ফিচার

অ্যান্ড্রয়েড ফোনের অপারেটিং সিস্টেম কি ও এর বিভিন্ন অংশের কাজ সম্পর্কে জানুন

অ্যান্ড্রয়েড ফোনের অপারেটিং নিয়ে অনেকেই সমস্যায় ভোগেন। নিজের ফোন নিজেই অপারেট করতে পারে নাÑ এমন ধরনের লজ্জায় কারো কাছে কিছু জানতে না চেয়ে নিজেই অপারেট করেন এবং অনেক সময় ফোন হ্যাং করে ফেলেন। নতুন অ্যান্ড্রয়েড ফোন ব্যবহারকারীদের কথা মাথায় রেখে স্বদেশ খবর চলতি সংখ্যায় কিছু তথ্য উপস্থাপন করেছে; যা নতুন ব্যবহারকারীদের দারুণ উপকার দেবে।
অ্যান্ড্রয়েড : অ্যান্ড্রয়েড হচ্ছে একটি অপারেটিং সিস্টেম। আমরা কম্পিউটারে যেমন উইন্ডোজ, উবুন্টু, লিনাক্স মিন্ট, ম্যাক ইত্যাদি অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করি তেমনি স্মার্টফোন ও ট্যাবলেট ডিভাইসের জন্য তৈরি করা হয়েছে এই অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম। উইন্ডোজের যেমন এক্সপি, ভিসতা, ৭ ও ৮ ইত্যাদি সংস্করণ রয়েছে, ঠিক তেমনি অ্যান্ড্রয়েডেরও বিভিন্ন সংস্করণ রয়েছে।
জনপ্রিয়তা পাওয়া সর্বশেষ তিনটি সংস্করণের নাম অ্যান্ড্রয়েড জিঞ্জারব্রেড (২.৩-২.৪), অ্যান্ড্রয়েড আইসক্রিম স্যান্ডউইচ (৪.০) এবং অ্যান্ড্রয়েড জেলি বিন (৪.১, ৪.২, ৪.৩)।
সার্চ ইঞ্জিনখ্যাত প্রতিষ্ঠান গুগল অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমের প্রধান। গুগল অ্যান্ড্রয়েডের নতুন সংস্করণ বের করে যার ওপর ভিত্তি করে স্যামসাং, সনি, এলজি, মটোরোলা ও বিভিন্ন চাইনিজ ডিভাইস বেসড কোম্পানিগুলো তাদের বিভিন্ন স্মার্টফোন ও ট্যাবলেট তৈরি করে থাকে। স্যামসাং, সনি, এলজি ও মটোরোলার আবার আলাদা আলাদা ইউজার ইন্টারফেস রয়েছে। কেননা, অ্যান্ড্রয়েড ডেভেলপাররা নিজের পছন্দমতো সাজাতে পারেন অ্যান্ড্রয়েডের চেহারা। ২০১৫ সালে অ্যান্ড্রয়েডের পরবর্তী সংস্করণ কিটকেট (৪.৪) রিলিজ হয়েছে, যা অ্যান্ড্রয়েডের আগের সকল সংস্করণকে ছাপিয়ে গেছে।
এজিপিএস (অএচঝ) : এজিপিএস মূলত অ্যাসিসটেড জিপিএসের সংপ্তি রূপ। এই প্রযুক্তি যেসব ডিভাইসে রয়েছে সেসব ডিভাইসের জিপিএস দ্রুত অবস্থান নির্ণয় করতে পারে। মোবাইল টাওয়ারের অবস্থান জেনে জিপিএস স্যাটেলাইটগুলো সহজেই ডিভাইসের সম্ভাব্য অবস্থান নির্ণয় করতে পারবে।
এপিকে (অচক) : অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসের ইনস্টলযোগ্য ফাইল এক্সটেনশন। উইন্ডোজ ব্যবহারকারীরা যেমন বিট ফাইল ব্যবহার করে বিভিন্ন সফটওয়্যার ইনস্টল করে থাকেন, ঠিক তেমনি অ্যান্ড্রয়েডে ধঢ়শ ফাইল ব্যবহার করে অ্যাপ্লিকেশন ইনস্টল করা হয়।
এডিবি (অউই) : অ্যান্ড্রয়েড ডিবাগ সেতু। এটি বহুল ব্যবহৃত একটি টুল, যা একটি ডেস্কটপ বা ল্যাপটপ কম্পিউটার থেকে আপনার অ্যান্ড্রয়েড ফোনকে সংযোগ করে ও কমান্ড পাঠায়।
অ্যান্ড্রয়েড মার্কেট (অহফৎড়রফ গধৎশবঃ) : অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ্লিকেশনের জন্য গুগল-এর সংগ্রহস্থলের আসল নাম অ্যান্ড্রয়েড মার্কেট। মার্চ ২০১২ সালে এটি গুগল প্লে স্টোর নামে পরিবর্তিত হয়।
এওকেপি (অঙকচ) : অঙকচ = অহফৎড়রফ ঙঢ়বহ করহম চৎড়লবপঃ অন্যতম কাস্টম রম ডেভেলপার গ্র“প। যে গ্র“পটি অ্যান্ড্রয়েডের ওপেন সোর্স ডেভেলপ ও কাস্টোমাইজড করে বিভিন্ন সেটের উপযোগী কাস্টম রম রিলিজ করে।
অ্যাপস (অঢ়ঢ়ং) : অ্যাপ্লিকেশন-এর সংপ্তি রূপ, যা আপনি ডাউনলোড করে আপনার স্মার্টফোনে চালান। এটা ফ্রি বা কিনতে পাওয়া যায়।
