প্রতিবেদন

সারাদেশে একযোগে উন্নয়ন মেলার উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা : আওয়ামী লীগ বাংলাদেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ সোনার দেশ হিসেবে গড়ে তুলছে

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১১ জানুয়ারি তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সারাদেশের সকল জেলা-উপজেলায় একযোগে অনুষ্ঠিত ৩ দিনব্যাপী উন্নয়ন মেলার উদ্বোধন করেন। ঢাকা জেলার উন্নয়ন মেলা-২০১৮ অনুষ্ঠিত হয় সেগুনবাগিচাস্থ বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি মাঠে। উন্নয়ন মেলায় প্রতিরা মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী, জরিপ অধিদপ্তর ও আবহাওয়া অধিদপ্তর অংশগ্রহণ করেছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী উন্নয়ন মেলায় আগত দর্শনার্থীদের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদান করছে। প্রতিরা মন্ত্রণালয়ের ৫টি সংস্থাসহ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর ও অন্যান্য সংস্থার মোট ৭৫টি স্টল এ মেলায় অংশগ্রহণ করেছে। সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকা- ও অর্জন সম্পর্কে দেশের জনগণকে অবহিত করাই উন্নয়ন মেলার উদ্দেশ্য বলে জানা গেছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সারাদেশে একযোগে উন্নয়ন মেলার উদ্বোধনকালে বলেন, সরকার যে কাজগুলো করেছে এবং ভবিষ্যতে যে কাজগুলো করতে যাচ্ছে তা সম্পর্কে জনগণকে ধারণা দিতেই এই মেলার আয়োজন। এই মেলায় আজকে যারা সম্পৃক্ত রয়েছেন তাদেরকে বলবো যে কাজগুলো আমরা করতে পেরেছি এবং যে কাজগুলো ভবিষ্যতে করার পরিকল্পনা নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে সেগুলো সম্পর্কে যেমন জনগণকে সচেতন করা দরকার তেমনি আমাদের উন্নয়ন কর্মসূচিগুলো যেন সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হয় তার জন্য সকলের সহযোগিতা একান্তভাবে দরকার।
প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, উন্নয়ন যেন অব্যাহত থাকে সেই ল্য নিয়েই এই উন্নয়ন মেলার সূচনা। এসময় প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বরগুনা, ঝিনাইদহ, হবিগঞ্জ, গাইবান্ধা ও চাঁদপুর জেলার স্থানীয় জনগণের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। বিভিন্ন জেলার স্থানীয় জনগণের সঙ্গে মতবিনিময়কালে চাঁদপুরের মৎস্যজীবী মানিক দেওয়ানের বক্তব্যের প্রেেিত শুধু ব্যবহারকারীই নয়, কারেন্ট জাল প্রস্তুতকারক এবং বিক্রেতাদের বিরুদ্ধেও সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে বলে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন। ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক মো. আবুল কালাম আজাদ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব মো. নজিবুর রহমান ভিডিও কনফারেন্সটি সঞ্চালনা করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতেই উন্নয়ন মেলা নিয়ে একটি ভিডিও তথ্যচিত্র পরিবেশিত হয়।
সরকার প্রতিটি গ্রামকে দারিদ্র্যমুক্ত করতে চায় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে বলেন, আজকের বাংলাদেশ তাঁর দেয়া ঘোষণা মোতাবেক ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপ পরিগ্রহ করেছে। বাংলাদেশের মানুষ আজকে সবধরনের সেবা পাচ্ছে। মোবাইল ফোন প্রত্যেকটি মানুষের হাতে পৌঁছে গেছে। প্রায় ৮ কোটি জনগণ ইন্টারনেট ব্যবহার করছে এবং প্রযুক্তি ব্যবহার করে মানুষের জীবনমানের এই উন্নয়নই তাঁর সরকারের ল্য।
