ফিচার

রূপচর্চা

ব্রণ ও মেছতা দূর করবে নারিকেল তেল

সাধারণত টিনএজারদের মধ্যে ব্রণের সমস্যা বেশি হতে দেখা যায়। তবে পূর্ণ বয়স্কদের মধ্যেও এই সমস্যা আছে। যদিও বয়ঃসন্ধিকাল পার হওয়ার সাথে সাথে হরমোন স্বাভাবিক হয়ে আসতে থাকে এবং ব্রণের সমস্যা কমতে থাকে। সাধারণত ব্রণের সমস্যা আছে এমন মানুষদের তেল ও তৈলাক্ত খাবার থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। তবে ব্রণ নিরাময়ে নারিকেল তেল অত্যন্ত কার্যকরী। ব্রণ নিরাময়ে নারিকেল তেল কেন কার্যকর সে কারণগুলো স্বদেশ খবর পাঠকদের জন্য চলতি সংখ্যায় উপস্থাপন করা হলো।

ফ্যাটি এসিড : নারিকেল তেলে দুটি শক্তিশালী অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল এজেন্ট ক্যাপ্রিক এসিড ও লরিক এসিড আছে। নারিকেল তেল যখন ত্বকে প্রয়োগ করা হয় তখন ত্বকে উপস্থিত ভালো জীবাণু এই এসিডগুলোকে মনোসেপ্রিন এবং মনোলরিন এ রূপান্তরিত করে। এগুলো ত্বকের সুরা দানকারী এসিড স্তরকে প্রতিস্থাপন করে; যা হতাশ টিনএজাররা ঘন ঘন ধোয়ার মাধ্যমে নষ্ট করে ফেলে। বাহ্যিক ব্যবহারের পাশাপাশি নারিকেল তেল গ্রহণ করাও একই রকম সুরা দিতে পারে। কাঁচা নারিকেল চিবিয়ে খেলেও ক্যাপ্রিক এসিড ও লরিক এসিড পাওয়া যায়।
ভিটামিন : নারিকেল তেল ভিটামিন ই-এর সমৃদ্ধ উৎস। এটি ত্বককে স্বাস্থ্যবান রাখে এবং সিবাম গ্ল্যান্ডকে সঠিকভাবে কাজ করতে সাহায্য করে ও ব্লকেজ পরিষ্কার করে। অর্থাৎ এটি ব্রণ হওয়ার মূল কারণ দূর করে। ভিটামিন ই এক ধরনের হরমোন নিয়ন্ত্রণকারী উপাদান, যা হরমোনের ওঠানামার ফলে সিবাম গ্ল্যান্ডের অতিরিক্ত সক্রিয় হয়ে ওঠাকে কমাতে পারে।
অ্যান্টি-ইনফামেটরি উপাদান : নারিকেল তেল ত্বককে শিথিল হতে সাহায্য করে এবং ত্বকের ভেতরে পৌঁছে যায়। যখন এটি ব্রণ আক্রান্ত ত্বকে ব্যবহার করা হয় তখন খুব দ্রুত ত্বক দ্বারা শোষিত হয় এবং প্রদাহ কমতে সাহায্য করে। ব্রণের তীব্রতা বেশি হলে ত্বকে উন্মুক্ত ত হতে পারে, এই ত নিরাময়ে সাহায্য করে নারিকেল তেল।
এছাড়াও নারিকেল তেল বিপাকের হারের উন্নতি ঘটায় বলে হরমোনের নিঃসরণ ও ভারসাম্যের ওপর পরো প্রভাব ফেলে। এভাবে ব্রণ হওয়ার সম্ভাবনাও কমে যায়। ভালো ফলাফল পেতে ২-৫ চামচ নারিকেল তেল প্রতিদিন গ্রহণ করুন। বিশুদ্ধ নারিকেল তেল বিশেষ করে ভার্জিন কোকোনাট অয়েল ব্যবহার করাই ভালো।
যেভাবে ব্যবহার করবেন : সবচেয়ে সহজ ও কার্যকরী উপায় হচ্ছে ব্রণের উপর সরাসরি নারিকেল তেল লাগানো। নারিকেল তেল সামান্য গরম করে নিয়ে আঙুলের সাহায্যে মুখের ব্রণের ওপর বৃত্তাকারে আলতোভাবে লাগান। দিনে দুইবার এভাবে লাগালে ১ সপ্তাহের মধ্যেই ভালো ফল দেখতে পাবেন।
আরেকটি সহজ উপায় হচ্ছে সকালে মুখ ধোয়ার ফেসওয়াশের সাথে ব্যবহার করতে পারেন নারকেল তেল। আপনার কসমেটিকসের সাথেও কয়েক ফোঁটা নারিকেল তেল মিশিয়ে নিতে পারেন। এর ফলে নারিকেল তেলের উপকারী উপাদান কসমেটিকের সাথে মিশে প্রতিকার হিসেবে কাজ করবে। ৫ টেবিল চামচ অ্যালোভেরা জেলের সাথে ২ টেবিল চামচ মধু ও ২ টেবিল চামচ নারিকেল তেল মিশিয়ে মাস্ক তৈরি করে মুখে লাগিয়ে ২০ মিনিট রাখুন। তারপর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এটি সপ্তাহে দুইবার ব্যবহার করুন। ভালো ফল পাবেন।

ফেসওয়াশ
নারিকেল তেল চুলে ব্যবহৃত হলেও ত্বকের জন্য এর কার্যকারিতা অনেক। ত্বকের কালচে ভাব, মেছতা, ব্রণ ও অ্যালার্জি দূর করতে নারিকেল তেলের ফেসওয়াশ ব্যবহার করা যেতে পারে।
উপকরণ : ২ টেবিল চামচ নারিকেল তেল, ২-৩ ফোঁটা চা পাতার তেল, ২ ফোঁটা ল্যাভেন্ডার অয়েল ও ১ টেবিল চামচ মধু।
ব্যবহার বিধি : প্রথমে সব উপাদান একসঙ্গে মিশিয়ে নিতে হবে। এরপর ভালো করে নাড়িয়ে ঘন মিশ্রণ তৈরি করতে হবে। কয়েক ফোঁটা লেবুর রস দেয়া যেতে পারে (ত্বক তৈলাক্ত হলে)। ভেজা মুখে মিশ্রণটি লাগিয়ে কিছুণ ম্যাসাজ করতে হবে। সবশেষে কুসুম গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নিতে হবে। প্যাকটি শুধু যে ত্বকই পরিষ্কার করবে তা নয়, পাশাপাশি ত্বকের দাগ ও কালচেভাবসহ নানা সমস্যা দূর করতে সাহায্য করবে।
উল্লেখ্য, মিশ্রণটি যদি বেশি তৈলাক্ত মনে হয় তাহলে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মেশানো যেতে পারে। ভালো ফলাফলের জন্য এই ফেসওয়াশ সপ্তাহে অন্তত ৩-৪ বার লাগাতে হবে।