রাজনীতি

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ ইস্যুতে এখনও দোটানায় বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক : আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়া না নেয়া নিয়ে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে দোটানা মনোভাব এখনও কাটেনি। নির্বাচনের বছর ২০১৮’তে এসেও বিএনপি জাতীয় নির্বাচনে যাওয়া অথবা না যাওয়ার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সুস্পষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত জানাতে পারেনি। দলের শীর্ষ নেতাদের কেউই অভিন্ন কথা বলছেন না। কোনো নেতার কথায় মনে হচ্ছে বিএনপি নির্বাচনে যাবে। আবার কোনো কোনো শীর্ষ নেতার কথায় মনে হচ্ছে দলটি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না। তবে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সম্প্রতি তার দলের নেতাদেরকে সরকারবিরোধী আন্দোলনের পাশাপাশি নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। আবার দলের হাইকমান্ড বলেছেন, বর্তমান সরকারের অধীনে তারা নির্বাচনে যাবে না। নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার হতে হবে। অথচ দীর্ঘদিন পরও বিএনপি নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের রূপরেখা দিতেও ব্যর্থ হয়েছে। এখন বিএনপি বলছে, নির্বাচনকালীন বিকল্প পদ্ধতির সরকারের জন্য তাদের সঙ্গে মতাসীন দলের সমঝোতা করতে হবে। সংলাপ-আলোচনায় বসতে হবে। দলের সিনিয়র নেতারাও বলছেন, একেক সময় একেক কথা। কেউ কেউ বলছেন, যেকোনো পরিস্থিতিতে তারা নির্বাচনে যাবেন। আবার অনেকে বলছেন, নির্বাচনের জন্য সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি না হলে নির্বাচনে যাবে না বিএনপি। ফলে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ইস্যুতে বিএনপির মাঠ পর্যায়ের নেতাদের কাছে এখন পর্যন্ত সুস্পষ্ট কোনো বার্তা নেই। আর স্পষ্ট কোনো বার্তা না দেয়ায় তৃণমূলের প্রচ- চাপে আছে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব।
নো খালেদা নো ইলেকশন, না মাস্ট ইলেকশনÑ এমন দোটানায়ও পেয়ে বসেছে বিএনপিকে। গেল নির্বাচন বর্জন করার পে থাকা একটি অংশ এখনো আগের অবস্থানেই রয়েছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন দরজায় কড়া নাড়ছে। শঙ্কার বার্তা নিয়েও নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে দশম জাতীয় সংসদ বর্জন করা দল বিএনপি। অবশ্য দলটিতে নির্বাচনে যাওয়া না যাওয়ার বিতর্কও এখন তুঙ্গে। সহায়ক সরকার ও সুষ্ঠু নির্বাচনের অনুকূল পরিবেশ আর নো খালেদা নো ইলেকশন এমন দাবি নিয়েই তারা মাঠে সক্রিয়। এসব শর্ত পূরণ না করলে তারা এখনই একাদশ জাতীয় নির্বাচন বর্জনের পে হুমকিও দিচ্ছেন। দলের প্রধান বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকেও নির্বাচন বর্জনের পে নানা যুক্তি তুলে ধরছেন। তবে দলের বড় অংশই মনে করছে, নির্বাচন বর্জন কোনো সমাধান নয়। নির্বাচনে গিয়েই পরিবর্তিত পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে। সরকারের কাছ থেকে দাবি আদায়ে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাতে হবে। একইভাবে যেকোনো পরিস্থিতিতেই নির্বাচনে যেতে হবে। মতাসীন আওয়ামী লীগ নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করবে এমনটা মাথায় রেখেই