কলাম

শুধু ঈদ মৌসুমে নয় সারা বছর সড়ক দুর্ঘটনা রোধে নজর দেয়া জরুরি

একটি দুর্ঘটনা একটি পরিবারের সারাজীবনের কান্না। বর্তমানে আমাদের দেশে সড়ক দুর্ঘটনা একটি নিত্যনৈমিত্তিক সাধারণ ঘটনায় পরিণত হয়েছে। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে মাঝে মধ্যে কিছু ব্যবস্থা গ্রহণ করতে দেখা গেলেও আশানুরূপ ও কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি কোনো সময়েই। শুধু ঈদ মৌসুমে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে প্রশাসনিক কিছু হাঁকডাক শোনা যায়। বাকি সময় সড়কে যানবাহন চলে ফ্রি স্টাইলে। ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার গতির যানবাহন যে রাস্তায় চলে সে রাস্তায় ঘণ্টায় ৮ কিলোমিটার গতির যানবাহন চলতেও দেখা যায়। বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনার পেছনে বহুবিধ কারণ বিদ্যমান। সরু রাস্তা, যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত গতি, পুরনো ও ত্র“টিপূর্ণ যানবাহন, উন্নত ও টেকসই সড়কের অভাব, অদক্ষ চালক এবং সড়ক পথে ডিভাইডার না থাকার কারণে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা সংঘটিত হচ্ছে আর ঝরে যাচ্ছে অসংখ্য প্রাণ। বাংলাদেশে ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা এখনো সনাতনী কায়দায় পরিচালিত হয়ে থাকে। যেকোনো বিষয়ে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে না পারলে বিপত্তি ঘটাই স্বাভাবিক। সুতরাং ট্রাফিক আইন ও ব্যবস্থাকে আধুনিকীকরণ করতে হবে। এতে দুর্ঘটনার পরিমাণ অনেকাংশেই কমে যাবে। আমাদের দেশে শিক্ষিত মানুষের সংখ্যা আগের তুলনায় অনেক বৃদ্ধি পেলেও সুশিক্ষিত এবং মানবিক বোধসম্পন্ন মানুষের সংখ্যা এখনো অনেক কম। ড্রাইভিং পেশাকে এ দেশে এখনো নিম্নমানের পেশা বলেই ধরে নেয়া হয়। ফলে সাধারণ মানুষ ও প্রশাসনের লোকজন পরিবহন শ্রমিকদের সাথে সচরাচর অমানবিক আচরণ করে থাকে। তাছাড়া একজন চালক প্রতিদিন গড়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১৬-১৮ ঘণ্টা পরিশ্রম করে থাকেন। কিন্তু পরিশ্রম অনুযায়ী তাদের পারিশ্রমিক প্রদান করা হয় না এবং পারিশ্রমিক প্রাপ্তিরও কোনো নিশ্চয়তা থাকে না। এ ছাড়া পরিবার থেকে পেশাগত কারণে দীর্ঘদিন বাইরে থাকতে হয় বলে তারা শারীরিক ও মানসিকভাবে অনেকটাই বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। ফলে তারা তাদের পেশায় পরিপূর্ণ মনোযোগ প্রদান করতে ব্যর্থ হয়। তাই চালক যাতে তার পেশার প্রতি পরিপূর্ণ মনোযোগ দিতে পারে, সে ব্যবস্থাটি করতে হবে। এসবের পাশাপাশি সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সরকারকে বিকল্প যানবাহনের দিকে (ট্রেন, মেট্রোরেল, বিআরটি) নজর দিতে হবে। বিকল্প যানবাহনের পরিমাণ ও সুবিধা বৃদ্ধি করতে হবে যেন জনসাধারণ সেসবের প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠে। এতে রাজপথে যানবাহনের চাপ অনেকাংশেই লাঘব হবে। সড়ক দুর্ঘটনা কমানোর উদ্দেশ্যে লাইসেন্সবিহীন গাড়ি চালানোর অনুমতি প্রদান থেকে প্রশাসনকে বিরত থাকতে হবে। উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ব্যতীত এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া কেউ যেন গাড়ি চালাতে না পারে সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। কোনো গাড়িতে যেন ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী তোলা না হয় সে বিষয়ে প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ জনগণকেও সচেতনতার পরিচয় দিতে হবে। কোনো ড্রাইভার যদি নির্ধারিত স্পিডের চেয়ে অতিরিক্ত স্পিডে গাড়ি চালায় তাহলে তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে। এ ছাড়া চালককে দ্রুত গাড়ি চালাতে মানসিক চাপ সৃষ্টি থেকে বিরত থাকতে হবে। যাত্রী বহনের অনুপযুক্ত যেসব গাড়ি সেগুলোকে বাজেয়াপ্ত ঘোষণা করতে হবে। পাশাপাশি নিয়মিত পরিচর্যা করে সড়ককে যান চলাচলের উপযোগী রাখতে হবে। এতে দেশে সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাস পাবে এবং সাধারণ জনগণও দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পেয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলবে।