সাহিত্য

শেখ হাসিনার লেখার জগৎ

অধ্যাপক ড. মিল্টন বিশ্বাস
বঙ্গবন্ধুকন্যা, লোকায়ত মানুষের কণ্ঠে উচ্চারিত ‘শেখের বেটি’ শেখ হাসিনা (১৯৪৭-) আমাদের প্রজন্মের কাছে কিংবদন্তির নেত্রী। কেবল রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নন তিনি; তাঁর রয়েছে একাধিক প্রকাশিত গ্রন্থ। লেখক হিসেবেও তিনি খ্যাতিমান। দেশ ও জাতি নিয়ে তাঁর ভাবনার প্রকাশ ঘটে প্রধানত প্রবন্ধে-নিবন্ধে। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ হলো ‘ওরা টোকাই কেন’, ‘বাংলাদেশে স্বৈরতন্ত্রের জন্ম’, চবড়ঢ়ষব ধহফ উবসড়পৎধপু, ‘আমরা জনগণের কথা বলতে এসেছি’, ‘বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’ (সম্পাদনা), ‘সহে না মানবতার অবমাননা’, উবসড়পৎধপু রহ উরংঃৎবংং উবসবধহবফ ঐঁসধহরঃু, খরারহম রহ ঞবধৎং, উবসড়পৎধপু চড়াবৎঃু ঊষরসরহধঃরড়হ ধহফ চবধপব, ‘বিপন্ন গণতন্ত্র, লাঞ্ছিত মানবতা’, ‘দারিদ্র্য দূরীকরণ : কিছু চিন্তাভাবনা’, ‘সাদা কালো’, ‘সবুজ মাঠ পেরিয়ে’, ‘শেখ মুজিব আমার পিতা’ প্রভৃতি।
‘শেখ মুজিব আমার পিতা’সহ শেখ হাসিনার একাধিক গ্রন্থে পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের কথা উচ্চারিত হয়েছে। কেবল পিতা নন একজন রাজনীতিবিদ ও সফল রাষ্ট্রনায়কের ভিন্ন দিক নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গিতে বিশ্লেষণ করেছেন তিনি। ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্টের জঘন্য হত্যাকা-ের ঘটনাকে দেখেছেন নানানভাবে। রাষ্ট্র, ষড়যন্ত্র আর এদেশীয় সমাজ সবই তাঁর নখদর্পণে। দুটি অংশ স্মরণীয়Ñ
ক. ’৭৫-এর ১৫ আগস্ট আমার সকল স্বজন, সকল আপন, সকল বন্ধনই যেন নিঃশেষ হয়ে গেছে। আমি আর আমার ছোট বোন রেহানা তখন জার্মানিতে। সে সময় সেখানে ছিলো আমার স্বামীর কর্মস্থল। সেই প্রবাসে বসেই সংবাদ পেলাম বঙ্গবন্ধু, আমার বাবা শেখ মুজিব আর জীবিত নেই। নেই আমার তিন ভাই, নবপরিণীতা দুই বধূ, আমার স্নেহময়ী মা, আর পরিবারের অন্য স্বজনরা। নেই কর্নেল জামিল। এ শোকের বর্ণনা দেয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয়। প্রিয় পাঠক, আমার এ দৈন্যতা ক্ষমা করুন। (একানব্বইয়ের ডায়েরি থেকে, বাংলাদেশে স্বৈরতন্ত্রের জন্ম, ১৯৯৩ : ৮৬-৮৭)
খ. সব হারিয়ে এমন বেঁচে থাকতে তো আমি চাইনি। এই যে প্রতিদিন পলে পলে দগ্ধ হওয়া, এই যে সকল হারানোর প্রচ- দাবদাহ সমস্ত অন্তরজুড়ে, এই যে তুষের আগুনের ধিকিধিকি জ্বলুনির জীবন, এ জীবন তো আমি চাইনি। এর চেয়ে মা, বাবা, ভাইদের সঙ্গে যদি আমিও চলে যেতে পারতাম, তবে প্রতিদিনের এই অসহনীয় যন্ত্রণা থেকে তো বেঁচে যেতাম। আমার জন্য সেটাই ভালো হতো। (বাংলাদেশে স্বৈরতন্ত্রের জন্ম, ১৯৯৩ : ৭৩)
শেখ হাসিনার অনেকগুলো গ্রন্থের বিভিন্ন প্রবন্ধে ১৫ আগস্ট বারবার মর্মস্পর্শী ঘটনা হিসেবে উল্লিখিত হয়েছে। তাঁর অনুভূতি কখনো ক্ষোভে আত্মপ্রকাশ করেছে, আবার কখনো বা আবেগসিক্ত হয়ে তিনি নিজেকেও পিতার মতোই দেশ ও জনগণের জন্য অকাতরে নিবেদন করতে চেয়েছেন।
শেখ হাসিনার বিভিন্ন গ্রন্থে তিনি তাঁর রাজনৈতিক জীবনে যেসব ঘটনা যখন যেভাবে চোখে পড়েছে, অনুভব করেছেন, সেভাবে লেখার চেষ্টা করেছেন। তাঁর ভাষায় : ‘আমি রাজনীতি করি এদেশের মানুষকে ভালোবেসে। দেশের শহর, গ্রাম যেখানেই আমি সফরে যাই মানুষের দুঃখ-কষ্ট মনকে দারুণভাবে আচ্ছন্ন করে রাখে। প্রকৃতির কাছে মানুষ যেমন অসহায়, আবার গোষ্ঠীস্বার্থের কাছেও মানুষ কত অসহায় নিগৃহীত, শোষিত। আমার এই রাজনৈতিক জীবনে এসব ঘটনা যখন যেভাবে চোখে পড়েছে, অনুভব করেছি, সেভাবে লেখার চেষ্টা করেছি।’ (বাংলাদেশে স্বৈরতন্ত্রের জন্ম, ভূমিকা)
শেখ হাসিনার স্মৃতিচারণ : ৩০ জুলাই আমি ঢাকা ছাড়লাম, আর ৩১ জুলাই আমি জার্মানি পৌঁছলাম। এর মাত্র পনেরো দিনের মধ্যে যে নারকীয় ঘটনা ঘটে গেল, আমি তার জন্য কখনও প্রস্তুত ছিলাম না। এতো বড় রোজকিয়ামত আমি কোনো দুঃস্বপ্নেও দেখিনি। এ আমি ভাবিনি। ১৫ তারিখে আমার বাবা, মা, তিন ভাই, চাচা, আত্মীয়স্বজন সবাইকে আমি হারালাম। ওই দিনটি আমার জন্য যেমন ছিল, এমন দিন যেন কারো জীবনে কখনোই না আসে। আমার ছোট বোন রেহানা তখন আমার সঙ্গেই জার্মানিতে ছিল। (ড. আবদুল মতিন চৌধুরী : আমার স্মৃতিতে ভাস্বর যে নাম, বাংলাদেশে স্বৈরতন্ত্রের জন্ম, ১৯৯৩ : ৭২-৭৩)
১৯৮১ সালের ১০ মে শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আসেন। প্রবাসের রাজনৈতিক আশ্রয়ের দিন শেষ হয় তাঁর। দেশে ফেরার প্রতিক্রিয়ায় তাঁর আবেগসিক্ত কত্থন : আমার দুর্ভাগ্য, সব হারিয়ে আমি বাংলাদেশে ফিরেছিলাম। লক্ষ মানুষের স্নেহ-আশীর্বাদে আমি সিক্ত হই প্রতিনিয়ত। কিন্তু যাঁদের রেখে গিয়েছিলাম দেশ ছাড়ার সময়, আমার সেই অতি পরিচিত মুখগুলো আর দেখতে পাই না। হারানোর এক অসহ্য বেদনার ভার নিয়ে আমাকে দেশে ফিরতে হয়েছিল।…(ড. আবদুল মতিন চৌধুরী : আমার স্মৃতিতে ভাস্বর যে নাম, বাংলাদেশে স্বৈরতন্ত্রের জন্ম, ১৯৯৩ : ৭৪)
১৯৮৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে একাধিক বার বন্দি অবস্থায় নিঃসঙ্গ মুহূর্ত কাটাতে হয়েছে তাঁকে। তিনি লিখেছেন : ‘দেশ ও জনগণের জন্য কিছু মানুষকে আত্মত্যাগ করতেই হয়, এ শিক্ষাদীক্ষা তো আমার রক্তে প্রবাহিত। ১৫ আগস্ট ১৯৭৫-এর পর প্রবাসে থাকা অবস্থায় আমার জীবনের অনিশ্চয়তা ভরা সময়গুলোয় আমি তো দেশের কথা ভুলে থাকতে পারিনি। ঘাতকদের ভাষণ, সহযোগীদের কুকীর্তি সবই তো জানা যেত।’ (নূর হোসেন, ওরা টোকাই কেন, ১৯৮৯ : ৫৩)
১৫ আগস্ট-পরবর্তী স্বৈরতন্ত্র
১৫ আগস্ট-পরবর্তী স্বৈরতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা সম্পর্কে তিনি একাধিক স্থানে তাঁর মতামত ব্যক্ত করেছেন। বঙ্গবন্ধুকে কেন্দ্র করেই তাঁর এসব অভিমতÑ ‘১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট ঘাতকের দল ১৯৭১-এর পরাজয়ের প্রতিশোধ নিল জাতির জনককে নির্মম-নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করে। মাত্র ৩ বছর ৭ মাস এদেশের মানুষ সত্যিকার গণতন্ত্রের স্বাদ পেয়েছিল। তারপর শুরু হলো ষড়যন্ত্রের রাজনীতি।’ (নূর হোসেন, ওরা টোকাই কেন, ১৯৮৯ : ৫৭)
মুজিববিহীন বাংলাদেশ
বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে নস্যাৎ করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর আপসহীন সংগ্রামী ভূমিকা যেখানে নতুন প্রজন্মের কাছে আদর্শ হওয়ার কথা ছিল তার পরিবর্তে সেখানে হত্যাকারী সামরিক জান্তার অপকর্মের মহিমাকীর্তি প্রশংসিত হয়েছে। এসব পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করেছেন শেখ হাসিনা। ১৯৭৫-এর ১৫ই আগস্ট ঘাতকের নির্মম বুলেটে আমার মা, বাবা, ভাই ও আত্মীয়-পরিজন অনেককে হারাই। দেশ ও জাতি হারায় তাদের বেঁচে থাকার সকল সম্ভাবনা, আশা-আকাক্সক্ষার স্বাধীনসত্তা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। ঘাতকের দল বাংলার প্রাণকেন্দ্র ঢাকা থেকে সরিয়ে সেই মহাপুরুষকে নিভৃতে পল্লীর মাটিতেই কবর দিয়েছে। ইতিহাসের পাতা থেকে তাঁকে মুছে ফেলার ব্যর্থ প্রয়াস চালিয়েছে; কিন্তু পেরেছে কি? (স্মৃতির দখিন দুয়ার, ওরা টোকাই কেন, ১৯৮৯:১২)
মুজিববিহীন বাংলাদেশের আজ কী অবস্থা?
বঙ্গবন্ধু মুজিবের সারা জীবনের সাধনা ছিল শোষণহীন সমাজ গঠন। ধনী দরিদ্রের কোনো ব্যবধান থাকবে না। প্রতিটি মানুষ জীবনের ন্যূনতম প্রয়োজন আহার, কাপড়, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা ও কাজের সুযোগ পাবে। সারাবিশ্বে বাঙালি জাতির স্বাধীন সত্তাকে সম্মানের সঙ্গে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে তিনি চেয়েছিলেন। … কিন্তু আমরা কী দেখি, বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেই ঘাতকরা ক্ষান্ত হয়নি বরং তারা আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে পর্যন্ত বিকৃত করে ফেলেছে। বঙ্গবন্ধুর অবদান খাটো করা হচ্ছে। ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার ঘৃণ্য চক্রান্ত চলছে।
বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, মূল্যবোধ, আদর্শ উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যকে সম্পূর্ণভাবে বিসর্জন দেয়া হলো। (ইতিহাসের জঘন্যতম হত্যাকা-, বাংলাদেশে স্বৈরতন্ত্রের জন্ম, ১৯৯৩: ৫৮-৫৯)
১৫ আগস্টের হত্যাকা- ও সেনাবাহিনী
১৫ আগস্ট হত্যাকা-ে সেনাবাহিনীর সম্পৃক্ততা সম্পর্কে লেখক শেখ হাসিনা তাঁর বিশ্লেষণ উপস্থাপন করেছেন ‘বঙ্গবন্ধু ও তাঁর সেনাবাহিনী’ প্রবন্ধে।
ক. ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট এদেশে সূচনা করা হয়েছে হত্যার রাজনীতি। অন্যায়ভাবে অস্ত্রশক্তির মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করে রাজনীতিতে আগত দুশ্চরিত্র কতিপয় ব্যক্তিকে নিয়ে ক্ষমতা ভাগাভাগির এক অশুভ প্রক্রিয়া চলছে। পর্যায়ক্রমে সেনাবাহিনীকে ব্যবহারের ধারাও এক্ষেত্রে অব্যাহত রয়েছে। ক্ষমতার লড়াইয়ে এক-একটি সামরিক অভ্যুত্থানে যেমনি প্রাণ দিতে হয়েছে বীর সৈনিকদের তেমনি সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক অধিকারের সংগ্রামে গত এক দশকে শহীদ হয়েছে বহু ছাত্র-জননেতৃবৃন্দ। (বঙ্গবন্ধু ও তাঁর সেনাবাহিনী, ওরা টোকাই কেন, ১৯৮৯: ২৪)