দলকে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত করতে হবে। কোনো কারণে একাদশ নির্বাচন বর্জন করলে দলের ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে পড়তে পারে বলেও শঙ্কা এই নেতাদের। আর নির্বাচন বর্জন করলে পরিণতি কী হয়, তাও বিএনপি এখন বুঝতে পারছে। তবে এ অংশের নেতাদের সরকারের দালাল বলে আখ্যা দিচ্ছেন নির্বাচন বয়কটের হুমকি দেয়া নেতারা। আবার তাদেরও স্পষ্টভাবেই মতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের দালাল বলে আখ্যা দিচ্ছেন নির্বাচনে যেতে ইচ্ছুক নেতারা।
তবে নির্বাচনে যাওয়ার পে খোদ বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াও। সম্প্রতি তিনি ছাত্রদলের এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, বিএনপি নির্বাচনে যাবেই। মতাসীনরা চাইলেও বিএনপিকে নির্বাচন থেকে বাইরে রাখা যাবে না। তবে সেই নির্বাচন নিরপে সরকারের অধীনে হতে হবে।
এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ স্বদেশ খবরকে বলেন, ২০১৪ সালে বিএনপির নির্বাচন বর্জন করার পওে যথেষ্ট যুক্তি রয়েছে। আবার গেলেও বেশ সুবিধা হতো বলেই মনে করছেন দলের কেউ কেউ। তবে বিএনপির জাতীয় নির্বাচন বর্জন করে নয়, সরকারকে চাপে রেখে দাবি আদায় করা উচিত। নির্বাচন বয়কটে সমস্যা আরও বাড়ে। তবে আমার কাছে মনে হয়েছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে। তারা দলকেও সেইভাবে তৈরি করছে। মোটামুটি সুষ্ঠু নির্বাচন হলেই বিএনপি বিপুল ভোটে বিজয়ী হবে।
বিএনপির বড় অংশই বলছে, যেকোনো পরিস্থিতিতেই নির্বাচনে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। কোনো কারণে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে জেলে যেতে হলেও তিনি সেখান থেকেই লড়বেন। কারণ আইনের স্বাভাবিক নিয়মে তাকে অযোগ্য করা কঠিন হবে। তবে বিএনপিতে যারা কথায় কথায় নির্বাচন বয়কটের কথা বলছেন, তারা কার্যত নিজেদেরই তি করছেন। এর মধ্যে বড় একটি অংশেরই নিজের নির্বাচনি এলাকার অবস্থা বেহাল। আবার কারও কারও নির্বাচনি কোনো এলাকাই নেই। তাই তারা নির্বাচনে যাওয়ার পে নয়।
বিএনপির সিনিয়র নেতাদের অনেকেই এখন আত্মসমালোচনা করছেন। তাদের মতে, ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে অংশ না নেয়াটাও বড় ভুল ছিল। ওই নির্বাচনে অংশ নিলে আজকে বিএনপির পরিস্থিতি এমন আকার ধারণ করতো না। ওই সময় দলের ছোট্ট একটি গ্রুপ বেগম জিয়াকে নির্বাচন বর্জন করার জন্য নানা যুক্তিতর্ক তুলে ধরে। কার্যত তারা বিএনপিকে মতায় আসতে দিতে চায় না। একটি প্রতিবেশী রাষ্ট্রের ইঙ্গিতেই ওই চক্রটি বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রেখেছে। বিএনপিকে এখন সব নির্বাচনমুখী কর্মসূচিই দেয়া উচিত।
এ বিষয়ে বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক শামসুল আলম বলেন, বিএনপিতে থেকে যারা কথায় কথায় নির্বাচন বর্জনের হুমকি দেন, সহায়ক ছাড়া নির্বাচনে যাব না বলেন, কিংবা নো খালেদা নো ইলেকশন বলেন, তারা মূলত সরকারের দালাল। তারাই বেগম জিয়াকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে চান। তবে আমার মনে হয় এবার বেগম জিয়া আর সেই ভুল করবেন না। যত প্রতিকূল পরিস্থিতিই আসুক না কেন, তা মোকাবিলা করে নির্বাচনে যাবে বিএনপি। নইলে বিএনপির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে পড়বে। নির্বাচনে