অর্থনীতি

বাংলাদেশসহ পাঁচ দেশের ৭ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি

স্বদেশ খবর ডেস্ক
স্বল্পোন্নত বা এলডিসিভুক্ত ৪৫ দেশের মধ্যে মাত্র ৫টি দেশ গত বছর ৭ শতাংশের ওপর প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে, যার অন্যতম বাংলাদেশ। জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন বিষয়ক সংস্থা আংকটাডের এক প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে। এতে বলা হয়, ২০১৭ সালে বাংলাদেশ ৭ দশমিক ১ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। এর পাশাপাশি জিবুতি অর্জন করে ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি, ইথিওপিয়া ৮ দশমিক ৫ শতাংশ, মিয়ানমার ৭ দশমিক ২ শতাংশ এবং নেপাল অর্জন করে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এলডিসিভুক্ত অনেক দেশই এখনো প্রাথমিক পণ্য রপ্তানির ওপর নির্ভরশীল। প্রায় সব দেশই বাণিজ্য ঘাটতিতে রয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ ও নেপালের বাণিজ্য ঘাটতি জিডিপির ১ শতাংশীয় পয়েন্টের কম। এ ছাড়া ভুটান, গিনি, লাইবেরিয়া, মোজাম্বিক এবং টুভ্যালুর বাণিজ্য ঘাটতি ২৫ শতাংশের বেশি। ২০১৭ সালে এলডিসিভুক্ত দেশগুলোতে রেমিট্যান্স এসেছে ৩৬ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার, যা ২০১৬ সালের ৩৭ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারের চেয়ে ২ দশমিক ৬ শতাংশ কম। এ দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ। আংকটাডের হিসাবে ২০১৬ সালে বাংলাদেশ পায় ১৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার, নেপাল ৬ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার, ইয়েমেন ৩ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার, হাইতি ২ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার, সেনেগাল ২ বিলিয়ন ডলার এবং উগান্ডা ১ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স আহরণ করে।
আংকটাডের রিপোর্টে বলা হয়, বিশ্বজুড়ে যখন অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার চলছে তখন সাব-সাহারা আফ্রিকাসহ বেশিরভাগ সুবিধাবঞ্চিত দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন স্থবির হয়ে আছে। ফলে বিশ্বে বৈষম্য আরো বেড়েছে। তাই স্বল্পোন্নত দেশগুলোর প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বিশেষ নজর দেয়া প্রয়োজন। এ দেশগুলোর উন্নয়নে জরুরি পদক্ষেপ নেয়া না হলে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে দেশগুলো পিছিয়ে থাকবে। আংকটাডের আফ্রিকা বিভাগের স্বল্পোন্নত দেশ এবং বিশেষ প্রোগ্রাম বিষয়ক পরিচালক পল আকিউমি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই স্বল্পোন্নত দেশগুলোর প্রতি তাদের সমর্থন বাড়াতে হবে। যদি তারা কাউকে পিছিয়ে না রাখার প্রতিশ্রুতিতে থাকতে চায়।
প্রতিবেদনে বিশ্লেষণে বলা হয়, ২০১৭ সালে এলডিসিভুক্ত দেশগুলোতে গড় প্রবৃদ্ধি এসেছে ৫ শতাংশ। ২০১৮ সালে এটি বেড়ে হবে ৫ দশমিক ৪ শতাংশ। কিন্তু এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে যে ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে তা থেকে এটি অনেক কম। ফলে ব্যাহত হবে সুসংহত ও টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি।
২০১৭ সালে এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর বাণিজ্য ঘাটতি ধরা হয়েছে ৫০ বিলিয়ন ডলার, যা দ্বিতীয় বৃহৎ বাণিজ্য ঘাটতি। ২০১৮ সালে এ ঘাটতি আরো বাড়বে, ফলে আরো বিস্তৃত হবে অর্থনৈতিক বৈষম্য। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাবে এলডিসিভুক্ত গুটিকয়েক দেশ ২০১৭ সালে বাণিজ্যিক উদ্বৃত্তে যেতে পেরেছে। দেশগুলো হচ্ছে আফগানিস্তান, দক্ষিণ সুদান, ইরিত্রিয়া এবং গিনি বিসাউ। এর মধ্যে আফগানিস্তান ও দক্ষিণ সুদান ব্যাপকভাবে আন্তর্জাতিক সাহায্যনির্ভর।
আকিউমি বলেন, এ চিত্র ইঙ্গিত দিচ্ছে জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপের জন্য একটি আহ্বান প্রয়োজন। এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সে ব্যাপারে অবশ্যই তাদের আরো মনোযোগী হতে হবে। আংকটাডের মতে, স্বল্পোন্নত দেশগুলো টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা কখনো অর্জন করতে পারবে না, যদি তারা অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের গতি বাড়াতে না পারে। আংকটাডের এ প্রতিবেদনটি গত ৫ ফেব্র“য়ারি সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অনুষ্ঠিত সংগঠনটির পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়।