প্রতিবেদন

শেখ হাসিনার সাথে নবনিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার বিনোইট প্রিফানটেইনের সাক্ষাৎ : বাংলাদেশে কানাডার আরো বিনিয়োগ চান প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দু’দেশের পারস্পরিক স্বার্থে বাংলাদেশে কানাডার আরো বিনিয়োগ আশা করে বলেছেন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিতকরণে আমাদের আরো বিনিয়োগ প্রয়োজন। বিনিয়োগ আকর্ষণ ও কর্মসংস্থানে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধাসহ আমরা দেশে ১০০ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করছি। সরকার বিনিয়োগকারীদের সুযোগ-সুবিধা দিতে চায়। তাই আমরা বাংলাদেশে কানাডার বিনিয়োগকারীদের ব্যাপক আকারে বিনিয়োগের আহ্বান জানাচ্ছি।
বাংলাদেশে কানাডার নবনিযুক্ত হাইকমিশনার বিনোইট প্রিফানটেইন ১৪ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তাঁর সংসদ ভবনের কার্যালয়ে সৌজন্য সাাৎ করতে গেলে তিনি একথা বলেন।
আগামী সাধারণ নির্বাচন নিয়ে আলাপকালে শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকার চায় দেশে গণতন্ত্র সুষ্ঠুভাবে অব্যাহত থাকুক। এ প্রসঙ্গে তিনি স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স চালু এবং ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রস্তুতের কথা উল্লেখ করেন।
রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবিক কারণে বাংলাদেশ মিয়ানমারের প্রায় ১০ লাখ নাগরিককে আশ্রয় দিয়েছে। জবাবে কানাডার হাইকমিশনার রোহিঙ্গাদের আশ্রয় এবং সকল প্রকার সহযোগিতা প্রদানের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন। এ প্রসঙ্গে কানাডার হাইকমিশনার বলেন, তার দেশ লাখ লাখ রোহিঙ্গার বাংলাদেশে অনুপ্রবেশে ইতোমধ্যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনার জন্য আমাদের প্রধানমন্ত্রী মিয়ানমারে একজন বিশেষ দূত পাঠিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় দ্রুত সহায়তা প্রদান বিশেষ করে তদানীন্তন প্রধানমন্ত্রী পিয়েরে ট্রুডোর অবদানের কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। শেখ হাসিনা কানাডার বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর সঙ্গে তাঁর দু’বার বৈঠকের কথাও স্মরণ করেন।
শেখ হাসিনা বিভিন্ন েেত্র তাঁর সরকারের অসামান্য সাফল্য ও অর্জনের কথা তুলে ধরে বলেন, বর্তমানে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ২৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, মাথাপিছু আয় ১ হাজার ৬১০ ডলারে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং দারিদ্র্যের হার ২২ শতাংশে হ্রাস পেয়েছে। পাশাপাশি সরকার শিশুদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে পিতা-মাতা ও অভিভাবকদের উৎসাহিত করছে। তাদের বৃত্তির অর্থ সরাসরি মায়েদের
সেলফোনে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে।
বিনোইট প্রিফানটেইন বলেন, কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিগগিরই বাংলাদেশ সফর করতে পারেন। দ্বিপীয় সম্পর্ক আরো জোরদারে কানাডা কাজ করে যাবে। বিভিন্ন খাতে সহযোগিতার সম্ভাবনার বিষয়ে কানাডা খুবই আশাবাদী। বাংলাদেশে নারীর আরো মতায়নে কানাডা সহায়তা করতে চায়। হাইকমিশনার বলেন, টরেন্টো শহরে বাংলাদেশ কনস্যুলেট অফিস স্থাপনকে কানাডা স্বাগত জানায়।