খেলা

সাফ অনূর্ধ্ব ১৫ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ নারী ফুটবলাররা সংবর্ধিত

ক্রীড়া প্রতিবেদক : সাফ অনূর্ধ্ব ১৫ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলকে বিপুল সংবর্ধনা দেয়া হয়েছে। ৪ জানুয়ারি বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের জন্য এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সাফ অনূর্ধ্ব ১৫ ফুটবল টুর্নামেন্টে ভারতকে পরাজিত করে বিজয় ছিনিয়ে আনা আমাদের মেয়েদের জন্য খুব সহজ ছিল না। এ সময় তিনি বলেন, তারা বাংলাদেশের জন্য সম্মান বয়ে এনেছে। এই সাফল্যকে বাংলাদেশের জন্য বিশাল অর্জন বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
শেখ হাসিনা লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলায় আরো মনোযোগী হতে ছেলে-মেয়েদের প্রতি আহ্বান জানান।
ফুটবলকে বাংলাদেশের একটি জনপ্রিয় খেলা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফুটবলে যথাযথ মনোযোগ দিতে হবে। শেখ হাসিনা ফুটবলের সাথে তাঁর পরিবারের সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করে বলেন, বঙ্গবন্ধু এবং তার দাদা ফুটবল খেলা পছন্দ করতেন। আর তার বড় ভাই শেখ কামাল দেশের সেরা ক্রীড়া সংগঠন আবাহনী কাব প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
শেখ হাসিনা খেলাধুলার উন্নয়নে তাঁর সরকারের গৃহীত পদেেপর কথা উল্লেখ করে বলেন, তাঁর সরকার লেখাপড়ার পাশাপাশি সমাজে খেলাধুলা ও সংস্কৃতি চর্চায় উৎসাহিত করতে চায়। এ ল্েয তিনি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিার্থীদের জন্য বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ টুর্নামেন্ট চালু করেছেন। এই টুর্নামেন্ট ফুটবল খেলতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিার্থীদের উৎসাহিত করবে।
পরে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের হাতে কিছু উপহার তুলে দেন। এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন দণি এশিয়া ফুটবল ফেডারেশন (সাফ) ও বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন। উল্লেখ্য, গত ২৪ ডিসেম্বর বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহি মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব ১৫ সাফ মহিলা চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল খেলায় ভারতকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ। প্রতিযোগিতায় ফেভারিট হিসেবে খেলতে নামা ভারতকে ১-০ গোলে হারিয়ে ট্রফি ঘরে তুলে নেয় স্বাগতিকরা। জয়ের নায়ক ডিফেন্ডার শামসুন্নাহার। তার একমাত্র গোলে বাংলাদেশ জিতেছে ফাইনাল। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের কাছ থেকে সোনালি ট্রফি হাতে নেন মারিয়ারা। কিন্তু এত বড় সাফল্যের পরও শূন্য হাতে বাড়ি ফেরেন বাংলাদেশ মহিলা ফুটবল দলের মেয়েরা।
এ নিয়ে ফুটবলে বাংলাদেশের মেয়েদের শিরোপা হলো তিনটি। দুটিই এসেছে এএফসি আঞ্চলিক পর্ব থেকে। ২০১৫ সালে নেপালে ও ২০১৬ সালে তাজিকিস্তানে অনূর্ধ্ব-১৪ ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল মেয়েরা। এবার তৃতীয় শিরোপা তারা জিতলো সাফের মতো আসরে।