বুটলোডার (ইড়ড়ঃষড়ধফবৎ) : বুটলোডার হচ্ছে ফোনের ইন্টারনাল মেমোরির একটি অংশ, যা ফোনের অপারেটিং সিস্টেমকে চালু করে। অ্যান্ড্রয়েডের েেত্র ডিভাইসের (হার্ডওয়্যার) অপারেটিং সিস্টেম (অ্যান্ড্রয়েড) চালু করায় যা তা-ই বুটলোডার। অপারেটিং সিস্টেম চালু হওয়ার আগেই ছোটখাটো পরিবর্তন আনার জন্য ডিভাইস রুট করা হয়ে থাকে। এ ছাড়াও কাস্টম রম ব্যবহারের জন্য বুটলোডার আনলকের দরকার হয়। সাধারণত এই কাজে ডিভাইসের ওয়ারেন্টি বাতিল হয়। তবে অনেক ডিভাইসই আবার বুটলোডার লক করে আনরুট করে ওয়ারেন্টি ফিরিয়ে আনা যায়।
ব্রিক (ইৎরপশ) : ব্রিক-এর অর্থ হচ্ছে ইট। আর ফোন বা ডিভাইস ব্রিক করা মানে একে অনেকটা ইটে রূপান্তরিত করা। মূলত রুট বা এ জাতীয় অ্যাডভান্সড কাজ করার সময় অসাবধানবশত ফোন ব্রিক হয়ে যেতে পারে। অধিকাংশ েেত্র ব্রিক হওয়া ফোন ঠিক করা যায়। তবে হার্ড ব্রিক হলে সে ফোন ঠিক হওয়ার সুযোগ কমই থাকে। সাধারণত হার্ডওয়্যারে সমস্যাজনিত কারণে মাত্রাতিরিক্ত ওভারককিং-এর ফলে সিপিইউ অনেক গরম হয়ে বন্ধ হয়ে গেলে ফোন হার্ড ব্রিক হয়ে থাকে।
কাস্টম (ঈঁংঃড়স) : সাধারণত ডিভাইসের সঙ্গে আসেনি এমন জিনিসগুলোকেই কাস্টম বলা হয়। যেমন যে রম ডিভাইসে দেয়া থাকে না তাকে কাস্টম রম বলে।
কাস্টম রম (ঈঁংঃড়স জড়স) : গুগল তথা অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইস প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ব্যতীত অন্য যেসব রম ইন্টারনেট থেকে ডাউনলোড করে ব্যবহারকারীরা ব্যবহারের সুবিধা পেয়ে থাকেন, সেগুলোকে কাস্টম রম বলে। উল্লেখ্য, সাধারণত কোম্পানি কর্তৃক দেয়া রম থেকে কাস্টম রমে অনেক সুযোগ সুবিধা থাকে।
কাস্টোমাইজ (ঈঁংঃড়সরুব) : নিজের মতো করে আলাদাভাবে বিভিন্ন সেটিংস ঠিকঠাক করা ও সাজানো। আপনার ডিভাইসের সিপিইউ কত দ্রুত তা কাস্টোমাইজের মাধ্যমে হিসাব করা হয়। ডিভাইস রুট করার মাধ্যমে সিপিইউর এই কক স্পিড নিজের ইচ্ছেমতো বাড়ানো-কমানো যায়।
সিপিইউ (ঈচট) : সিপিইউ আপনার ডিভাইস পরিচালনার মূল কাজটি করে থাকে। এটিই নিয়ন্ত্রণ করে আপনার ডিভাইস কতটা দ্রুত কাজ করতে পারবে, কতটুকু কাজের ভার একসঙ্গে নিতে পারবে ইত্যাদি।
সায়নোজেন মোড (ঈধুহড়মবহ গড়ফ) : সায়ানোজেন মূলত একজন রম ডেভেলপারের নাম যিনি অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের মাঝে সর্বাধিক জনপ্রিয়। বর্তমানে তিনি তার কিছু নিবেদিত ডেভেলপারদের সঙ্গে এক হয়ে সায়ানোজেনমড নামের এই কাস্টম রম তৈরি করেছেন। সংেেপ একে সিএম বলেও ডাকা হয়। এর বিভিন্ন সংস্করণ একটি সংখ্যা দিয়ে বোঝানো হয় সেটি অ্যান্ড্রয়েডের কোনো সংস্করণের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। যেমন আইসক্রিম স্যান্ডউইচের জন্য সিএম ৯, জেলি বিনের জন্য সিএম ১০ ইত্যাদি।
ডিভাইস (উবারপব) : যেকোনো গ্যাজেট বা প্রযুক্তি পণ্যকেই ডিভাইস বলা যেতে পারে। একটি ঘড়ি যদি অ্যান্ড্রয়েডে চালিত হয় তাহলে আমরা ঘড়িটিকে ডিভাইস বলতে পারি। তবে স্বাভাবিক অর্থে ডিভাইস বলতে স্মার্টফোন বা ট্যাবলেট পিসিকে বোঝানো হয়ে থাকে। এটি নির্ভর করে কী ধরনের ডিভাইসের কথা বলা হচ্ছে তার ওপর।
ড্যালভিক ক্যাস (উধষারশ ঈধপযব) : রাইটেবল ক্যাস-এ আপনার অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসের সকল এপিকে ফাইলের বাইটকোড অপটিমাইজ করা থাকে। আপনার সকল অ্যাপ্লিকেশন দ্রুত লোড নিতে ও ভালো পারফর্ম করতে এই ক্যাসে সকল ইনফর্মেশন দেয়া থাকে।