কলাম

এসএসসির প্রশ্নপত্র ফাঁসরোধে ফেসবুক বন্ধের চেয়ে অসাধু শিক্ষকদের বিষয়ে সতর্কতা জরুরি

১ ফেব্রুয়ারি এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হওয়ার প্রেক্ষাপটে ২৬ জানুয়ারি থেকেই সকল কোচিং সেন্টার বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। পরীার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে প্রথমে এসএসসি পরীা শুরুর তিনদিন আগে সকল কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে পরীক্ষার প্রশ্নপ্রত্র ফাঁসরোধে বিশেষ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাতদিন আগে থেকেই সকল কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ারও পরামর্শ দেয়া হয়েছে। তাছাড়া এবারই প্রথমবারের মতো অভিন্ন প্রশ্নপত্রে সারাদেশে পরীা অনুষ্ঠিত হবে। সিদ্ধান্ত হয়েছে কোথাও প্রশ্নফাঁসের প্রমাণ পাওয়া গেলে সকল পরীা বাতিল করা হবে। পরীা শুরুর ৩০ মিনিট আগেই পরীার্থীদের নিজ আসনে বসতে হবে। এরপর আর কোনোভাবেই কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না। পরীা শেষের পরও যদি প্রমাণিত হয় প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে তবে সে পরীা বাতিল করা হবে। সামগ্রিক পরিস্থিতিতে প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধ করে সুষ্ঠুভাবে এসএসসি পরীা সম্পন্ন করাটাই এখন সরকারের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। সরকারের তরফ থেকে বলা হয়েছে এক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে যেকোনো অবহেলা বা কোনো ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রশ্নপত্র ফাঁস করার প্রক্রিয়ায় ফেসবুক বিশেষ ভূমিকা রাখায় এবার এসএসসি পরীক্ষার সময় ফেসবুক বন্ধ রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। যদিও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বিষয়টি নাকচ করে দিয়ে বলেছেন, ফেসবুক বন্ধ করে দেয়া কোনো সুষ্ঠু সমাধান নয়। মোস্তাফা জব্বারের সঙ্গে অনেকেই একমত পোষণ করে বলেছেন, প্রশ্নফাঁসের জন্য ফেসবুক বন্ধ করে দেয়া হবে মাথা ব্যথার জন্য মাথা কেটে ফেলার মতো। এর চেয়ে বরং কারা পরীক্ষা চলাকালীন বা পরীক্ষা শুরুর অব্যবহিত আগে প্রশ্নপত্র ফেসবুকে ফাঁস করে দেয়, তাদের ট্রেস করা প্রয়োজন। তাছাড়া সরকারি বিজি প্রেসের সংশ্লিষ্ট সন্দেহভাজন কর্মচারী বা কর্মকর্তার জড়িত থাকার বিষয়টিও বিশেষ নজরদারির আওতায় আনতে হবে। সংশ্লিষ্ট অনেকের মতে, অনেক সময় যারা পরীক্ষা কেন্দ্রে গার্ড দেন, তাদের হাতে প্রশ্নপত্র যাওয়ার পরই দেখা যায় ফেসবুকে প্রশ্নপত্র পাওয়া যাচ্ছে। তার মানে দাঁড়ায়, পরীক্ষা কেন্দ্রে যে শিক্ষকরা গার্ড দেন, তাদের কেউ না কেউ ফেসবুকে প্রশ্নপত্র আপলোড করেন। তাই গার্ড প্রদানকারী শিক্ষকদের বিষয়ে সতর্ক হওয়া জরুরি। অনেকের মতে, প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে পরীক্ষা কেন্দ্রে গার্ড দেয়া শিক্ষকদের নাম যেহেতু জড়িয়ে গেছে, সেহেতু সরকার অন্য ভাবেও প্রশ্নফাঁসের বিষয়টি রোধ করতে পারে। ভবিষ্যতে অন্য পেশার লোক দিয়ে এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্রে গার্ড দেয়ার ব্যবস্থা করা। ব্যাংকার, আইনজীবী বা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী দিয়ে এসএসসি পরীক্ষা পরিচালনা করে যদি প্রশ্নফাঁস প্রতিরোধ করা যায়, তাহলে বুঝতে হবে গলদ শিক্ষকদের মধ্যে। ভিন্ন পেশার লোক দিয়ে পরীক্ষা নেয়ার পরও যদি দেখা যায় প্রশ্নপত্র ফাঁস হচ্ছে তাহলে বুঝতে হবে গলদ অন্য জায়গায়। মানে কোচিং সেন্টার বা বিজি প্রেসের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁস হচ্ছে।