প্রতিবেদন

পিইসি জেএসসি ও জেডিসির ফলাফল প্রকাশ : বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
২০১৭ সালের প্রাথমিক শিা ও ইবতেদায়ি শিা (পিইসি) সমাপনী পরীা এবং জেএসসি ও জেডিসি’র ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। এ বছর প্রাথমিক সমাপনীতে পাসের হার ৯৫ দশমিক ১৮ শতাংশ এবং ইবতেদায়ি সমাপনীতে পাসের হার ৯২ দশমিক ৯৪ শতাংশ। অষ্টম শ্রেণির জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট পরীায় এবার পাস করেছে ৮৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ শিার্থী; ১ লাখ ৯১ হাজার ৬২৮ জন পেয়েছে জিপিএ-৫। সেই হিসাবে এবার এ পরীায় পাসের হারে বড় পতন হয়েছে, সঙ্গে কমেছে পূর্ণাঙ্গ জিপিএ পাওয়া শিার্থীর সংখ্যাও।
৮ শিা বোর্ডের অধীনে জেএসসিতে এবার পাসের হার ৮৩ দশমিক ১০ শতাংশ। আর মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে জেডিসিতে পাসের হার ৮৬ দশমিক ৮০ শতাংশ।
গত বছর জেএসসি-জেডিসিতে সম্মিলিতভাবে ৯৩ দশমিক ৩ শতাংশ শিার্থী পাস করে। এর মধ্যে জেএসসিতে ৯২ দশমিক ৮৯ শতাংশ এবং জেডিসিতে ৯৪ দশমিক ২ শতাংশ শিার্থী উত্তীর্ণ হয়। জেএসসি-জেডিসিতে এবার মোট ১ লাখ ৯১ হাজার ৬২৮ জন শিার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। এর মধ্যে জেএসসিতে ১ লাখ ৮৪ হাজার ৩৯৭ জন এবং জেডিসিতে ৭ হাজার ২৩১ জন পূর্ণ জিপিএ পেয়েছে। জেএসসি-জেডিসি মিলিয়ে গত বছর ২ লাখ ৪৭ হাজার ৫৫৮ জন পূর্ণ জিপিএ পেয়েছিল। অষ্টম শ্রেণির সমাপনী পরীায় এবার অংশ নিয়েছিল ২৪ লাখ ৬৮ হাজার ৮২০ জন শিার্থী।
৩০ ডিসেম্বর প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি শিা সমাপনী এবং জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীার ফলাফলের অনুলিপি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে তুলে দেয়া হয়। শিামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এবং প্রাথমিক ও গণশিামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান গণভবনে ফলাফলের অনুলিপি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে তুলে দেন। বাংলাদেশ সচিবালয়ে বেলা ১টায় প্রাথমিক ও গণশিামন্ত্রী এবং বেলা ২টায় শিামন্ত্রী সংবাদ সম্মেলন করে ফলাফলের বিস্তারিত তুলে ধরেন (৩০ ডিসেম্বর, ২০১৭)।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ১ নভেম্বর জেএসসি ও জেডিসি পরীা শুরু হয়েছিল। শেষ হয় ১৮ নভেম্বর। এই দুই পরীায় মোট পরীার্থীর সংখ্যা ছিল প্রায় ২৪ লাখ ৬৯ হাজার। অন্যদিকে ১৯ থেকে ২৬ নভেম্বর পর্যন্ত প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি শিা সমাপনী পরীা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রায় ৩১ লাখ পরীার্থী অংশ নেয়।
আর ২০১৬ সালে প্রাথমিক সমাপনীতে ৯৮ দশমিক ৫১ শতাংশ ও ইবতেদায়িতে ৯৫ দশমিক ৮৫ শতাংশ শিার্থী পাস করেছিল।
সেই হিসাবে এবার পাসের হার কমলেও ফলাফল দেখে সন্তোষ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘পাসের হার তো ভালো। আমাদের ছাত্রছাত্রীরা তো মেধাবী। পড়ালেখা করবে, পাস করবে। সুতরাং ফেলের কোনো প্রশ্নই আসে না।’
