রাজনীতি

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় কারাগারে খালেদা জিয়া : কঠিন সংকটে হতাশায় বিএনপি

বিশেষ প্রতিবেদক
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের সশ্রম কারাদ- দিয়েছে আদালত। একই মামলায় খালেদা জিয়ার বড় ছেলে ও বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ অন্য ৫ আসামিকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদ- দেয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে প্রত্যেক আসামিকে অর্থদ-ও দেয়া হয়েছে। ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান জনাকীর্ণ আদালতে এ রায় ঘোষণা করেন। পুরান ঢাকার বকশীবাজারের কারা অধিদপ্তরের প্যারেড মাঠে স্থাপিত অস্থায়ী আদালতে বেলা ২টা ৩২ মিনিটে রায় ঘোষণা করা হয়। খালেদা জিয়ার বয়স, শারীরিক অবস্থা ও সামাজিক মর্যাদা বিবেচনা করে তাঁকে অন্যদের চেয়ে কম সাজা দেয়া হয়েছে বলে রায়ে উল্লেখ করেন বিচারক। রায় ঘোষণার পর খালেদা জিয়াকে পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।
সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের পর খালেদা জিয়া হলেন দ্বিতীয় ব্যক্তি, যিনি দেশের সাবেক একজন সরকারপ্রধান হিসেবে কারাদ-াদেশ পেলেন। এ রায়কে কেন্দ্র করে ৮ ফেব্রুয়ারি রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। তবে সারাদেশে সরকারের গোয়েন্দা বাহিনীর সদস্য, পুলিশ, র্যাব, বিজিবিসহ পুরো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ছিল বেশ তৎপর। তারপরও জনমনে ছিল বেশ আতঙ্ক। গুলশানের বাসা থেকে বের হয়ে খালেদা জিয়া রায় শোনার জন্য আদালতে যান। খালেদা জিয়া যে গাড়িতে চেপে আদালতে এসেছিলেন, রায় শোনার পর সেই গাড়িতে করেই তাঁকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। রায় ঘোষণার পর খালেদা জিয়া তার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়াকে বলেন, ‘দেশবাসী যেন শান্ত থাকে। শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করবে। কোনো বিশৃঙ্খলা করবে না।’ তাঁর এই নির্দেশনাটি ভালো কাজ দেয়। বিএনপি নেতাকর্মীরা উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মারমুখী হওয়ার বদলে সংযত আচরণ করে।
খালেদা জিয়া কারাগারে যাচ্ছেনÑ এই সংবাদে বিএনপি নেতাকর্মীরা মারমুখী হয়ে উঠলেও বিএনপির সিনিয়র নেতাদের নির্দেশনা, ‘আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই খালেদা জিয়া কারাগারে যাচ্ছেন’Ñ জানানোর পর বিএনপি নেতাকর্মীরা একেবারেই মুষড়ে পড়েন। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খালেদা জিয়া অংশ নিতে পারবেন কি না, খালেদা জিয়া অংশ নিতে না পারলে বিএনপি নির্বাচনে যাবে কি না, খালেদা জিয়ার অবর্তমানে কার নির্দেশনায় বিএনপি চলবেÑ ইত্যাদি ভেবে বিএনপি নেতাকর্মীরা হতাশায় নিমজ্জিত হন। বিএনপির বাইরেও দেশের অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলছেন, খালেদা জিয়ার কারাবরণকালীন এ সময়টা বিএনপির জন্য খুবই সংকটময় মুহূর্ত।
খালেদা জিয়াসহ সব আসামির বিরুদ্ধে এতিম তহবিলের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। দ-বিধির ৪০৯ ও ১০৯ ধারায় তারেক রহমান, কাজী সালিমুল হক কামাল, শরফুদ্দিন আহমেদ, মমিনুর রহমান ও ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকীকে ১০ বছর করে কারাদ- দেয়া হয়। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা জরিমানা করা হয়। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধেও অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ হয়েছেÑ উল্লেখ করে আদালত রায়ে বলেন, ‘খালেদা জিয়ার বয়স, তাঁর শারীরিক অবস্থা ও সামাজিক মর্যাদা বিবেচনা করে তাঁকে ৫ বছরের কারাদ- দেয়া হলো।’
আদালত রায়ে বলেন, ১১টি বিষয় সামনে রেখে এই বিচার করা হয়েছে : ১. প্রধানমন্ত্রীর এতিম তহবিলের নামে ব্যাংক একাউন্ট খোলা হয়েছিল কি না। ২. ওই একাউন্টে সৌদি আরব থেকে টাকা জমা হয়েছিল কি না। ৩. জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট নামে একটি ট্রাস্টি গঠন করা হয়েছিল কি না। ৪. জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের নামে গুলশানের সোনালী ব্যাংকে একাউন্ট খোলা হয়েছিল কি না। ৫. ওই ট্রাস্টে প্রধানমন্ত্রীর এতিম তহবিলের টাকা স্থানান্তর হয়েছিল কি না। ৬. জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের টাকা স্থানান্তর করে তারেক রহমান ও মমিনুরের একাউন্টে নেয়া হয়েছিল কি না। ৭. ওই টাকা কাজী সলিমুল হক কামালের নামে তার ব্যক্তিগত একাউন্টে স্থায়ী হিসাব (এফডিআর) করা হয়েছিল কি না। ৮. সেখান থেকে আসামি শরফুদ্দিন আহমেদের ব্যাংক হিসাবে টাকা স্থানান্তর করা হয়েছিল কি না এবং তা আত্মসাৎ হয়েছে কি না। ৯. আসামিরা দ-বিধির ৪০৯ ও ১০৯ ধারায় অপরাধ করেছেন কি না। ১০. রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে কি না। এবং ১১. অপরাধ করে থাকলে আসামিরা শাস্তি পাবেন কি না।
আদালত বলেন, এই ১১টি বিষয় সাক্ষ্যপ্রমাণে সত্য বলে প্রমাণিত হয়েছে। সাক্ষীদের সাক্ষ্য এবং এই মামলায় দাখিলকৃত দলিলপত্র প্রমাণ করে যে আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে প্রধানমন্ত্রীর এতিম তহবিলের টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
রায় ঘোষণার সময় খালেদা জিয়া আদালতে হাজির ছিলেন। বেলা ১টা ৫০ মিনিটের দিকে নিজের পাজেরো জিপে করে খালেদা জিয়া আদালতে প্রবেশ করেন। এরপর তিনি আদালতকক্ষের এক কোনায় নির্ধারিত চেয়ারে বসেন। রায় ঘোষণার কিছুক্ষণ পর খালেদা জিয়ার সঙ্গে কথা বলেন তার আইনজীবীরা। পরে তাঁকে আদালত থেকে তাঁর গাড়িতে করেই বকশীবাজারের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। রায়ের পর খালেদা জিয়াকে নিশ্চুপ দেখা গেছে। তার চোখের কোনায় সামান্য পানি দেখা যায়। আদালতে আসার পর থেকেই তিনি বিমর্ষ ছিলেন।
গত ২৫ জানুয়ারি যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে আদালত রায়ের তারিখ ধার্য করেন। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে খালেদা জিয়া, তারেক রহমানসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় মামলাটি করেছিল দুদক। ২০১০ সালের ৫ আগস্ট ৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপপরিচালক হারুন-আর-রশিদ। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।
অভিযোগ গঠনের পর এই মামলার কার্যক্রম বাতিল করতে খালেদা জিয়ার পক্ষে বারবার উচ্চ আদালতে যাওয়া হয়। কিন্তু প্রতিবারই তা নামঞ্জুর হয়েছে। ২০১৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। এই মামলায় মোট ৩২ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেন। পরে আত্মপক্ষ সমর্থন করে খালেদা জিয়া ১০ কার্যদিবস বক্তব্য দেন। গত বছর ১৯ ডিসেম্বর মামলায় যুক্তিতর্ক শুনানি শুরু হয়। ওই দিন রাষ্ট্রপক্ষ যুক্তি উপস্থাপন শেষ করে। এরপর খালেদা জিয়াসহ ৩ আসামির পক্ষে ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত যুক্তি উপস্থাপন করা হয়। মোট ১৬ কার্যদিবস যুক্তিতর্ক শুনানি করা হয় আসামিপক্ষে। এর মধ্যে খালেদা জিয়ার পক্ষে ৯ কার্যদিবস যুক্তিতর্ক শুনানি করা হয়।
খালেদা জিয়া ও অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজশে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ থাকায় দ-বিধির ৪০৯ ধারা ও ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি দমন কমিশন আইনের ৫ (২) ধারায় অভিযোগ গঠন করা হয়। ৪০৯ ধারায় অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আর ৫ (২) ধারায় ক্ষমতার অপব্যবহার করে দুর্নীতির মাধ্যমে কোনো প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ করা হয়। ৪০৯ ধারায় সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদ-। আর দুদক আইনের ৫ (২) ধারায় ৭ বছর পর্যন্ত কারাদ-ের বিধান রয়েছে। দ-বিধির ১০৯ ধারা হচ্ছে অপরাধে পরস্পরকে সহযোগিতা করা। রায়ের পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, দুটি ধারার অভিযোগই প্রমাণ হয়েছে। তবে একটি ধারায় শাস্তি দেয়ায় অপর ধারায় শাস্তি দেয়া হয়নি।
মামলার এজাহার ও অভিযোগপত্র থেকে জানা যায়, ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে সোনালী ব্যাংক লিমিটেডের রমনা করপোরেট শাখায় প্রধানমন্ত্রীর এতিম তহবিল নামে একটি হিসাব খোলেন। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকীকে দিয়ে ওই ব্যাংক হিসাবটি খোলা হয়। হিসাবটি পরিচালনা করার দায়িত্ব দেয়া হয় কামাল উদ্দিন সিদ্দিকীকে। ১৯৯১ সালের ৯ জুন ইউনাইটেড সৌদি কমার্শিয়াল ব্যাংক থেকে ১২ লাখ ৫৫ হাজার মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৪ কোটি ৪৪ লাখ ৮১ হাজার ২১৬ টাকা) প্রধানমন্ত্রীর এতিম তহবিলে একটি ডিডির মাধ্যমে জমা হয়। ওই সময় থেকে ১৯৯৩ সালের ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশের কোনো এতিমখানায় ওই টাকা ব্যয় না করে সরকারি তহবিলেই রাখা হয়। এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া তার দুই ছেলে তারেক রহমান ও আরাফত রহমান কোকো এবং জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমানকে দিয়ে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট নামে একটি প্রতিষ্ঠান সৃষ্টি করেন। তারেক রহমানকে ওই ট্রাস্টের ‘সেটেলর বা কর্তৃপক্ষ নিয়োগ দেয়া হয়। ১৯৯৩ সালের ১৩ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রীর এতিম তহবিলের ওই টাকা থেকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের নামে ২ কোটি ৩৩ লাখ ৩৩ হাজার ৫০০ টাকা দেয়া হয়। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের নামে গুলশান নিউ নর্থ সার্কেল রোড শাখার সোনালী ব্যাংকে একটি হিসাব খুলে তাতে জমা করা হয় ওই টাকা। সেখান থেকে ২ লাখ ৭৭ হাজার টাকা দিয়ে বগুড়ার গাবতলী থানার দারাইল মৌজায় ২ একর ৭৯ শতাংশ জমি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের নামে কেনা হয়। কিন্তু ১৯৯৩ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ১৩ বছর এতিমখানার জন্য কোনো স্থাপনা তৈরি করা হয়নি। এতিম বা দুস্থদের নামে কোনো টাকাও ব্যয় করা হয়নি। এদিকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের ব্যাংক হিসাবে অব্যবহৃত টাকা সুদ-আসলসহ ২০০৬ সাল পর্যন্ত ৩ কোটি ৩৭ লাখ ৯ হাজার ৭৫৭ টাকায় দাঁড়ায়। এদিকে ট্রাস্টি সদস্য তারেক রহমান ও মমিনুর রহমানকে দিয়ে অসৎ উদ্দেশ্যে ২০০৬ সালের ১২ এপ্রিল থেকে ৪ জুলাই পর্যন্ত ৫টি চেকের মাধ্যমে ৩ কোটি ৩০ লাখ টাকা গুলশান শাখা প্রাইম ব্যাংকে এফডিআর খোলা হয়। বিএনপি দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য কাজী সালিমুল হক কামালকে দিয়ে নগদায়ন করা হয় জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের নামে। পরে কাজী সালিমুল হক কামালের ব্যক্তিগত নামে স্থায়ী হিসাব খোলা হয়। এরপর কাজী সালিমুল হক ও সাইদ নামের আরেক ব্যবসায়ীর নামে হিসাব খুলে সেখানে টাকা স্থানান্তর করা হয়। পরে ওই টাকা গিয়াস উদ্দিন নামের আরেকজনের হিসাবে স্থানান্তর করা হয়। সেখান থেকে ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা স্থানান্তর করা হয় ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদের নামে। ওই টাকাই সবাই মিলে আত্মসাৎ করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।
তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্য থেকে জানা যায়, এক ব্যাংক হিসাব থেকে আরেক ব্যাংক হিসাবে আসামিদের স্থানান্তরের অভিযোগের সমর্থনে সব ব্যাংকের কাগজপত্র এই মামলায় জব্দ দেখানো হয়েছে। সেগুলো আদালতেও দাখিল করা হয়েছে।
রায় ঘোষণার পর দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, ১০ বছর ধরে মামলাটি পরিচালনা করে আসছি। বিচার শেষ হয়েছে। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি। প্রমাণ করতে পেরেছি, এতিমদের টাকা আত্মসাৎ করেছেন আসামিরা। খালেদা জিয়া এতিমদের টাকা দুই পুত্রকে দিয়েছেন। সেখান থেকে অন্যরা মিলে সবাই আত্মসাৎ করেছেন। আসামিপক্ষ থেকে দুদক সম্পর্কে অনেক কথা বলা হয়েছে, যা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে।’
রায় ঘোষণার পর আদালতে উপস্থিত ছিলেন খালেদা জিয়া, কাজী সালিমুল হক কামাল ও শরফুদ্দিন আহমেদ। এ মামলার অপর দুই আসামি তারেক রহমান ও ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী পলাতক থাকায় কোর্টে অনুপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহম্মদ ও খালেদা জিয়ার বিশেষ সহকারী শিমুল বিশ্বাসসহ বিএনপির মহিলা দলের অনেক নারী নেত্রী।
এ রায়ের প্রতিক্রিয়ায় খালেদা জিয়ার আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, এই রায় ফরমায়েশি রায়। আমরা এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করব। আশা করি উচ্চ আদালত খালেদা জিয়াকে খালাস দেবেন।