প্রতিবেদন

পেছন ফিরে দেখা : ২০১৭ সরকারের সফলতা ও ব্যর্থতার হালচাল

মেজবাহউদ্দিন সাকিল
২০১৭ সালটি শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকারের জন্য ছিল সফলতার বছর। ব্যর্থতাও ছিল কিছু। তবে ব্যর্থতা ছাপিয়ে ২০১৭ সালে স্বপ্নের পদ্মাসেতু দৃশ্যমান বাস্তবতা পায়। পদ্মাসেতুর প্রথম স্প্যানটি দুইটি পিয়ারের ওপর স্থাপিত হলে প্রথমবারের মতো পদ্মাসেতু দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। প্রথম স্প্যানটি স্থাপনের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘ ৭২তম সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে ছিলেন। বোন শেখ রেহানাসহ তিনি দৃশ্যমান পদ্মাসেতু দেখে আনন্দে কেঁদে ফেলেন। জাতির পিতার দুই কন্যার চোখেই ছিল অশ্রুকণা। জাতির পিতার উত্তরসূরিদের চোখ অশ্রুকণায় পরিপূর্ণ হয়েছিল এ কারণেই যে, নিজস্ব অর্থায়নে বাংলাদেশও যে পদ্মাসেতুর মতো বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পারে তা দেখিয়ে দিয়েছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার।
পদ্মাসেতুর পাশাপাশি দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন, তথ্যপ্রযুক্তির বিকাশ, রোহিঙ্গা সংকটে মানবতা প্রদর্শনসহ নানা ইস্যুতে সফলতার কারণে ২০১৭ সালে বিশ্বে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছে বাংলাদেশ। তবে ব্যাংকিং খাতে দুর্নীতি, নিখোঁজ ও বিদেশে অর্থ পাচার ইস্যুতে ব্যর্থতার সমালোচনাও হয়েছে দেশে-বিদেশে।
ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার মৌলিক চাহিদার জোগান ঠিক রেখে অব্যাহত আর্থসামাজিক উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, নারীর মতায়ন, তথ্যপ্রযুক্তির বিকাশ, কৃষি ও বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়ন, রোহিঙ্গা সংকটে মানবতার দৃষ্টান্ত, সন্ত্রাসবাদ দমন, মাতৃ ও শিশুমৃত্যুর হার হ্রাস, সারতার হার বৃদ্ধি, নারী ফুটবলার ও ক্রিকেটারদের সাফল্য, বিদ্যুৎ খাত ও পদ্মাসেতুর দৃশ্যমান অগ্রগতি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সততা ও পরিশ্রমের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণকে ইউনেস্কোর স্বীকৃতি, আন্তর্জাতিক সম্মেলনের সফল আয়োজনসহ নানা কারণে চলতি বছর বিশ্ব সম্প্রদায়ের নজর কেড়েছে বাংলাদেশ। বিশ্ব গণমাধ্যমেও এসব অর্জনের খবর ফলাও করে প্রচারিত হয়েছে। বছরজুড়েই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচিত ছিল বাংলাদেশ।
১৯৭১-এ ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি আর ৭০ শতাংশ দারিদ্র্যের বোঝা নিয়ে পথচলা শুরু বাংলাদেশের। এমন দৈন্যদশা ঘুচিয়ে এখন প্রবৃদ্ধির চাকা ঘুরছে ৭ শতাংশের ওপরে। দারিদ্র্যের হার কমে ২৩ দশমিক ৫ শতাংশে এসেছে, আর চরম দারিদ্র্যের হার ১২ দশমিক ১ শতাংশে নেমে এসেছে। বাজেটের আকার ৪ লাখ কোটি টাকা অতিক্রম করেছে ২০১৭ সালেই। আগামীতে ক্রমবর্ধমান হারে বাজেটের আকার বাড়বে বলে ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন সরকারের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ক্রমবর্ধমান হারে বেড়েই চলেছে। বর্তমানে রিজার্ভ রয়েছে প্রায় ৩৩ বিলিয়ন ডলার। প্রবৃদ্ধি হার ৭.২৮ শতাংশ, মাথাপিছু আয় দাঁড়িয়েছে ১৬১০ মার্কিন ডলারে, প্রবাসে কর্মী রয়েছে ১ কোটির বেশি, রেমিট্যান্স ১৫ দশমিক ২৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে, রপ্তানি আয় বেড়ে হয়েছে ৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে প্রায় সব সূচকে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। ২০১৭ সালে এই অগ্রগতি পূর্ণতা পেতে শুরু করে; যার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ মধ্যম আয় ও উন্নত দেশের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
