প্রতিবেদন

সিলেটে হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত শেষে বিশাল জনসভায় প্রধানমন্ত্রী দেশের উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে আগামী নির্বাচনেও নৌকার পক্ষে ভোট চাইলেন শেখ হাসিনা

এম নিজাম উদ্দিন
সিলেটে হযরত শাহজালাল (রহ.), হযরত শাহপরাণ (রহ.) ও সিলেটের প্রথম মুসলিম গাজী বুরহান উদ্দিনের মাজার জিয়ারতের মধ্য দিয়ে ৩০ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রথম নির্বাচনি প্রচারাভিযান শুরু করেন। তিন পীরের মাজার জেয়ারতের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিলেটের আলিয়া মাদ্রাসা ময়দানে এক বিশাল জনসভায় ভাষণ দেয়ার মাধ্যমে তাঁর দলের আনুষ্ঠানিক নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করেন। আগামী নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে বিজয়ী করার জন্য উপস্থিত জনতাকে হাত তুলে সমর্থন জানানোর আহ্বান জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রীর এমন আহ্বানে উপস্থিত সকলে স্বতঃস্ফূর্তভাবে হাত তুলে সাড়া দিয়ে নৌকাকে বিজয়ী করার পক্ষে সমর্থন ব্যক্ত করেন। জনসভা উপলক্ষে আলিয়া মাদ্রাসা ময়দান ছিল কানায় কানায় পরিপূর্ণ। মাঠ উপচে মানুষের ঢল ছিল বহু দূর পর্যন্ত।
সিলেটের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে অনুষ্ঠিত জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, দেশের উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে সরকার গঠনের সুযোগ দিন। আওয়ামী লীগ সরকারে এলেই দেশের উন্নয়ন হয়। দেশে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে আগামী নির্বাচনেও নৌকা মার্কাকে নির্বাচিত করতে হবে। নৌকাকে নির্বাচিত করলে দেশ এগিয়ে যায়। কিন্তু বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় এলে দেশে লুটপাট হয়, দেশ দুর্নীতিতে বারবার চ্যাম্পিয়ন হয়। তাই দেশের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হলে আগামীতেও আওয়ামী লীগকে নির্বাচিত করতে হবে। তাই আপনারা হাত তুলে ওয়াদা করেন আগামীতেও নৌকা মার্কায় ভোট দেবেন।
এসময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগকে ভোট দিলে বিশ্ব দরবারে দেশ সম্মানের সাথে এগিয়ে যাবে। ডিসেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় নির্বাচন। সেই নির্বাচনে আবারও আওয়ামী লীগকে বিজয়ী করুন। জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত মাদ্রাসা মাঠের সভার মঞ্চটি তৈরি করা হয় নৌকার আদলে। এই মঞ্চে বক্তব্যের মাধ্যমে সিলেট থেকে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করেন শেখ হাসিনা। নৌকার আদলে সভামঞ্চ তৈরির ব্যাপারে সংশ্লিষ্টরা বলেন, নৌকা আওয়ামী লীগের প্রতীক, উন্নয়নের প্রতীক। তাই নৌকার আদলে এ মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে।
জনতার মুহুর্মুহু করতালির মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমরা ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে জয়লাভ করে ৪ বছর পূর্ণ করে ৫ বছরে পদার্পণ করেছি। সামনে নির্বাচন হবে। সেই নির্বাচনকে সামনে নিয়ে আমরা নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করেছি এবং সেটা শুরু করছি আমরা পুণ্যভূমি সিলেট থেকে। বিগত নির্বাচনে নৌকায় সবাই ভোট দিয়েছিলেন। তাই আজ বাংলার সর্বত্র উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে।
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট লুৎফুর রহমানের সভাপতিত্বে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদের যৌথ পরিচালনায় জনসভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের পর ধ্বংসস্তূপ বাংলাদেশকে গড়ার কাজ শুরু করেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য, জাতির জনককে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট নির্মমভবে হত্যা করা হয়। ১৯৭৫-এর পর বাংলার মানুষের উন্নয়নের চাকা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। সংবিধান লঙ্ঘন করা শুরু হয়েছিল। ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর দেশে উন্নয়ন শুরু হয়। শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি সিলেটসহ সারাদেশে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে। ২০০৪ সালে হযরত শাহজালালের মাজারে গ্রেনেড হামলা হয়। পরপর দু’বার গ্রেনেড হামলায় ৯ জন মানুষ মৃত্যুবরণ করেন। ৭ আগস্ট আমাদের সাবেক মেয়র কামরানের ওপর আক্রমণ হয়। সে আক্রমণে আওয়ামী লীগ নেতা ইব্রাহিম আলী মৃত্যুবরণ করেন। একাধিকবার কামরানের ওপর হামলা হয়েছে। মহিলা আওয়ামী লীগের সভা চলাকালীন সেখানে বোমা হামলা হয়েছে। ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপির হত্যাযজ্ঞ চলে সারাদেশে। তাদের হাত থেকে মা-বোনেরা পর্যন্ত রেহাই পায়নি। সারাদেশে অপারেশন ক্লিনহার্টের নামে আমাদের নেতাকর্মীদের হত্যা করা হয়, গ্রেপ্তার করে নির্যাতন চালানো হয়, বহু নেতাকে গুম করা হয়।
