিষয়ে কোনো সবুজ সংকেত এখনো তিনি পাননি। তবে তিনি অপোয় আছেন। নির্বাচনের জন্য তার প্রস্তুতিও রয়েছে। তবে তার পিতা আব্দুল আউয়াল মিন্টু তার ঘনিষ্ঠজনদের বলেছেন, তাবিথ আওয়াল এবারও হবেন ঢাকা উত্তরের মেয়র পদপ্রার্থী।
আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বাইরে তাদের জোটের ছোট দলগুলোও ঢাকা উত্তরের মেয়র নির্বাচন নিয়ে প্রস্তুতি শুরু করেছে। দলগত অথবা জোটগতভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিয়ে রাখছে অনেক ছোট দল। এবারই প্রথম ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচন দলীয়ভাবে হচ্ছে। যার যার দলীয় প্রতীকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন ছোট দলের প্রার্থীরাও। তবে যেসব দলের নিবন্ধন নেই, তারা কিছুটা বিপাকে পড়েছে। তাই স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনের চিন্তাও রয়েছে কোনো কোনো দলের। আবার কোনো কোনো দল নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধনের আবেদন জমা দেয়ার প্রক্রিয়াও শুরু করেছে।
বামপন্থিদের প্রধান জোট সিপিবি-বাসদ ও গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা থেকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে মেয়র পদের উপনির্বাচনে একক প্রার্থী দেয়ার চিন্তা চলছে। ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল নির্দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত ঢাকা উত্তরের মেয়র পদে প্রার্থী হয়েছিলেন বামপন্থি দুই প্রার্থী গণতান্ত্রিক বাম মোর্চাভুক্ত গণসংহতি
আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি ও সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুল্লাহ আল কাফী (কাফি রতন)। ওই নির্বাচনে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করে জোনায়েদ সাকি ৭ হাজার ৩৭০ ভোট এবং ‘সবার জন্য বাসযোগ্য ঢাকা আন্দোলনে’র ব্যানারে নির্বাচন করে কাফি রতন ২ হাজার ৪৭৫ ভোট পান। দুই প্রার্থীই তখন এটিকে প্রহসনের নির্বাচন আখ্যা দিয়ে ভোট ও ফল প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।
এবার সিপিবি-বাসদ জোটের সঙ্গে সাতটি বামপন্থি দলের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা মিলে ঐক্যবদ্ধ জোট গড়ে তোলা হয়েছে। তবে মেয়র পদের প্রার্থিতা নিয়ে জোট কিংবা দলগুলোতে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো আলোচনা হয়নি। যদিও গতবারের নির্বাচনে মেয়র পদে অংশগ্রহণকারী দু’জনের একজনকেই প্রার্থী করা হবেÑ এমন অনানুষ্ঠানিক কথাবার্তা শোনা যাচ্ছে। দুই সম্ভাব্য প্রার্থী জোনায়েদ সাকি ও কাফি রতন উভয়েই জানিয়েছেন, দল ও জোটের সঙ্গে আলোচনা করে প্রার্থিতার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। জোনায়েদ সাকির দল গণসংহতি আন্দোলন নিবন্ধন পেতে শিগগিরই নির্বাচন কমিশনে যাবে।
অপরদিকে সিপিবির সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম জানিয়েছেন, ঢাকা জেলা সিপিবি দু-তিনদিনের মধ্যে বৈঠক করে আবদুল্লাহ আল কাফীর প্রার্থিতার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। তাকে প্রার্থী করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলে জোটের কাছেও তার মনোনয়ন চাইবেন। বাসদের সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান জানান, এ নিয়ে জোটে এখনও কোনো আলোচনা হয়নি। তবে বামপন্থিদের পে বড় দুই জোটের বিকল্প প্রার্থী দিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালাবেন তারা। নির্বাচন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে তিনি বলেন, এই সিটি করপোরেশনে নতুন কিছু এলাকা যুক্ত হওয়ায় নির্বাচন হবে কি না, পরিষ্কার নয়। এ নিয়ে একটি মামলাও রয়েছে। এ অবস্থায় অপো করবেন তারা।
এদিকে বিকল্পধারা, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি), নাগরিক ঐক্য ও কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সমন্বয়ে সম্প্রতি গড়ে ওঠা যুক্তফ্রন্ট থেকেও মেয়র পদে প্রার্থী দেয়া হবে বলে জানা গেছে। এ েেত্র একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে। নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না ও বিকল্পধারার যুগ্ম মহাসচিব মাহী বি চৌধুরী ইতোমধ্যে নির্বাচনি তৎপরতাও শুরু করেছেন। উত্তর সিটির গত নির্বাচনে মাহী বি চৌধুরী মেয়র পদে অংশ নিয়ে ১৩ হাজার ৪০৭ ভোট পান। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন তিনি। অন্যদিকে আলোচনায় থাকলেও সে সময় রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় কারাগারে থাকা মান্না শেষ পর্যন্ত নির্বাচন করেননি।
মাহমুদুর রহমান মান্না জানান, ডিএনসিসি নির্বাচন হবে বলে তার মনে হয় না। তাই এ বিষয়ে এখনই কিছু বলতে চান না তিনি। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন। মাহী বি চৌধুরী বলেন, তিনিও তফসিল ঘোষণার পর দল ও জোটের সঙ্গে বৈঠক করে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।
চরমোনাইর পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব অধ্য হাফেজ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ তার দল থেকে প্রার্থী হবেন। ২০১৫ সালের নির্বাচনে অংশ নিয়ে ১৮ হাজার ৫০ ভোট পেয়ে তিনি তৃতীয় অবস্থানে ছিলেন। অবশ্য ভোট চলার সময়েই অনিয়মের অভিযোগে নির্বাচন বর্জন করেন তিনি। শেখ ফজলে বারী মাসউদ জানান, এরই মধ্যে তার দলের প থেকে তাকে প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। নির্বাচনি তফসিল ঘোষণার পর আনুষ্ঠানিকভাবে দল থেকে নাম ঘোষণা করা হবে। এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে মাঠে নামবেন তিনি।
ইসলামী ঐক্য জোটের একাংশ থেকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে নাম শোনা যাচ্ছে দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা জসিম উদ্দিনের। সম্প্রতি দলীয় ফোরামের বৈঠকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। ২০ দলীয় জোটের শরিক হিসেবে দলটি গত নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়ালকে সমর্থন দিয়েছিল। এবার বিএনপি জোটের সঙ্গে না থাকায় এককভাবে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে এ দল। এ প্রসঙ্গে জোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী জানান, তারা অবশ্যই মেয়র পদের নির্বাচনে অংশ নেবেন। দলের সম্ভাব্য প্রার্থী মাওলানা জসিম উদ্দিন বলেন, তফসিল ঘোষণা হলেই আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনি প্রচারে মাঠে নামবেন তিনি।
এছাড়া বহুল আলোচিত রাজনীতিবিদ ববি হাজ্জাজের নেতৃত্বে সম্প্রতি গঠিত জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম) নামে আরেকটি ছোট দলও নির্বাচনে অংশ নিতে তৎপরতা শুরু করেছে। জাতীয় প্রেস কাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দলের প্রার্থী হিসেবে মাইলস ব্যান্ডের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী শাফিন আহমেদের নাম ঘোষণা করেন চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ। সংবাদ সম্মেলন থেকে নির্বাচন কমিশনের কাছে তাদের দলকে নিবন্ধন দেয়ার দাবিও করা হয়।
ছোট দলগুলোর তৎপরতা যা-ই হোক ঢাকা উত্তরের মেয়র পদে এবার আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যেই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বলে মনে করা হচ্ছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ঢাকা উত্তরের এই নির্বাচনকে প্রেস্টিজ ইস্যু হিসেবে নিয়েছে দুই দলই। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের অধিকাংশ ভোটার নোয়াখালী ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের হওয়ায় উভয় দলই চাচ্ছে ওই দুই জেলার কাউকেই মনোনয়ন দিতে। সে হিসেবে আওয়ামী লীগ সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বেছে নিয়েছে আতিকুল হককে আর বিএনপি বেছে নিয়েছে তাবিথ আউয়ালকে। এই দুই প্রার্থীই নোয়াখালী অঞ্চলের বাসিন্দা হওয়ায় ধারণা করা হচ্ছে ঢাকা উত্তরের সিটি নির্বাচনটি হবে বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ।
আরেকটি কারণেও এই নির্বাচনটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে বলে নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছেন। সেটি হলো এবারই প্রথম ঢাকায় দলীয় প্রতীকে কোনো স্থানীয় সরকারের নির্বাচন হচ্ছে। সেক্ষেত্রে জাতীয় নির্বাচনের আগে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচনকে ঘিরে নৌকা ও ধানের শীষের ব্যাপক শো-ডাউন হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এই শো-ডাউনের জন্য উন্মুখ উভয় দলই; আর এতে উজ্জীবিত হয়ে উঠছেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মী এবং সমর্থকরা।