পরিসংখ্যানে দেখা যায়, প্রাথমিক শিা সমাপনী পরীায় অংশগ্রহণ এবং পাসের হার উভয় দিক থেকেই ছাত্রীরা ছাত্রদের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে। ৩০ ডিসেম্বর প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, পঞ্চম শ্রেণিতে মোট ২৮ লাখ ৬ হাজার ৯৬ জন শিার্থী পরীার জন্য তালিকাভুক্ত হয়। এদের মধ্যে পরীায় অংশ নেয় ২৬ লাখ ৯৬ হাজার ২১৬ জন। যাদের ১২ লাখ ৩৯ হাজার ১৮১ জন; অর্থাৎ ৪৫ দশমিক ৯৬ শতাংশ ছেলে। আর মেয়ে পরীার্থী ১৪ লাখ ৫৭ হাজার ৩৫ জন; অর্থাৎ ৫৪ দশমিক ৪ শতাংশ মেয়ে শিার্থী পরীায় অংশ নেয়। সব বিষয়ে উত্তীর্ণ হয় ২৫ লাখ ৬৬ হাজার ২৭১ জন শিার্থী। এর মধ্যে ছেলে ১১ লাখ ৭৬ হাজার ৩৩০ জন ছাত্র; অর্থাৎ ৪৫ দশমিক ৮৪ শতাংশ ছাত্র উত্তীর্ণ হয়। আর মেয়ে শিার্থী উত্তীর্ণ হয় ১৩ লাখ ৮৯ হাজার ৯৪১ জন; অর্থাৎ ৫৪ দশমিক ১৬ শতাংশ।
প্রাথমিক শিা সমাপনী পরীায় এবার ঝরে পড়েছে ১ লাখ ৯ হাজার ৮৮০ জন শিার্থী। এর মধ্যে ৫৯ হাজার ৫৯৭ জন ছেলে এবং মেয়ে হচ্ছে ৫০ হাজার ২৮৩ জন। মেয়ে শিার্থীদের মধ্যে ঝরে পড়ার হারও কম।
যেভাবে জানা যাবে প্রাথমিক
ও ইবতেদায়ি পরীক্ষার ফল
যেকোনো মোবাইল ফোন থেকে উচঊ লিখে স্পেস দিয়ে থানা/উপজেলার কোড নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে ২০১৭ লিখে ১৬২২২ নম্বরে এসএমএস পাঠিয়ে ফিরতি এসএমএসে প্রাথমিক সমাপনীর পরীক্ষার ফল জানা যাবে। আর ইবতেদায়ির ফল পেতে ঊইঞ লিখে স্পেস দিয়ে থানা/উপজেলার কোড নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে ২০১৭ লিখে ১৬২২২ নম্বরে এসএমএস পাঠাতে হবে। এই এসএমএস লেখার সময় সরকারি অথবা রেজিস্টার্ড বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঊগওঝ কোড নম্বরের প্রথম ৫ সংখ্যা উপজেলা/থানা কোড হিসেবে ব্যবহার করতে হবে; যা প্রাথমিক শিা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট, সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিা অফিস, উপজেলা/থানা শিা অফিস ও প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে জানা যাবে।
এছাড়া প্রাথমিক শিা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট (িি.িফঢ়ব.মড়া.নফ) এবং টেলিটকের ওয়েবসাইট (যঃঃঢ়://ফঢ়ব.ঃবষবঃধষশ.পড়স.নফ) থেকেও প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি সমাপনী পরীক্ষার ফল জানা যাবে।
যেভাবে জানা যাবে জেএসসি
ও জেডিসি পরীক্ষার ফল
যেকোনো মোবাইল অপারেটর থেকে ফল জানতে মেসেজ অপশনে গিয়ে ঔঝঈ/ঔউঈ লিখে স্পেস দিয়ে শিা বোর্ডের নামের প্রথম তিন অর (যেমন উযধশধ বোর্ডের জন্য উঐঅ) লিখে স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে ২০১৭ লিখে ১৬২২২ নম্বরে এসএমএস পাঠাতে হবে।
বিভিন্ন বোর্ডের নামের তিন অর যেমন উঐঅ = উযধশধ ইড়ধৎফ, ঈঙগ = ঈড়সরষষধ ইড়ধৎফ, জঅঔ = জধলংযধযর ইড়ধৎফ, ঔঊঝ = ঔবংংড়ৎব ইড়ধৎফ, ঈঐও= ঈযরঃঃধমড়হম ইড়ধৎফ, ইঅজ = ইধৎরংধষ ইড়ধৎফ, ঝণখ = ঝুষযবঃ ইড়ধৎফ, উওঘ = উরহধলঢ়ঁৎ ইড়ধৎফ, গঅউ = গধফৎধংংধয ইড়ধৎফ, ঞঊঈ= ঞবপযহরপধষ ইড়ধৎফ এরপর একটি স্পেস দিয়ে রোল লিখতে হবে আবার একটি স্পেস দিয়ে পরীার সাল ২০১৭ লিখতে হবে।