শেখ হাসিনা বলেন, আমি দেশবাসীকে এটুকু বলবো যে, উন্নয়ন মেলা যেটি তাঁর সরকার করে যাচ্ছে, এই উন্নয়ন হচ্ছে জনগণের উন্নয়ন। গ্রামের মানুষ, তৃণমূলের মানুষের উন্নয়ন। এই উন্নয়ন হচ্ছে বাংলাদেশকে সমগ্র বিশ্বের দরবারে একটি সম্মানজনক অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার ল্েয। ইনশাআল্লাহ আমরা বাংলাদেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলতে সম হব। যে স্বপ্ন একদিন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেখেছিলেন।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর এই দেশকে গড়ে তোলার জন্য জাতির পিতা মাত্র সাড়ে ৩ বছর সময় পেয়েছিলেন। এত স্বল্প সময়ের মধ্যে কোনো যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গড়ে তোলা সম্ভব হয়েছিল কি না তা তাঁর জানা নেই উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেই অসাধ্য সাধন করেছিলেন বঙ্গবন্ধু। তাঁর মতো বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ছিল বলেই এটা সম্ভব হয়েছিল। বাংলাদেশের মতো একটি প্রদেশকে রাষ্ট্রে পরিণত করা এবং রাষ্ট্রীয় অবকাঠামো থেকে শুরু করে আইন তৈরি, নীতিমালা, বিধিমালা থেকে শুরু করে একটি রাষ্ট্রের যা যা প্রয়োজন তার সবই সেই স্বল্প সময়ে জাতির পিতা করে দিয়ে যান বলেও শেখ হাসিনা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গড়ে তোলার পাশাপাশি জাতির পিতা যখন উন্নয়নের কাজ শুরু করেন ঠিক সে সময়েই জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। জাতির পিতাকে হত্যার পরই এদেশে অবৈধভাবে সংবিধান লঙ্ঘন করে মতা দখলের রাজনীতি শুরু হয়। ফলে দেশের সাধারণ মানুষ বঞ্চিত এবং শোষিত থেকে গেছে। তাদের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি।
শেখ হাসিনা বলেন, নিজেদের ভাগ্য গড়ায় ’৭৫-পরবর্তী শাসকগোষ্ঠী যতটা ব্যস্ত ছিলেন দেশের জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনে তারা ছিলেন ততটাই উদাসীন। তিনি বলেন, ’৯৬ থেকে ২০০১ বাংলাদেশের মানুষের জন্য স্বর্ণযুগ ছিল। কারণ ২১ বছর পর জনগণ প্রথমবারের মতো উপলব্ধি করেছিল সরকার সত্যিই জনগণের জন্য কাজ করে এবং সে সময়েই বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করে। মূল্যস্ফীতি কমিয়ে প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ২ ভাগে উন্নীত করা হয়। বিদ্যুৎ উৎপাদন ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট থেকে ৪ হাজার ৩০০ মেগাওয়াট, কমিউনিটি কিনিক ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র করে স্বাস্থ্যসেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।
জনগণ নৌকা মার্কায় ভোট বেশি দিলেও আসন কম পাওয়ায় দুর্ভাগ্যবশত পরের ৫ বছর আওয়ামী লীগ মতায় আসতে পারেনি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এরপর ৭টি বছর যারা মতায় ছিল তারা আওয়ামী লীগের উন্নয়ন কর্মসূচিগুলো আর অব্যাহত রাখেনি। কারণ সেগুলো নিয়ে তাদের মাথাব্যথা ছিল না বরং আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন চালানো, দুর্নীতি, লুটপাট, মানিলন্ডারিং করা এবং হাওয়া ভবন খুলে দেশে-বিদেশে ঘুষ-দুর্নীতি করাই তাদের ল্য ছিল। এভাবেই তাঁর সরকারের উন্নয়ন অর্থনীতি পুরোপুরি বিধ্বস্ত করে দেয়া হয় বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
এই দেশকে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তোলাই তাঁর সরকারের ল্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ ঘর পাবে, প্রতিটি ঘর আলোকিত হবে, প্রতিটি ছেলে-মেয়ে বিদ্যালয়ে যাবে, পড়াশুনা করবে, চিকিৎসা ব্যবস্থা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে এবং মানুষ মানুষের মতো বাঁচবেÑ এরকম স্বপ্ন দেখতেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আমরা জাতির পিতার সে স্বপ্নই বাস্তবায়ন করে চলেছি।