গিয়েই বিএনপিকে পরিবর্তিত পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে। নির্বাচন বয়কট কোনো সমাধান নয়। আমার আশঙ্কা এবার বিএনপি নির্বাচনে না গেলে দল মূলধারা থেকে ভেঙে খ-বিখ- হয়ে যাবে। তাই বিএনপিকে এখন সব নির্বাচনমুখী কর্মসূচিই দেয়া উচিত। সরকারকে চাপে রেখে দাবি আদায় করতে হবে। আমি মনে করি, বিএনপির নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের রূপরেখাও এখন দেয়া উচিত। এ নিয়ে সব মহলেই পর্যালোচনা হতে পারে।
প্রকৃতপক্ষে আগামী নির্বাচন ঘিরে বিএনপি কী করতে চায়Ñ সেই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করতে দলের বিভিন্ন ক্যাটাগরির নেতাদের সঙ্গে সিরিজ বৈঠক করছেন খালেদা জিয়া। তার এই বৈঠকের কয়েকটি উদ্দেশ্য আছে। তার মধ্যে অন্যতম হলো নেতাকর্মীদের সারাদেশে সক্রিয় করা এবং আগামী কর্মকৌশল নির্ধারণ। ইতোমধ্যে জাতীয় স্থায়ী কমিটি, ২০ দলীয় জোট ও নির্বাহী কমিটির সর্বোচ্চ পদে থাকা ভাইস-চেয়ারম্যানদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন তিনি। ২২ নভেম্বর খালেদা জিয়া বৈঠক করেছেন তার উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের সঙ্গে। প্রতিটি বৈঠকে করণীয় সম্পর্কে খালেদা জিয়া নেতাদের কাছে শুনছেন বেশি, বলছেন কম।
বিগত বৈঠকগুলোতে দায়িত্বশীল নেতারা খালেদা জিয়াকে পরামর্শ দিয়েছেন বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার জন্য। নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সহায়ক সরকার, নির্বাচনকালে সেনা মোতায়েন, ইসির নিরপেক্ষতা ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরিবেশ না হলে নির্বাচনে যাওয়া হবে ক্ষতিকর। খালেদা জিয়াকে সারাদেশ সফর করার জন্যও পরামর্শ দেন তারা। লন্ডন থেকে দেশে ফেরার পর বিমানবন্দরের বিপুল জনসমাগম ও কক্সবাজার সফর এবং সোহরাওয়ার্দীর জনসভায় অসংখ্য মানুষের উপস্থিতির কথা তুলে ধরে নেতারা বলেছেন, এখন দেশের বিভাগগুলোতে সফর করলে পুরোপুরি চাঙা হয়ে উঠবে দল।
জানা গেছে, খালেদা জিয়া দলীয় নেতাদেরকে আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশ দিলেও শেখ হাসিনার অধীনে কোনো নির্বাচন করবে না তারা। ইভিএম বাতিল ও নির্বাচনকালে সেনা মোতায়েন না করলেও নির্বাচন বয়কট করবে বিএনপি। দলের একজন ভাইস-চেয়ারম্যান স্বদেশ খবরকে জানান, দলের ভাইস-চেয়ারম্যানদের সঙ্গে বৈঠকে দ্রুত জেলা কমিটিগুলোর পুনর্গঠন শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন খালেদা জিয়া। যেসব জেলায় বিরোধ আছে তা চিহ্নিত করে শিগগিরই মীমাংসা করার জন্য বলেছেন। যারা দলে বিভেদ-বিশৃঙ্খলা করবে তাদের বহিষ্কার করা হবে বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। বৈঠকে চেয়ারপারসনের কয়েকটি জেলা সফর নিয়েও আলোচনা হয়। ওই ভাইস-চেয়ারম্যান বলেন, নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে বলেছেন ম্যাডাম। সংগঠন শক্তিশালী করার নির্দেশ দিয়েছেন। নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে, এটি খুব সাধারণ বিষয়। গণতান্ত্রিক দল হিসেবে নির্বাচনই চূড়ান্ত। কিন্তু নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সহায়ক সরকার, সেনা মোতায়েন, ইসির নিরপেক্ষতা ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরিবেশ না হলে কিভাবে নির্বাচনে যাবে বিএনপি?
নেতারা জানান, খালেদা জিয়া নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে যার যার নির্বাচনি এলাকায় যোগাযোগ বাড়ানোর নির্দেশনা দিয়েছেন। প্রত্যেক ভাইস-চেয়ারম্যানকেই তাদের নিজ নিজ জেলায় সভা ও সমাবেশ করার পরামর্শ দিয়েছেন। সংগঠন গোছাতে বলেছেন। তবে তিনি বলেছেন, নিরপেক্ষ সরকার না হলে নির্বাচন প্রহসনের হবে। নীলনকশার নির্বাচনে বিএনপি যাবে না। প্রয়োজনে আন্দোলনে যাবে। এর আগে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন খালেদা জিয়া। সেখানে বর্তমান সরকারের মেয়াদের ৩ মাস আগে সংসদ ভেঙে দেয়ার পাশাপাশি নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দেয়ার দাবির পক্ষে জনমত গড়ে তোলা হবে বলে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়। সরকার দাবি না মানলে রাজপথে আন্দোলনের জন্য প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানান জোটনেত্রী খালেদা জিয়া।
দলের স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য স্বদেশ খবরকে বলেন, আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ইস্যুতে দলীয়ভাবে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে দলের মধ্যে নানা মতের লোক আছে। কে, কী ভাবছে, সেটা আমরা জানি না। সময় হলে আমরা দলীয়ভাবেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব। তখনই সবকিছু পরিষ্কার হবে। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকার ফলে নেতাকর্মীরা নির্বাচনমুখী হয়ে পড়েছেন। বিশেষ করে কর্মীরা তাগাদা দিয়ে বলছেন, মাঠের অবস্থা ভালো। ইতোমধ্যে বিএনপির সম্ভাব্য সব প্রার্থীই তাদের নির্বাচনি এলাকায় কাজ শুরু করেছেন। খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের নজর কাড়ার জন্য প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। তবে দলের কোনো কোনো নেতা বলছেন, এখনই দল নির্বাচনমুখী হয়ে গেলে আন্দোলন করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। তখন সহায়ক সরকার বা সমঝোতার অবকাশ থাকবে না। সরকারের ফর্মুলা অনুযায়ী নির্বাচনে যাওয়া অথবা বয়কট করা ছাড়া গত্যন্তর থাকবে না।
সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ দলের নেতাকর্মীদের নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকার বিএনপিকে নির্বাচন থেকে বিরত রাখতে পারবে না। যত প্রতিকূল অবস্থায়ই থাকুক না কেন, বিএনপি জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেবে। সম্প্রতি দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক আলোচনা সভায় বলেছেন, নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার ছাড়া নির্বাচনে যাবে না বিএনপি। সরকার আলোচনা না চাইলে গণতান্ত্রিক পন্থায় আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায় করা হবে।
মূলত ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যে গ্রুপটির প্ররোচনায় বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল, সে গ্রুপটিই ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিতব্য একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে চায়। এই গ্রুপটি ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির অংশ না নেয়াকে একটি বড় ধরনের রাজনৈতিক ভুল সিদ্ধান্ত বলে মনে করে। এই গ্রুপের দাবি হলো বিএনপি আর যেন ভুলের পুনরাবৃত্তি না করে। অন্যদিকে চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কার্যালয়ের যে গ্রুপটি নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়ার বিরোধিতা করেছিল তারা একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রাখতে চায়। মূলত এই গ্রুপের ইন্ধনেই বিএনপি শেষ মুহূর্তে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়া থেকে বিরত থাকে। প্রভাবশালী এই গ্রুপটির কথা হলো বিএনপি ২০১৮ সালের নির্বাচনে অংশ নিলে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতোই ২৫ থেকে ৩০টি আসন পাবে; যা দিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে তেমন কিছুই করা যাবে না। তাছাড়া ২০১৪ সালের মতো ২০১৮ সালেও যদি বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নেয় তাহলে একতরফা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়ী হয়ে সরকার গঠন করবে ঠিকই, কিন্তু আন্তর্জাতিক সমর্থন পাবে না। ফলে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অব্যবহিত পরেই সরকারকে মধ্যবর্তী নির্বাচন হিসেবে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আয়োজন করতে হবে। বিএনপি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবে এবং সরকার গঠনের মতো প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারবে।
শেষ কথা
মূলত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়া অথবা না নেয়া এবং নির্বাচনকালীন সরকার প্রশ্নে বিএনপি দৃশ্যতই দুই বা ততোধিক ভাগে বিভক্ত হয়ে গেছে। সামনাসামনি দুই পক্ষকেই সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আসলে খালেদা জিয়া আছেন চরম সিদ্ধান্তহীনতায়। তিনি নিজেই নিশ্চিত নন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি অংশ নিতে পারবেন কি না! কারণ তার সামনে ঝুলছে বেশ কয়েকটি মামলা এবং জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার মামলার রায় হবে। তাই খালেদা জিয়ার মামলা আর মামলার সাজা আতঙ্কের কারণে আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়া অথবা না নেয়া প্রশ্নে এখনও চরম দ্বিধাদ্বন্দ্বে আছে বিএনপি। আর এ নিয়ে তৃণমূলের প্রবল চাপেও আছে বিএনপি।