কলাম

বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ও বুধবার

আব্দুস সালাম বাচ্চু
কীর্তিমান পুরুষ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা, অন্যতম সংগঠক ও অসাম্প্রদায়িক রাজনীতিক এবং আধুনিক বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও রূপকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ বুধবার কীর্তিমান মহান এ ব্যক্তি জন্মগ্রহণ করেন। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ এ বাঙালির জন্মদিন বুধবার একটি অত্যন্ত শুভ ও মহিমান্বিত দিন। বাংলাদেশের সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট এবং অর্জনে যে দিনটি মানুষের কাছে সূর্যালোকের মতো ভাস্বর সেই দিনটি হলো বুধবার। আদর্শ ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষটির জন্ম যদি এ মাটিতে না হতো তা হলে হয়ত এ স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের জন্ম আজও স্বপ্ন হয়েই থাকতো। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম না হলে স্বাধীন এ বাংলাদেশের জন্ম হতো না। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়টি হলো বাংলাদেশের সব বড় বড় অর্জন এসেছে এ বুধবারই অর্থাৎ বঙ্গবন্ধুর জন্ম দিনটিতেই। বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন বুধবারের উল্লেখযোগ্য বিশেষ দিকগুলো আলোচনা করলে তাঁর জন্মদিনটির মাহাত্ম্য অনুধাবন করা সহজ হবে।
১. ১৯৫৪ সালের ১০ মার্চ পাকিস্তানের প্রথম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সেই দিনটি ছিল বুধবার। নির্বাচনে ২৩৭টি আসনের মধ্যে যুক্তফ্রন্ট লাভ করে ২২৩টি আসন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ পায় ১৪৩টি আসন। বঙ্গবন্ধু গোপালগঞ্জের আসনে মুসলিম লীগের প্রভাবশালী নেতা ওয়াহিদুজ্জামানকে ১৩ হাজার ভোটে পরাজিত করেন। ঘটনাটি বুধবারে সম্পন্ন হয়েছিল।
২. বর্তমান এই স্বাধীন, সার্বভৌম রাষ্ট্র বাংলাদেশের জন্ম যে সময় স্পষ্টভাবে প্রকাশ পায় সেটা হলো ১৯৬৬ সালের ২৩ মার্চ। ওই দিনটি ছিল বুধবার। ১৯৬৬ সালের ২৩ মার্চ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান লাহোরে এক সংবাদ সম্মেলনে তাঁর ঐতিহাসিক ৬ দফা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেন, যার মধ্যে তৎকালীন পূর্ব বাংলার আপামর জনগোষ্ঠীর স্বাধিকারের কথা ব্যক্ত ছিল। অবশেষে ১৯৬৬ সালের ২৩ মার্চ বুধবারের ওই ঐতিহাসিক ৬ দফাই পরবর্তীতে অর্থাৎ ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর নতুন, স্বাধীন, সার্বভৌম রাষ্ট্র বাংলাদেশের জন্ম হয়েছিল। এটা বুধবারের এক বিরাট ও ঐতিহাসিক সাফল্য।
৩. ১৯৭২ সালের ১২ জানুয়ারি বুধবার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন। সেই দিনটিও ছিল বুধবার।
৪. ১৯৭২ সালের ২৪ মে, বুধবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাথে দেখা করেন এবং পরবর্তীতে তাঁকে জাতীয় কবির স্বীকৃতি প্রদান করেন। অর্থাৎ কাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আনুষ্ঠানিক সাক্ষাতের পর থেকে তাঁকে জাতীয় কবির মর্যাদা দেয়ার প্রেক্ষাপটটিও এই বুধবারেই হয়েছিল।
৫. ১৯৭২ সালের ১৮ অক্টোবর, বুধবারেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিরল সম্মান জুলিও কুরি শান্তি পদক লাভ করেন।
৬. ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ, বুধবার স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং স্বাধীন বাংলাদেশের এ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এ নিয়ে দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। এটাও বুধবারের সাফল্য।
৭. ১৯৭৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশকে জাতিসংঘের ১৩৬তম সদস্য রাষ্ট্ররূপে সর্বসম্মতিক্রমে স্বীকৃতি দেয়া হয় এবং ঘটনাচক্রে দেখা যায় ওই দিনটিও ছিলো বুধবার। অতএব এটা বুধবারের একটি সাফল্য।
৮. জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতিসংঘে প্রথম বাংলায় ভাষণ দেন ১৯৭৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর। ওই তারিখটি ছিল বুধবার। অতএব, বুধবারটি সত্যিই বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে অনেক গুরুত্ব বহনকারী একটি দিন।
৯. ১৯৭২ সালের ২৪ মার্চ বায়তুল মোকাররম মসজিদকে বাংলাদেশের জাতীয় মসজিদ হিসেবে ঘোষণা করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ঘটনাক্রমে ঐতিহ্যবাহী ওই দিনটি ছিল বুধবার।
১০. ১৯৯৬ সালের ১২ জুন অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দীর্ঘ ২১ বছর পর সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে নির্বাচনে জয়লাভ করে ও সরকার গঠন করে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রধান জননেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। দীর্ঘ ২১ বছর পর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ যেদিন নির্বাচনে জয়লাভ করে সরকার গঠন করে সে দিনটিও ছিল বুধবার। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সুবাদে বিশ্বের দরবারেও গৌরবোজ্জ্বল অনেক সাফল্য অর্জন করেছেন। এটাও বুধবারের বিরাট সাফল্য। সত্যিকার অর্থে বুধবারের তুলনা হয় না। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্য অর্থাৎ আওয়ামী লীগের জন্য অনেক বিজয় এনে দিয়েছে বুধবার। বুধবার দিনটি আওয়ামী লীগের এবং বঙ্গবন্ধুর জন্য খুবই উত্তম ও শুভ দিন, যার বর্ণনা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।
১১. ২০০৪ সালের ১৪ এপ্রিল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি ঘোষণা করা হয়। বঙ্গবন্ধুর এতবড় একটি খেতাব পাওয়া ঘটনাক্রমে তাঁর জন্মদিন বুধবারেই সম্পন্ন হয়েছে। এটি সত্যিই আলোচিত ও লক্ষণীয় বিষয়; অর্থাৎ এটাও বুধবারের একটি অন্যতম ও বিরাট সাফল্য। যেমন বঙ্গবন্ধুর তুলনা হয় না তেমনি বঙ্গবন্ধুর জন্ম দিবসটি অর্থাৎ বুধবারেরও বর্ণনা করা সম্ভব হয়ে ওঠে না।
১২. জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দৌহিত্র সজীব ওয়াজেদ জয় ২০১৩ সালের ৩১ জুলাই রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলায় আনুষ্ঠানিকভাবে লাখো মানুষের উদ্দেশে প্রথম ভাষণ প্রদান ও রাজনীতিতে তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক এবং আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রদান করেন, যা বাংলার ইতিহাসের সেই মহান দিবস বুধবারেই সম্পন্ন হয়। তাই এটাও বুধবারের একটি সাফল্য।
আমি মনে করি, আল্লাহপাক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সৃষ্টি করেছেন এই বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্ম দেয়ার জন্যই। সত্যিকার অর্থেই বঙ্গবন্ধুর তুলনা হয় না। বাঙালি জাতির অন্তরে খ্যাতিমান ও কীর্তিমান পুরুষ একমাত্র বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উল্লেখযোগ্য অনেক অর্জন ও সাফল্য এসেছে বুধবারে; যেটি হলো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন।