কলাম

বিএনপির গঠনতন্ত্রে পরিবর্তন : দুর্নীতিবাজ ও কুখ্যাতদের প্রশ্রয়

অধ্যাপক ড. মিল্টন বিশ্বাস
২৮ জানুয়ারি (২০১৮) নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে হাজির হয়ে বিএনপি নেতারা তাদের সংশোধিত গঠনতন্ত্র জমা দিয়েছেন। নতুন এই গঠনতন্ত্রে বাদ পড়েছে ‘৭’-এর সব উপধারা। এর ফলে দুর্নীতিবাজ ও কুখ্যাতদের জন্য বিএনপির দ্বার উন্মুক্ত হয়েছে বলেই আমরা মনে করছি। ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ তাদের কাউন্সিল সম্পন্ন হলেও এতদিন পর এটি জমা দেয়ার উদ্দেশ্য হলো বেগম জিয়ার মামলার রায় ৮ ফেব্রুয়ারিতে ঘোষিত হয়। অর্থাৎ দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে রক্ষার করার বিষয়টি সবার কাছে পরিষ্কার বলে মনে হচ্ছে। উল্লেখ্য, বিএনপির গঠনতন্ত্রের ৭ নম্বর ধারায় কমিটির সদস্য পদের অযোগ্যতা শিরোনামে বলা আছে, নিম্নোক্ত ব্যক্তিরা জাতীয় কাউন্সিল, জাতীয় নির্বাহী কমিটি, জাতীয় স্থায়ী কমিটি বা যেকোনো পর্যায়ের যেকোনো নির্বাহী কমিটির সদস্য পদের কিংবা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের প্রার্থী পদের অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। তারা হলেন : ক. ১৯৭২ সালের রাষ্ট্রপতির আদেশ নম্বর ৮-এর বলে দ-িত ব্যক্তি। খ. দেউলিয়া। গ. উন্মাদ বলে প্রমাণিত ব্যক্তি এবং ঘ. সমাজে দুর্নীতিপরায়ণ বা কুখ্যাত বলে পরিচিত ব্যক্তি। প্রকৃতপক্ষে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়ের দিন ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতেই গঠনতন্ত্রের ‘৭’ ধারা বাদ দেয়া হয়েছে। বলা হচ্ছে মামলার রায়ে খালেদা জিয়ার সাজা হলে দলের গঠনতন্ত্রের ধারা ৭-এর ‘ঘ’ সামনে আনা হতে পারে। এ ছাড়া এই ধারা ব্যবহার করে দলের ভাঙন সৃষ্টির পাঁয়তারা হতে পারে। অর্থাৎ গঠনতন্ত্রের পরিবর্তনের কারণে দুর্নীতি প্রমাণ হয়ে দ-িত হলেও দলে বহাল তবিয়দে পদ নিয়ে থাকতে পারবেন বেগম জিয়া। আসলে নির্বাচন কমিশনে জমা দেয়া গঠনতন্ত্রে দলের জাতীয় কাউন্সিল ছাড়া সংশোধনী আনার বিষয়টি গোপন রাখা হয়েছে। উপরন্তু গঠনতন্ত্র সংশোধন করতে হলে কাউন্সিলে তা অনুমোদন আনতে হয়, সে রীতিও লঙ্ঘন করা হয়েছে। অবশ্য ২৮ জানুয়ারি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিএনপির সিনিয়র নেতা নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ছাড়া আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবে না বিএনপি। তাদের বাদ দিয়ে বিএনপির নির্বাচনে যাওয়ার ভাবনা মূর্খতা। তিনি আরও বলেন, আগামী নির্বাচন থেকে অন্যায়ভাবে বিএনপিকে বাইরে রাখার জন্য সরকার ষড়যন্ত্র করছে। খালেদা জিয়া বা তারেক রহমানকে নির্বাচনি প্রক্রিয়ার বাইরে রাখার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই খালেদা জিয়ার ৫ বছর সাজার রায় হয়েছে। ফলে নির্বাচনের পুরো প্রক্রিয়াই এখন ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এমনকি বিএনপির কেউই নির্বাচনে অংশ নেবে না।
২.