জেএসসির জন্য উদাহরণ ঔঝঈ < স্পেস> উঐঅ <স্পেস> ১২৩৪৫৬ < স্পেস> ২০১৭, এই মেসেজটি পাঠাতে হবে ১৬২২২ নম্বরে।
জেডিসির জন্য উদাহরণ ঔউঈ< স্পেস >গঅউ< স্পেস> ১২৩৪৫৬ < স্পেস> ২০১৭ এই মেসেজটি পাঠাতে হবে ১৬২২২ নম্বরে।
বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ
কার্যক্রম উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
প্রতিবারের মতো এবারও নতুন শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিার্থীদের বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ৩১ ডিসেম্বর গণভবনে কয়েকজন শিার্থীর হাতে নতুন বই তুলে দিয়ে ২০১৮ শিাবর্ষের পাঠ্যপুস্তক বিতরণ কর্মসূচির সূচনা করেন শেখ হাসিনা। এ নিয়ে টানা নবমবারের মতো সরকার শিার্থীদের বিনামূল্যে বই দিচ্ছে।
২০১৮ সালের প্রথম দিন শিা প্রতিষ্ঠানগুলোতে উৎসবের মধ্য দিয়ে ৪ কোটি ৩৭ লাখ ৬ হাজার ৮৯৫ জন শিার্থীর হাতে বিনামূল্যে ৩৫ কোটি ৪২ লাখ ৯০ হাজার ১৬২টি বই তুলে দেয়া হবে।
গত বছরের চেয়ে এবার শিার্থী বেড়েছে ১০ লাখ ৭০ হাজার ৯৬৬ জন। এজন্য ৭১ লাখ ৯৩ হাজার ৩৬৯টি বই বেশি ছাপতে হয়েছে।
এবার নিয়ে মোট ৯ বছরে প্রাথমিক, মাধ্যমিক, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিা প্রতিষ্ঠানের শিার্থীদের মাঝে ২৬০ কোটি ৮৮ লাখ ১ হাজার ৯১২টি বই ও শিা উপকরণ বিতরণ করেছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার।
শিা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিা মন্ত্রণালয় এবারও আলাদা আলাদা স্থানে কেন্দ্রীয়ভাবে পাঠ্যপুস্তক উৎসব পালন করেছে। ১ জানুয়ারি আজিমপুর গভর্নমেন্ট গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে শিামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যপুস্তক উৎসবের উদ্বোধন করেন। এই উৎসবে রাজধানীর কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের শিার্থীরা যোগ দেয়। এনসিটিবির আয়োজনে এই উৎসবে মাধ্যমিক ও উচ্চশিা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিা বিভাগের সচিব মো. আলমগীর, এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র সাহা উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে ১ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে প্রাথমিক স্তরের পাঠ্যপুস্তক উৎসবের উদ্বোধন করেন প্রাথমিক ও গণশিামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার। ওই অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিা সচিব আসিফ-উজ-জামান, প্রাথমিক শিা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবু হেনা মোস্তফা কামাল উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকায় কেন্দ্রীয় উৎসব হলেও বছরের প্রথম দিন সারাদেশের সকল শিা প্রতিষ্ঠানে উৎসবের মধ্য দিয়ে বই বিতরণ করা হয়। সেসব উৎসবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা অংশ নেন।