কলাম

আগুনে পুড়িয়ে মানুষ মারা রাজনীতি নয়, সন্ত্রাসী কর্মকা-

মো. তরিকুল ইসলাম
আমরা রাজনীতি করি জনগণের জন্য আর সেই জনগণকে পুড়িয়ে মারা রাজনীতি নয়Ñ সেটি হলো সন্ত্রাসী কর্মকা-। আর যে রাজনৈতিক দল জনগণকে পুড়িয়ে মেরে ক্ষমতায় আসতে চায় সেটা কখনোই কোনো রাজনৈতিক দল হতে পারে না। এই ধরনের রাজনৈতিক দলকে বলা যায় শতভাগ সন্ত্রাসী দল।
রাজনীতি করেছেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান; যিনি ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করেননি, জনগণের মঙ্গলের জন্য রাজনীতি করেছেন। জাতির পিতা কখনোই তাঁর নিজের কর্মদোষে জেল খাটেননি, তিনি জেল খেটেছেন বাংলার জনগণের স্বার্থ আদায়ের আন্দোলন করার জন্য। পাকিস্তান সরকার জাতির পিতাকে প্রধানমন্ত্রী করতে চেয়েছেন কিন্তু তিনি জনগণের অধিকার আদায়ের প্রশ্নে আপস করে প্রধানমন্ত্রিত্ব নেননি। জাতির পিতা তার জীবনের সোনালি সময়টুকু কেবলই বাংলার জনগণের অধিকার আদায়ের আন্দোলন করে কাটিয়েছেন। ৭ কোটি বাঙালি জাতির পিতার এক ডাকে জড়ো হতো, জাতির পিতার নির্দেশে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়তো।
আসলে বঙ্গবন্ধু কখনো জনগণকে মেরে রাজনীতি করেননি বরং জনগণকে বাঁচাতে নিজে বার বার কারাবরণ করেছেন, নিজে কষ্ট সহ্য করেছেন। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট আমরা কী দেখলাম? জিয়াউর রহমান গংরা বাঙালির গৌরবকে হত্যা করে ক্ষমতা কেড়ে নিল। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা মানেই সকল বাঙালিকে হত্যা করা, কেননা বঙ্গবন্ধু ছিলেন সকল বাঙালির হৃদয়ের স্পন্দন। জিয়াউর রহমান রাজনীতি শুরু করেছেন হত্যার মধ্য দিয়ে। প্রকৃত অর্থে জিয়াউর রহমান রাজনীতি করেননি ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। আর জাতির পিতার রাজনীতি শুরু হয়েছে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মধ্য দিয়ে। জিয়ার পর জেনারেল এরশাদ, তিনিও ক্ষমতায় বসলেন সামরিক শাসন জারি করে। জনগণকে ভয় দেখিয়ে ক্ষমতা খাটাতে লাগলেন। জেনারেল এরশাদ স্বৈরশাসক হয়ে মেরে কেটে দেশ চালাতে লাগলেন অথচ বঙ্গবন্ধু আইয়ুব খানের মার্শাল ’ল-এর বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছিলেন। যার জন্য এক সময় জেনারেল এরশাদের কাছ থেকে জনগণ তাদের ক্ষমতা কেড়ে নিল।
বর্তমানে বাংলাদেশের জনগণের জন্য রাজনীতি করেন একমাত্র শেখ হাসিনা। গত ২৮ বছর যাবৎ শেখ হাসিনাও তাঁর বাবার মতো বাংলাদেশের জনগণকে ভালোবেসে রাজনীতি করছেন। বাংলার জনগণ জিয়াউর রহমান ও এরশাদের স্বৈরশাসনে অতিষ্ঠ হয়ে জাতির পিতার সুযোগ্য উত্তরসূরির প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। যার জন্য ১৯৮১ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে তাঁর হাতে দল পরিচালনার নেতৃত্ব দেন। শেখ হাসিনার পরিবারের সকল সদস্যকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে সেভাবে যদি আমার, আপনার পরিবারের সকল সদস্যকে হত্যা করা হতো তাহলে আমি আপনি কী করতাম? এই বিশ্বাসঘাতক, অকৃতজ্ঞ জাতির ভাগ্যোন্নয়নের কথা ভেবে কি আমি আপনি কাজ করতাম? করতাম না। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য উত্তরাধিকারী দেশরতœ শেখ হাসিনা বাংলার জনগণের ডাকে সাড়া না দিয়ে পারেননি। সকল কষ্ট বুকের মধ্যে চাপা দিয়ে বাবার মতো জনগণের ভাগ্যোন্নয়নের কাজে লেগে গেলেন। তিনি তাঁর জীবনবাজি রেখে জনগণের কল্যাণে রাত-দিন কাজ করে যাচ্ছেন।
