প্রতিবেদন

প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে নানামুখী ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশের ৮টি সাধারণ শিা বোর্ডের এসএসসি, মাদ্রাসা বোর্ডের দাখিল ও কারিগরি বোর্ডের এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীা আগামী ১ ফেব্র“য়ারি শুরু হচ্ছে। দেশের সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী অংশ নেয়া এই পরীক্ষাটিকে ঘিরে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উদ্বেগের যেন শেষ নেই। উদ্বেগটি প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়া বিষয়ে। এসএসসির ক্ষেত্রে দেখা যায়, প্রতি বছরই দেশের প্রতিষ্ঠিত কোনো না কোনো কোচিং সেন্টার প্রশ্নপত্র ফাঁস করে দিচ্ছে। অথবা বলা যায়, এসএসসির প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে কোনো না কোনো কোচিং সেন্টারই জড়িত। বিষয়টি উপলব্ধি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ও। তাই ৮ জানুয়ারি শিা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এসএসসি ও সমমানের পরীার আয়োজন সংক্রান্ত সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, ৩ দিন আগে থেকে অর্থাৎ ২৯ জানুয়ারি থেকে শুরু করে পরীার পুরো সময় সারাদেশের সব কোচিং সেন্টার বন্ধ থাকবে। এর আগের সভায় ৩০ মিনিট আগে পরীার্থীদের পরীার হলে প্রবেশ বাধ্যতামূলক করা হয়। ওই সময়ের মধ্যে না ঢুকলে পরীা দিতে দেয়া হবে না। প্রশ্নফাঁস ঠেকাতেই এ দুই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
এসএসসি ও সমমান পরীা সুষ্ঠু, নকলমুক্ত ও ইতিবাচক পরিবেশে অনুষ্ঠানের ল্েয জাতীয় মনিটরিং কমিটির এ সভায় শিামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ সভাপতিত্ব করেন। এতে পরীা সুষ্ঠু, নির্বিঘœ ও নকলমুক্ত পরিবেশে অনুষ্ঠানের জন্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজব ছড়ানো রোধ, ফেসবুকে প্রশ্ন সরবরাহকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়াসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয় এবং কয়েকটি সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, পরীার্থীদের পরীা শুরুর আধ ঘণ্টা আগে অবশ্যই পরীার হলে প্রবেশ করে নিজ নিজ আসনে বসতে হবে। এ েেত্র কোনো অজুহাত গ্রহণযোগ্য হবে না। কোনো পরীার্থীর হাতে মোবাইল ফোন পাওয়া গেলে তাকে তৎণাৎ বহিষ্কার করা হবে। সভায় জানানো হয়, পরীা কেন্দ্রে কেউ স্মার্টফোন ব্যবহার করতে পারবে না। শুধু কেন্দ্র সচিব একটি সাধারণ ফোন ব্যবহার করতে পারবেন। পরীা শুরুর আগে থেকে পরীা চলাকালীন দেশে ইন্টারনেট ও ফেসবুক বন্ধ রাখার বিষয়েও সভায় আলোচনা হয়।
সভায় শিামন্ত্রী বলেন, পরীা নকলমুক্ত পরিবেশে অনুষ্ঠানের জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেয়া হবে না। সরকারের সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা নকল প্রতিরোধে সর্বোচ্চ সচেষ্ট থাকবে। শিক-কর্মকর্তা এর সঙ্গে জড়িত হলে তাকে বহিষ্কারসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশনাও দেন।
এ সময় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিা বিভাগের সচিব মো. আলমগীর, মাধ্যমিক ও উচ্চশিা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক মো. মাহাবুবুর রহমান, মাধ্যমিক ও উচ্চশিা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব চৌধুরী মুফাদ আহমদ, ড. অরুণা বিশ্বাস ও জাবেদ আহমেদ, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার বিশ্বাস, বিজি প্রেসের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শিা বোর্ডের চেয়ারম্যান উপস্থিত ছিলেন।