কলাম

উন্মুক্ত মতামত

প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে সচেতন নাগরিকদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন

সরকারের নানামুখী প্রচেষ্টা সত্ত্বেও ইদানীং পাবলিক পরীক্ষা ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়া অনেকটা নিয়মে পরিণত হয়েছে। চলমান এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস বর্তমান সময়ের প্রধান ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরীক্ষার আগে ছাত্রছাত্রীরা প্রশ্ন পেয়ে যায়। ফলে তারা পরীক্ষার প্রস্তুতি নেয় না। দেশের কিছু অসাধু লোক প্রশ্নপত্র ফাঁস করে হাজার হাজার টাকা প্রতিদিন আয় করে নিচ্ছে। তারা পড়ালেখাকে ব্যবসায়িক পণ্য মনে করছে। প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে কোনো কার্যকর ভূমিকা দেখতে পাওয়া যায় না।
যারা প্রশ্নপত্র ফাঁস করে ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ জীবনকে অন্ধকারের দিকে ধাবিত করছে, তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি আমাদের দেশের সচেতন নাগরিকদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন এবং ওই অসাধু ব্যবসায়ীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক, যেন তারা ভবিষ্যতে প্রশ্ন ফাঁস করতে সাহস না পায়।
মকবুল হামিদ, চাঁদপুর সদর, চাঁদপুর

জনশক্তি রপ্তানিতে হয়রানি ও দুর্নীতি বন্ধে ব্যবস্থা নিন

বাংলাদেশ থেকে ২০১৭ সালে ১০ লাখ জনশক্তি রপ্তানি করা হয়। ২০১৮ সালে বাংলাদেশ থেকে বিদেশে জনশক্তি রপ্তানির টার্গেট রয়েছে ১২ লাখ। সরকারের উদ্দেশ্য হলো দ্রুত জনশক্তি রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন এবং দেশের অর্থনীতিকে চাঙা করা। বিদেশে জনশক্তি রপ্তানি করতে হলে বিভিন্ন ধরনের প্রক্রিয়া রয়েছে। এই সমস্ত প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী নিজের পকেট ভারী করার জন্য দিনের পর দিন সাধারণ গরিব মানুষকে হয়রানি করে ঘুষ দিতে বাধ্য করে। ৪ হাজার টাকার ওপরে জনপ্রতি সরকারি খরচ রয়েছে। কিন্তু জনপ্রতি আদায় করা হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা। অনেকে ১৫-২০ হাজার টাকা দিয়েও মাসের পর মাস অপেক্ষা করে বিদেশ যেতে পারে না। সরকারের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে হলে প্রতি সপ্তাহে ৫ কার্যদিবসে ৫ হাজার জনশক্তির রপ্তানির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। জনশক্তি রপ্তানিতে একটি মনিটরিং সেল গঠন করে জনশক্তি রপ্তানির কাজ প্রতিদিন মনিটরিং করতে হবে। দুদক ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে জনশক্তি রপ্তানিতে সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নজরদারির আওতায় আনতে হবে। বর্তমানে কর্মসংস্থানের সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। যেখানে ২০০৫-০৬ সালে কর্মসংস্থানের হার ছিল ৩.৫ শতাংশ, বর্তমানে তা ২-এর নিচে নেমে এসেছে, যা প্রায় ২০০৫-০৬ সালের তুলনায় অর্ধেকের কাছাকাছি। সুতরাং সরকারকে বিদেশে জনশক্তি রপ্তানিতে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে।
আব্বাস উদ্দিন আহমদ
ধোপাদিঘীর দক্ষিণ পাড়
সিলেট

