প্রচ্ছদ প্রতিবেদন

সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট অ্যালেন বেরেসের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈঠক দৃঢ় ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে বাংলাদেশ-সুইজারল্যান্ড একযোগে কাজ করবে

হাফিজ আহমেদ
সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট অ্যালেন বেরেস এমন এক সময় বাংলাদেশ সফরে এলেন, যখন দেশে রোহিঙ্গা সংকট চলছে। মূলত রোহিঙ্গা সংকটকে উপলক্ষ ধরেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমন্ত্রণে ঢাকা এলেন সুইস প্রেসিডেন্ট। ঢাকায় বেরেসের উক্তিও সে কথারই প্রতিধ্বনি ইঙ্গিত করে। অ্যালেন বেরেস বলেছেন, ‘বাংলাদেশের এই রোহিঙ্গা সংকটের সময়ে আমার সফর বাংলাদেশের প্রতি সুইজারল্যান্ডের সমর্থন ও সংহতিরই বহিঃপ্রকাশ।’ তাছাড়া বাংলাদেশ সফরকালে সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট অ্যালেন বেরেস প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সাক্ষাৎকালে বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকট নিরসনসহ দৃঢ় ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে বাংলাদেশ-সুইজারল্যান্ড সবসময় একযোগে কাজ করে যাবে।
সুইস প্রেসিডেন্ট অ্যালেন বেরেস ৩ দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকা এসে পৌঁছলে তাঁকে লাল গালিচা অভ্যর্থনা জানানো হয়। প্রতিবেশী মিয়ানমারের সৃষ্ট সংকটের মাধ্যমে গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশের প্রতি সংহতি জানাতে তিনি এই সফরে আসেন। রাষ্ট্রপতি এম আবদুল হামিদ এবং সিনিয়র মন্ত্রীবৃন্দ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সুইস প্রেসিডেন্টকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। এ সময় ২১ বার গান স্যালুটের মাধ্যমে তাঁকে অভিবাদন জানানো হয়। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি সুইস প্রেসিডেন্টকে অস্থায়ী মঞ্চে নিয়ে যান। সেখানে দু’দেশের জাতীয় সংগীত বাজানো হয়। এরপর সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর একটি যৌথ কন্টিনজেন্ট সুইস প্রেসিডেন্টকে অভিবাদন জানায়।
বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা শেষে অ্যালেন বেরেস প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের উদ্দেশে বিমানবন্দর ত্যাগ করেন। সফরকালে তিনি এখানেই অবস্থান করেন। কোনো সুইস প্রেসিডেন্টের ১৯৭২ সালের ১৩ মার্চের পরে এটিই প্রথম বাংলাদেশ সফর। সুইজারল্যান্ড ও বাংলাদেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক প্রতিষ্ঠাই এই সফরের লক্ষ্য।
৪ ফেব্রুয়ারি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সঙ্গে বৈঠকের মধ্য দিয়ে সুইস প্রেসিডেন্টের আনুষ্ঠানিক সফর কার্যক্রম শুরু হয়। বেরেস ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ৫ ফেব্রুয়ারি সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি যাদুঘর পরিদর্শন করেন এবং সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। একই দিন বেরেস রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করেন। প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে দুই দেশ বর্তমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের পাশাপাশি অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতা জোরদারের উপায় নিয়ে আলোচনা করেন। ৬ ফেব্রুয়ারি বেরেস কক্সবাজারে কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে গত আগস্ট থেকে দেশটির সামরিক বাহিনীর ভয়ঙ্কর অভিযানে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারা দেশত্যাগ করে বাংলাদেশে ঢুকে পড়ে। সুইজারল্যান্ড বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের এই নাগরিকদের মানবিক সাহায্য দিয়ে যাচ্ছে।
বাংলাদেশ সফরকালে সুইস প্রেসিডেন্ট সুশীলসমাজের সদস্য ও বাংলাদেশে সুইস ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং ঢাকা আর্ট সামিট পরিদর্শন করেন। এই আর্ট সামিটে সুইস আর্ট কাউন্সিল প্রো হেলভেসিয়া অন্যতম অংশীদার। সুইস প্রেসিডেন্ট ৩ দিনের সফর শেষে ৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকা ত্যাগ করেন।
সুইস প্রেসিডেন্ট অ্যালেন বেরেসের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দ্বিপক্ষীয় বৈঠক প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে সুইস প্রেসিডেন্ট অ্যালেন বেরেসের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছি আমরা এবং আমি সুইস প্রেসিডেন্টকে বলেছি এই সমস্যার গোড়া রয়েছে মিয়ানমারে, কাজেই এর সমাধানও সেখান থেকেই খুঁজে বের করতে হবে। শেখ হাসিনা আরো বলেন, তিনি এক্ষেত্রে কফি আনান কমিশনের রিপোর্টের পরিপূর্ণ ও দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন। কারণ এটি রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সফলভাবে নিজ দেশের বাড়িঘরে প্রত্যাবাসন এবং তাদের মর্যাদা ও নিরাপত্তার জন্য জরুরি। বাংলাদেশ জাতিসংঘের বিভিন্ন ফোরামে এবং এর বাইরেও রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়ে সুইজারল্যান্ডের ভূমিকার প্রশংসা করেছে। প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, আমি নিশ্চিত যে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সুইজারল্যান্ডও সংকটের শান্তিপূর্ণ দ্রুত সমাধানের জন্য মিয়ানমারের ওপর চাপ অব্যাহত রাখবে।
সুইস প্রেসিডেন্ট তাঁর বিবৃতিতে রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং রোহিঙ্গাদের সহায়তার জন্য ১২ মিলিয়ন সুইস ফ্রাংক (প্রায় ১২ মিলিয়ন ডলার সমতুল্য) প্রদানের ঘোষণা দেন। সুইস প্রেসিডেন্ট অ্যালেন বেরেস বলেন, এটি হবে গত অক্টোবরে রোহিঙ্গাদের জরুরি মানবিক সাহায্য হিসেবে সুইজারল্যান্ডের প্রতিশ্রুত ৮ মিলিয়ন ডলারের অতিরিক্ত। সুইস প্রেসিডেন্ট মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত নাগরিকদের প্রতি সংহতি, সহায়তা এবং সুরক্ষা প্রদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের ভূয়সী প্রশংসা করেন। বেরেস বাংলাদেশ এবং মিয়ানমারের মধ্যে রোহিঙ্গাদের সফল প্রত্যাবাসনের জন্য সম্পাদিত চুক্তিকে সমস্যা সমাধানের জন্য একটি কার্যকরী পদক্ষেপ বলেও উল্লেখ করেন।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ ও সুইজারল্যান্ডের মধ্যে ব্যবসাবাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ব্যাপক সুযোগ রয়েছে বলে তারা মতৈক্যে পৌঁছেছেন। তাছাড়া সুইস প্রেসিডেন্ট অ্যালেন বেরেসের উপস্থিতিতে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-সুইস বিজনেস অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ফোরামের একটি বৈঠকে উভয় দেশের উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন প্রতিনিধিরা মতবিনিময় করেন। তারা টেকসই উন্নয়নের ২০৩০ সালের এজেন্ডা নিয়ে আলোচনা করেন, যা নতুন বিশ্বায়ন অংশীদারিত্ব তৈরিতে আমাদেরকে একটি অপূর্ব সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছে।’ এই পর্যায়ে শেখ হাসিনা বলেন, নিকট ভবিষ্যতে এজেন্ডা ২০৩০ বাস্তবায়নের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে উভয় দেশ যৌথভাবে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরে (এমওইউ) সম্মত হয়েছে। দুই দেশের আলোচনায় শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশে নোভার্টিস, নেসলে ও লাফার্জ-হোলসিম-এর মতো কিছু সুইস বহুজাতিক কোম্পানি ব্যবসা করছে এবং সেদেশের আরো কিছু কোম্পানি এখানে ব্যবসার সুযোগ নিতে পারে।
যৌথ বিবৃতিতে শেখ হাসিনা বলেন, নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ, জটিল অবকাঠামো উন্নয়ন, আইসিটি, ব্যাংকিং ও ইন্স্যুরেন্স এবং ওষুধ শিল্পসহ তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানের মতো খাতে অংশগ্রহণের জন্য আমরা তাদের প্রতি আমন্ত্রণ জানাই। আমাদের দুই দেশের জনগণের সমৃদ্ধির লক্ষ্যে আমরা এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আমাদের গৃহীত যৌথ উদ্যোগ বাস্তবায়নে একটি রোডম্যাপ তৈরি করার কথা বলতে পারি।
বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো অ্যালেন বেরেসের সরকারি সফরকে ঐতিহাসিক অভিহিত করে তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের ৪৫ বছরের কূটনৈতিক সম্পর্কের মধ্যে এই সফর একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।
প্রধানমন্ত্রী ২০০০ সালের ডিসেম্বরে তৎকালীন প্রেসিডেন্টের আমন্ত্রণে সুইজারল্যান্ড সফরের কথা স্মরণ করে বলেন, এই সফর আমাদের দুই দেশের চলমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরো জোরদার করবে। সুইজারল্যান্ডের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, উচ্চতর অর্থনৈতিক অর্জন এবং শান্তি, বন্ধুত্ব ও নিরপেক্ষতার প্রতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মুগ্ধ ছিলেন। বঙ্গবন্ধু সুইজারল্যান্ডের মতো আদর্শ দেশ প্রাচ্যের সুইজারল্যান্ড হিসেবে বাংলাদেশকে উন্নত করতে চেয়েছিলেন। ১৯৭২ সালের ১৩ মার্চ সুইজারল্যান্ড বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদানের কথা স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেন, পশ্চিম ইউরোপীয় দেশের মধ্যে প্রথম স্বীকৃতিদানকারী কিছু দেশের মধ্যে অন্যতম ছিল সুইজারল্যান্ড। তখন থেকেই সুইজারল্যান্ড গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অংশীদার এবং আমাদের পরীক্ষিত বন্ধু। সুইস প্রেসিডেন্ট তার দেশকে বাংলাদেশের দৃঢ় ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ অংশীদার হিসেবে বর্ণনা করে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরো জোরদারে আগ্রহ প্রকাশ করে বলেন, দুই দেশের মধ্যে চমৎকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক রয়েছে এবং বাণিজ্য, সংস্কৃতি ও জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সম্পর্ক উন্নয়নের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে।
যৌথ বিবৃতিতে বেরেস আরো বলেন, সুইজারল্যান্ড অর্থনৈতিক উন্নয়ন, শাসন এবং নিরাপদ অভিবাসনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করার ব্যাপারে খুবই আগ্রহী এবং আমার এই সফর দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক জোরদারে অবদান রাখবে। বাংলাদেশের এই রোহিঙ্গা সংকটের সময়ে আমার সফর বাংলাদেশের প্রতি সুইজারল্যান্ডের সমর্থন ও সংহতিরই বহিঃপ্রকাশ। সুইস প্রেসিডেন্ট গণতন্ত্র ও আইনের শাসন শক্তিশালীকরণের পাশাপাশি আকর্ষণীয় প্রবৃদ্ধি এবং দারিদ্র্য বিমোচনে সাফল্য অর্জনে বাংলাদেশের প্রচেষ্টার প্রশংসা করে বলেন, এসব সাফল্যের ফলে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশ হওয়ার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এই কারণে সুইজারল্যান্ড বাংলাদেশের অগ্রগতির প্রশংসা করছে।
দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্কের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে সুইস প্রেসিডেন্ট বলেন, গত ৭ বছরে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। তিনি দৃঢ় আস্থা প্রকাশ করে বলেন, এই দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ ভবিষ্যতে একটি নতুন উচ্চতায় পৌঁছবে। সুইস প্রেসিডেন্ট বন্ধুত্বের দীর্ঘ ইতিহাস তুলে ধরে পারস্পরিক আস্থা এবং অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির ওপর ভিত্তি করে দুই দেশের মধ্যে এই অংশীদারিত্ব সবসময় অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
কফি আনান কমিশনের পরিপূর্ণ
বাস্তবায়ন চায় সুইজারল্যান্ড
সুইস প্রেসিডেন্ট অ্যালেন বেরেস কক্সবাজারে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসনের মাধ্যমে এই সংকট সমাধানে কফি আনান কমিশন রিপোর্টের পরিপূর্ণ বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। ৬ ফেব্রুয়ারি কক্সবাজারের উখিয়ায় কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সুইস প্রেসিডেন্ট এই আহ্বান জানান। সুইস প্রেসিডেন্ট জানান, কক্সবাজারে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশের সঙ্গে সুইজারল্যান্ড কাজ করবে। বেরেস মিয়ানমার থেকে আগত শরণার্থীদের স্বাগত জানানো এবং আশ্রয় দেয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টার ভূয়সী প্রশংসা করেন। স্বেচ্ছায়, নিরাপদে এবং সম্মানের সাথে শরণার্থীদের তাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে দেয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি ক্যাম্পে বসবাসরত নারী ও শিশুদের পরিস্থিতি এবং তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তাদের বাড়তি নিরাপত্তার ওপর জোর দেন।
অ্যালেন বেরেস বলেন, বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ যে মহানুভবতার পরিচয় দিয়েছে, তা নজিরবিহীন। এ জন্য বাংলাদেশ আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসা ও সম্মান পেয়েছে। এতো বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার ভরণ-পোষণ বাংলাদেশের একার পক্ষে সম্ভব নয়। তাই রোহিঙ্গা সংকটে ত্রাণ সহায়তাসহ নানা তৎপরতার মাধ্যমে সুইজারল্যান্ড সরকার সক্রিয়ভাবে বাংলাদেশের পাশে রয়েছে।