অনেক ইতিহাসবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকের মতে, পৃথিবীর ইতিহাসে এই প্রথম কুখ্যাত ও দুর্নীতিবাজকে সরাসরি সাংবিধানিকভাবে অনুমোদন দিল বিএনপি। অর্থাৎ তাদের নিজেদের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বিএনপি এখন একটি দুর্নীতিবাজ দল। কারণ শুধু একজন বা একটি পরিবারের জন্য কোনো দলের গঠনতন্ত্রে দুর্নীতি জায়েজ করা এক নজিরবিহীন ঘটনা। এমন সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নিজেদের নীতিহীনতার পরিচয়কেই আরেকবার বড় করে তুলে ধরলেন বিএনপি নেতারা। আর এমন গঠনতন্ত্রের কারণেই প্রমাণিত ও কুখ্যাত সব দুর্নীতিবাজদের জন্যই বিএনপির দ্বার উন্মুক্ত হলো। একই সঙ্গে গঠনতন্ত্রের এই পরিবর্তনের মাধ্যমে খালেদা জিয়া এতিমের টাকা মেরে দেয়ার ব্যাপারটিও পরোক্ষভাবে স্বীকার করে নিলেন।
২০০৮ সালে ১/১১ আমলে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের করা ১৮টি মামলা উধাও হয়ে গেল, আর একই আমলে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোয় তাকে বার বার হাজিরা দিতে হচ্ছেÑ এরকম একটি বিভ্রান্তিমূলক পরিকল্পিত প্রচারণা ছড়ানো হচ্ছে বিএনপির তরফ থেকে। প্রকৃত সত্য হলো ২০০৮ সালে শেখ হাসিনার নামে যেসব মামলা হয়েছে সেগুলো আদালতের চলমান সুষ্ঠু প্রক্রিয়ায় নিষ্পন্ন হয়েছে এবং অভিযোগগুলো আদালতে যুক্তিতর্কের মাধ্যমেই বাতিল হয়েছে। বাতিল হয়েছে এই কারণে নয় যে তিনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী। মামলাগুলো আদালতে যে প্রক্রিয়ায় অভিযুক্তকে সম্মুখীন হতে হয় সেভাবেই আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে মোকাবিলা করা হয় এবং ওই মামলার যে যৌক্তিকতা নেই তা প্রমাণিত হয়েছে। বিএনপি নেতাদের অভিযোগ অনুসারে যদি আওয়ামী লীগ স্বাধীন বিচার প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপই করত তাহলে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ভৈরব সেতুর মামলা কিভাবে একই প্রক্রিয়ায় বাতিল হলো? আসলে ভৈরব সেতুর মামলায় যৌক্তিকতা ও কোনো ধরনের প্রমাণ না থাকার কারণে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ভৈরব সেতু মামলাকে এই আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেই আদালত বাতিল করে। পক্ষান্তরে খালেদা জিয়া এতিমের টাকা চুরির মামলাটি মোকাবিলা করছেন; আর এই মামলার কোনো মেরিট না থাকলে এ মামলাও বাতিল হয়ে যেত। কিন্তু যেহেতু এই মামলার মেরিট ছিল তাই ২০০৮ সালে দায়ের করা এ মামলাটিকে প্রতিহত করার জন্য খালেদা জিয়া ও তার আইনজীবীরা সুচতুরভাবে আদালতের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করে আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করেছেন। তারা বার বার তারিখ নিয়েছেন। এ জন্যই খালেদা জিয়াকে এ মামলায় বার বার আদালতে হাজিরা দিতে হয়েছে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে পেট্রোল বোমার রাজনীতি করে ক্ষমতায় বসবেন এমন দিবাস্বপ্ন দেখে ভেবেছিলেন ক্ষমতায় এলে তারা এসব মামলাকে নিশ্চিহ্ন করে দেবেন। অথচ এতিমের টাকা মেরে দেয়ার পূর্বাপর ঘটনা বাস্তব ও প্রমাণিত।
৩.
