প্রতিবেদন

রোহিঙ্গাদের সহায়তার পাশাপাশি বাংলাদেশিদের নিরাপত্তাও জরুরি : সজীব ওয়াজেদ জয়

নিজস্ব প্রতিবেদক : রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মতো দুইটি সাংঘর্ষিক বিষয়ের মধ্যে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশ কাজ করে চলেছে। সরকার রোহিঙ্গাদের জন্য সম্ভাব্য সবকিছুই করবে এবং তাদের প্রত্যাবাসনকালেও মিয়ানমারের সঙ্গে কাজ করবে। কিন্তু একইসঙ্গে সরকারকেই বাংলাদেশি নাগরিকদের সুরা দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সংবাদভিত্তিক জাপানি সাময়িকী দি ডিপ্লোম্যাটে প্রকাশিত এক নিবন্ধে এ কথা বলেন।
কেন বাংলাদেশ সব রোহিঙ্গাকে গ্রহণ করতে পারবে না’ শীর্ষক নিবন্ধে সজীব ওয়াজেদ জয় লিখেছেন, মিয়ানমারের রাখাইনে দেশটির সামরিক বাহিনীর নির্যাতনের মুখে রোহিঙ্গার ঢল নামে বাংলাদেশের দণি-পূর্ব সীমান্তে। গত বছরের ২৫ আগস্টের পর ৬ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে এসেছে। সব মিলিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গার সংখ্যা প্রায় ১০ লাখ। তাদের আশ্রয় ও খাবারের সংস্থান করেছে বাংলাদেশ। তাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। তবে প্রত্যাবাসনের সফলতা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে অনেকের। বাংলাদেশের পে এই বিপুল পরিমাণ রোহিঙ্গা নাগরিককে স্থায়ীভাবে আশ্রয় দেয়া সম্ভব নয়। তিনি লিখেছেন, বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে এবং তাদের সহায়তা করার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করেছে। এজন্য বাংলাদেশের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন পোপ ফ্রান্সিসসহ বিশ্বনেতারা। তবে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় শিবিরের মধ্যেই সীমিত রাখা ও তাদের স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ না দেয়ার সমালোচনা করেছেন অনেকেই। এর মানে এই নয় যে, রোহিঙ্গাদের প্রতি আন্তরিকতার ঘাটতি আছে। বরং বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা বিবেচনায় এই নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।
সজীব ওয়াজেদ জয় লিখেছেন, রাখাইনে আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) বিরুদ্ধে সামরিক বাহিনীর ওপর হামলার অভিযোগ রয়েছে। আইএস ও আল কায়েদার সঙ্গে আরসার সম্পৃক্ততা থাকলেও তারা তা অস্বীকার করে এবং রোহিঙ্গাদের অধিকারের জন্য লড়াই করছে বলে দাবি করে থাকে। বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গা স্রোতের সঙ্গে সশস্ত্র আরসা সদস্যরাও ঢুকে পড়েতে পারে। এতে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় শিবিরগুলো উগ্রবাদের ত্রে হয়ে উঠতে পারে। এটাই বাংলাদেশের নিরাপত্তার জন্য শঙ্কার বিষয়। যেকোনো দীর্ঘমেয়াদি অবিচার এমন সন্ত্রাসের জন্ম দেয়। আর এ কারণেই রোহিঙ্গাদের স্বাধীনভাবে সারাদেশে চলাচল করতে দিতে পারে না বাংলাদেশ। মিয়ানমার সীমান্তে কিংবা বাংলাদেশের ভেতরেই সন্ত্রাসী হামলার জন্য উগ্রপন্থি গোষ্ঠীগুলো নতুন সদস্য সংগ্রহের কাজে ঝাঁপিয়ে পড়বে না, সেই নিশ্চয়তা তো সরকার দিতে পারে না।
সজীব ওয়াজেদ জয় আরো লিখেছেন, এর আগে বাংলাদেশ ৩০ হাজার রোহিঙ্গাকে শরণার্থীর মর্যাদা দিয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে ১১ লাখ (নতুন-পুরনো মিলে) রোহিঙ্গাকে স্থায়ীভাবে আশ্রয় দিলে তা এক ধাক্কায় দেশের জনসংখ্যা এক শতাংশ বাড়িয়ে দেবে। এই সংখ্যাকে খুব বড় মনে না হলেও একই ধরনের জনসংখ্যার স্রোত অনেক দেশেই অস্থিতিশীলতার জন্ম দিয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গারা অর্থনৈতিক কাঠামোর সবচেয়ে নিচের স্তরে বসবাস করছেন, যেটা বাংলাদেশের সামাজিক নিরাপত্তার েেত্র বোঝা হয়ে দাঁড়াবে। তাছাড়া অভিবাসী কিংবা শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেয়ার কোনো আইনি সুযোগও নেই।