কলাম

নেতৃত্ব শেখ হাসিনার হাতেই থাকা দরকার

মো. তরিকুল ইসলাম
বাংলাদেশের নেতৃত্ব কেন শেখ হাসিনার হাতে থাকা উচিতÑ এমন প্রশ্ন যদি আমাকে করা হয় তাহলে আমি বাংলাদেশের অতীত ও বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপট তুলে ধরার মাধ্যমে উত্তর দিতে চাই। অতীতের প্রেক্ষাপট বর্ণনা দিতে গেলে যে নামটি সর্বপ্রথমে আসে তা হলো জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আজকের এই স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা বঙ্গবন্ধু তাঁর সারাটা জীবন বাংলাদেশের জনগণের জন্য বিসর্জন দিয়েছেন। তিনি পাকিস্তানি সরকারের নানা অত্যাচার, জেল-জুলুমের শিকার হয়েছেন। তিনি কখনো তাঁর পরিবারের জন্য সময় দিতে পারেননি। তিনি তাঁর পরিবারের চেয়ে এদেশ ও দেশের মানুষের জন্য বেশি চিন্তা করেছেন। তাঁর ধ্যান-জ্ঞান সব ছিল কিভাবে এদেশের মানুষকে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে মুক্তি দিতে পারবেন। কিভাবে এদেশের মানুষ সুখে-শান্তিতে জীবনযাপন করতে পারবে। বঙ্গবন্ধু অনেক আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে এদেশকে স্বাধীন করেছেন। স্বাধীন করার পর একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ তিনি গোছাতে শুরু করলেন; কিন্তু পাকিস্তানি দোসররা তাঁকে সেটি সম্পন্ন করতে দিল না। তারা তাদের ব্যক্তিস্বার্থে ও পাকিস্তানের পক্ষে স্বাধীন বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে থামিয়ে রাখতে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করল। যারা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছিল তাদের মধ্যে পাকিস্তানের দোসর মেজর জিয়া ছিলেন অন্যতম। অনেকেই মেজর জিয়ার জয়গান করেন, কারণ তারা পাকিস্তানের দোসর, ধর্মীয় উগ্রবাদিতার মদদদাতা।
বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর মেজর জিয়া কাদের নিয়ে জোট গড়লেন, কাদেরকে রাজনীতি করার সুযোগ দিলেন? যারা মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, যারা পাকিস্তানের পক্ষে নিরীহ বাঙালিদের হত্যা করেছে মেজর জিয়া তাদেরকে স্বাধীন দেশের ক্ষমতায় বসিয়েছেন। মেজর জিয়া জাতির পিতার হত্যাকারীদেরও মন্ত্রিত্ব দিয়ে তাদেরকে পুরস্কৃত করেছেন। মেজর জিয়া সেই রাজাকারদের হাতে আমাদের নিরীহ বাঙালির রক্তে অর্জিত জাতীয় পতাকা দিয়ে আমাদের জাতীয় মর্যাদাকে কলঙ্কিত করেছেন। তিনি ছিলেন স্বার্থপর, সুবিধাভোগী ও বেইমান। যাকে বঙ্গবন্ধু পদোন্নতি দিয়েছিলেন, যার ভাঙা সংসার বঙ্গবন্ধু গড়ে দিয়েছিলেন আর সেই জিয়াই কিনা পরিকল্পনা করে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেন। মেজর জিয়ার স্বৈরশাসনে অতিষ্ঠ হয়ে বাংলার জনগণ বঙ্গবন্ধুর বেঁচে যাওয়া উত্তরাধিকার শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানাকে দেশে ফিরিয়ে আনে। বাংলার জনগণ তাদের প্রয়োজনে শেখ হাসিনাকে আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচন করে। এদেশের মুক্তিপাগল জনগণ জানে শেখ মুজিবুর রহমান যেমন জাতির পিতা তেমনি আওয়ামী লীগ তাদের মাদার সংগঠন। তাই আবারো যদি আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে তাহলে এদেশের মানুষের দৈন্য-দুর্দশা দূর হবে।
১৯৮১ সালে শেখ হাসিনা যেদিন দেশে ফেরেন সেদিন প্রচ- ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে জনগণ বিমানবন্দর থেকে সমগ্র ঢাকা শহরে ছড়িয়ে পড়েছিল। তাদের উপস্থিতিই বলে দেয় বাংলাদেশের জন্য বঙ্গবন্ধু কন্যার কতটা প্রয়োজন ছিল। শেখ হাসিনা এদেশ ও দেশের জনগণের কথা চিন্তা করে বাবা, মা, ভাই, বোন সব হারানোর ব্যথা ভুলে বাবার স্বপ্নে এদেশের জনগণের ভাগ্যোন্নয়নে জীবনবাজি রাখেন। শেখ হাসিনাকে হত্যার জন্য অনেকবার চেষ্টা করা হয়েছে। তারপরও তিনি থেমে থাকেননি। বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল তখন এদেশ দুর্নীতি, সন্ত্রাস, জঙ্গি ও মাদকে ভরে গিয়েছিল। বাংলাদেশ দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। খালেদা জিয়ার কুপুত্র তারেক রহমান হাওয়া ভবন সৃষ্টি করে সকল প্রকার দুর্নীতি করেছে, বিদেশে অর্থ পাচার করেছে। খালেদা জিয়ার আরেক ছেলে আরাফাত রহমান কোকো হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছিল। একজন অষ্টম শ্রেণি পাস মহিলা দ্বারা কতটুকুই বা আশা করা যায়। কিন্তু শেখ হাসিনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পাস করেছেন। তিনি ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে দেশের জন্য কাজ করেছেন। ছাত্রজীবন থেকেই শেখ হাসিনা দেশের স্বার্থে, দেশের জনগণের স্বার্থে আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়েছেন।
আজ বাংলাদেশের নেতৃত্ব শেখ হাসিনার হাতে আছে বলে বাংলাদেশের জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়েছে। আজ ১ হাজার টাকার মধ্যে মোবাইল ফোন পাওয়া যায়, ১ টাকায় ২-৩ মিনিট কথা বলা যায়। কিন্তু এক সময় কয়েক গ্রামের মধ্যে একটি মোবাইল ফোন ছিল, এক মিনিট কথা বলতে ১০-১৫ টাকা লাগত। আজকে ইন্টারনেট সেবার মাধ্যমে আমরা ঘরে বসে সারা বিশ্বের যেকোনো তথ্য সংগ্রহ করতে পারি। আজ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা প্রবাসীদের সাথে তাদের পরিবার ভিডিও কলের মাধ্যমে কথা বলতে পারেন যেটা ছিল এক সময় অকল্পনীয়। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির বিল, টিউশন ফিসহ নানা কাজ সম্পন্ন করা যায়। কিন্তু একটা সময় ছিল এই একই কাজ করতে দিনের পর দিন বিড়ম্বনার শিকার হতে হতো।
শেখ হাসিনার হাতে যখন নেতৃত্ব থাকে তখন এদেশের হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টানরা নিরাপদ থাকে। শেখ হাসিনাকে তারা মনে করে তাদের মা। শেখ হাসিনার হাতে নেতৃত্ব থাকলে এদেশের মানুষের ভাগ্যের উন্নতি হয়। আজ গ্রামে গেলে আর সেই ছনের ঘর, মাটির ঘর, সন্ধ্যা হলেই সকল গ্রাম অন্ধকার ভুতুড়ে পল্লীতে পরিণত হয় না। বর্ষাকালে আজ আর গ্রামের মানুষদের লুঙ্গি পরে হাঁটু কাদামাটির মধ্য দিয়ে হাঁটতে হয় না। শেখ হাসিনার অঙ্গীকার অনুযায়ী দেশের প্রায় প্রতিটি ঘরেই বিদ্যুৎ পৌঁছে গেছে। এখন শহরে মোমবাতি আর কারো কিনতে হয় না কেননা লোডশেডিং এর কথা সবাই ভুলে গেছে।
আজকের পদ্মাসেতু, হানিফ ফ্লাইওভার, মৌচাক-মগবাজার ফ্লাইওভারসহ আরো অনেক ফ্লাইওভার শেখ হাসিনা সরকার করেছে এবং সারাদেশে আরো অনেক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। ঢাকা শহরের অনেক জায়গা ছিল যেখানে গেলে যানজটে সারা দিন কেটে যেত। কিন্তু আজ আর সেসব সড়কে কোনো যানজট দেখা যায় না। উদাহরণ দিয়ে বলতে গেলে এখন গুলিস্তান থেকে নারায়ণগঞ্জ যেতে ২০ মিনিট সময় লাগে, যেখানে আগে সময় লাগত ৪-৫ ঘণ্টা। আজকে সমুদ্রসীমা, ছিটমহল সমস্যা সমাধান করেছেন শেখ হাসিনা। আজকে বাংলাদেশের জনগণের প্রাণের দাবি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করেছেন শেখ হাসিনা। কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণ, রামপাল কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ সবই শেখ হাসিনা সরকারের অবদান। ঢাকার মধ্যে দৃষ্টিনন্দন হাতিরঝিল প্রকল্প শেখ হাসিনা করেছেন। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকলে বাংলাদেশে কারা সংখ্যালঘু কারা সংখ্যাগুরু বোঝা যায় না। হিন্দু-মুসলিম বলে কোনো ভেদাভেদ থাকে না। সবাই বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে বাস করে। কিন্তু বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় থাকলে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান কোনো সম্প্রদায়ই নিরাপদে বসবাস করতে পারে না।
বাবা-মা হারা এতিম শেখ হাসিনার এ দেশ থেকে কিছুই চাওয়ার নেই। তিনি বাংলার জনগণের প্রয়োজনে নিজের জীবন বাজি রেখে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি তাঁর স্বজন হারানো শোক ভুলে বাংলাদেশের জনগণের ভাগ্যোন্নয়নে বাবার মতো জীবন দিতেও প্রস্তুত রয়েছেন। দেশে আজ বাংলা ভাই নেই, জঙ্গি নেই, সন্ত্রাস নেই। কিন্তু বিএনপির আমলে চট্টগ্রামে দশ ট্রাক অস্ত্র ধরা পড়েছিল, সেটাই কি বলে দেয় না কারা এদেশে জঙ্গি, সন্ত্রাস ও বাংলা ভাইদের সৃষ্টি করেছিল। মেজর জিয়া অস্ত্র দিয়ে এদেশের ক্ষমতা কেড়ে নিয়েছিলেন, বিএনপি নামের দলও গঠন করেছিলেন। এ কারণে অস্ত্রই বিএনপির মূলশক্তি, জনগণ নয়। আওয়ামী লীগ এদেশ ও দেশের জনগণের প্রয়োজনে গড়ে তোলা সংগঠন, এদেশের জনগণই আওয়ামী লীগের মূল শক্তি। যার জন্য শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকলে এদেশের জনগণের জন্যই কাজ করেন। আর এদেশের জনগণ তাদের নিজেদের প্রয়োজনে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় আনে। যার জন্য দেশের জনগণ আজ উপলব্ধি করতে পেরেছে শেখ হাসিনার হাতেই তাদের নেতৃত্ব থাকা উচিত। তাই আজ সবার একটাই স্লোগান ‘শেখ হাসিনার হাতে যদি থাকে নেতৃত্ব, জনগণ পায় কর্তৃত্ব।’
লেখক : সভাপতি, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়