নানা সময় বাংলাদেশের নীতির সমালোচনা করা ব্রিটিশ সাময়িকী দি ইকোনমিস্ট ২০১৭ সালে এসে বাংলাদেশের পক্ষে ইতিবাচক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সাময়িকীটির সর্বশেষ এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে স্থিতি এসেছে। বিদেশি বিনিয়োগ বেড়েছে। নীতিনির্ধারণ অনেক বেশি স্থিতিশীল হতে পেরেছে। সরকার বিপুল পরিমাণে বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং সড়ক নির্মাণ করতে পেরেছে। গত এক দশকে জিডিপির প্রবৃদ্ধি গড়ে ৬ শতাংশ স্থির থেকেছে এবং সামনের বছরগুলোতে এই প্রবৃদ্ধির হার ধীরে ধীরে শতকরা প্রায় ৭ ভাগে উন্নীত হওয়ার পূর্বাভাস দেয়া সম্ভব হয়েছে। শিশুমৃত্যু হারের মতো কতিপয় উন্নয়ন সূচকে এগিয়েছে বাংলাদেশ। হেনরি কিসিঞ্জার একসময় যে বাংলাদেশকে ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, সেই ধারণার অবসান ঘটেছে। সম্প্রতি ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সমতা সূচকেও বাংলাদেশ ৭ ধাপ এগিয়ে ৯৯তম অবস্থানে এসেছে।
ক্রমাগত অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও দারিদ্র্যের হার কমে যাওয়ায় বিশ্বব্যাপী বিশেষভাবে পরিচিতি পেয়েছে বাংলাদেশ। আর এসব উন্নয়নের ফলাফলস্বরূপ চলতি বছর দি ইকোনমিস্টের জরিপে ‘বর্ষসেরা দেশ’ বা ‘কান্ট্রি অব দি ইয়ার’ নির্বাচিত হওয়ার খুব কাছাকাছি ছিল বাংলাদেশ। মনোনয়নের প্রস্তাবনায় উঠে এসেছিল নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের জায়গা দেয়ার বিষয়টিও। ২০১৩ সাল থেকে এই পুরস্কার ঘোষণা করে আসছে দি ইকোনমিস্ট। এই তালিকায় সেই দেশটিই সেরা নির্বাচিত হয় যারা বিগত ১২টি মাসে ল্য করার মতো পরিবর্তন এনেছে এবং বিশ্বকে আরও আলোকিত করেছে। এ বছর বর্ষসেরা দেশ নির্বাচিত হয়েছে ফ্রান্স। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশকে সেরা দেশ হিসেবে গ্রহণ করেনি দি ইকোনমিস্ট। কারণ ব্যাখ্যা করে ম্যাগাজিনটির প থেকে বলা হয়, দেশটি যদি নাগরিকদের স্বাধীনতা খর্ব না করত এবং প্রকাশ্যে ইসলামি উগ্রপন্থিদের আতঙ্ক ছড়ানোর সুযোগ না দিতÑ তাহলে বাংলাদেশই হয়ত সেরা নির্বাচিত হতো।
২০১৭ সালে নারী নেতৃত্বের েেত্র বাংলাদেশের অর্জন অব্যাহত রয়েছে। বাড়ছে নারীর আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক মতায়ন। মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যুর হার কমেছে। বেড়েছে সারতার হার।
মিয়ানমারের নৃশংস হত্যাযজ্ঞ ও নির্যাতনের শিকার লাখ লাখ রোহিঙ্গা সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। মানবতার কারণে তাদের অবাধ প্রবেশের সুযোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বাংলাদেশ বিশ্ব সম্প্রদায়ের ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছে। নিন্দিত হয়েছে মিয়ানমার। জাতিসংঘে শেখ হাসিনার দেয়া ভাষণ বিশ্বনেতাদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত দেয়ার বিষয়ে বন্ধুপ্রতিম বেশিরভাগ রাষ্ট্র বাংলাদেশের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনকে ২০১৭ সালে ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ উপাধিতে ভূষিত করেছে। এছাড়া রোহিঙ্গা ইস্যুতে সম্প্রতি জাতিসংঘে তার প্রদত্ত ভাষণ ও প্রস্তাব বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে গঠনমূলক প্রস্তাব হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
