প্রতিবেদন

উন্নয়নের বার্তা নিয়ে রাজশাহীতে বিশাল জনসভায় প্রধানমন্ত্রী দেশের কল্যাণে উন্নয়নের স্বার্থে আওয়ামী লীগ সরকারের ধারাবাহিকতা চাইলেন শেখ হাসিনা

বিশেষ প্রতিবেদক
সিলেট ও বরিশালের পর উন্নয়নের বার্তা নিয়ে রাজশাহী সফরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেখানে মোট ৩৩টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এর মধ্যে ২১টি প্রকল্প উদ্বোধন করা হয় এবং রাজশাহী মহানগর পুলিশের নতুন ৮টি থানাসহ ১২টি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। ২২ ফেব্রুয়ারি বিভাগীয় শহর রাজশাহীর মাদ্রাসা ময়দান থেকে ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে প্রকল্পগুলোর উদ্বোধন এবং ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে দেশের অব্যাহত শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করে মোনাজাত করেন প্রধানমন্ত্রী।
বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের ফলক উন্মোচনের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্থানীয় সরকারি হাই মাদ্রাসা মাঠে রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত বিশাল জনভায় ভাষণ দেন। ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের কল্যাণে উন্নয়নের স্বার্থে আওয়ামী লীগ সরকারের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য রাজশাহীবাসীর কাছে নৌকা মার্কার পক্ষে ভোট চান।
দেশব্যাপী প্রাক-নির্বাচনি সফরের অংশ হিসেবে সিলেট ও বরিশালের পরই প্রধানমন্ত্রী এলেন পদ্মা বিধৌত বরেন্দ্র ভূমি রাজশাহীতে। ৭ বছর আগে ২০১১ সালে এই ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে দলীয় জনসভায় ভাষণ দেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। এরপর ২০১৩ সালের ৫ সেপ্টেম্বর রাজশাহীর বাগমারায় এবং ২০১৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি চারঘাটে আওয়ামী লীগের জনসভায় যোগ দেন তিনি। সর্বশেষ ২০১৭ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর রাজশাহীর পবায় দলীয় জনসভায় উপস্থিত হয়েছিলেন শেখ হাসিনা।
রাজশাহীতে দেয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকার জন্য ভোট চেয়ে বলেন, একমাত্র আওয়ামী লীগই পারে দেশের উন্নতি করতে। নৌকা সেই নূহ নবীর আমল থেকেই বিপদে রক্ষা করেছে। নূহ নবীর নৌকা। এই নৌকাই স্বাধীনতা এনে দিয়েছে। এই নৌকা উন্নয়ন দিয়েছে। আমি আপনাদের এইটুকু বলবো নৌকা আপনাদের মার্কা। নৌকা জনগণের মার্কা, এই নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে এদেশের মানুষ মাতৃভাষা বাংলায় কথা বলার সুযোগ পেয়েছে, স্বাধীনতা পেয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনতার উদ্দেশে বলেন, আপনাদের কাছে আমি আবেদন জানাই আগামীতে নির্বাচন। সিটি করপোরেশন নির্বাচন হবে, জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে ডিসেম্বরে। সেই নির্বাচন এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচন এই সকল নির্বাচনই মার্কা দিয়ে হবে। মার্কাটা হচ্ছে নৌকা। সেই নৌকা মার্কায় আমি আপনাদের কাছে ভোট চাই। যে উন্নয়ন করে যাচ্ছি, তা যেন অব্যাহত থাকে। মানুষ যেন খেয়ে পরে সুখে থাকে। মানুষ যেন শান্তিতে থাকে তার জন্য আপনারা নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আপনাদের সেবা করার সুযোগ আমাদের দিন। তিনি এ সময় সমবেত জনতার উদ্দেশে নৌকায় ভোট প্রদানের জন্য ওয়াদা চাইলে জনতা দুই হাত তুলে সম্মতি জানায়।
বিএনপির নেত্রী খালেদা জিয়ার দুর্নীতির প্রতি ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এদের মাথায় রয়েছে পচন। নেতাই যদি এতিমের টাকা মেরে খায় তবে তার সা৭ে৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার ঙ্গাপাঙ্গরা কী খেতে পারে, আপনারাই বিচার করে দেখেন। ১৯৯১ সালে এতিমখানা তৈরির জন্য বিদেশ থেকে আসা টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বেগম জিয়া এখন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে। এতিমখানার জন্য বিদেশ থেকে টাকা এসেছে, সেই এতিমখানা কই, কি তার ঠিকানা, কেউ এর ঠিকানা জানে না, সেখানে কয়জন এতিম আছে তার কোনো সংখ্যা কারো জানা নেই। এতিমরা আজ পর্যন্ত একটা টাকাও পায়নি। সেই টাকা নয়-ছয় করে লুটপাট করে খেয়েছে। আজকে প্রায় ২৭ বছর পর বলেÑ না টাকাতো আছে, সুদে আসলে বেড়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, এতিমের টাকা এতিমের হাতে যায়নি। সেই টাকা লুট করে খেয়েছে; যার মামলা দিয়েছে ১/১১-এর তত্ত্বাবধায়ক সরকার। আজকে তার সাজা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এ সময় নৈতিকতার প্রশ্ন তুলে বলেন, লুট করা, চুরি করাÑ এটাই তাদের চরিত্র। বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল বাংলাদেশ তখনই ৫ বার দুর্নীতিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়। খালেদা জিয়ার ছেলেদের অর্থ পাচার ও ঘুষ দুর্নীতি আমেরিকার ফেডারেল কোর্ট এবং সিঙ্গাপুরের কোর্টে প্রমাণিত হয়েছে এবং পাচার করা টাকাও তাঁর সরকার দেশে ফেরত আনতে সক্ষম হয়েছে বলে উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রী বিএনপির খোঁড়া যুক্তি এতিমের টাকা সুদে-আসলে বাড়ার কথা উল্লেখ করে বলেন, তাহলে এতিমদের বঞ্চিত করে এতিমের টাকা ভোগ করেছে খালেদা জিয়া পরিবার আর তার দলের লোকজন। এতিমের টাকা আত্মসাৎকারীরা দেশের মানুষকে অতীতের মতো ভবিষ্যতেও কিছু দিতে পারবে না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর তারা সততার সাফাই হিসেবে বেতার ও টেলিভিশনে জিয়ার সম্পদ হিসেবে প্রদর্শিত ভাঙা স্যুটকেস এবং ছেঁড়া গেঞ্জির প্রসঙ্গ উত্থাপন করে বলেন, তাদের ছিলোটা কী? যখন জিয়া মারা গেলো তখন বললো জিয়া পরিবারের কিছু নেই, আছে ভাঙা স্যুটকেস আর ছেঁড়া গেঞ্জি। প্রধানমন্ত্রী এ পর্যায়ে সৌদি ধনকুবেরদের কাছে ব্যবসার জন্য জিয়া পরিবারের অবৈধ অর্থ লগ্নির ব্যাপারে দেশ-বিদেশের পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত তথ্যের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, আজকে সেই ভাঙা স্যুটকেস ও ছেঁড়া গেঞ্জির মালিকরাই শত শত কোটি টাকার মালিক। আবার টাকা-পয়সা বিদেশেও পাচার করে। আরো কত কিছু তারা করেছে। কোকো-১, কোকো-২ থেকে ৬ পর্যন্ত লঞ্চ, ডান্ডি ডাইং ইন্ডাস্ট্রি, আরো কত রকমের ইন্ডাস্ট্রি তারা করেছে। ব্যাংক থেকে ৯০০ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে ফেরত পর্যন্ত দেয়নি। অপরদিকে সন্ত্রাস, লুটপাট, দুর্নীতি, বাংলা ভাই সৃষ্টি করে মানুষের দিনের শান্তি এবং রাতের ঘুম হারাম করে দিয়েছিল।
শেখ হাসিনা এ সময় তাঁদের (তাঁর এবং ছোট বোন শেখ রেহানার) ব্যক্তিগত সম্পত্তি ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়িটি পর্যন্ত জনগণের জন্য দান করে সেখানে একটি ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করে ১ হাজার ৮০০ শিক্ষার্থীকে লেখাপড়ার জন্য নিয়মিত বৃত্তি প্রদানের তথ্য উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে রাজশাহীবাসীর জন্য এদিন উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা ৩৩টি উন্নয়ন প্রকল্পের বর্ণনা দিয়ে এগুলোকে রাজশাহীবাসীর জন্য সুখবর হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে জনগণের কল্যাণে কাজ করে। আর বিএনপি আপনাদের শুধু লাশ উপহার দিয়েছিল। আর সৃষ্টি করেছিল স্বামীহারা বিধবা। এ প্রসঙ্গে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক ড. ইউনুস, ড. তাহেরসহ রাজশাহীতে বিএনপি-জামায়াত এবং বাংলা ভাইয়ের জঙ্গি তৎপরতায় গাছের ডালে ঝুলিয়ে মানুষ হত্যা, আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষ হত্যার পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, এই রাজশাহী ছিল সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ আর বাংলা ভাইদের অভয়ারণ্য। রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রী যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করেছেন তা হলো : তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে নির্বাচিত বেসরকারি কলেজ (আইসিটি) সমূহের উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় বঙ্গবন্ধু ডিগ্রি কলেজ, বোয়ালিয়া, রাজশাহীর ৪তলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ; শহীদ এ এইচ এম কামারুজ্জামান ডিগ্রি কলেজ, বোয়ালিয়া, রাজশাহীর ৫তলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ; দামকুড়া হাট কলেজ, পবা, রাজশাহীর ৪তলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ; আড়ানী ডিগ্রি কলেজ, বাঘা, রাজশাহীর ৪তলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ। আব্দুল করিম সরকার ডিগ্রি কলেজ, তানোর, রাজশাহীর ৪তলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ; বাগমারা কলেজ, বাগমারা, রাজশাহীর ৪তলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ; বিড়ালদহ কলেজ, পুঠিয়া, রাজশাহীর ৪তলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ; রাজশাহী জেলার পুঠিয়া উপজেলায় বারনই নদীতে রাবার ড্যাম নির্মাণ; রাজশাহী (নর্থ) ১টি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মাণ। রাজশাহী নওহাটা ফায়ার স্টেশন নির্মাণ। ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড সার্ভে ইনস্টিটিউট, রাজশাহী’র নির্মাণ। গোদাগাড়ী উপজেলাধীন উপজেলা সম্প্রসারিত প্রশাসনিক ভবন ও হল রুম নির্মাণ এবং রাজশাহী বিভাগীয় মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কার্যালয়ের নির্মাণ কাজ।
রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রী যেসব প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন তা হলো : রাজস্ব খাতের আওতায় সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহে মেরামত ও সংস্কার কাজ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় রাজশাহী সরকারি মহিলা কলেজ এর ৬ তলাবিশিষ্ট ছাত্রীনিবাস নির্মাণ (২৫০ শয্যা বিশিষ্ট); বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্প, রাজশাহী জোন শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় কাশিয়াডাঙ্গা ৩৩/১১ কেভি, ২দ্ধ১০/১৩.৩৩ এমভিএ, জিআইএস, উপকেন্দ্র নির্মাণ কাজ, কাশিয়াডাঙ্গা, রাজশাহী। মেহেরচন্ডী ৩৩/১১ কেভি, ২দ্ধ১০/১৩.৩৩ এমভিএ, জিআইএস, উপকেন্দ্র নির্মাণ কাজ, মেহেরচন্ডী, রাজশাহী, রাজশাহী মহানগরীর রাজশাহী-নওগাঁ প্রধান সড়ক হতে মোহনপুর রাজশাহী-নাটোর সড়ক পর্যন্ত পূর্ব-পশ্চিম সংযোগ সড়ক নির্মাণ (১ম সংশোধিত) শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ৩২৪.৫০ মিটার ফ্লাইওভার নির্মাণ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটার, রাজশাহী, স্থাপন শীর্ষক প্রকল্পের নির্মাণ কাজ। রাজশাহী জেলার চারঘাট উপজেলাধীন কৃষ্ণপুর হতে জাহাঙ্গীরাবাদ সড়কে ২৩০ মি. চেইনেজে বড়াল নদীর ওপর ৯৬ মিটার পিএসসি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ। রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলাধীন বড়গাছি ও রাজাবাড়ী ইউনিয়ন ভূমি অফিস এবং চারঘাট উপজেলাধীন চারঘাট ও নন্দনগাছি ইউনিয়ন ভূমি অফিস নির্মাণ। রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন নির্মাণ। রাজশাহী জেলার দুর্গাপুর উপজেলাধীন মাড়িয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র নির্মাণ এবং বেসরকারি শাহ মখদুম মেডিকেল কলেজের একাডেমিক ভবন নির্মাণ প্রকল্প। এসবের পাশাপাশি চন্দ্রিমা থানা, কাশিয়াডাঙ্গা থানা, কাটাখালী থানা, এয়ারপোর্ট থানা, পবা থানা, কর্ণহার থানা, দামকুড়া থানা ও বেলপুকুর থানা’র ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়।
