কলাম

পরিবেশ রক্ষার্থে ইটভাটাকে নিয়মের মধ্যে আনুন

ইট উৎপাদনের ক্ষেত্রে পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব লক্ষণীয়। বিশেষ করে কৃষিজমি এবং কাঠের ব্যবহার ও তার ফলে উৎপাদিত কালো ধোঁয়া সবচেয়ে বড় ক্ষতির কারণ। ইটভাটা স্থাপনের ক্ষেত্রে ২০১৩ সালের একটি যথেষ্ট শক্ত আইনও রয়েছে। তাতে স্পষ্ট করে যে শর্তগুলো দেয়া আছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে কৃষিজমি, বনভূমি, রাস্তার পাশে এবং বিদ্যালয়ের পাশে ইটভাটা স্থাপন করা যাবে না। কিন্তু তাতে কি আসলে কাজ হচ্ছে? ইটভাটা নিয়ে প্রায়ই প্রতিবেদন হচ্ছে, কিছু কিছু ক্ষেত্রে বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে এবং জরিমানা করা হচ্ছে। আবার কিছুদিন পর সদর্পে চলছে ইটভাটাগুলো। সেই দূষণ আবার শুরু হচ্ছে। ইটভাটা আইনে স্পষ্ট করে বলা আছে আধুনিক প্রযুক্তির ইটভাটা অর্থ এমন কোনো ইটভাটা, যা জ্বালানি সাশ্রয়ী যেমন হাইব্রিড হফম্যান কিলন, জিগজ্যাগ কিলন, ভার্টিক্যাল স্যাফট ব্রিক কিলন বা টানেল কিলন বা অনুরূপ কোনো ভাটা স্থাপন। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে এই পদ্ধতির ইটভাটা তৈরি করতে অনেক খরচের প্রয়োজন হয়, অর্থায়ন করবে কারা। ইটভাটা কর্তৃপক্ষ এত টাকা লগ্নি করে ইটভাটা না চালিয়ে তখন দুর্নীতির আশ্রয় নেন। এতে করে একদিকে দুর্নীতি বাড়ছে, ইটভাটাও বাড়ছে অবৈধভাবে এবং কিছু টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দুর্নীতিবাজ মহল।
তাই এ বিষয়ে এখনই একটি সুষ্ঠু পরিকল্পনা প্রয়োজন। ইটভাটাগুলোকে নিয়মের মধ্যে আনতেই হবে আমাদের পরিবেশ বাঁচানোর জন্য। এজন্য এরকম হতে পারেÑ সরকার একটি পদ্ধতি নির্ধারণ করে প্রতিটি ইটভাটাকে নির্দিষ্ট ঋণদানের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব করে গড়ে তোলার জন্য উদ্যোগ নেবে।
ইটভাটাও প্রয়োজন তার সঙ্গে প্রয়োজন পরিবেশ বাঁচানো। সুতরাং সঠিক নিয়মের চর্চা এখানে বাড়াতে হবেই। যে প্রক্রিয়ায় অল্প খরচে পরিবেশ সম্মতভাবে ইট তৈরি করা যায় সেরকম পরিকল্পনা নিয়ে ইটভাটাগুলো স্থাপনের বিকল্প নেই।
সাঈদ চৌধুরী, কাপাসিয়া, গাজীপুর