প্রতিবেদন

দ্বিতীয় মেয়াদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেন আবদুল হামিদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
মো. আবদুল হামিদ পুনরায় রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমানের মৃত্যুর পর ১৪ মার্চ ২০১৩ সাল থেকে মো. আবদুল হামিদ দেশের ২০তম রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। প্রথম মেয়াদে দায়িত্ব পালন শেষে তিনি এখন দ্বিতীয় মেয়াদে ২১তম রাষ্ট্রপতির দায়িত্বও পালন করবেন।
গত ৭ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন ভবনে মো. আবদুল হামিদকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা। এরপরই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের গেজেট প্রকাশ করা হয়। গণভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করে ওই গেজেট রাষ্ট্রপতির হাতে তুলে দেন সিইসি ও অন্য ৪ কমিশনার। এদিকে মো. আবদুল হামিদ পুনরায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় তার নিজ জেলা কিশোরগঞ্জে আনন্দ মিছিল করে পরস্পরের মাঝে মিষ্টি বিতরণ করেন এলাকাবাসী।
এর আগে রাষ্ট্রপতি পদে দাখিল হওয়া মনোনয়নপত্র ৭ ফেব্রুয়ারি পরীক্ষা করেন নির্বাচন কর্মকর্তারা। এ সময় জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজসহ আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দলের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। পরে বেলা সাড়ে ১২টায় নির্বাচন ভবনের মিডিয়া সেন্টারে সিইসি আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন করে জানান, প্রথম মনোনয়নপত্র বৈধ হওয়ায় এবং আর কোনো প্রার্থী না থাকায় মো. আবদুল হামিদকে একক প্রার্থী হিসেবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করা হয়। সিইসি বলেন, রাষ্ট্রপতি পদের মনোনয়নপত্র পরীক্ষার পর মো. আবদুল হামিদ একমাত্র বৈধ প্রার্থী হওয়ায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন ১৯৯১-এর ধারা ৭ মোতাবেক তাঁকে নির্বাচিত ঘোষণা করছি। সিইসি বলেন, সম্ভবত আগামী ২৩ এপ্রিল নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে মো. আবদুল হামিদ শপথ নিতে পারেন।
মো. আবদুল হামিদ ১৯৪৪ সালের ১ জানুয়ারি কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার কামালপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি নিকলী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মেট্রিকুলেশন পাস করেন। কিশোরগঞ্জ সরকারি গুরুদয়াল কলেজ থেকে এইচএসসি ও বিএ পাস করেন। তিনি সরকারি গুরুদয়াল কলেজের ভিপি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। পেশায় তিনি একজন অ্যাডভোকেট। কিশোরগঞ্জ জজ কোর্টে ওকালতি করেছেন। কিশোরগঞ্জ বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ছিলেন বেশ কয়েকবার।
দাম্পত্য জীবনে তিনি স্ত্রী রশীদা হামিদের সাথে সংসারধর্ম পালন করছেন। হামিদ দম্পতি তিন ছেলে ও এক কন্যা সন্তানের জনক-জননী। ছাত্রজীবন থেকেই মো. আবদুল হামিদ রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। তিনি জীবনের বেশিরভাগ সময় কাটিয়েছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতিবিদ হিসেবে। ১০টি সংসদ নির্বাচনের মধ্যে ৭ বার একই আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হন তিনি। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে জাতীয় সংসদে তিনি ডেপুটি স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ সালে জাতীয় সংসদে তিনি বিরোধী দলীয় উপনেতা ছিলেন। পরবর্তীতে সপ্তম জাতীয় সংসদে ১২ জুলাই ২০০১ থেকে ৮ অক্টোবর ২০০১ এবং নবম জাতীয় সংসদে ২৫ জানুয়ারি ২০০৯ থেকে ১৪ মার্চ ২০১৩ পর্যন্ত স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেন মো. আবদুল হামিদ।