ফিচার

রূপচর্চা

রূপচর্চায় বেশিরভাগ নারী নির্ভর থাকেন বাজার থেকে কেনা কসমেটিকস পণ্যের ওপর। বিজ্ঞাপনের আগ্রাসনে হুমড়ি খেয়ে তারা যে কসমেটিকস কেনেন তা রূপচর্চায় তো কোনো কাজেই আসে না; উপরন্তু মুখে বাসা বাঁধে একপাল ব্রণ। সেই ব্রণ ঢাকতে আবার নির্ভর করতে হয় আরেকটি কসমেটিকসের ওপর। এ যেন এক চক্র। এ চক্র থেকে বের হওয়ার কোনো জো নেই। অথচ খুবই কম মূল্যের লেবু, শসা, হলুদ দিয়ে অনেকটাই সারা যায় রূপচর্চার কাজ। বিউটিশিয়ান সুমাইয়া নূসরাত সুমী স্বদেশ খবর-এর চলতি সংখ্যায় আদ্যোপান্ত বর্ণনা দিয়েছেন এই ৩ পণ্যের গুণাগুণের।
লেবু
১. হেয়ার লাইটেনার
লেবুর রস চুলের দারুণ লাইটেনার হিসেবে কাজ করে। কোনো কিছু দেয়ার প্রয়োজন নেই; লেবুর রস চুলে দিয়ে নিন। এতে সূর্যের তাপ মাথাকে গরম করতে পারবে না।
২. নখের সৌন্দর্যবর্ধক
জেল ম্যানিকিউর নখকে দুর্বল করে দেয়। এতে নখ ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। লেবুর রস থাকতে ভয় নেই। অলিভ অয়েলের সঙ্গে মিশিয়ে তাতে নখ ভিজিয়ে রাখুন। এতে ক্ষয়প্রাপ্ত নখ সুন্দর ও সুস্থ হয়ে উঠবে।
৩. ঠোঁটের যতেœ
শীতের শুষ্ক ঠোঁটে চামড়া ওঠে, ঠোঁট তেমন হয়ে থাকলে লেবুই ভরসা। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে লেবুর রস ঠোঁটে দিয়ে ঘুমিয়ে যান। এতে ঠোঁট হবে স্ফীত, কোমল ও মসৃণ।
৪. চুলের তেল চিটচিটে ভাব দূর করতে
চুলে তেল দিতে হয়; কিন্তু শ্যাম্পু করার পরও তাতে তেল চিটচিটে ভাব থাকতে পারে। এ ক্ষেত্রে লেবুর রস বিস্ময়কর কাজ দেয়। লেবুর রসে অ্যাসট্রিনজেন্ট রয়েছে, যা তেলতেলে অংশ শুষে নেয়। চুল হয় ঝরঝরে।
৫. ত্বকের ঔজ্জ্বল্য বৃদ্ধি
লেবুতে ভিটামিন সি এবং সাইট্রিক এসিড রয়েছে। এই রস শুধু ত্বকের তেলতেলে ভাবই দূর করে না, সেই সঙ্গে ত্বককে উজ্জ্বল করে দেয়। তবে এই ঔজ্জ্বল্য ধরে রাখতে এসপিএফ ক্রিম ব্যবহার করতে হবে।
৬. বলিরেখা হালকা করে দেয়
বয়সের ছাপ পড়ে বলিরেখার মাধ্যমে। তাছাড়া অনেকের এমনিতেই বলিরেখা পড়তে পারে। লেবুর রস এই বলিরেখা দূর করতে দারুণ কার্যকর। রেখাগুলোতে লেবুর রস দিয়ে ১৫ মিনিট রাখুন এবং ধুয়ে ফেলুন।
৭. দাঁত পরিষ্কার করে
দাঁতের যতেœ ভালো পেস্টের চেয়েও অনেক ভালো কাজ করে লেবুর রস। অল্প পরিমাণ বেকিং সোডার সঙ্গে কিছু লেবুর রস মিশিয়ে পেস্টের মতো বানান। তারপর দাঁত মেজে দেখুন কী ফল দাঁড়ায়।
৮. কনুই এবং হাঁটুকে মসৃণ করে
মানুষের কনুই এবং হাঁটুর অংশটি খসখসে হয়। এই অংশ দুটিকে মসৃণ এবং সুন্দর করে দেয় লেবুর রস। এক টেবিল চামচ লবণ, সামান্য অলিভ অয়েল এবং কিছু লেবুর রস মিশিয়ে লাগান। দেখুন জাদুর মতো কাজ করবে।
৯. খসখসে ত্বককে মসৃণ করে
যাদের ত্বকে ময়েশ্চারাইজারের অভাব রয়েছে তারা কয়েক ফোঁটা ডাবের পানিতে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে ত্বকে ঘষুন। দেখবেন, ত্বক সুন্দর কোমল হয়েছে। আবার লেবুর রসে তা উজ্জ্বল হয়ে উঠবে।
১০. দুর্গন্ধ দূর করে
ডিওডরেন্ট ব্যবহার না করলেও চলবে। লেবুর রসের সাইট্রিক এসিড থাকে, যা বাজে গন্ধ হটিয়ে দেয়। তাই দুর্গন্ধের স্থানে লেবুর রস মেখে নিন। দুর্গন্ধ চলে যাবে।
১১. ব্ল্যাক হেডস ট্রিটমেন্ট
নাকের ওপর বা ত্বকে ব্ল্যাক হেডস সৌন্দর্যহানি ঘটায়। লেবুর রস এসব ব্ল্যাক হেডসের গোড়া নরম করে তাদের তুলে আনে। লেবুর রসের সঙ্গে আর কিছু মেশানোর প্রয়োজন নেই। বেশ ভালো করে ত্বকে রস দিয়ে ঘষুন।

