ফিচার

রূপচর্চা


জেনে নিন খুশকির সমস্যা ও সমাধানের কৌশল

ঝলমলে মসৃণ চুল কে না চায়। যেকোনো উৎসবে ঝলমলে মসৃণ চুল আনন্দ আরো বাড়িয়ে দেয়। উৎসব আরও বেশি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে উজ্জ্বল ত্বক এবং ঝলমলে চুলে। তাই চুল ও ত্বকের যতœ নেয়া দরকার সব সময়ই। ঝলমলে চুল পেতে চাইলে আজ থেকেই ব্যবহার করুন কিছু হেয়ার প্যাক। এতে চুলে পুষ্টি জোগাবে, যা আপনাকে উপহার দেবে ঝলমলে মসৃণ চুল। কিভাবে ঝলমলে মসৃণ চুল পাবেন, স্বদেশ খবর পাঠকদের জন্য তার পরামর্শ দিয়েছেন আতিকা রহমান

চুলের অস্বস্তিকর একটি সমস্যা হলো খুশকি। সমস্যাটি ভীষণ রকম অস্বস্তিকর হলেও সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে এটি দূর করা সম্ভব। একটু সচেতন হলে এ সমস্যা এড়ানোও সম্ভব। স্বাভাবিক প্রক্রিয়াতেই আমাদের ত্বকের মৃত কোষগুলো ঝরে যায়। মাথার ত্বকের এই মৃতকোষই খুশকি। বাতাসে আর্দ্রতা কম থাকলে খুশকি বেশি হয়। অনেক সময় সেবোরিক ডার্মাটাইটিস নামের রোগের কারণে খুশকি হতে পারে। তবে এ রোগে খুশকির পাশাপাশি মাথার ত্বকে ছোট ছোট দানার মতো কিছু গোটা হয়ে থাকে এবং রোগীর মাথার ত্বকে অতিরিক্ত চুলকানি হয়। জেনে নিন খুশকির সমস্যা সমাধানের কৌশলÑ
১. খুশকির কারণ যা-ই হোক না কেন, খুশকি থেকে মুক্তি পেতে প্রয়োজন বিশেষ ধরনের শ্যাম্পু। খুশকির সমস্যায় কিটোকোনাজল ও জিংক পাইরিথিওন নামের উপাদান সমৃদ্ধ শ্যাম্পু ব্যবহার করা প্রয়োজন।
২. খুশকি খুব বেশি হলে ১ দিন পরপর খুশকিনাশক শ্যাম্পু ব্যবহার করা উচিত।
৩. অল্প পরিমাণ খুশকি হলে ২-৩ দিন পরপর খুশকিনাশক শ্যাম্পু ব্যবহার করা উচিত। তেমন সমস্যা না থাকলেও সপ্তাহে একবার খুশকিনাশক শ্যাম্পু ব্যবহার করা যেতে পারে।
৪. আমলকী ও লেবুর রস একসঙ্গে মিশিয়ে নিন। এই মিশ্রণ মাথার ত্বকে লাগিয়ে সারারাত রেখে দিন। পরদিন সকালে ধুয়ে ফেলুন।
৫. দুই টেবিল চামচ লেবুর রস নিয়ে মাথার ত্বকে ম্যাসাজ করুন। এরপর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। তারপর ১ কাপ পানিতে ১ চা-চামচ লেবুর রস মিশিয়ে নিন। লেবুর রস মেশানো পানি দিয়ে পুরো চুল ধুয়ে নিন। তারপর শ্যাম্পু করে নিন। খুশকি দূর না হওয়া পর্যন্ত প্রতিদিন এটি ব্যবহার করতে পারেন।
৬. তিন থেকে পাঁচ টেবিল চামচ নারিকেল তেল নিয়ে মাথার ত্বকে ভালোমতো লাগান। ১ ঘণ্টা পরে মাথা ধুয়ে ফেলুন এবং তারপর শ্যাম্পু করে নিন।
৭. প্রথমে পানি দিয়ে চুল ভিজিয়ে নিন। এরপর মাথার ত্বকে ২ টেবিল চামচ বেকিং সোডা ঘষে নিন। তারপর চুল ধুয়ে নিন। তবে বেকিং সোডা ব্যবহারের পর চুলে শ্যাম্পু লাগাবেন না। খুশকির জন্য দায়ী ছত্রাকগুলোর ক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে বেকিং সোডা। এর ফলে প্রাথমিকভাবে চুলে একটু শুষ্কভাব দেখা দিতে পারে। তবে এতে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। ধীরে ধীরে চুল আবার আর্দ্রতা ফিরে পাবে। এছাড়া নিচে উল্লেখিত টিপসও অনুসরণ করা যেতে পারে।
১. পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। সব কটি পুষ্টি উপাদানই রাখুন আপনার প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায়।
২. দুশ্চিন্তামুক্ত থাকতে চেষ্টা করুন।
৩. সব সময় পরিষ্কার চিরুনি ব্যবহার করুন।
৪. কখনোই অন্যের চিরুনি ব্যবহার করবেন না।
৫. চুলে বা মাথার ত্বকে মোটেও ময়লা জমতে দেয়া যাবে না।

ঝলমলে মসৃণ চুল পেতে

চুলের আগা ফাটা প্রতিরোধে হেয়ার প্যাক তৈরিতে যা যা লাগবে : মধু, ডিমের কুসুম ও অলিভ অয়েল।
পদ্ধতি : ১টি ডিমের কুসুম ফেটিয়ে নিন। এরপর এতে অর্ধেক কাপ মধু ও আধা টেবিল চামচ অলিভ অয়েল খুব ভালো করে মিশিয়ে নিন। এই মিশ্রণটি চুলের গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত ভালো করে লাগিয়ে রাখুন ২০-২৫ মিনিট। এরপর শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন। চুলের আগা ফাটা দ্রুত বন্ধ হয়ে যাবে।
নতুন চুল গজাতে সহায়ক হেয়ার প্যাক তৈরিতে যা যা লাগবে : ডিমের সাদা অংশ, অলিভ অয়েল এবং মধু।
পদ্ধতি : একটি ডিমের সাদা অংশ, ১ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল ও ১ টেবিল চামচ মধু একটি বাটিতে নিয়ে খুব ভালো করে মিশিয়ে একটি মসৃণ মিশ্রণের মতো তৈরি করুন। এরপর এই মিশ্রণটি চুলের গোড়ায় খুব ভালো করে লাগিয়ে নিন। ২০ মিনিট লাগিয়ে রাখুন। তারপর ঠা-া পানি দিয়ে শ্যাম্পু করে চুল ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ২ থেকে ৩ বার ব্যবহার করুন। এতে করে বেশ ভালো ফল পাবেন।
চুলের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করতে হেয়ার প্যাক তৈরিতে যা যা লাগবে : ডিম, মেহেদি পাতা বাটা বা গুঁড়া, টক দই ও নারকেল তেল। তবে চুলের ঘনত্ব ও লম্বা অনুযায়ী পরিমাণ কম বেশি হতে পারে।
পদ্ধতি : ১টি ডিম, ১ টেবিল চামচ মেহেদি পাতা বাটা বা গুঁড়া, ১ টেবিল চামচ টক দই ও ১ টেবিল চামচ নারিকেল তেল একটি বাটিতে নিয়ে ভালো করে মিশিয়ে পেস্টের মতো তৈরি করুন। এই মিশ্রণটি চুলের গোড়ায়, মাথার ত্বকে ভালো করে ঘষে লাগিয়ে নিন। ২০-৩০ মিনিট রেখে দিন। এরপর সাধারণভাবে শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন। প্রতি ২ সপ্তাহে ১ বার ব্যবহার করুন।
চুল নরম ও কোমল করতে হেয়ার প্যাক তৈরিতে যা যা লাগবে : তাজা লেবুর রস, অলিভ অয়েল ও কুসুম গরম পানি।
পদ্ধতি : ২ টেবিল চামচ তাজা লেবুর রস, ২ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল এবং ২ টেবিল চামচ কুসুম গরম পানি একটি পাত্রে নিয়ে ভালো করে ফেটিয়ে নিন। এবার এই মিশ্রণ মাথার ত্বকে ভালো করে ঘষে লাগান। ২০ মিনিট পর চুল শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ১ বার ব্যবহারেই চুল নরম ও মসৃণ হবে।