প্যারাডাইস পেপারস’ আর ‘পানামা পেপারস’ নিয়ে যখন কলঙ্কিত বিশ্ব রাজনীতি, রাজনীতির সঙ্গে যখন দুর্নীতি আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে যাচ্ছে, সেই সময় সৎ রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বে তৃতীয় স্থান পেয়েছেন। সম্প্রতি পিপলস অ্যান্ড পলিটিকস, বিশ্বের এমন ৫ জন সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানকে চিহ্নিত করেছেন, যাদের দুর্নীতি স্পর্শ করেনি, যাদের বিদেশে কোনো ব্যাংক একাউন্ট নেই এবং উল্লেখ করার মতো কোনো সম্পদও নেই। বিশ্বজুড়ে দুর্নীতিহীন শীর্ষ ৫ রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের একজন হয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০১৭ সালে এটিকে বাংলাদেশের এক বড় অর্জন বলে অভিহিত করা যায়। এর পাশাপাশি বিশ্বসেরা ৫ জন কর্মঠ এবং পরিশ্রমী সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানের তালিকায় স্থান পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পিপলস অ্যান্ড পলিটিকস-এর সর্বশেষ গবেষণায় যেসব রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান কঠোর পরিশ্রম করেন এবং পরিশ্রমের মাধ্যমে তার দেশে দৃশ্যমান উন্নতি করেছেন, তাদের কাজ পর্যালোচনা করে এই মূল্যায়ন করা হয়েছে। শেখ হাসিনার সততা ও পরিশ্রমের এই চিত্র বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ ইউনেস্কো কর্তৃক বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান দেশে-বিদেশে ব্যাপক আলোচিত হয়েছে। যে ভাষণে সাড়া দিয়ে নিরস্ত্র বাঙালি সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছিল; পঁচাত্তর-পরবর্তী সামরিক সরকার যে ভাষণ প্রচার নিষিদ্ধ করেছিল, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বঙ্গবন্ধুর সেই ঐতিহাসিক ভাষণের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিতে দেশজুড়ে আনন্দ-উৎসব হয়েছে। এর প্রতিফলন পড়েছে এবারের বিজয় দিবসে বাঙালির স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে।
এছাড়া ঢাকায় দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক সম্মেলনের সফল আয়োজন সম্পন্ন করে সমতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে জাতীয় সংসদ তথা বাংলাদেশ। চলতি বছর এপ্রিলে ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) এবং নভেম্বরে কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশনের (সিপিএ) সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সফলভাবে উভয় সম্মেলনের সমাপ্তির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সমতার প্রমাণ পায় বিশ্ব সম্প্রদায়।
আইপিইউ সম্মেলনে বিশ্বের ১৩১টি দেশের ৬৫০ জন সংসদ সদস্য, ৫৩ জন স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার এবং ২০৯ জন নারী পার্লামেন্টারিয়ানসহ মোট ১ হাজার ৩৪৮ জন প্রতিনিধি ওই বৃহৎ সম্মেলনে যোগ দেন। আর সিপিএ সম্মেলনে ৫২টি দেশের ১৮০টি জাতীয় ও প্রাদেশিক সংসদের স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, সংসদ সদস্যসহ ৫ শতাধিক প্রতিনিধি অংশ নেন। আইপিইউ এবং সিপিএ সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী বিশ্বের অন্যান্য দেশের প্রতিনিধিদের প্রায় সবাই বাংলাদেশের সমতার ভূয়সী প্রশংসা করেন। দণি এশিয়ার এই দেশটির আর্থসামাজিক উন্নয়ন চিত্র সরেজমিন দেখে অনেকেই এখানে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেন।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে চলতি বছর বড় কয়েকটি প্রকল্পের সফল সূচনা ও দৃশ্যমান অগ্রগতির কারণে বিদেশিদের নজর কেড়েছে বাংলাদেশ। মাতারবাড়ি, পায়রা, রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্পের অগ্রগতি এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মূল প্রকল্পের উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে ২০১৭ সাল বিদ্যুৎ খাতের অগ্রগতির মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এ খাতে বিদেশিদের বিনিয়োগের আগ্রহ বাড়ছে। বৃহৎ গ্যাসত্রে বিক্রি করে মার্কিন বহুজাতিক কোম্পানি শ্যাভরনের বাংলাদেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার বিষয়টিও বিশ্ব মিডিয়ায় আলোচনায় এসেছে। তবে শ্যাভরন বাংলাদেশ না ছেড়ে এখানে বিনিয়োগ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশ্বব্যাংকের মুখ ফিরিয়ে নেয়ার পর নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু নির্মাণের ঘোষণার পর চলতি বছর স্প্যান স্থাপনের মাধ্যমে প্রকল্পের কাজ দৃশ্যমান হওয়ার বিষয়টি দেশীয় গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রচার হয়েছে। বিশ্ব গণমাধ্যমেও বিষয়টি গুরুত্বসহকারে স্থান পেয়েছে।
ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের ল্েয তথ্যপ্রযুক্তি খাতে চলতি বছর ব্যাপক এগিয়েছে বাংলাদেশ। বছরজুড়ে নানা কর্মকা-ে মুখর ছিল দেশের আইসিটি অঙ্গন। এ বছর যশোরে চালু হয়েছে শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক। এ খাতে দ জনবল তৈরিতে বিনামূল্যে প্রশিণ দিচ্ছে আইসিটি বিভাগ। বিগডাটা, ভার্চুয়াল রিয়েলিটি, অগমেন্টেড রিয়েলিটির মতো সর্বশেষ প্রযুক্তি নিয়েও দেশে কাজ হচ্ছে। বাংলা ডোমেইন লাভ, অ্যাপে পরিবহন সেবা, গুগল অ্যাডসেন্সে বাংলা ভাষা যুক্ত হওয়া চলতি বছরের বড় অর্জন। বিশ্বের ষষ্ঠ বৃহত্তম ডাটা সেন্টার হচ্ছে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে। বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটিতে সাত একর জমির ওপর গড়ে উঠছে এই ফোর টায়ার ডাটা সেন্টারটি। বেড়েছে মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা। বাংলাদেশের পরিচিতি বাড়াতে এসব সহায়ক হিসেবে কাজ করছে।
ব্যাংকিং খাতে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে চলতি বছর দেশে-বিদেশে সমালোচিত হয়েছে বাংলাদেশ। ভয়াবহ ঋণ জালিয়াতিসহ নানা অনিয়মের কারণে বিভিন্ন গণমাধ্যমের শিরোনাম হয়েছে ফারমার্স ব্যাংক ও এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক। সম্প্রতি ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ) প্রকাশিত ‘গ্লোবাল কম্পিটিভনেস রিপোর্ট ২০১৭-১৮’ শীর্ষক প্রতিবেদনেও বাংলাদেশের আর্থিক খাতের অস্থিরতার চিত্র উঠে এসেছে। রাজনৈতিক বিবেচনায় নতুন নতুন ব্যাংক প্রতিষ্ঠার পর থেকে সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হস্তেেপর পরও নতুন প্রজন্মের ব্যাংকগুলো স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে পারছে না। সম্প্রতি ‘প্যারাডাইস পেপারস’-এ বাংলাদেশের কয়েকজন রাজনীতিক ও ব্যবসায়ীর নাম যেমন দেশে-বিদেশে আলোচিত হয়েছে, তেমনি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও তার পরিবারের বিশাল সম্পদ সৌদি আরবসহ ১২টি দেশে পাচার হওয়ার বিষয়টিও দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে এসেছে।
শিক্ষা খাতে বর্তমান সরকারের বিশাল অর্জন থাকা সত্ত্বেও প্রশ্নফাঁস সরকারের সাফল্যের পথে কাঁটা হয়ে দেখা দিয়েছে। এ বছর কিছু মানুষ হঠাৎ করে নিখোঁজ হয়েছেন, আবার সরকার তথা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নানামুখী তৎপরতার কারণে তারা পুনরায় ফিরেও এসেছেনÑ অনেকে এটিকেও ইতিবাচকভাবেই দেখছেন। আবার অবকাঠামো খাতে সারাদেশে ব্যাপক উন্নয়ন হলেও রাজধানীর অব্যাহত যানজট এবং ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা পর্যায়ে কিছু সড়কের বেহাল দশাও বছরজুড়ে আলোচনায় ছিল। ২০১৭ সালেই রাজধানী ঢাকার মগবাজার-মৌচাক ফাইওভার যান চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হয়েছে। ফলে ওই এলাকার যানজট অনেকটাই নিরসন হয়েছে। এ বছরে সারাদেশের রাজনৈতিক পরিবেশও ছিল বেশ সহনশীল ও স্থিতিশীল-শান্তিপূর্ণ। তাই বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও সুশীলসমাজের অনেকেই বলছেন, জনকল্যাণে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টা এবং নানামুখী সফল প্রয়াসকে আদৌ খাটো করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। বরং সফলতা-ব্যর্থতার মানদ-ে ২০১৭ সালে ব্যর্থতার তুলনায় সরকারের সফলতার পাল্লাই বেশ ভারী।