শসা
বেশি পরিমাণে শসা খেলে মেদ ভুঁড়ি কমে যায়। শসা আমাদের শরীরের বাড়তি চর্বিকে বার্ন করে। ফলে শারীরিক ফিটনেস থাকে সুন্দর ও আকর্ষণীয়। শসা থেতো করে শসার রস ছেঁকে নিতে হবে। তারপর এই রসের সাথে কয়েক ফোঁটা গোলাপজল মেশাতে হবে। এবার তৈরি করা এই মিশ্রণটি টোনার হিসেবে ত্বকে ব্যবহার করতে পারেন। চোখের ডার্ক সার্কেল দূর করতে শসা বিশেষ ভূমিকা পালন করে। শসা গোল করে কেটে চোখের ওপর দিয়ে শুয়ে থাকুন। দেখবেন চোখের কত প্রশান্তি অনুভব হবে। এছাড়া শসা থেতো করে নিয়ে চোখের ওপর পাতলা কাপড় অথবা তুলা দিয়ে তার ওপর দিন। এভাবে নিয়মিত ব্যবহারে চোখের ডার্ক সার্কেল দূর হয়ে যাবে।

হলুদ
শুধু মশলা হিসেবে নয়, হলুদ মানবদেহের জন্য ও রূপচর্চায় বিশেষ উপকারী উপাদান।
১. সূর্যের তাপে গা জ্বলে গেলে হলুদের পাউডারের মধ্যে বাদাম গুঁড়া ও দই মিশিয়ে লাগান।
২. সৌন্দর্য বৃদ্ধি করতে চন্দন গুঁড়ার সাথে হলুদ মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে মুখে মাখুন। এতে রঙ উজ্জ্বল হবে।
৩. হলুদ রক্তকে শুদ্ধ করে। তাই হলুদের ফুলের পেস্ট শরীরে লাগালে চর্ম রোগ দূর হয়।
৪. হলুদ শরীরের ডায়েট কন্ট্রোল করে। হলুদে কারকিউমিন নামে এক ধরনের রাসায়নিক পদার্থ রয়েছে, যা শরীরে খুব তাড়াতাড়ি মিশে যায়। শরীরের কলাগুলোকে বাড়তে দেয় না।
৫. প্রতিদিন কাঁচা হলুদ বাটার সাথে দুধ মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে যদি ত্বকে ব্যবহার করেন, তবে গায়ের রঙ হবে দুধে আলতা।
৬. শরীর ব্যথা হলে দুধের মধ্যে হলুদ মিশিয়ে খেতে পারেন। জয়েন্টে ব্যথা হলে হলুদের পেস্ট তৈরি করে প্রলেপ দিতে পারেন।
হলুদকে আমরা সবাই সাধারণ দৃষ্টিতে দেখি; কিন্তু এই সাধারণ হলুদেই যে এত গুণ লুকিয়ে আছে, তা আমাদের জানতে হবে। হলুদের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা আমাদের সৌন্দর্যকে করে তুলতে পারি আরো অপরূপ ও আকর্ষণীয়।