প্রতিবেদন

বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া মিডিয়া ডায়ালগে দুই দেশের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের আশঙ্কা সরকারের ধারাবাহিকতা না থাকলে বাংলাদেশ-ভারত নিরাপত্তা সহযোগিতা ও আস্থার সম্পর্ক হুমকিতে পড়বে

এম নিজাম উদ্দিন
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক দিন দিন সম্প্রসারিত এবং বন্ধুত্ব দৃঢ় থেকে দৃঢ়তর হচ্ছে। দুই দেশের সরকারের আন্তরিকতা ও সদিচ্ছার ফলে স্থলসীমান্ত চুক্তি, সিটমহল বিনিময় চুক্তিসহ সমুদ্রসীমানা সংক্রান্ত বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান হয়েছে। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবিরোধী কর্মকা-ে ভারত-বাংলাদেশ পরস্পরকে সহযোগিতা করছে। ফলে দুই দেশের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতাসহ বন্ধুত্বপূর্ণ আস্থার সম্পর্ক অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন অনেক ভালো। যদিও তিস্তার পানি বণ্টন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি, ভারতে বাংলাদেশি টেলিভিশন চ্যানেলের সম্প্রচার এবং সীমান্তে অব্যাহত হত্যাকা-ের মতো বিভিন্ন অমীমাংসিত বিষয়ও রয়েছে। এসব অমীমাংসিত বিষয় সমাধানের জন্য বাংলাদেশ ও ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার পর্যায়ে বিভিন্ন সহযোগিতা ও তৎপরতা অব্যাহত আছে। তাই সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই তৎপরতা ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার জন্য উভয় দেশের সরকারেরই ধারাবাহিকতা প্রয়োজন।
আওয়ামী লীগ আগামী নির্বাচনে ক্ষমতায় না এলে এবং বিজেপি ভারতের রাষ্ট্রক্ষমতায় না এলে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে চলমান চমৎকার নিরাপত্তা সহযোগিতা ও আস্থার সম্পর্ক হুমকির মধ্যে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন দুই দেশের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা। ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকার রেডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেলে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ-ভারত নিরাপত্তা উদ্বেগ ও পারস্পরিক সহযোগিতা’ শীর্ষক আলোচনায় তাঁরা এ উদ্বেগের কথা জানান। ৩ দিনের ‘বাংলাদেশ-ভারত গণমাধ্যম সংলাপ-২০১৮’-এর শেষ দিনের প্রথম পর্বে ওই আলোচনায় নিরাপত্তা বিশ্লেষক, শিক্ষাবিদ, গবেষক, রাজনীতিকরাও উপস্থিত ছিলেন। এরপর সমাপনী অনুষ্ঠানে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, এ দেশে যারা আওয়ামী লীগের বিকল্প তারা পাকিস্তানের বন্ধু। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার বাংলাদেশে ভারতবিরোধী জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের আস্তানা গুঁড়িয়ে দিয়েছে। ভারতের ‘সেভেন সিস্টারসে’ আজ শান্তির সুবাতাস বইছে। সেখানে সমস্যা সৃষ্টি করেছিল বিগত বিএনপি-জামায়াত সরকার।
ওবায়দুল কাদের আগামী নির্বাচনের আগেই তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি সইয়ের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছিলেন, তাঁর সরকার ও শেখ হাসিনার সরকারই তিস্তা চুক্তি করবে। এটি বাংলাদেশে নির্বাচনের বছর। নির্বাচনের আর ৭-৮ মাস বাকি। তিস্তা চুক্তির জন্য আওয়ামী লীগকে জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হবে। তিনি বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল মরুভূমিতে পরিণত হওয়া ঠেকাতে ভারতের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন। এছাড়া তিনি রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য ভারতকে ওই দেশটির সঙ্গে তাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘এ সংকট থেকে আমাদের বাঁচান।’