বিভিন্ন তথ্যসূত্র থেকে বেগম খালেদা জিয়ার অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার বিস্তৃত বিবরণ পাওয়া যায়। পাঠকের সুবিধার জন্য এখানে তা উপস্থাপন করা হলো। ১৯৯১-৯৬ সালে প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে খালেদা জিয়ার পক্ষে সোনালী ব্যাংকের রমনা শাখায় প্রধানমন্ত্রীর এতিম তহবিল নামে একটি সঞ্চয়ী হিসাব খোলা হয়, যার চলতি হিসাব নম্বর ৫৪১৬। ওই একাউন্টে ১৯৯১ সালের ৯ জুন এক সৌদি দাতার পাঠানো ইউনাইটেড সৌদি কর্মাশিয়াল ব্যাংকের ডিডি নম্বর ১৫৩৩৬৭৯৭০ মূলে ১২ লাখ ৫৫ হাজার ইউএস ডলার, যা তৎকালীন বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময়ে বাংলাদেশি টাকায় ৪ কোটি ৪৪ লাখ ৮১ হাজার ২১৬ টাকা অনুদান হিসেবে জমা হয়। ১৯৯১ সালের ৯ জুন থেকে ১৯৯৩ সালের ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খালেদা জিয়া সোনালী ব্যাংকের ওই একাউন্টে জমাকৃত এ অর্থ কোনো এতিমখানায় দান করেননি। এ সময়ের মধ্যে তারেক রহমান তার ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকো ও জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমানকে সঙ্গে নিয়ে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট গঠন করেন। তবে এ ট্রাস্ট গঠনের প্রক্রিয়ায় আরাফাত রহমান কোকোর কোনো স্বাক্ষর না থাকায় তাকে এ মামলায় আসামি করা হয়নি। ১৯৯৩ সালের ৫ সেপ্টেম্বর গুলশান সাব রেজিস্ট্রি অফিসে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের নাম নিবন্ধন করা হয়। যার ঠিকানা হিসেবে সেনানিবাসের ৩ শহীদ মঈনুল রোডের বাড়ির (খালেদা জিয়ার বাড়ি) ঠিকানা ব্যবহার করা হয়। এ সময় তারেক রহমানকে দি অথর বা দি সেটেলর অব দি ট্রাস্ট (ট্রাস্ট সৃষ্টিকারী) নিয়োগ করা হয় এবং মমিনুর রহমান এ ট্রাস্টের ট্রাস্টি হন।
১৯৯৩ সালের ১৩ নভেম্বর খালেদা জিয়ার পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর এতিম তহবিলের সোনালী ব্যাংকের রমনা শাখার তৎকালীন হিসাব নম্বর ৫৪১৬-এ জমা থাকা অনুদানের মধ্যে ২ কোটি ৩৩ লাখ ৩৩ হাজার ৫০০ টাকা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের একই ব্যাংকের গুলশানের নিউনর্থ সার্কেল শাখার এসটিডি হিসাব নম্বর-৭ মূলে হিসাব নম্বর ৭১০৫৪১৬৪-এ ট্রান্সফার করা হয়। ১৯৯৩ সালের ৪ ডিসেম্বর (চেক নম্বর ৪৮৮২৪০১) ৪ লাখ টাকা তুলে বগুড়া জেলার গাবতলী উপজেলার দাড়াইল মৌজায় ১৭টি দলিল মূলে ২ দশমিক ৭৯ একর জমি ক্রয় দেখানো হয়। এরপর ১৯৯৩ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত অনুদানের বাকি টাকা অন্য কোনো স্থাপনা বা দুস্থদের কল্যাণে ব্যয় না করায় ওই হিসাবে ২০০৬ সালের ১১ এপ্রিল পর্যন্ত সুদসহ জমা পড়ে ৩ কোটি ৩৭ লাখ ৯ হাজার ৭৫৭ টাকা। তারেক রহমান এবং ট্রাস্টি মমিনুর রহমানের যৌথ স্বাক্ষরে ২০০৬ সালের ১২ এপ্রিল, ১৫ জুন এবং ৪ জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন চেকের মাধ্যমে সর্বমোট ৩ কোটি ৩০ লাখ টাকা প্রাইম ব্যাংকের গুলশান শাখায় এফডিআর খোলার জন্য হস্তান্তর করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের ৫০ লাখ টাকা বিএনপির সাবেক এমপি ও ব্যবসায়ী কাজী সলিমুল হকের নামে ২০০৬ সালের ১২ এপ্রিল জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের একাউন্ট থেকে ট্রান্সফার করা হয়। অভিযোগে আরও বলা হয়, এই শাখায় কাজী সলিমুল হকের নামে পরে ২ কোটি টাকার আরও দুটি এফডিআর খোলা হয়, যা তিনি নিজ নামেই ট্রান্সফার করেন। এ ছাড়া ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদের ছেলে সৈয়দ আহমেদের নামে একটি ১ কোটি টাকা এবং দুজনের যৌথ নামে আরেকটি ১ কোটি টাকার এফডিআর খোলেন কাজী সলিমুল হক। তাদের মধ্যে সৈয়দ আহমেদ এখন মৃত। এই দুই এফডিআর থেকে গিয়াস উদ্দিন আহমেদের এফডিআরে ট্রান্সফার হয়। এর কিছুদিন পরই গিয়াস উদ্দিন আহমেদ তার এফডিআরের ১ কোটি টাকা ভেঙে ৫০ লাখ টাকার ২টি এফডিআর করেন। এরপর আবার সেই এফডিআর ভেঙে শরফুদ্দিনের একাউন্টে ৬টি পে-অর্ডারের মাধ্যমে টাকা ট্রান্সফার করেন। ট্রাস্টের কাজে শরফুদ্দিন আহমেদ ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা তুলে নেন। আর এই ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাতের অভিযোগেই দায়ের করা হয় জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ২০০৮ সালের ৩ জুলাই জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টে অনিয়মের অভিযোগে রমনা থানায় এ মামলা দায়ের করে দুদক। এতিমদের সহায়তার জন্য একটি বিদেশি ব্যাংক থেকে আসা অনুদানের ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয় এ মামলায়। বাদি