প্রতিবেদন

১৮ গুণীজন পাচ্ছেন স্বাধীনতা পুরস্কার

নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশ ও জাতির কল্যাণে গৌরবোজ্জ্বল অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৮ সালের স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন ১৮ গুণীজন। বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনন্য ভূমিকার জন্য রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ এই সম্মাননাপ্রাপ্তদের তালিকায় রয়েছেন সাবেক স্পিকার প্রয়াত হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী, শহীদ সার্জেন্ট জহরুল হক, কথাশিল্পী সেলিনা হোসেনসহ প্রয়াত ও জীবিত ১৬ বরেণ্য ব্যক্তিত্ব। এবারের মনোনীতদের মধ্যে দশজনই মরণোত্তর এ পুরস্কার পাচ্ছেন। আগামী ২৫ মার্চ রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতা পুরস্কার তুলে দেবেন সম্মাননাপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও তাদের স্বজনদের হাতে। পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের ১৮ ক্যারেট মানের পঞ্চাশ গ্রাম স্বর্ণের পদক, পদকের একটি রেপ্লিকা, ৩ লাখ টাকা ও একটি সম্মাননাপত্র প্রদান করা হবে।
স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য এবার মোট ১২ জনকে দেয়া হচ্ছে স্বাধীনতা পুরস্কার। এই ক্যাটাগরিতে মরণোত্তর এ সম্মাননা পাচ্ছেন সাবেক স্পিকার হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি দিল্লীতে বাংলাদেশ মিশনের প্রধান হিসেবে অনন্য ভূমিকা রেখেছিলেন। এই খ্যাতনামা কূটনীতিবিদ ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল জাতীয় সংসদে স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৬ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৪১তম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করার গৌরব অর্জন করেছিলেন।
স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য পদকপ্রাপ্ত তালিকায় আছেন দেশের জন্য প্রাণ দেয়া শহীদ বুদ্ধিজীবী এম এম এ রাশীদুল হাসান। স্বাধীনতার পক্ষে সোচ্চার অবস্থানে একাত্তরের ১৪ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে এই শিক্ষককে ধরে নিয়ে যায় মুখোশধারী পাক হানাদার বাহিনীর সহযোগীরা। এই শাখায় সম্মাননাপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছে বঙ্গবন্ধুর সহচর সাবেক সংসদ সদস্য শংকর গোবিন্দ চৌধুরী। মুক্তিযুদ্ধের এই সংগঠক সত্তরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭৫ সালে তিনি নাটোরের গভর্নর নিযুক্ত হন। একই শাখায় সম্মাননাপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক সাবেক সাংসদ এম আব্দুর রহিম ও আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার অন্যতম আসামি ভূপতি ভূষণ চৌধুরী। একই ক্যাটাগরিতে মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন শহীদ লেফটেন্যান্ট মো. আনোয়ারুল আজিম, শহীদ আমানুল্লাহ মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান, শহীদ মতিউর রহমান মল্লিক, শহীদ সার্জেন্ট জহরুল হক ও কাজী জাকির হাসান। সাবেক বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল সুলতান মাহমুদ বীর উত্তম ও সাবেক কূটনীতিক আমজাদুল হকও স্বাধীনতা মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য এ পুরস্কার পাচ্ছেন।
এছাড়া সাহিত্যে এ সম্মাননা পাচ্ছেন কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন, চিকিৎসাবিদ্যায় অধ্যাপক ডা. এ কে এমডি আহসান আলী, সমাজসেবায় অধ্যাপক এ কে আজাদ খান এবং খাদ্য নিরাপত্তায় ড. মো. আব্দুল মজিদ এবার স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন।
উল্লেখ্য, স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ২৬ মার্চ, ১৯৭৭ সাল থেকে সরকারের পক্ষ থেকে প্রতি বছর এ পুরস্কার দেয়া হচ্ছে।