প্রতিবেদন

এপ্রিলে উৎক্ষেপণ হচ্ছে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট

আতিক রহমান
বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি সম্পন্ন করছে সরকার। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী আগামী ২৬ মার্চ এই স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের কথা থাকলেও প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ততার কারণে এটি এপ্রিল মাসে উৎক্ষেপণ হতে যাচ্ছে। উৎক্ষেপণের দিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাষণ প্রচার করা হবে দেশ-বিদেশের গণমাধ্যমে। প্রধানমন্ত্রী মূল ভাষণ দেবেন বাংলায়। বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া ওই ভাষণ যাতে বিশ্ববাসী বুঝতে পারে, সে জন্য আরো ৪টি ভাষায় টাইটেল প্রস্তুত করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ইংরেজি, ফরাসি, আরবি ও রাশিয়ান ভাষা।
বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি নিয়ে এরই মধ্যে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বারের সভাপতিত্বে বৈঠক হয়েছে। ওই বৈঠকের কার্যবিবরণীতে এ সিদ্ধান্তের কথা বলা হয়েছে। স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ প্রস্তুতের কাজও এরই মধ্যে শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।
এপ্রিল মাসে যাতে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণ করা যায় তা নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয় থেকে বিটিআরসিকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সঙ্গে উৎক্ষেপণের তারিখ নির্ধারণ করে তা মন্ত্রণালয়কে অবহিত করতে বলা হয়েছে। কারণ উৎক্ষেপণের দিন-তারিখের ওপর ভিত্তি করেই প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করবে সরকার। স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের মূল অনুষ্ঠান হবে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে। এ উপলক্ষে আয়োজন করা হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বাংলাদেশের সময় অনুযায়ী অনুষ্ঠানটি দিনের বেলায় হলে উৎক্ষেপণের পরপরই দেশজুড়ে বেলুন ওড়ানো হবে। ওই দিন সন্ধ্যায় দেশজুড়ে প্রদর্শন করা হবে আতশবাজি। আর স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ যদি বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা বা রাতে হয় তবে বেলুন না উড়িয়ে শুধু আতশবাজি প্রদর্শন করা হবে। তাছাড়া স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ উপলক্ষে একটি স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ করবে ডাক অধিদপ্তর। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডাকটিকিটটি অবমুক্ত করবেন।
গত ১৪ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত ওই সভায় বিটিআরসির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী ড. শাহজাহান মাহমুদ বলেন, প্রায় ৭০ শতাংশ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের সময় সামান্য যান্ত্রিক ত্রুটি-বিচ্যুতির কারণে যথাসময়ে উৎক্ষেপণ সম্ভব হয় না। অধিকাংশ সময় নতুন করে ৮-১০ ঘণ্টা সময় নিয়ে উৎক্ষেপণ করতে হয়। এসব বিষয় জনগণকে অবহিত করা হবে, যাতে জনসাধারণের মধ্যে বিরূপ কোনো ধারণা সৃষ্টি না হয়। স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ হবে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা থেকে। সেখানে উৎক্ষেপণ অনুষ্ঠান আয়োজনে পুরো দায়িত্ব পালন করবে বিটিআরসি। এ জন্য ফেব্রুয়ারিতেই একটি প্রতিনিধিদল ফ্লোরিডায় যাচ্ছে।
২০১৫ সালের ২১ অক্টোবর সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় স্যাটেলাইট সিস্টেম কেনার প্রস্তাব অনুমোদন পায়। পরে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকায় স্যাটেলাইট সিস্টেম কিনতে ফ্রান্সের থ্যালেস এলিনিয়া স্পেসের সঙ্গে চুক্তি করে বিটিআরসি। এই উপগ্রহ উৎক্ষেপণ হলে বিদেশি স্যাটেলাইটের ভাড়া বাবদ বছরে ১৪ মিলিয়ন ডলার সাশ্রয় হবে বলে আশা করছে বাংলাদেশ।
বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটে ৪০টি ট্রান্সপন্ডার থাকবে। যার ২০টি বাংলাদেশের জন্য রাখা হবে। বাকিগুলো ভাড়া দিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা হবে। এই স্যাটেলাইটের গ্রাউন্ড স্টেশন স্থাপনের জন্য গাজীপুরের জয়দেবপুর ও রাঙ্গামাটির বেতবুনিয়ায় কাজ চলছে।