দুর্নীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে তো বাংলার জনগণ কখনোই তাদের প্রয়োজনে নেতৃত্ব দিতে ডাকেনি, এমনকি তিনি নিজেও দেশ স্বাধীন হওয়ার পর পাকিস্তান থেকে দেশে ফিরতে চাননি। খালেদা জিয়া কেবলই তাঁর স্বামীর অস্ত্র ঠেকিয়ে কেড়ে নেয়া ক্ষমতা ভোগ করার লালসায় রাজনীতি করতে এসেছেন। বিএনপির রাজনীতি মানেই সন্ত্রাস আর দুর্নীতি। বিএনপি কখনোই জনগণের স্বার্থে রাজনীতি করে না। এরা ব্যক্তিগত ও দলীয় হীন স্বার্থেই কেবল রাজনীতির নামে সন্ত্রাসী কর্মকা- করে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে। বিএনপি ২০১৪ সালের নির্বাচন বানচালের নামে যে সন্ত্রাসী কাজে লিপ্ত ছিল সেটা কখনোই কোনো সুস্থ রাজনীতি হিসেবে গণ্য করা যায় না। বিএনপির কাছে আমার প্রশ্ন আপনারা যে গাড়িগুলো পুড়িয়ে দিলেন, মানুষগুলোকে পুড়িয়ে হত্যা করলেন, আহত করলেন তাদের কী দোষ ছিল? এমন তো হতে পারে ওই গাড়িটিই মালিকের শেষ সম্বল। ওই গাড়িটির আয় দিয়ে মালিকের সংসার চলে, ছেলে-মেয়ের লেখাপড়ার খরচ চালায়। তাহলে গাড়িটি পুড়িয়ে দেয়ার পর তার অবস্থা কী হলো? যে মানুষগুলোকে (ড্রাইভার, হেলপার ও পথচারী) পুড়িয়ে মারলেন তাদের দোষ কী? আপনাদের (বিএনপি) মতে, তাদের দোষ কি নৌকায় ভোট দেয়া? এটা তাদের দোষ নয়। জনগণ মনে করে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা সরকার থাকলে তারা ভালো থাকে তাই তারা শেখ হাসিনাকে ভোট দেয়। আপনাদের (বিএনপির) উচিত দেশরতœ শেখ হাসিনার মতো জনগণের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করা।
জনগণ ভোট দেয় না বলে অথবা ভালোবাসে না বলে যদি তাদের মেরে ফেলেন তাহলে রাজনীতি করবেন কাদের নিয়ে? দেশরতœ শেখ হাসিনা রাজনীতি করেন জনগণের জন্য, জনগণের জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি করার জন্য। তিনি বাংলাদেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশে রূপান্তরিত করেছেন। তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় বাংলাদেশকে একটি প্রযুক্তিসমৃদ্ধ দেশ হিসেবে বিশ্বে পরিচিত করিয়েছেন। দেশরতœ শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ হোসেন পুতুল বিশ্বের অবহেলিত প্রতিবন্ধী মানুষদের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। প্রতিবন্ধী মানুষকে দেশের বোঝা নয় সম্পদে পরিণত করছেন। কিন্তু খালেদা জিয়ার ছেলেরা দুর্নীতি করে টাকা আত্মসাৎ করে বিদেশে পাচার করছে। খালেদা জিয়া নিজেও এতিমের টাকা আত্মসাৎ করেছেন, যার জন্য তার ৫ বছরের সাজা হয়েছে। অপর পক্ষে এতিম শিশুদের বাবা-মা নেই বলে দেশরতœ শেখ হাসিনা এতিমখানাগুলোতে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা বাড়িয়ে দিয়েছেন।
মূলত মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় যারা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল তারাই পরবর্তীতে পাকিস্তানি জামায়াতে ইসলামের একটি শাখা হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নামে শাখা খোলে। এরা ছিল রাজাকার। এরা তাদের অপকর্ম ঢাকার জন্য ইসলামকে বিক্রি করে। তাদের সঙ্গে যুক্ত বিএনপিও। রাজনীতি মানুষের জন্য, রাজনীতি জনগণের জন্য, রাজনীতি করেন দেশরতœ শেখ হাসিনা। জনগণও তাই শেখ হাসিনার সাথে আছে যেমনটা ছিল তাঁর বাবা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে। আগুনে পুড়িয়ে মানুষ মেরে রাজনীতি করা যায় না। রাজনীতি করতে হবে শেখ হাসিনার মতো জনগণকে ভালোবেসে, জনগণের ভালোবাসা নিয়ে।
লেখক : সভাপতি
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