খ. ১৫ আগস্টের হত্যার দায়িত্বের বোঝা তাদের (সেনাবাহিনীকে) বয়ে বেড়াতে হচ্ছে। ক্ষমতাসীনচক্র খুনিদের বিদেশি দূতাবাসে চাকরি দিয়ে তাদের পুরস্কৃত করেছে। বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিচার আজও হয়নি বলেই হত্যার দায়িত্ব সেনাবাহিনীর কাঁধে চেপে আছে। সেনাবাহিনীর শৃঙ্খলার কারণেও এই হত্যাকা-ের বিচার বাঞ্ছনীয় ছিল। আসলে ক্ষমতাসীনরা সেনাবাহিনীকে ক্ষমতা দখলের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের কারণেই খুনিদের বিচার করতে চায় না। সেনাবাহিনীর ওপর এই দায়িত্ব চাপিয়ে রাখতে চায়। (বঙ্গবন্ধু ও তাঁর সেনাবাহিনী, ওরা টোকাই কেন, ১৯৮৯: ২৬)
উপরের মন্তব্যগুলো যে সময় লেখা সেই সময় আমরা অতিক্রম করে এসেছি, সেই হতাশার কালও। বর্তমানে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকা-ের বিচার সম্পন্ন হয়ে রায় কার্যকর করা হয়েছে। তবে কয়েকজন হন্তারক এখনো বিদেশে পলাতক।
নিম্নবর্গের চেতনায় জাতির জনকের হত্যাকা-
নিম্নবর্গের চেতনায় শেখ হাসিনা লক্ষ্য করেছেন বঙ্গবন্ধু হত্যাকা-ের প্রতিক্রিয়া। ১৯৮৮ সালের বন্যার সময় বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকা পর্যবেক্ষণ করে তাঁর অভিজ্ঞতার দিগন্ত প্রসারিত হয়। গোপালগঞ্জের বর্নি এলাকায় বৃদ্ধা রহিমা খাতুন তাঁর দেখা পেয়ে বলেছেন : ‘কই মা কই, ওরে আমারে একটু দেহা।’ তিনি কাছে গেলে মাথা ও মুখে হাত বুলিয়ে আক্ষেপের সুরে বলেছেন : বাবারে মারছে, আহা এমন মানুষটারে মাইরা ফ্যালালো, বিচারও করল না। খুনিগো বিচার করল না, তাই খোদার গজব আইছে। বান ডাকছে। খোদার আরস কাঁইপা গেছে।’… ‘এলাকার বিভিন্ন জায়গায় মানুষ একটা কথা বারবার বলে, ‘এল খোদার গজব। আমাদের রাজাকে মারছে, এমন ভালো মানুষটাকে মারল, আমাদের দরদিকে মারল, তার বিচার করলে না, আল্লাহ গজব দিছে।’ (বন্যাদুর্গত মানুষের সঙ্গে, ওরা টোকাই কেন, ১৯৮৯: ৩৯-৪০)
বঙ্গবন্ধু হত্যাকা-ের সুদূরপ্রসারী অভিঘাত
বঙ্গবন্ধুর হত্যাকা- কেবল দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে নষ্ট করেনি বরং চক্রান্তকারীরা সক্রিয় থেকে ২০০১ সালের অক্টোবরের নির্বাচনেও প্রভাব ফেলেছে। শেখ হাসিনার ইংরেজি গ্রন্থে এসব প্রসঙ্গ উপস্থাপিত হয়েছে। যেমন ঈৎরসবং অমধরহংঃ ঐঁসধহরঃু, উবসড়পৎধপু চড়াবৎঃু ঊষরসরহধঃরড়হ ধহফ চবধপব এবং ওহংঁভভবৎধনষব রং ঃযরং ফবভরষবসবহঃ ড়ভ যঁসধহরঃু (খরারহম রহ ঞবধৎং) স্মরণীয়। বঙ্গবন্ধু হত্যাকা-ে স্বাধীনতা বিরোধীদের ভূমিকা ছিলÑ