ভোকেশনাল শিক্ষাক্রমে শিক্ষার্থী সংকট দূর করুন

বর্তমানে বাংলাদেশের জনসংখ্যার ১৩ শতাংশ কারিগরি দক্ষতাসম্পন্ন। সরকার ২০২০ সালের মধ্যে এই সংখ্যাকে ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৬০ শতাংশে উন্নীত করতে চায়। তাইতো সরকার দক্ষ জনবল তৈরির জন্য ব্যানবেইসের তথ্য মোতাবেক ১৭২ টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ৫০ টিভিআই, ১৬৪ টেকনিক্যাল ট্রেনিং কলেজ, বেসরকারি স্বতন্ত্র ১৬৯টি ভোকেশনাল ও বেসরকারি সংযুক্ত ভোকেশনাল ২ হাজার ৫৫৬টির বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ মোট ৩ হাজার ২০০টির বেশি প্রতিষ্ঠানে গড়ে ৩টি থেকে ৪টি ট্রেডে এসএসসি ভোকেশনাল শিক্ষাক্রম কোর্স চালু করেছে, যেখানে প্রায় ৪ লক্ষাধিক কোটা রয়েছে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, এসএসসি ভোকেশনাল নবম শ্রেণি বোর্ড সমাপনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা অনিয়মিত পরীক্ষার্থীসহ ১ লাখ ৫০ হাজার এবং দশম শ্রেণি বোর্ড সমাপনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা অনিয়মিত পরীক্ষার্থীসহ ১ লাখ ২০ হাজারের বেশি হয় না, অর্থাৎ মোট কোটার ৬০ শতাংশই পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না।
মূল সমস্যা হলো ছাত্র সংকট। এই ছাত্র সংকটের প্রধান কারণ হলো যেসব মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভোকেশনাল রয়েছে, সেখানে শিক্ষকের সাধারণ ও কারিগরি শাখার মধ্যে সাপে-নেউলে সম্পর্ক। সাধারণ শাখার শিক্ষকরা তাদের সাধারণ শাখার শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার ভয়ে শিক্ষার্থীদের ভোকেশনাল শাখায় ভর্তি না হওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। এছাড়া যেসব বিদ্যালয়ে কারিগরি শাখা নেই, সেখানেও শিক্ষার্থী ভর্তির প্রচারের জন্য যাওয়া সম্ভব হয় না। কারণ তারা এই প্রচারকে খুব একটা ভালোভাবে নেয় না এবং শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয় থেকে টিসি প্রদান করে না। তাই ভোকেশনাল শিক্ষাক্রমের ছাত্র সংকট দূর করার জন্য প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত চালু করতে হবে। সাধারণ শাখার মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও এসএসসি ভোকেশনাল প্রতিষ্ঠানগুলো নবম শ্রেণি থেকে চালু করতে হবে। এর ফলে ছাত্র সংগ্রহের জন্য সবাইকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ওপর নির্ভর করতে হবে। প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে যদি অষ্টম শ্রেণি পাস শিক্ষার্থীর অর্ধেকও সংগ্রহ করা যায়, তবে শুধু ৪ লক্ষাধিক কোটা নয়, এসএসসি ভোকেশনালে ১০ লক্ষাধিক কোটা পূরণ করা সম্ভব। সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত চালু করে ভোকেশনাল শিক্ষাক্রমের শিক্ষার্থী সংকট দূর করা হলে দেশে ২০৪০ সালের মধ্যে ৬০ শতাংশ কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন দক্ষ জনগোষ্ঠী তৈরি করা সম্ভব।
প্রকৌশলী রিপন কুমার দাস
পটুয়াখালী

কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সরকারের পাশাপাশি বিত্তবানদের এগিয়ে আসতে হবে

বাংলাদেশে যতগুলো সমস্যা রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম একটি হচ্ছে বেকারত্ব। বেকারত্ব দূর করার লক্ষ্যে বর্তমান সরকারের নানামুখী পদক্ষেপ থাকলেও বাস্তবে বাংলাদেশে যে পরিমাণ বেকার ছেলে-মেয়ে রয়েছে, সে পরিমাণ এখনো কর্মসংস্থান নেই বললেই চলে। এটি আমাদের জন্য বড় একটি সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বেকারত্ব দূর করতে হলে সর্বপ্রথম পর্যাপ্ত পরিমাণে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। আর কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার দায়িত্ব সরকারের। বর্তমান সরকার এই বেকারত্ব দূর করার লক্ষ্যে বাংলাদেশের প্রতিটি জেলায় কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র তৈরি করে দিচ্ছে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, সেখানেও দুর্নীতি। পড়ালেখা শেষ করে যদি একজন শিক্ষিত ছেলে তার যোগ্যতানুসারে একটি চাকরি না পায়, তবে সে ছেলেটি দেশের জন্য বোঝা হবে তো বটেই, অনেক সময় দেশের জন্য ক্ষতিকর হয়েও দাঁড়াবে। তাই এই যুবসমাজকে বাঁচাতে এগিয়ে আসতে হবে সবাইকে। দেশের প্রতিটি খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিতে হবে বেকার যুবকদের। কর্মহীন ব্যক্তিরাই সমাজের ক্ষতি করছেÑ প্রশাসন ও সরকারকে বিষয়টির ওপর জোর দিতে হবে। কার্যকর ফল পেতে তাই কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সরকারের পাশাপাশি বিত্তবানদেরও এগিয়ে আসতে হবে।
আজহার মাহমুদ, মাইজদী, নোয়াখালী