প্রতিবেদন

বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে শিগগিরই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি হচ্ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে বাণিজ্য বাড়ানোর ল্েয মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি হতে যাচ্ছে। এর আওতায় উভয় দেশ দ্বিপীয় পণ্য আমদানি-রপ্তানির েেত্র শুল্ক কমিয়ে আনবে। একই সঙ্গে অন্যান্য অশুল্ক বাধাও দূর করা হবে। শিগগিরই এ ইস্যুটি নিয়ে উভয় দেশ আলোচনা শুরু করবে। ২২ ডিসেম্বর কক্সবাজারে বাংলাদেশ ও ভুটানের বাণিজ্য সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যকার বৈঠকে এ বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারকও স্বার হয়েছে। এছাড়া দেশটি ট্রানজিটের অংশ হিসেবে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও মংলাবন্দর ব্যবহার করতে চায়। এ বিষয়ে বাংলাদেশ নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে। এটি কী উপায়ে হতে পারে, তা নির্ধারণের ল্েয একটি যৌথ কমিটি গঠন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বৈঠকে ১১ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন বাণিজ্য সচিব শুভাশীস বসু। অন্যদিকে ভুটান প্রতিনিধি দলের পে নেতৃত্ব দেন দেশটির অর্থনীতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব দাশো ইয়েশি ওয়াংডি।
ভুটান বাংলাদেশে ১৯টি পণ্য রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা পায়। দেশটি এখন নতুন করে তারা আরো ১৬টি পণ্যে এ সুবিধা চেয়েছে। বাংলাদেশ বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) সদস্য হলেও ভুটান সদস্য নয়। ফলে দ্বিপীয় চুক্তি ছাড়া এ ধরনের সুবিধা দেয়া সংস্থাটির নীতি সমর্থন করে না। অর্থাৎ কোনো সুনির্দিষ্ট প্লাটফর্ম ছাড়া এ ধরনের শুল্ক সুবিধা ডব্লিউটিও’র নীতিবিরুদ্ধ। এর পরিপ্রেেিত বাংলাদেশ ভুটানকে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ) বা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) করার প্রস্তাব দেয়। ভুটান ওই প্রস্তাবে সম্মতি প্রদান করে।
ভুটানের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপীয় বাণিজ্য ৪ কোটি মার্কিন ডলারের মতো। এর বেশিরভাগই ভুটানের প।ে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দেশটি থেকে বাংলাদেশের বার্ষিক আমদানি সাড়ে ৩ কোটি ডলারেরও বেশি। আর বাংলাদেশ রপ্তানি করে ৪০ থেকে ৫০ লাখ ডলারের পণ্য। ভুটান থেকে আমদানি পণ্যের তালিকায় বোল্ডার ও চুনা পাথর, ফেরো সিলিকন ও কমলা লেবু অন্যতম। অন্যদিকে বাংলাদেশ স্বল্প পরিমাণে কিছু তৈরি পোশাক রপ্তানি করে থাকে। বর্তমানে দেশটি বাংলাদেশ থেকেও আমদানি বাড়াতে চায়।
চলতি বছরের ১৭ এপ্রিল বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভুটান সফরকালে ট্রানজিটের বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বার হয়। এেেত্র প্রাথমিকভাবে চট্টগ্রাম ও মংলাবন্দরের কথা বিবেচনা করা হচ্ছে। এ কার্যক্রমকে দ্রুত এগিয়ে নেয়ার বিষয়েও উভয় প একমত হয়েছে। এ ল্েয ভুটান ইতোমধ্যে একটি কারিগরি কমিটি গঠন করেছে। ওই কমিটি শিগগিরই বৈঠক করবে।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রথম সচিব এহতেশামুল হক। তিনি বলেন, ভুটানে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। বিশেষত তৈরি পোশাক ও ওষুধ রপ্তানির ভালো বাজার হতে পারে ভুটান। পিটিএ বা এফটিএ হলে তাতে উভয় দেশই লাভবান হবে। সমঝোতা স্মারকে এ বিষয়টিতে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। তাই সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, দুই দেশের পাস্পরিক যোগাযোগের এ ধারা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় ও মজবুত হবে।