দীর্ঘ ৪০ মিনিটের বক্তৃতায় শেখ হাসিনা বলেন, বিগত ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে অংশ না নিয়ে বিএনপি-জামায়াত সে নির্বাচন ঠেকানোর নামে সন্ত্রাস-নাশকতা চালায়। সিলেটে শহীদ মিনারে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। ২০১৩, ২০১৪ ও ২০১৫ সালে বিএনপি দেশে ধ্বংসাত্মক কর্মকা- চালায়। আমরা গাছ লাগাই, তারা গাছ কাটে; আমরা রাস্তা বানাই, তারা রাস্তা কাটে। আমরা কঠোর হস্তে সেসব সন্ত্রাসী কর্মকা- প্রতিহত করি। বিএনপির সময় বাংলা ভাই, আবদুর রহমান তৈরি হয়, সারাদেশে একযোগে বোমা হামলা হয়। বিএনপি ঢাকায় ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা চালায়। এতে আমাদের নেত্রী আইভী রহমানসহ ২২ জন নিহত হন। তারা ২৯টি রেলগাড়িতে আগুন দিয়েছে, ৯টি লঞ্চে আগুন দিয়েছে, ২৫২টি গাড়িতে আগুন দিয়েছে, প্রায় ১ হাজার ৪০০ সরকারি অফিস তারা জ্বালিয়ে দিয়েছে। জ্বালাও-পোড়াও আর অগ্নি-সংযোগ হচ্ছে তাদের আন্দোলন। বিএনপি ধ্বংস করতে জানে, সৃষ্টি করতে জানে না। মানুষের জীবন অতিষ্ঠ করতে জানে। বিএনপি পেট্রোল বোমায় মানুষ মেরেছে। তাদের আগুন, পেট্রোল বোমায় বহু মানুষ জীবন দিয়েছে। তারা প্রায় ৫০০ মানুষকে পুড়িয়ে মেরেছে। প্রায় ৩ হাজার মানুষ তাদের আগুন সন্ত্রাসের শিকার হয়ে এখনও ধুঁকছেন। তাদের অগ্নিসন্ত্রাসের কারণে ৩ হাজার ৩৬ জন অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন। তারা হাজার হাজার গাড়ি, সরকারি অফিস জ্বালিয়ে দিয়েছে। এ রকম ধ্বংসাত্মক আন্দোলন আমরা দেখিনি।
শেখ হাসিনা বলেন, আন্দোলন হবে মানুষের জন্য। কিন্তু বিএনপি-জামায়াতের আন্দোলন ধ্বংস করার জন্য। তারা পারে দেশকে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন করতে। বিপরীতে আওয়ামী লীগ উন্নয়ন করে, উন্নয়নে বিশ্বাস করে, জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন করে। সিলেট থেকেই নির্বাচনি প্রচারণা শুরুর কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমি সিলেট এসেছি আপনাদের উপকার করতে। আজ অনেক উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করেছি। সামনে আরও কিছু উন্নয়ন প্রকল্প হবে, সেগুলোর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। উল্লেখ্য, জনসভা শুরুর পূর্বে ১৯টি প্রকল্পের উদ্বোধন ও ১৬টি প্রকল্পের ভিত্তিফলক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এ সময় সিলেট-ঢাকা মহাসড়ককে ৪ লেনে উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশে বিদ্যুতের জন্য হাহাকার ছিল। ২০০৯ সালে আমরা ক্ষমতায় এসে পেয়েছিলাম মাত্র ১৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। আজ আমরা দেশে ১৬ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দিচ্ছি। আমরা কম্পিউটারের ওপর থেকে ট্যাক্স প্রত্যাহার করে তা সহজলভ্য করেছি। ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে আমরা শিক্ষার হার ৬৫.৫ ভাগে উন্নীত করেছিলাম। বিএনপি ক্ষমতায় এসে সাক্ষরতার হার কমিয়ে ৪৫ ভাগে নিয়ে আসে। ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে আমরা এ হারকে ৭২ ভাগের উপরে নিয়ে গেছি। আমরা প্রতিটি এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয় করে দিচ্ছি। বিভিন্ন বহুমুখী বিশ্ববিদ্যালয় করছি, টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন ধরনের বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণ করে শিক্ষাকে বহুমুখী করে দিচ্ছি। অমরা বিনামূল্যে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দিয়েছি। আমরা চলতি জানুয়ারি মাসে ৩৫ কোটি ৪২ লক্ষ ৯০ হাজার ১৬২টি বই বিতরণ করেছি; যাতে আমাদের ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া করতে পারে। আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে কম্পিউটার ল্যাব তৈরি করে দিয়েছি। আমরা বেসরকারি অনেক কলেজকে সরকারি করে দিয়েছি। জেলায় জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করে দিচ্ছি। এতে করে শিক্ষার্থীরা নিজ জেলায় বসে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হতে পারে। প্রাইমারি লেভেলে ২ কোটি ৩০ লক্ষ শিক্ষার্থীকে উপবৃত্তি দেয়ার ব্যবস্থা চালু করেছি, যাতে তারা উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী হয়ে উঠে।
