কলাম

সারাদেশের অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নতুন-পুরনো সকল ভর্তিতে অতিরিক্ত ফি আদায় রোধে কার্যকরী ব্যবস্থা নেয়া জরুরি

একজন ফেসবুক ব্যবহারকারীর স্ট্যাটাস ছিল এরকমÑ জানুয়ারি মাসে একটি আতঙ্কিত শব্দের নাম ভর্তি-পুনঃভর্তি। বাস্তবিকই ভর্তির পাশাপাশি পুনঃভর্তিও দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় বিষফোঁড়ায় পরিণত হয়েছে। আগে শোনা যেত, রাজধানীর নামিদামি স্কুলে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হতে লাখ টাকা লাগে। আর এখন শোনা যায়, ওইসব স্কুলে পুনঃভর্তি হতে লাখ লাখ টাকা লাগছে। অর্থাৎ প্রতি বছরই লাখ টাকার কারবার। মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে একজন শিক্ষার্থীকে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হয়ে ওই স্কুল থেকে এসএসসি সার্টিফিকেট পেতে তাকে ১০ বার ভর্তি হতে হবে। এটা কেমনতরো কথা। আর পুনঃভর্তি ফি-এরও যেন কোনো কূল-কিনারা নেই। যার কাছ থেকে যেরকম পারছে, আবার অনেক ক্ষেত্রে এক প্রকার মুলামুলি করে পুনঃভর্তির ফি অভিভাবকদের কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে। অথচ বর্তমান সরকার দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে এগিয়ে নেয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে বই দেয়। জানুয়ারি মাসের ১ তারিখের অনেক আগেই স্কুলে স্কুলে সরকারি বই পৌঁছে যায়। নিয়ম হলো বছরের প্রথম দিনই অনুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমে সরকারের দেয়া বিনামূল্যের বই শিক্ষার্থীর হাতে তুলে দেয়া। কিন্তু খুব কম সংখ্যক স্কুলই এ কাজটি করে। অধিকাংশ স্কুলেই জানুয়ারি মাসজুড়ে সরকারি বিনামূল্যের বই শোভা পায় কেরানির কামরায়। কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা দিয়ে পুনঃভর্তি না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীর হাতে বিনামূল্যের বই ওঠে না। পাশাপাশি স্কুল কর্তৃপক্ষ ছাত্রছাত্রীদের মাঝে বিনামূল্যের বই বিতরণ অলাভজনক হওয়ায় নতুন ও পুনঃভর্তি বাণিজ্য এবং পাবলিশার্সদের সাথে তাদের গাইডবই সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ে পাঠ্য করার ক্ষেত্রে লাভজনক কমিশন বাণিজ্যে বেশি ব্যস্ত থাকেন। ভুক্তভোগী অভিভাবকরা বলছেন, স্কুলে ভর্তি ও পুনঃভর্তি নামক বার্ষিক যন্ত্রণা অভিভাবক ও সরকারের সঙ্গে স্কুল কমিটিগুলোর প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই নয়। স্কুল কর্তৃপক্ষ ভর্তি ও পুনঃভর্তির টাকা আদায়ের জন্য সরকারের দেয়া বিনামূল্যের বইকেও জিম্মি করে! এসবের অবসান হওয়া জরুরি। সরকার দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে এগিয়ে নেয়ার জন্য প্রতি বছর হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করছে। সরকার বিনামূলে শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করছে; এমনকি শিক্ষা-উপবৃত্তি ও দুপুরের টিফিন পর্যন্ত সরবরাহ করছে। শিক্ষার প্রতি সরকারপ্রধানের আন্তরিকতার ফলে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা এগিয়েছেও অনেক দূর। কিন্তু সারাদেশের অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও কর্তৃপক্ষের হীন লালসার কারণে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থীকেও স্কুলে ভর্তি ও পুনঃভর্তি হতে প্রতি বছর হাজার হাজার টাকা খরচ করতে হয়; যা অনেক অভিভাবকের জন্যই খুবই কষ্টকর হয়ে পড়ছে। এতে করে বিনামূল্যের প্রাথমিক শিক্ষা প্রদানের সরকারের উদ্দেশ্যই ব্যাহত হচ্ছে। সমালোচনার মুখে পড়ছে সরকার। জানুয়ারি মাসে স্কুলে ভর্তি ও পুনঃভর্তির নামে স্কুল কমিটিগুলো যে মচ্ছবের দোকান খুলে বসেছে, সরকারের উচিত দ্রুত এর অবসান ঘটানো। একজন শিক্ষার্থী একই স্কুলে একবার ভর্তি হবে না দশম শ্রেণি পর্যন্ত উঠতে তাকে ১০ বার ভর্তি হতে হবে; তার সুরাহা প্রয়োজন। আমরা মনে করি, স্কুল থেকে পুনঃভর্তির বিষয়টি একেবারেই তুলে দেয়া প্রয়োজন। প্রতি শ্রেণিতেই একজন শিক্ষার্থীকে নতুন করে আবার ভর্তি হতে হবেÑ এর কোনো মানে হয় না।