প্রতিবেদন

বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সুষম উন্নয়ন সূচকে ভারত পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিশ্বের উন্নয়নশীল অর্থনীতির দেশগুলোর সুষম উন্নয়ন সূচকে প্রতিবেশী ভারত ও পাকিস্তানকে পেছনে ফেলে অনেক এগিয়ে গেছে বাংলাদেশ। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) বার্ষিক সম্মেলন শুরু হয়েছে ২৩ জানুয়ারি। তার আগে সংস্থাটির প্রকাশিত ‘সুষম প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়ন প্রতিবেদন-২০১৮’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। ডব্লিউইএফের প্রকাশিত বিশ্বের উন্নয়নশীল অর্থনীতির ৭৯টি দেশের তালিকায় ভারত ৬২তম ও পাকিস্তান ৪৭তম অবস্থানে রয়েছে। প্রতিবেশী এ দুই দেশকে পেছনে ফেলে ৩৮তম অবস্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশ।
জীবনযাত্রার মান, পরিবেশগত স্থিতিশীলতা ও ঋণ থেকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুরার ওপর ভিত্তি করে বৈশ্বিক এ সূচক প্রকাশ করেছে ডব্লিউইএফ।
যদিও দণি এশিয়া দেশগুলোর মধ্যে একমাত্র নেপাল রয়েছে বাংলাদেশের উপরে। ডব্লিউইএফের মতে, বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত অর্থনীতির দেশ হিসেবে তালিকার শীর্ষে রয়েছে নরওয়ে। এরপরই আছে আয়ারল্যান্ড (দ্বিতীয়), লুক্সেমবার্গ (তৃতীয়), সুইজারল্যান্ড (চতুর্থ) ও ডেনমার্ক (পঞ্চম)। এছাড়া শীর্ষ উদীয়মান অর্থনীতির দেশের শীর্ষে আছে লিথুয়ানিয়া। এরপরই আছে হাঙ্গেরি (দ্বিতীয়), আজারবাইজান (তৃতীয়), লাটভিয়া (চতুর্থ) ও পোল্যান্ড (পঞ্চম)।
সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) বার্ষিক সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা অংশ নেন। বৈঠকের আগে প্রকাশিত এ প্রতিবেদনে জরুরি ভিত্তিতে নতুন ধরনের সুষম প্রবৃদ্ধি মডেলের দিকে মুখ ফেরাতে বিশ্ব নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ডব্লিউইএফ।
এদিকে, ২২ জানুয়ারি ব্রিটিশ দাতব্য সংস্থা অক্সফাম ইন্টারন্যাশনাল বার্ষিক বৈষম্য শীর্ষক এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি বলছে, গত বছর বিশ্বে যে পরিমাণ সম্পদ তৈরি হয়েছে তার কোনো ভাগই পায়নি বিশ্বের প্রায় অর্ধেক মানুষ। তবে ওই সম্পদের প্রায় ৮২ শতাংশই গেছে বিশ্বের মাত্র ১ শতাংশ ধনীর হাতে। ওই প্রতিবেদনে অক্সফাম ইন্টারন্যাশনাল বলছে, ২০১৭ সালে বিশ্বে কোটিপতিদের সম্পদ বেড়েছে প্রায় ৭৬২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বৈশ্বিক চরম দারিদ্র্য দূর করার জন্য এ অর্থ যথেষ্ট। অক্সফাম ইন্টারন্যাশনালের নির্বাহী পরিচালক উইনি বিয়ানইমা কোটিপতিদের সম্পদ বৃদ্ধির এ ঘটনাকে ‘অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ব্যর্থতার’ লণ বলে মন্তব্য করেছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালের জুলাই থেকে ২০১৭ সালের জুন পর্যন্ত বৈশ্বিক সম্পদের পরিমাণ ৯ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার বেড়েছে। এর মধ্যে ৭ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ডলার পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়েছে সাড়ে সাত কোটি লোক। আর ৩৭০ কোটি লোকের ভাগ্যে কোনো উন্নয়নই ঘটেনি, তারা আগের অবস্থাতেই রয়ে গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বে শত কোটি ডলার সম্পদের মালিকের সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে। গত বছর এই সংখ্যা ২ হাজার ৪৩ রেকর্ড করা হয়েছে। এসব ধনীর সম্পদের পরিমাণ গত ১২ মাসে ৭৬২ বিলিয়ন ডলার বেড়েছে। অক্সফাম গ্লোবালের প্রধান নির্বাহী মার্ক গোল্ড রিং বলেছেন, পরিসংখ্যান এটাই ইঙ্গিত দিচ্ছে, বৈশ্বিক অর্থনীতিতে মারাত্মক গরমিল দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘শীর্ষ কাতারে অত্যধিক সম্পদ জমা হওয়া উন্নয়নশীল অর্থনীতির লণ নয়, বরং এটি এমন এক ব্যবস্থার লণ, যা কম মজুরিতে আমাদের জন্য পোশাক ও খাদ্য উৎপাদনকারী লাখ লাখ শ্রমিককে ব্যর্থ করছে।’ তিনি জানান, সত্যিকারার্থে দারিদ্র্যের মূলোৎপাটনে কাজ করতে হলে জীবনধারণের জন্য ন্যূনতম মজুরি, পরিমিত অবস্থা এবং নারীর সমতা প্রয়োজন। অক্সফাম জানিয়েছে, ২০০৬ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর গড়ে বিশ্বের ধনকুবেরদের সম্পদের পরিমাণ ১৩ শতাংশ করে বেড়েছে।