প্রতিবেদন

জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা : নির্বাচন এলে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠাদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক শ্রেণির রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ সম্পর্কে দেশবাসীকে সতর্ক করে বলেছেন, এরা অন্ধ এবং বধির। কেবল নির্বাচন এলেই এরা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে, আর বক্রপথে মতায় যাবার স্বপ্ন দেখে। তিনি বলেন, এরা দেশের কোনো উন্নয়ন চোখে দেখে না, কানেও শোনে না।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৩ জানুয়ারি সংসদে তাঁর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ফখরুল ইমামের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, আরেকটি কথা আমি বলতে চাই, যখন একটি গণতান্ত্রিক ধারা চলতে থাকে, তখন তাদের কিছুই ভালো লাগে না। যখন উন্নয়নের পথে দেশ এগিয়ে যায়, তারা উন্নয়ন চোখে দেখে না। এমনকি কানেও শোনে না।
তিনি বলেন, এরা চু থাকতেও অন্ধ আর কান থাকতেও বধির। তাদের মাথার মধ্যে একটা জিনিসই থাকে। দেশে কখনো কোনো অস্বাভাবিক (অগণতান্ত্রিক) সরকার যদি ক্ষমতায় আসে, অসাংবিধানিক সরকার যদি আসে বা মার্শাল ল’ বা জরুরি অবস্থা যখন দেশে বলবৎ হয় তারা তখন নিজেদের গুরুত্ব বাড়ে বলে মনে করে। কারণ তাদের মতায় যাবার যেমন ইচ্ছে আছে, তেমনি পতাকা পাবারও ইচ্ছে আছে। কিন্তু সেই ইচ্ছা পূরণের সামর্থ্য নেই। কারণ ভোটে নির্বাচিত হয়ে আসার যোগ্যতা তাদের নেই। তাই বক্রপথে মতায় যাবার পথ খুঁজে বেড়ান তারা। আর তাদের এই মতায় যাবার অলি-গলি খোঁজার সময় যতই উন্নয়ন করা হোক না কেন, এই উন্নয়ন তারা চোখেই দেখতে পান না। শেখ হাসিনা বলেন, তারাও গবেষণা করে। যদিও এই গবেষণার টাকা কোথা থেকে আসে আমি জানি না। যখন বিশ্ববাসীও বাংলাদেশকে উন্নয়নের রোল মডেল বলে তখন তারা বলেন, এটা হয়নি, ওটা হয়নি। এটা আরেকটু হলে ভালো হতো।
২০০৭ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে এই চক্রটি বেশ খোশ মেজাজে ছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা তখন উৎফুল্ল ছিলেন, দল গঠন করবেন, মতায় যাবেন, মতার মসনদে বসবেন। কিন্তু তা হয়নি। নির্বাচন হলো আর আমরা মতায় চলে এলাম। এরপর ২০১৪ সালে চেষ্টা করা হলো নির্বাচন বানচাল করে দিয়ে কোনো বক্রপথে মতায় যাওয়া যায় কি না। জনগণের চাপে সেটা যখন হলো না, তখন অনেকেই বিছানায় শুয়ে পড়লেন।
অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নের ডেকান ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর হিউম্যান লিডারশিপ-২০১৭ মানবতার চ্যাম্পিয়ন হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাম প্রকাশ করেছে সংক্রান্ত সাংসদ ফখরুল ইমামের তথ্য সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি এটুকু বলতে চাই, কি পাইনি সে হিসাব মেলাতে মন মোর নহে রাজি। কি পেলাম, কি পেলাম না সে হিসাব মেলাতে আমি আসিনি। দেশের মানুষের জন্য, মানুষের কল্যাণের জন্য আমি কাজ করি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব বিশেষণ তাঁর ওপর কোনো প্রভাব ফেলে না।
তিনি বিখ্যাত প্যাট্রিয়ট কবিতার প্রোপট স্মরণ করে বলেন, একমুখে যেমন বিশ্লেষণও দেবে, আবার যদি ১৯ থেকে ২০ হয় ওই মুখে গালিও দেবে। যে হাতে মালা দেবে, সে হাতে ঢিলও মারবে। কারণ প্যাট্রিয়ট কবিতাটি আমি সবসময় পড়ি, আমার কাছে এটা সবসময় থাকে। কাজেই সেটা নিয়েও আমি চিন্তা করি না। আমার চিন্তা একটাই বাংলাদেশের মানুষের জন্য কতটুকু করে যেতে পারছি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর দায়বদ্ধতা এই বাঙালি জাতির প্রতি।
প্রধানমন্ত্রী এ সময় জাতির পিতার আন্দোলন-সংগ্রামের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, সন্তান হিসেবে তাঁরা চিরকালই পিতৃস্নেহ বঞ্চিত ছিলেন। তারপরও তাঁদের মনে সবসময়ই এটা ছিল, তাঁর বাবা সবসময় দেশের মানুষের জন্য কষ্ট সহ্য করেছেন। শেখ হাসিনা বলেন, তিনি শুধু একটা জিনিসই চিন্তা করেনÑ তাঁর দেশের মানুষ দুবেলা, দুমুঠো খেতে পারছে কি না, রোগে চিকিৎসা পাচ্ছে কি না, প্রতিটি মানুষের ঘর আছে কি না, প্রতিটি ছেলে-মেয়ে স্কুলে যেতে পারছে কি না, অন্তত একবারে তৃণমূলের মানুষদের যেন একটি সুন্দর জীবন দিয়ে যেতে পারেন, লাখো শহীদের রক্তে রঞ্জিত এই দেশকে কিভাবে উন্নত করে যেতে পারবেনÑ সে কথাই চিন্তা করেন।
সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেন, কাজেই হাজার বিশ্লেষণ দিলেও আমার মাথা কখনোই খারাপ হবে না। আমি বেতালা হবো না, এটা বলে দিতে পারি। ওইগুলো আমার ওপর কোনো প্রভাব ফেলে না। তিনি বলেন, অনেক ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে তাঁকে ও আওয়ামী লীগকে এগোতে হয়েছে, ’৭৫-এর পর দেশে ১৯টি ক্যু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এমনও একটা শ্রেণি আছে যারা ভাবে, আমি থাকলেই তাদের সব সমস্যা।
তিনি নিজের জীবনের কোনো পরোয়া করেন না এবং ভয়-ভীতির কোনো তোয়াক্কা করেন না উল্লেখ করে বলেন, দেশের মানুষের জন্য যেটা আমার আদর্শ এবং চিন্তা-ভাবনা সেটাই তিনি করার চেষ্টা করেন। এজন্য, বুলেট, গ্রেনেড, বোমা হামলাসহ সকল হামলার ল্যবস্তু তিনিই থাকেন।
উল্লেখ্য, অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নের ডেকান ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর হিউম্যান লিডারশিপ-২০১৭’র গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী তালিকায় পঞ্চম হয়েছেন ধনকুবের ওয়ারেন বাফেট, চতুর্থ হয়েছেন জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মারকেল, তৃতীয় ধনকুবের বিল গেটস, দ্বিতীয় হয়েছেন পোপ ফ্রান্সিস এবং প্রথম হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (বিশ্ব মানবতার চ্যাম্পিয়ন)।
প্রতিষ্ঠানটি তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করে সেবার জন্য কেবল টাকা নয়, একটি মানবিক মনেরও প্রয়োজন রয়েছে। প্রয়োজন উদারতা, সাহস ও মমত্ববোধ; যা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মধ্যে দেখা গেছে।