ইনস্টিটিউট অব কনফ্লিক্ট, ল’ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ আয়োজিত সংলাপ অনুষ্ঠানে প্রথম পর্বে ডিবিসি নিউজের সম্পাদক জায়েদুল আহসান পিন্টু তাঁর প্রবন্ধে বলেন, সামরিক স্বৈরশাসক থেকে শুরু করে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত বিভিন্ন সরকারের সময় কখনো আমরা ভারতকে বন্ধু ও সহযোগী হিসেবে বিবেচনা করেছি। আবার কখনো ভারতকে আমাদের প্রধান শত্রু হিসেবে দেখেছি। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর উলফা নেতারা দ্রুত বুঝতে পারেন, শেখ হাসিনার সরকারের আমলে তাঁদের বাংলাদেশের মাটিতে তৎপরতা চালানো অসম্ভব। তিনি বলেন, উলফা নেতারা অতীতে বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন পর্যায় ও পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইর সহযোগিতা পাওয়ার কথা অস্বীকার করেননি। সুইডিশ সাংবাদিক বার্টিল লিন্টনার উলফাকে বাংলাদেশের বিগত সরকারের সহযোগিতার কথা সরাসরি বলেছেন। ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী সোশ্যালিস্ট কাউন্সিল অব নাগাল্যান্ডের (এসএসসিএন) চেয়ারম্যান ইসাক সু ও অ্যান্থনি শিমরাইর বাংলাদেশি পাসপোর্ট ব্যবহার করে বিদেশ ভ্রমণ করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০০৪ সালে দশ ট্রাক অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় স্পষ্ট যে বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সঙ্গে ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের নিবিড় যোগাযোগ ছিল।
জায়েদুল আহসান পিন্টু বলেন, ‘শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতা হারালে আমরা আবার পুরনো সমস্যায় ফিরে যেতে পারি। আমরা এ দেশে আইএসআইয়ের ও চীনের আরো প্রভাব দেখতে পারি। তখন ঢাকা-দিল্লি সহযোগিতা গুরুতর হুমকিতে পড়বে।’
অনুষ্ঠানের সঞ্চালক একাত্তর টিভির প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু জানান, ভারতীয় সাংবাদিকরা ২০ ফেব্রুয়ারি গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাতে প্রশ্ন করেছিলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় না থাকলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে কী ঘটবে? শেখ হাসিনা যে উত্তর দিয়েছেন তা জায়েদুল হাসান পিন্টুর প্রবন্ধে স্থান পেয়েছে।
ভারতের ক্যাচ নিউজের সাবেক সম্পাদক ভারত ভূষণ তাঁর প্রবন্ধে বলেন, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার আগে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে নিরাপত্তা খাতে সহযোগিতার বড় ধরনের ঘাটতি ছিল। ভারতবিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী বিএনপিকে তার কব্জার বাইরে যেতে দেয়নি। জামায়াত বিএনপির পেশিশক্তি হিসেবে কাজ করে। বিএনপি-জামায়াতের আমলে উলফা নেতারা বাংলাদেশি পাসপোর্ট ব্যবহার করেছেন। বিএনপি-জামায়াত সখ্য ভাঙবে না।
ভারত ভূষণ বাংলাদেশে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব, চীনের ‘এক বলয়, এক পথ’ স্ট্র্যাটেজিক পরিকল্পনা, বাংলাদেশ থেকে ভারতে অনুপ্রবেশ, বাংলাদেশ-নেপাল রুট ব্যবহার করে আইএসআইয়ের জাল ভারতীয় মুদ্রার প্রবাহ, বাংলাদেশে পাকিস্তানি হাইকমিশনের কূটনীতিক ও কর্মকর্তাদের জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদে সম্পৃক্ততাকে ভারতের জন্য উদ্বেগের বলে উল্লেখ করেন। ভারতের আরো কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আগামী নির্বাচনে সরকার বদলালে সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন করেন।
দৈনিক আমাদের অর্থনীতির সিনিয়র নির্বাহী সম্পাদক মাসুদা ভাট্টি বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যার পরপরই আইএসআই চট্টগ্রামে ক্যাম্প খুলেছিল। কদিন আগে ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের বাংলাদেশ সফরের সময় একটি ছবি দিয়ে প্রচারণা চালানো হয়েছে, বাংলাদেশ হিন্দু রাষ্ট্রের কাছে বিক্রি হয়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের বুঝতে হবে, কারা আমাদের বন্ধু, আর কারা শত্রু। আমাদের মৈত্রীকে নিরাপদ করতে হবে।’
ভারতের আউটলুকের ফরেন এডিটর প্রণয় শর্মা জানতে চান, ক্ষমতার পালাবদল হলে নিরাপত্তা সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে কী করা প্রয়োজন? জবাবে সাবেক সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল এম হারুন অর রশিদ বলেন, রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে সন্ত্রাসবাদ বন্ধ করা প্রয়োজন। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্ক থাকলে দুই দেশেই স্থিতিশীলতা থাকবে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক এয়ার কমোডর ইশফাক ইলাহী চৌধুরী (অব.) বলেন, আসাম ইস্যু ও পানি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। চীনা বিনিয়োগ নেয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক হতে হবে।
