প্রতিবেদন

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা : বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্রত্যেক নেতাকর্মীকে যথাযথ শিক্ষালাভের মাধ্যমে শান্তি ও প্রগতির দিকে এগিয়ে যেতে হবে


নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হয়েছে। ৪ জানুয়ারি বর্ণাঢ্য আয়োজনে মধ্য দিয়ে দেশব্যাপী দেশের সবচেয়ে প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী এ ছাত্র সংগঠন তাদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করে। ১৯৪৮ সালে ৪ জানুয়ারি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হলে ছাত্রলীগ নামের সংগঠনটি আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছিল। বরাবরের মতো এবারও ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে সারাদেশে ছাত্রলীগের প্রতিটি ইউনিটের প থেকে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর র‌্যালি বের করা হয়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণ ও দেশরতœ শেখ হাসিনার ভিশন বাস্তবায়নে ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় কলম ধরি, জঙ্গিবাদ ও মাদকমুক্ত দেশ গড়ি’ স্লোাগানে এবার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করেছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা।
বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলে ৪ জানুয়ারি তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবনে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ সাাৎ করতে গেলে তাদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ছাত্রলীগের যে মূল নীতি সে নীতি ধরে এগুতে হবে। শিা গ্রহণ করতে হবে। শিার আলোকবর্তিতা হাতে নিয়ে শান্তি ও প্রগতির দিকে এগিয়ে যেতে হবে। ছাত্রলীগের জন্মই হয়েছে বাংলাদেশের মানুষের অধিকার আদায় করার জন্য। বাংলাদেশের সব অর্জনের পেছনেই রয়েছে ছাত্রলীগের অনেক ত্যাগ। তাই ছাত্রলীগের প্রতিটি ছেলে-মেয়েকে আমি বলব, মনোযোগ দিয়ে সবাইকে লেখাপড়া করতে হবে। খালি অঙ্ক আর উর্দুতে পাস করলে চলবে না। বিজ্ঞান-প্রযুক্তি, আমাদের সংস্কৃতি-সাহিত্য সবকিছুই পড়তে হবে, জ্ঞানার্জন কতে হবে। সবাইকে মনে রাখতে হবে দেশকে আগামীতে নেতৃত্ব দিতে হলে শিা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিা ছাড়া কখনও নিজেকে গড়ে তোলা যাবে না, দেশকে এগিয়ে নেয়া যাবে না।
ছাত্রলীগের প্রত্যেক নেতাকর্মীকে নির্দেশ দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, বাড়িতে গেলে আশপাশে কেউ যদি নিরর থাকে তাকে অন্তত অরজ্ঞান দিতে হবে। ছেলেমেয়েদের উৎসাহিত করতে হবে পড়াশুনার দিকে। শত ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে আজকে আমরা নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু করছি। তাই আমরা সরকারে এসেছি নিজের ভাগ্য গড়তে নয়, জনগণের ভাগ্য গড়তে।
৪ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কার্জন হল প্রাঙ্গণে কেক কেটে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর উদযাপন করেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ, সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি আবিদ আল হাসান ও সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন প্রিন্স।
৩ নভেম্বর রাতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে হলে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর স্লোগান দেয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। ছাত্রলীগের প্রতিটি নেতাকর্মীর মধ্যে দেখা গেছে উৎসবের আমেজ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন একে অন্যকে। সকাল হতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলসহ রাজধানীর বিভিন্ন থানা, ওয়ার্ড, কলেজের ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে আসতে থাকে। ‘শুভ শুভ শুভ দিন, ছাত্রলীগের জন্মদিন’ স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। এর আগে সকাল ৬টায় সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং সাড়ে ৬টায় ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলে ৫ জানুয়ারি সারাদেশে গণতন্ত্রের বিজয় দিবস পালন করে ছাত্রলীগ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি আবিদ আল হাসান এ বিষয়ে স্বদেশ খবরকে বলেন, ৫ জানুয়ারি দেশের মানুষের জন্য একটি স্মরণীয় দিন। এই দিনে প্রধানমন্ত্রী দেশরতœ শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বে আমরা বিএনপি-জামায়াতের জ্বালাও-পোড়াও নামের সন্ত্রাসবাদ থেকে পরিত্রাণ পেয়ে আজকে উন্নত দেশের দিকে যাচ্ছি। তাই এই দিনটি আমাদের জন্য যথেষ্ট গুরুত্ববহ।
৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ছাত্রলীগ ৮ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সোপার্জিত স্বাধীনতা চত্বরে দুস্থদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ, ৯ জানুয়ারি স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি এবং ১১ জানুয়ারি অপরাজেয় বাংলায় কোমলমতি শিার্থীদের মাঝে শিা উপকরণ বিতরণ করে।
১৯৪৮ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হলে ছাত্রলীগ নামের সংগঠনটি আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছিল। হাঁটি হাঁটি পা পা করে ৭১ বছরে পা দিল ছাত্রলীগ। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বাধীনতা আন্দোলন এবং সকল অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে দাবি আদায়ের সংগ্রামে ঝরে গেছে বহু নেতাকর্মীর প্রাণ। রাজপথের আন্দোলনেও আওয়ামী লীগের ভ্যানগার্ড হয়ে প্রশংসনীয় ভূমিকা রেখেছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে গড়া এ ছাত্রসংগঠনটির নেতাকর্মীরা।
রেওয়াজ অনুযায়ী প্রতি বছর ৪ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে র‌্যালি বের করে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। রাজধানীবাসীর ভোগান্তি এড়াতে এবার সেই রেওয়াজ ভেঙেছে ছাত্রলীগ। ৪ জানুয়ারি সপ্তাহের শেষ কর্মদিবস হওয়ায় রাজধানীবাসীর ভোগান্তি এড়াতে র‌্যালি ৬ জানুয়ারি, সাপ্তাহিক ছুটির দিন শনিবার বের করা হয়। অবশ্য রাজধানী ছাড়া দেশের অন্য সকল ইউনিটে ৪ জানুয়ারিই আনন্দ র‌্যালির আয়োজন করা হয়।
৬ জানুয়ারি র‌্যালি আয়োজনের বিষয়ে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন স্বদেশ খবরকে বলেন, ৪ জানুয়ারি আমাদের প্রাণের সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের গৌরব, ঐতিহ্য, সংগ্রাম ও সাফল্যের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। রেওয়াজ অনুযায়ী আমরা ওই দিন র‌্যালি দিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কার্যক্রম শুরু করি। কিন্তু এবার জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে রাজধানীবাসীর ভোগান্তির কথা বিবেচনা করে র‌্যালি সাপ্তাহিক ছুটির দিনে করার সিদ্ধান্ত হয়। কারণ জাতির পিতা সবকিছু সাধারণ মানুষের জন্য করেছেন। সেই আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে আমরা এই সিদ্ধান্ত নিই। অন্যান্য কর্মসূচি নির্ধারিত সময়ে পালন করা হলেও কেন্দ্রীয় র‌্যালি ৬ জানুয়ারি বিপুল উৎসাহ-আনন্দ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পালন করা হয়।