বিএনপি-জামায়াতের আন্দোলনের নামে মানুষ হত্যার সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা ২০১৩, ২০১৪ ও ২০১৫ সালে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ৫ শতাধিক মানুষ হত্যা করেছে। আর ৩ হাজারের ওপর মানুষকে পুড়িয়ে আহত করেছে। রেলের ইঞ্জিন পুড়িয়ে রেল ধ্বংস করেছে, রেল লাইনের ফিস প্লেট তুলে ফেলে মানুষ হত্যার চেষ্টা করেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ২৭ জন সদস্যকে হত্যা করেছে, বিদ্যুৎ কেন্দ্র পুড়িয়ে বিদ্যুতের প্রকৌশলীকে আগুনে ফেলে দিয়েছে, লঞ্চ পুড়িয়েছে, হাজার হাজার গাড়ি ভাঙচুর করেছে। আর করেছে লুটপাট ও দুর্নীতি।
প্রধানমন্ত্রী বিএনপির অপকর্মের বিপরীতে ভাষণে তাঁর সরকারের শাসনামলে দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরেন। তিনি সারাদেশের মাধ্যমিক পর্যায়ে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ, বৃত্তি-উপবৃত্তি প্রদান, বৃত্তির টাকা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বৃত্তিপ্রাপ্তদের মায়েদের মোবাইল ফোনে পৌঁছে দেয়া, প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট ফান্ড করে উচ্চশিক্ষায় সহায়তা প্রদান এবং ২ কোটি ৩ লাখ শিক্ষার্থীকে নিয়মিত বৃত্তি প্রদানের তথ্য উল্লেখ করেন। শেখ হাসিনা বলেন, যেসব গ্রামে স্কুল নেই সেখানে তাঁর সরকার স্কুল করে দিচ্ছে, যেসব স্কুল রয়েছে তার উন্নয়ন করে দিচ্ছে, যেসব এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয় নেই সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় করে দিচ্ছে। কারণ ছেলে-মেয়েরা লেখাপড়া করে যাতে মানুষের মতো মানুষ হতে পারে। প্রধানমন্ত্রী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র এবং সারাদেশে কমিউনিটি ক্লিনিক করে স্বাস্থ্যসেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার কথা উল্লেখ করেন। পাশাপাশি বেসরকারি খাতকে উন্মুক্ত করে দিয়ে জনগণের নাগালের মধ্যে মোবাইল ফোনকে নিয়ে আসার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি ঘরে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের শতভাগ চাহিদা পূরণ করতে কাজ করছে তাঁর সরকার। ২০২১ সালের মধ্যে দেশের শতভাগ মানুষ বিদ্যুৎ পাবে। প্রতিটি ঘরে বিদ্যুতের আলো পৌঁছে দেয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই রাজশাহীতে যখন তাঁর দলের প্রার্থী খায়রুজ্জামান লিটন মেয়র নির্বাচিত হন তখনই এই রাজশাহী শহরে ব্যাপক উন্নয়ন হয়। রাস্তা-ঘাট, সুপেয় পানির ব্যবস্থা হয়েছে, নদী ভাঙন রোধের কাজ হয়েছে।
আওয়ামী লীগ সরকার উন্নয়ন করতে পারে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর আগে বিএনপির কোনো মেয়র এমন উন্নয়ন করতে পারেনি। আর এখন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের যিনি বিএনপির মেয়র তার বিরুদ্ধে রয়েছে দুর্নীতির মামলা। তবুও সে পদে ছিল এবং তার সরকার এখানে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ বন্ধ করেনি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা উন্নয়নের জন্য প্রকল্প দিয়েছি, টাকা দিয়েছি। কিন্তু তারা ব্যর্থ হয় এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে। তারা পারবেও না। কারণ তাদের লক্ষ্য থাকে কেবল লুটপাটের দিকে। পিতা-মাতা, ভাই হারিয়ে জনগণের কল্যাণে তাদের জন্য কাজ করতেই রাজনীতিতে এসেছেন উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, সব বেদনা-কষ্ট বুকে নিয়েও সারাদেশ ঘুরছেন। লক্ষ্য একটাইÑ বঙ্গবন্ধুর আকাক্সক্ষা, গরিবের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেয়া, মানুষের কল্যাণ এবং দেশের উন্নয়ন। তার ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা মা-বোনেরা, তরুণ ভাইয়েরাÑ আপনাদের ভাগ্য পরিবর্তন করতে এসেছি। আপনারা উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য নৌকা মার্কায় ভোট দেবেন।