ও তদন্ত কর্মকর্তা হারুন-অর রশীদ ২০১০ সালের ৫ আগস্ট খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে এ মামলায় অভিযোগপত্র দেন। চার্জশিটভুক্ত ৬ আসামির মধ্যে খালেদা জিয়াসহ মোট ৩ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। অন্য দুজন হচ্ছেন মাগুরার সাবেক বিএনপি দলীয় এমপি কাজী সলিমুল হক কামাল ওরফে ইকোনো কামাল ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ। তারেক রহমান জামিনে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে আছেন। বাকি দুজনÑ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান মামলার শুরু থেকেই পলাতক। তাদের বিরুদ্ধেও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি রয়েছে।
২০০৯ সালের ৫ আগস্ট তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা খালেদা জিয়াসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে এ মামলার চার্জশিট (অভিযোগপত্র) আদালতে দাখিল করেন। এর প্রায় ৫ বছর পর ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ এ মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ চার্জ (অভিযোগ) গঠন করে বিচার শুরু করেন। ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়। রাষ্ট্রপক্ষের নেয়া ৩২ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করতে আদালতের ২৩৬ কার্যদিবস সময় লেগেছে। আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের বক্তব্য উপস্থাপনে ব্যয় হয়েছে আদালতের ২৮ কার্যদিবস। ২০১৭ সালের ৪ ডিসেম্বর এ মামলায় খালেদা জিয়ার পক্ষে আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি শেষ হয়। এরপর ১৯ ডিসেম্বর থেকে মামলার যুক্তিতর্ক শুরু হয়। আদালতের ১৬ কার্যদিবসে এ যুক্তিতর্ক কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। এ ছাড়া নতুন করে একজনকে যুক্ত করা হয়েছে। মামলায় খালেদা জিয়া অস্থায়ী জামিনে ও অন্য দুই আসামি কারাগারে রয়েছেন। এ ছাড়া খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমানসহ তিন আসামি পলাতক রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করা হয়েছে। দুর্নীতির এ দুই মামলায় হাজির না হওয়ায় গত বছরের ৩০ নভেম্বর খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন আদালত। এরও আগে গত বছরের ১২ অক্টোবর বিদেশে থাকাকালে খালেদা জিয়ার জামিন বাতিল করে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। গত ৮ ফেব্রুয়ারি আদালতের রায়ে খালেদা জিয়ার ৫ বছর এবং মামলার অন্য আসামিদের ১০ বছরের কারাদ-ের আদেশ হয় এবং ওই দিনই খালেদা জিয়াকে ঢাকা পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।
মূলত খালেদা জিয়াসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়ের দিন ছিল ৮ ফেব্রুয়ারি। ২৫ জানুয়ারি (২০১৮) উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে রাজধানীর বকশীবাজারে স্থাপিত ঢাকার বিশেষ জজ-৫ এর বিচারক আখতারুজ্জামান রায়ের এ দিন ধার্য করেন। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সর্বমোট ২৩৬ কার্যদিবসে ৩২ সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। ২৮ কার্যদিবস ধরে আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ১৬ কার্যদিবস উভয়পক্ষের (দুদক ও আসামিপক্ষ) যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে এ মামলার রায় ঘোষণার জন্য দিন ধার্য করা হয়। অর্থাৎ জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা দায়েরের ১০ বছর পর এ রায় ঘোষণা করা হলো। বিএনপির নেতারা এ রায়কে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলছেন। তবে তারা যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের দোহাই দিয়ে সুবিধা লুটতে, জনবিচ্ছিন্নতা কাটাতে চাইছেন তাও মানুষ জানে। কারণ এই মামলা ১০ বছর আগে ২০০৮ সালের জুলাই মাসে করা হয়েছিল। সর্বোচ্চ আদালত এই মামলা খারিজ করেনি কারণ মামলায় চুরির আলামত ছিল। চোরদের রক্ষার জন্য বিএনপি গঠনতন্ত্রের ৭নং ধারা পরিবর্তন করে বিতর্কিত দলে পরিণত হয়েছে।
বিএনপি এখন কেবল সাংগঠনিকভাবে দুর্বল দল নয় বরং তারা ষড়যন্ত্রকারী এবং মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষশক্তি হিসেবে চিহ্নিত। কিন্তু বর্তমান সরকার ও জনগণ সচেতন; তাদের উদ্দেশ্য সম্পর্কে সতর্ক। এ জন্য কোনো ব্যবস্থাই বিএনপিকে রক্ষা করতে পারবে না। দল হিসেবে তাদের নিশ্চিহ্ন হওয়ার সময় আসন্নপ্রায়।
লেখক : অধ্যাপক এবং পরিচালক
জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তর
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়