প্রতিবেদন

বিআইডিএসএর জরিপ : বাল্যবিয়ে আগের চেয়ে কমেছে

স্বদেশ খবর ডেস্ক
কিশোরীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রশাসনিক সহযোগিতা বাড়ায় বাল্যবিয়ে পূর্বের তুলনায় অনেক কমেছে। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ (বিআইডিএস)-এর এক জরিপে এ তথ্য জানা গেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাল্যবিয়ে কেবল কমলেই হবে না। সমাজ থেকে এই অভিশাপ দূর করতে হবে। এজন্য বাল্যবিয়ে নিরোধ আইনে বিশেষ বিধানের পরিবর্তন করতে হবে এবং সরকারকে আরো উদ্যোগ নিতে হবে।
বিআইডিএস’-এর জরিপ অনুযায়ী, ২০১৫ সালে ১৮ বছরের নিচে বিয়ের হার ছিল ৬২ দশমিক ৬ শতাংশ। এই সংখ্যা কমে ২০১৭ সালে দাঁড়িয়েছে ৪৭ শতাংশে। একই সময়ে ১৫ বছরের নিচে বিয়ের হার ছিল ২৩ দশমিক ৮ শতাংশ। ২০১৭ সালে তা কমে হয়েছে ১০ দশমিক ৭ শতাংশ।
সরকারের নানা উদ্যোগের পরও এ বছর জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত গত ১১ মাসে বাল্যবিয়ের শিকার হয়েছে ১২১ জন কিশোরী। বাল্যবিয়ে ঠেকানো গেছে ২২৭ জন কিশোরীর। আর ২০১৩ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত বাল্যবিয়ের শিকার হয় ৪৩১ জন কিশোরী। এর মধ্যে ২০১৬ সালে বাল্যবিয়ের ঘটনা ছিল তুলনামূলক বেশি, যা ১৭৭ জন। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের পেপার কিপিং থেকে এ তথ্য জানা যায়। পরিষদ দেশের ১৪টি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত বাল্যবিয়ের ঘটনা সমন্বয় করে এ তথ্য জানায়।
সরকারি ও বেসরকারিভাবে দেখা যায় বাল্যবিয়ে বন্ধের নানা উদ্যোগ। এর মধ্যে সমাজসেবা অধিদপ্তরের ‘শিশু সুরা হেল্প লাইন’ ‘১০৯৮’ তে ফোন করে বাল্যবিয়ে বন্ধের সহায়তা চায় কিশোরীরা। এই হেল্প লাইনের সহায়তায় বাল্যবিয়ে বন্ধ করা গেছে ২০১৭ সালের ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৩৫টি। আর এই নম্বরে ৫৮ হাজারেরও বেশি শিশু ফোন করেছে বলে জানা যায় সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে। হেল্প লাইনটি চালু হওয়ার পর থেকে ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত ফোন কল এসেছে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৪০০টি। অধিদপ্তর জানায়, দেশের অন্যান্য বিভাগের তুলনায় ঢাকা বিভাগ থেকে বেশি ফোন করেছে শিশু-কিশোরীরা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারের সদিচ্ছা ও শক্তিশালী বিভিন্ন কার্যক্রমের কারণে দেশে বাল্যবিয়ে কমে আসছে। তিনি বলেন, বাল্যবিয়ের মূলে রয়েছে অভিভাবকদের দরিদ্রতা। সে কারণে দরিদ্রতা নির্মূলেও সরকার নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।
জাতীয় পর্যায়ে শিশুদের নিয়ে কাজ করা ২৬৯টি সংগঠনের মোর্চা ‘বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরাম’-এর পরিচালক আবদুস শহিদ মাহমুদ বলেন, সবচেয়ে ভালো হয় বাল্যবিয়ে নিরোধ আইনের ‘বিশেষ বিধান’ বাদ দিলে। এতে বাল্যবিয়ে আশানুরূপভাবে কমে আসবে।