প্রতিবেদন

সীমান্ত পথে আসা মাদক ঠেকাতে সমন্বয়ের পরামর্শ ৩৩ এমপির

নিজস্ব প্রতিবেদক
সীমান্ত এলাকা দিয়ে মাদক ও চোরাচালান বন্ধে সমন্বয় থাকা উচিত বলে পরামর্শ দিয়েছেন ৩৩ এমপি। অপরদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, মাদক নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স নীতিতে বিশ্বাস করে সরকার। জনপ্রতিনিধি বা বাহিনীর সদস্য যেই হোক না কেন, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়, এক্ষেত্রে কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না। মাদকের সঙ্গে কারো সম্পৃক্ততা পেলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।
২৪ ডিসেম্বর রাজধানীর পিলখানায় বিজিবি সদরদপ্তরে সংসদ সদস্য ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধানদের ‘সীমান্ত সম্পর্কিত সমস্যা ও সমাধান সম্পর্কে করণীয়’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। এ বৈঠকে দেশের ৪ হাজার ৭০০ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকার ৩৩ জন সংসদ সদস্য এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধানদের নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাদক এদেশে তৈরি হয় না, ভারত ও মিয়ানমার থেকে আসে। এ মাদক আসা বন্ধ করার জন্য এবং চোরাচালান রোধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সংসদ সদস্যরা পরামর্শ দিয়েছেন। টেকনাফ এবং ভারত সীমান্ত দিয়ে ইয়াবাসহ যেসব মাদক আসে তা বন্ধ করতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সীমান্তে চোরাচালান রোধে সীমান্ত সংরতি রাখতে বিজিবির পাশাপাশি কোস্টগার্ডকে শক্তিশালী করা হচ্ছে। বিজিবিকে আরও ১৫ হাজার জনবল নিয়োগের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। সীমান্তে চেকপোস্ট বাড়ানো হচ্ছে এবং রাস্তা তৈরি করা হচ্ছে। এছাড়া পুলিশও যাতে সীমান্তে নজর রাখে সেজন্য সংসদ সদস্যরা প্রস্তাব দিয়েছেন বলেও জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। কিছু এলাকায় বিভিন্ন বাহিনীর মধ্যে সমন্বয়ের অভাব রয়েছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সব বাহিনীর মধ্যে যাতে সমন্বয় থাকে সেজন্য চেষ্টা করা হচ্ছে।
মাদকের বিস্তার রোধে সরকার আরও কঠোর হচ্ছে জানিয়ে আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনকেও যুগোপযোগী করার চেষ্টা চলছে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, সীমান্তে হত্যা কমে এসেছে এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হত্যার সংখ্যা ক্রমেই কমে আসছে। ২০০৮ সালে এ সংখ্যা ছিল ৬৮, এখন ২০১৭ সালে এসে তা ২১ জনে নেমে এসেছে। এতেই প্রমাণিত হয় দুই দেশের মধ্যে ভালো সম্পর্ক বজায় রয়েছে। সীমান্ত হত্যা যেন সম্পূর্ণ বন্ধ হয় আমরা সেই চেষ্টা করছি, আশা করি এটা আরও কমবে।
মতবিনিময় সভায় সংসদ সদস্যরা ছাড়াও অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোস্তফা কামালউদ্দিন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব ফরিদউদ্দিন আহমদ চৌধুরী, বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবুল হোসেন, কোস্টগার্ড মহাপরিচালক রিয়াল অ্যাডমিরাল আওরঙ্গজেব চৌধুরী, পুলিশের মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক, স্পেশাল ব্রাঞ্চের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক ড. জাবেদ পাটোয়ারী, র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জামালউদ্দিন আহমেদ।