গবেষক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী সাজ্জাদ আলী জহির (অব.) ভারতকে ২০০১ সালের মতো বিএনপিকে সমর্থন দিয়ে ভুল না করার আহ্বান জানান। তিনি চান, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে রক্তের যে বন্ধন গড়ে উঠেছিল তা প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম অব্যাহত থাকুক।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের কাছে চীন কখনো ভারতের বিকল্প হতে পারে না। তিনি ভারতকে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নিয়ে উদ্বিগ্ন না হওয়ার অনুরোধ জানান। প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান তিস্তা ইস্যুকে দুর্ভাগ্যজনক বিষয় মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে ভারতীয় ডেপুটি হাইকমিশনার আদর্শ সোয়াইকা এ সংলাপকে অত্যন্ত সময়োপযোগী হিসেবে উল্লেখ করেন। তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম বলেন, বিএনপি-জামায়াতের আমলে বাংলাদেশ সন্ত্রাসের ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছিল। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গত ৯ বছরে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক সবচেয়ে ভালো পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে।
এর আগে ২০ ফেব্রুয়ারি সংবাদ মাধ্যম এবং সাংবাদিকতার মাধ্যমে বাংলাদেশ-ভারতের দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার বিশ্লেষণ ও তার সমাধানের লক্ষ্যে ইনস্টিটিউট অব কনফ্লিক্ট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আইসিএলডিএসের চেয়ারম্যান এবং সাবেক রাষ্ট্রদূত মুহাম্মদ জমির। ভোরের কাগজ সম্পাদক, আইসিএলডিএসের অন্যতম পরিচালক এবং বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া মিডিয়া ডায়ালগ-২০১৮-এর আহ্বায়ক শ্যামল দত্তের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, দ্য এশিয়ান এইজ পত্রিকার সিনিয়র সহকারী সম্পাদক সৈয়দ বদরুল আহসান, টাইমস অব ইন্ডিয়ার অ্যাসিস্ট্যান্ট এডিটর মহুয়া চট্টোপাধ্যায়, আনন্দবাজার পত্রিকার সাংবাদিক অনামিত্র চট্টোপাধ্যায়, ইন্ডিয়ান টেলিগ্রাফ পত্রিকার সাংবাদিক দেবদীপ পুরোহিত প্রমুখ।
বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া মিডিয়া ডায়ালগ-২০১৮ আয়োজনকে অত্যন্ত সময়োপযোগী এবং গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বলেন, বাংলাদেশ এবং ভারতের সম্পর্কের ক্ষেত্রে এখন সোনালি অধ্যায় চলছে, এই সম্পর্ক ক্রমে বিস্তৃত হচ্ছে। এ সময় তিস্তার পানি ইস্যু সম্পর্কে তিনি বলেন, ভারত একটি ফেডারেল রাষ্ট্র। সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে প্রাদেশিক সরকারের মতামত গুরুত্বপূর্ণ।
সৈয়দ বদরুল আহসান বলেন, আমরা ভারতীয় পণ্যের গ্রাহক, কিন্তু আমরা চাই বাংলাদেশের পণ্য ভারতীয়রা গ্রহণ করুক। আমাদের সব পণ্যই ভারতে বাজারজাত করতে হবে তা নয়, অন্তত কিছুটা হলেও বাড়ানো উচিত। তিনি বলেন, সাম্প্রদায়িক চরমপন্থা এবং সন্ত্রাস নির্মূলের ক্ষেত্রে ঢাকা এবং দিল্লি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখিয়েছে, যা উৎসাহজনক। কিন্তু বাংলাদেশি টেলিভিশন চ্যানেলগুলো ভারতীয় সম্প্রচার জগতে ব্যর্থ এবং বাধাগ্রস্ত। যার কারণে বাংলাদেশ ভারতের সামাজিক, রাজনৈতিক এবং মানবিক বিষয়গুলো সম্পর্কে অবহিত থাকলেও বাংলাদেশ সম্পর্কে ভারতের জনগণ অন্ধকারে রয়েছে।
ভারত থেকে আগত সাংবাদিকদের অনেকে তাদের বক্তৃতায় বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের ব্যবসা, বিনিয়োগ ও যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় সম্প্রসারিত হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন। তবে তারা মনে করেন, অবিশ্বাস, ভুল বোঝাবুঝি এবং সংশয়Ñ এই ৩টি বিষয় দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের ক্ষেত্রে স্থবিরতা তৈরি করে রেখেছে।
আর বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা তাদের বক্তৃতায় অবিলম্বে তিস্তার পানি সমস্যার সমাধান, ভারতের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের সুযোগ তৈরি করে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনা, ভারতে বাংলাদেশি টেলিভিশন চ্যানেলের সম্প্রচার করার সুযোগ দেয়া এবং সীমান্তে হত্যাকা- বন্ধ করাসহ বিভিন্ন অমীমাংসিত ইস্যুর সমাধানে ভারত সরকারকে অধিক আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানান।