প্রতিবেদন

পূর্বাচলে নির্মিত হচ্ছে ১৪২ তলার আইকনিক টাওয়ার

নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) ‘পূর্বাচল নিউ টাউন প্রজেক্টের’ ১৯ নম্বর সেক্টরে প্রস্তাবিত সেন্ট্রাল বিজনেস ডিস্ট্রিক্টে (সিবিডি) ‘আইকনিক টাওয়ার’ নামে একটি বহুতল ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। বেসরকারি খাতের ভবনটি প্রশাসনিক ও বাণিজ্যিক ব্যবহারের দিক দিয়ে হবে বিশ্বমানের। ভবনটি হবে ১০০ থেকে ১৪২ তলাবিশিষ্ট। প্রস্তাবিত এই ভবনের জন্য এরই মধ্যে প্রায় ১০০ একর জমি ঠিক করা হয়েছে।
গত বছরের ১৭ জুলাই রাজউক ওই জমিটি ইজারা দেয়ার জন্য দরপত্র আহ্বান করেছিল এবং ওই বছরের ৭ সেপ্টেম্বর নিলামও হয়েছিল। পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) আওতায় দেশের সর্ববৃহৎ অবকাঠামো উন্নয়ন কোম্পানি সিকদার গ্র“পের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান পাওয়ারপ্যাক হোল্ডিংস লিমিটেড, জাপানভিত্তিক কাজিমা করপোরেশন ও যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক স্ট্র্যাটেজিক গ্লোবাল ম্যানেজমেন্ট ইনকরপোরেটেডের একটি কনসোর্টিয়াম নিলামে অংশ নেয়। পাওয়ারপ্যাক-কাজিমা কনসোর্টিয়াম নিলামে প্রতি একর জমির জন্য সর্বোচ্চ দরদাতা প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচিত হয় এবং বর্তমানে ওই কনসোর্টিয়ামের কারিগরি দক্ষতা মূল্যায়ন প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
পূর্বাচলে প্রস্তাবিত ‘আইকনিক টাওয়ার’ হবে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের গর্ব। পাওয়ারপ্যাক-কাজিমা কনসোর্টিয়ামের পক্ষে পাওয়ারপ্যাক হোল্ডিংস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রন হক সিকদার এমন মন্তব্য করেছেন।
কাজিমা করপোরেশন জাপানের দ্বিতীয় বৃহৎ নির্মাণ প্রতিষ্ঠান এবং বিশ্বের মধ্যে ১৯তম বৃহৎ নির্মাণ প্রতিষ্ঠান। ১০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে পাওয়ারপ্যাকের সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে ভবন নির্মাণের কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। শর্ত ছিল কমপক্ষে ৩৫ লাখ বর্গফুট বিল্ডআপ এরিয়া এবং সর্বোচ্চ ২০০ মিটার উঁচু ভবন নির্মাণের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন প্রতিষ্ঠান নিলামে অংশ নিতে পারবে, যেখানে কাজিমা করপোরেশনের ২০৫ মিটার উঁচু ‘গ্র্যান্ড টোকিও নর্থ অ্যান্ড সাউথ টাওয়ার’ নির্মাণের অভিজ্ঞতা রয়েছে, যে ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছে ৩৭ লাখ বর্গফুট এলাকাজুড়ে।
রন হক সিকদার জানান, মোট সম্পদ অন্তত ১৫ কোটি ডলার হতে হবে বলা হয়েছিল নিলামের শর্তে, যেখানে পাওয়ারপ্যাক-কাজিমা কনসোর্টিয়ামের সম্পদের পরিমাণ ১ হাজার ৭১৩ কোটি ডলারেরও বেশি। এর পাশাপাশি ৫ কোটি ডলার তহবিল সংগ্রহের সক্ষমতা আছে কি না জানতে চাওয়া হয়েছিল, যেখানে পাওয়াপ্যাকের ২২ কোটি ৯০ লাখ ডলারের বেশি এবং কাজিমা করপোরেশনের ২০৭ কোটি ডলারের বেশি তহবিল জোগাড় করার সক্ষমতা রয়েছে।
জানা গেছে, কাজিমা করপোরেশনের একটি ৭০ বছরের পুরনো গবেষণা কেন্দ্র আছে, যেখানে নিলামের শর্তে কেবল ২০ বছরের কথা বলা হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানের ভূমিকম্প-সহনশীল ভবন নির্মাণের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে বলেও জানা যায়।
১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠিত সিকদার গ্র“পেরও বহুতল ভবন নির্মাণের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। সত্তর ও আশির দশকে বিভিন্ন ভবন প্রকল্প সফলভাবে সম্পন্ন করায় প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বব্যাংক কর্তৃক কয়েকবার স্বীকৃতি পেয়েছে। বর্তমানে পিপিপির আওতায় বাস্তবায়িত হচ্ছে এমন অনেক প্রকল্পের সক্রিয় অংশীদার এই সিকদার গ্র“প।