টহভড়ৎঃঁহধঃবষু, ধ যধহফভঁষ ড়ভ যরমযষু ধসনরঃরড়ঁং সরষরঃধৎু ড়ভভরপবৎং রিঃয ঃযব যবষঢ় ড়ভ ঃযব ধহঃর-ষরনবৎধঃরড়হ ভড়ৎপবং শরষষবফ ড়ঁৎ মৎবধঃ ষবধফবৎ, ভধঃযবৎ ড়ভ ঃযব হধঃরড়হ, ইধহমধনধহফযঁ ঝযবরশয গঁলরনঁৎ জধযসধহ ড়হ ১৫ অঁমঁংঃ ১৯৭৫, ধষড়হম রিঃয বরমযঃববহ সবসনবৎং ড়ভ যরং ভধসরষু. ঞযবু ঃৎরবফ ঃড় ঢ়ঁঃ ঃযব পড়ঁহঃৎু নধপশধিৎফ ধহফ ৎবংঁংপরঃধঃব ঃযব ফরংপধৎফবফ ড়ষফ রফবধষং. ঞযবু ৎবঃধৎফবফ ঃযব ঢ়ড়ষরঃরপধষ ধহফ বপড়হড়সরপ ফবাবষড়ঢ়সবহঃ ড়ভ ঃযব পড়ঁহঃৎু ধহফ ংবাবৎবষু যধহফরপধঢ়ঢ়বফ ঃযব হধঃরড়হ. (উবসড়পৎধপু ঐঁসধহ জরমযঃং ধহফ ঝবপঁৎরঃু ঞযৎবধঃং, উবসড়পৎধপু চড়াবৎঃু ঊষরসরহধঃরড়হ ধহফ চবধপব, ২০০৫: ৭০)
বঙ্গবন্ধু হত্যাকা-ের পর নিজের শান্তি প্রচেষ্টার কথা জানিয়েছেন শেখ হাসিনা। বঙ্গবন্ধু নিজে নিরন্তর শান্তির স্বপক্ষে কাজ করেছেন। পিতাকেই তিনি স্মরণ করেছেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কথা বলার সময় তিনি বঙ্গবন্ধু হত্যাকা-ের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেছেন যৌক্তিক কারণে। ঞযব ঈড়হপবঢ়ঃ ড়ভ ঃযব ঈধৎবঃধশবৎ এড়াবৎহসবহঃ, চবড়ঢ়ষব ধহফ উবসড়পৎধপু রচনায় তার সাক্ষ্য রয়েছে। অবৈধ ও অসাংবিধানিক ক্ষমতা চর্চার ধারা সম্পর্কে তাঁর অভিমত হলো, জেনারেল জিয়াউর রহমানের আমল থেকে এই ধারা বেগবান হয়। জিয়ার শাসনকাল ছিল হত্যার ঘটনায় ভরপুর।
২০০১ এর নির্বাচনোত্তর পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনা জানতে পেরেছিলেন জাতির পিতার মতো তাঁকেও মৃত্যুবরণ করতে হতে পারে। বিএনপি-জামায়াত সেই চেষ্টা করেছিল একাধিকবার। ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা ছিল সেই প্রচেষ্টার ভয়ঙ্করতম ঘটনা। যদিও তারা সেদিন নেত্রীকে হত্যা করতে ব্যর্থ হয়েছিল। বস্তুত শেখ হাসিনা রাজনৈতিক মঞ্চে ব্যক্তিগত আবেগকে উপস্থাপনে সংযত থাকেন কিন্তু তাঁর গ্রন্থসমূহে বঙ্গবন্ধুকে কেন্দ্র করে নানা কথার ভেতর ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্টের ঘটনা ও তার ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ায় তিনি আবেগসিক্ত তবে যুক্তিবাদী ও স্পষ্টকথনে প্রজ্ঞাবান। বিশ্বখ্যাত তথা জগদ্বরেণ্য রাজনীতিবিদ হয়েও তিনি বিচিত্র বিষয়ে গ্রন্থ রচনায় সিদ্ধহস্ত। তাঁর রচিত প্রবন্ধ বিষয়ক গ্রন্থগুলো পাঠ করলেই তা উপলব্ধি করা যায়। বঙ্গবন্ধুকে জানতে হলে, শেখ হাসিনাকে বুঝতে হলে, তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা এবং আর্থসামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রত্যয় সম্পর্কে ধারণা পাওয়ার জন্য বারবার তাঁর গ্রন্থ পাঠ জরুরি। নতুন প্রজন্মের নেতা-নেত্রীকে তাঁর জীবন ও গ্রন্থের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক দীক্ষা নিতে হবে। মূলত গ্রন্থগুলোর বঙ্গবন্ধুকেন্দ্রিক মতামত, বিশ্লেষণ সবই আমাদের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ অস্তিত্বের জন্য অত্যাবশ্যক।
লেখক : অধ্যাপক
বাংলা বিভাগ এবং পরিচালক
জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তর
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়