প্রতিবেদন

মন্ত্রিসভায় বিএডিসি ও পিআইবি আইনের খসড়া অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) ও প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) আইনের খসড়া মন্ত্রিসভা অনুমোদন করেছে। প্রতিষ্ঠান দু’টির বিদ্যমান আইনের প্রয়োজনীয় সংশোধনের লক্ষ্যে এই খসড়ার অনুমোদন দেয়া হয়। ৫ ফেব্রুয়ারি শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার সাপ্তাহিক বৈঠকে এই অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. শফিউল আলম জানান, ১৯৬১ সালের পূর্ব পাকিস্তান আমলের ৩৭নং অধ্যাদেশের স্থলে বিএডিসি অ্যাক্ট-২০১৮টি প্রতিস্থাপিত হবে। অধ্যাদেশটি ১৯৭৫ ও ১৯৭৬ সালে সংশোধিত হয়। তিনি আরো জানান, ২০১০ সালে হাইকোর্ট সামরিক শাসন ও তাদের জারিকৃত অধ্যাদেশ অবৈধ ঘোষণা করায় মন্ত্রিসভা প্রয়োজনীয় সংশোধনপূর্বক বিএডিসি আইনটি নতুন করে বাংলায় প্রণয়ন ও অনুমোদন করে। আইন অনুযায়ী বিএডিসি প্রধানত বীজ ও চারা উন্নয়ন, সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ, সার বিতরণ, সেচের অবকাঠামো তৈরি এবং বৃষ্টির পানি সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনা করবে। নতুন কাঠামো অনুযায়ী সরকার নিয়োজিত একজন চেয়ারম্যানকে প্রধান করে বিএডিসি বোর্ড গঠন করা হবে। বোর্ডে একজন সচিব ও ৫ জন পূর্ণকালীন সদস্য থাকবেন।
সমবায় বিভাগের রেজিস্ট্রার, বিআরডিবির মহাপরিচালক, কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের (ডিএই) মহাপরিচালক, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা পরিষদের (বিএআরসি) নির্বাহী চেয়ারম্যান, কৃষি ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব পর্যায়ের একজন করে প্রতিনিধি, বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের একজন সদস্য, বাংলাদেশ ধান গবেষণা কেন্দ্র (বিআরআরআই) ও বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের (বারি) একজন করে প্রতিনিধি এবং করপোরেশনের ৫ জন পরিচালক নিয়ে এই বোর্ড গঠিত হবে।
অপরদিকে, বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট অ্যাক্ট-২০১৮ এই প্রতিষ্ঠানটিকে একটি কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসবে, যা ১৯৭৬ সালের ১৮ আগস্ট থেকে একটি সরকারি রেজুলেশনের মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে আসছে। খসড়ায় বলা হয়, বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউটের (পিআইবি) মূল কার্যক্রম হবে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় কর্মরত গণমাধ্যম কর্মীদের প্রশিক্ষণ প্রদান। পাশাপাশি যেকোনো সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বা বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত জনসংযোগ কর্মকর্তাদেরও প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। খসড়ায় আরও বলা হয়, এই ইনস্টিটিউট প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের সার্টিফিকেট প্রদান ও প্রশিক্ষণ কোর্সের পাঠ্যক্রম তৈরি, সাংবাদিকতা পেশার মানোন্নয়নে প্রযুক্তিগত সুবিধার ব্যবস্থা করা এবং সাংবাদিকতা পেশায় উল্লেখযোগ্য অবদান রাখার জন্য সাংবাদিকদের পুরস্কার প্রদান করবে।
এই আইনে সাংবাদিক সংজ্ঞায় যিনি কোনো প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ায় বা নতুন এজেন্সিতে সার্বক্ষণিক কাজ করবেন তাকে সাংবাদিক হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। সম্পাদক, বার্তা সম্পাদক, উপ-সম্পাদক, সহকারী সম্পাদক, ফিচার রাইটার, প্রতিবেদক, সংবাদদাতা, কপি রাইটার, কার্টুনিস্ট, ফটোগ্রাফার, সম্পাদকীয় সহকারী এবং সরকার কর্তৃক ঘোষিত অন্যান্য ব্যক্তিগণ সাংবাদিক হিসেবে বিবেচিত হবেন।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এই আইনের আওতায় ইনস্টিটিউটে একজন চেয়ারম্যানকে প্রধান ও পিআইবির মহাপরিচালককে সদস্য সচিব করে একটি বোর্ড অব ডাইরেক্টরস বা পরিচালকম-লী থাকবে। তথ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা, জনপ্রশাসন ও অর্থ মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড ও প্রধান তথ্য কর্মকর্তা (পিআইও) কার্যালয়ের একজন করে প্রতিনিধি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারম্যান, দু’টি বহুল প্রচারিত দৈনিকের সম্পাদক, একটি ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) অথবা সম্পাদক, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) মনোনীত দুইজন সাংবাদিক এবং সরকার মনোনীত দুইজন বিশিষ্ট গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব নিয়ে এই বোর্ড গঠিত হবে। বোর্ডে মনোনীত সদস্যদের কার্যকাল হবে দুই বছর এবং সরকার চাইলে কোনো কারণ ছাড়াই যেকোনো সদস্যকে অব্যাহতি দিতে পারবে।