প্রযুক্তি খাতে সরকারের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশে ১৪ কোটি সিম ব্যবহার করা হয়। অনেকে ২-৩টা করে মোবাইল ফোন ব্যবহার করে। দেশের ৮ কোটি মানুষ আজ ইন্টারনেট ব্যবহার করছে। আমরা আজ সব জায়গায় ইন্টারনেট পৌঁছাতে পেরেছি। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিভিন্ন গবেষণা পদ্ধতি চালিয়ে যাচ্ছি। কৃষকদের ভর্তুকি প্রদান করছি। মাত্র ১০ টাকায় কৃষকদের জন্য ব্যাংক একাউন্ট খুলে দেয়ার ব্যবস্থা করেছি।
সিলেটে যেসব পণ্য উৎপাদন হয় যেমন ভুট্টা, আগর, কমলালেবুসহ অন্যান্য উৎপাদনের জন্য এখানে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের সম্প্রসারণের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। সে লক্ষ্যে প্রত্যেক অঞ্চলে আমরা বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। সিলেটে আমরা বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলছি যেখানে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ হবে। আমাদের প্রবাসী বাঙালিরা সেখানে অগ্রাধিকার পাবে।
ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলা প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা বলেছিলাম ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলব। আমরা তা করতে পেরেছি। ৮ হাজার ৫৪৫টি রিসার্চ সেন্টার গড়ে তুলেছি। আমরা ঘরে বসে সেবা পাওয়ার লক্ষ্যে এগোচ্ছি। আমরা বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করব। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি করছি। সিলেটের চা উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ব্যবস্থা করছি। চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন, তাদের সন্তানদের শিক্ষার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সিলেট থেকে যাতে চায়ের নিলাম হয়, তার জন্য নিলাম কেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে। দেশের প্রত্যেক এলাকায় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল করছি। সিলেটে শ্রীহট্ট অর্থনৈতিক অঞ্চল করছি। ঘরে বসে প্রবাসে থাকা স্বজনদের সঙ্গে কথা বলার প্রযুক্তিগত সুযোগ আমরা দিয়েছি। ৮ হাজার ৫০০ পোস্ট অফিসকে আমরা ডিজিটাল সেন্টারে রূপান্তর করেছি। ১৮ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে বিনা পয়সায় স্বাস্থ্য সেবা দিচ্ছি, ওষুধ দিচ্ছি। সিলেটে আমরা একটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় করে দিচ্ছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, খাদ্যের জন্য বাংলাদেশকে কারও কাছে ভিক্ষা চাইতে হবে না। আমরা দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছি। আপনারা শুনলে অবাক হবেন, বিএনপির খালেদা জিয়া, তাদের অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান বলেছিলেন, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়া ভালো না। তাতে বিদেশি সাহায্য পাওয়া যাবে না। কিন্তু আমরা ভিক্ষা করতে চাই না। যারা নিজেদেরকে ভিক্ষুক হিসেবে অন্যের কাছে পরিচিত করতে চায়, তারা কিভাবে দেশের উন্নয়ন করবে। বাংলাদেশের মানুষ বিশ্ব দরবারে সম্মানের সাথে এগিয়ে যাবে, এটাই আমাদের লক্ষ্য।
প্রধানমন্ত্রী নিজের বক্তব্যে প্রয়াত মন্ত্রী আব্দুস সামাদ আজাদ, শাহ এএমএস কিবরিয়া, হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী, দেওয়ান ফরিদ গাজীসহ প্রয়াত জাতীয় নেতাদের স্মরণ করেন। জনসভায় বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, ডা. দীপু মনি, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরান প্রমুখ।
উল্লেখ্য, সর্বশেষ ২০১৬ সালের ২১ জানুয়ারি সিলেটে জনসভায় বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে একই বছরের ২৩ নভেম্বর তিনি সিলেটে সেনাবাহিনীর ১৭ পদাতিক ডিভিশনের পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন। ওই দিন জনসভায় বক্তব্য দেয়ার কথা থাকলেও জেলা পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার কারণে তা স্থগিত করা হয়েছিল।