সাফের মূল আসরে এই ভারতের কাছে হেরে গত বছর শিলিগুড়িতে শিরোপা জেতা হয়নি বাংলাদেশ জাতীয় দলের। এবার সেই হারের প্রতিশোধ নিলো কিশোরীরা। অপরাজিত থেকে হলো চ্যাম্পিয়ন। লিগে নেপালকে ৬-০, ভুটান ও ভারতকে ৩-০ গোলে হারানোর পর ফাইনালে ভারতকে ১-০ গোলে হারিয়ে মেয়েদের সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম আসরেই চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশের মেয়েরা। বাংলাদেশের মেয়েদের এমন একটি সাফল্যের পর সারাদেশেই বয়ে যায় খুশির জোয়ার। ১৬ কোটি মানুষ বিস্ময়ে অভিভূত হয়ে উদযাপন করেছে কিশোরী ফুটবলারদের এ বিজয়ানন্দ।
অসাধারণ এ সাফল্যে যখন সারাদেশ গা ভাসিয়েছে তখন এ থেকে দূরে থাকবেন কেন দেশের ক্রীড়াঙ্গনের বড় দুই তারকা মাশরাফি বিন মর্তুজা এবং সাকিব আল হাসান। নিজেদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে তাই তারা অভিনন্দনের জোয়ারে ভাসিয়ে দিয়েছেন বাংলার বাঘিনীদের।
মাশরাফি তার ফেসবুক পেজে বাংলা এবং ইংরেজি দুই ভাষায় অভিনন্দন বার্তা লিখেছেন। সেখানে খুব অল্প কথায় কিশোরী ফুটবলারদের জীবন-সংগ্রামের কাহিনি খুব সুন্দরভাবে উঠে এসেছে। বাংলায় তিনি লিখেছেন,‘ভারতকে হারিয়ে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হলো বাংলাদেশ। কত বাধা পাড়ি দিয়ে এসে নিজেকে একজন চ্যাম্পিয়ন হিসেবে তৈরি করা যায়, তা এ বিজয়ী মেয়েদের জীবনগল্পের প্রতিটি প্যারাতে লেখা।’
সাকিব আল হাসানও দুই ভাষাতেই অভিনন্দন জানিয়েছেন বাংলাদেশের কিশোরী ফুটবলারদের। অভিনন্দন বার্তায় তিনি লিখেছেন, বাংলাদেশের মেয়েদের অসাধারণ এক শিরোপা অর্জন! মেয়েদের অনূর্ধ্ব-১৫ সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ভারতকে হারিয়ে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৫ নারী ফুটবল দলকে জানাই প্রাণঢালা অভিনন্দন।’
কিন্তু ক্রিকেটারদের বাইরে কোনো করপোরেট হাউজ, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৫ নারী ফুটবল দলকে অভিনন্দন জানানোর জন্য এগিয়ে আসেনি। প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে মেয়েদের কোনো সংবর্ধনা না দেয়ায় কোনো করপোরেট হাউজের পকেটেই হাত ঢুকেনি। বলা চলে এত বড় সাফল্যের পর বাংলাদেশের মেয়েরা এক প্রকার রিক্ত হস্তে যার যার বাড়িতে ফিরে যান। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মেয়েদের সাফল্যের কথা ভুলেননি। ৪ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের সোনার মেয়েদের গণভবনে ডেকে নেন। প্রতিটি খেলোয়াড়ের সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলেন। তাদের হাতে তুলে দেন আর্থিক পুরস্কার।
প্রধানমন্ত্রীর সংবর্ধনার পর নড়েচড়ে বসে বিভিন্ন করপোরেট হাউজ, ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান। নারী ফুটবলারদের খোঁজখবর নেয়া শুরু করেন অনেকে। অনেক প্রতিষ্ঠান ছুটে যায় নারী ফুটবলারদের গ্রামের বাড়িতে। তাদের তৎপরতা দেখে অনেকে মন্তব্য করেন, বর্তমান বাস্তবতা হলো প্রধানমন্ত্রীর দিকেই সবাই তাকিয়ে থাকেন, তিনি ইশারা না দিলে কেউ কোনো কাজই করতে চান না! এমনকি প্রধানমন্ত্রীর পিএসও তাঁকে কোনো মেসেজ দিতে রাজি নন; বরং প্রধানমন্ত্রী তাকে (পিএসকে) বললেই পিএস কাজটি করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। আর এক্ষেত্রেও তাই হলো। প্রধানমন্ত্রী নারী ফুটবলারদের সংবর্ধনা দেয়ার পরই সবার চোখ খুলেছে। প্রধানমন্ত্রী যদি মেয়েদের সংবর্ধনা না দিতেন, তাহলে মেয়েদের এই সাফল্যটি এক প্রকার চাপাই পড়ে যেত।