Uncategorized প্রচ্ছদ প্রতিবেদন

ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত বিশাল সমাবেশে সভাপতির ভাষণে শেখ হাসিনা জাতির পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে অর্থনৈতিক উন্নয়নে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ

হাফিজ আহমেদ
৭ মার্চের বঙ্গবন্ধুর ভাষণ ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেরণার উৎস। ইউনেস্কোর মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টার-এ বিশ্বের অমূল্য প্রামাণ্য দলিলে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ কিছু ভাষণের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত এখন বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণার মাত্র ১৮ দিন আগে রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু যে ভাষণ দিয়েছিলেন, তাতেই অনানুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয়। সমগ্র বাঙালি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছিলেন। মূলত ৭ মার্চের পর থেকেই বাঙালিরা যে স্বতন্ত্র, পূর্ব-পাকিস্তান যে পাকিস্তানের অংশ নয়, তা প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ভাষণে বঙ্গবন্ধুর দৃপ্ত ঘোষণা ৭ কোটি মানুষকে দাবায়ে রাখতে পারবা নাÑ সত্য হয়েছিল ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাঙালির বিজয়ের মধ্য দিয়ে। এ ভাষণের সুর অনুসরণ করেই এক নতুন রেনেসাঁর প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছিল। নির্দ্বিধায় বলা যায়, বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ স্বাধীনতার প্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছিল বাঙালি জাতির হৃদয়ে। ৪৭ বছরেও এতটুকু আবেদন কমেনি মাত্র ২২ মিনিটের কালজয়ী ওই ভাষণের। কাকডাকা ভোর থেকে দেশের প্রতিটি অলিগলি, পাড়া-মহল্লায় বেজেছে ঐতিহাসিক ৭ই মার্চে দেয়া জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কালজয়ী বজ্রনির্ঘোষ ভাষণটি। ‘ভাইয়েরা আমার..,’ এ দু’টি শব্দ দিয়ে শুরু করা বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা সংবলিত ঐতিহাসিক অমিততেজি ও শিহরণ জাগানিয়া এ ভাষণটি শুনে দেশের মানুষ নতুন করে উজ্জীবিত হয়েছেন দেশপ্রেমে, শপথ নিয়েছেন স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তিকে পরাভূত করার, অঙ্গীকার করেছেন জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসমুক্ত উন্নত দেশ গড়ার। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদন, স্মৃতিচারণ, দোয়া ও মিলাদ মাহফিল, কনসার্ট, শোভাযাত্রা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা এবং সন্ত্রাস-নাশকতা ও জঙ্গিবাদমুক্ত অসাম্প্রদায়িক চেতনার বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধুর কালজয়ী ভাষণের ৪৭তম বর্ষপূর্তি পালিত হয়েছে।
বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাসে অবিস্মরণীয় গৌরবের অনন্য দিন ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ দিবসটি উপলক্ষে ৭ মার্চ ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে সর্বস্তরের জনতার ঢল নামে। বঙ্গবন্ধুর সেই জগৎখ্যাত ভাষণকে স্মরণ করে ধানমন্ডিতে অবস্থিত তাঁর প্রতিকৃতি ফুলে ফুলে ভরে যায়। আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠন, স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রী এবং সর্বস্তরের মানুষের উপস্থিতিতে বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে।
২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো জাতির পিতার ৭ মার্চের ভাষণকে বিশ্ব ইতিহাসের অমূল্য প্রামাণ্য দলিল হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে সংস্থাটির মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টার-এ অন্তর্ভুক্ত করায় এবারের ৭ মার্চ এক ভিন্ন উদ্দীপনা নিয়ে আসে সকলের মাঝে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজন করে এক বিশাল সমাবেশের। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চে বঙ্গবন্ধুর ভাষণের মতো ২০১৮ সালের ৭ মার্চেও বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার ভাষণ শোনার জন্য সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে হাজির হয় কয়েক প্রজন্মের লাখো মানুষ।
দুপুর ১২টার দিকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মূল মঞ্চ থেকে ঘোষণা দিয়ে জানানো হয় সমাবেশস্থল পূর্ণ হয়ে গেছে। তাই মূল সমাবেশস্থলের বাইরেও আরো অনেক লোক সমাগমের সৃষ্টি হয়। শাহবাগ, নীলক্ষেত, দোয়েল চত্বরসহ বিভিন্ন পথে যেন জনস্রোত নামে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অভিমুখে। শাহবাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কলাভবন এলাকা, টিএসসি, বাংলা একাডেমি, দোয়েল চত্বর, হাইকোর্ট, প্রেসক্লাব সংলগ্ন এলাকাগুলোও কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়।
লাল-সবুজের টি-শার্ট ও মাথায় ক্যাপ পরে পায়ে হেঁটে বা পিকআপ ভ্যান, ট্রাক ও বাসযোগে বিভিন্ন সড়ক ধরে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দিকে দলে দলে ছুটে আসেন ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন এবং আশপাশের জেলাগুলো থেকে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, যুব মহিলা লীগ, শ্রমিক লীগের নেতাকর্মী-সমর্থক, আর জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ। রঙ-বেরঙের পোশাক পরে আসে দলে দলে লোক, প্রায় প্রতিটি নেতাকর্মীর হাতে শোভা পায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের ছবি ও স্লোগান-সংবলিত নানান রঙের ব্যানার, ফেস্টুন, প্লাকার্ড এবং আওয়ামী লীগের নির্বাচনি প্রতীক ছোট ছোট নৌকার প্রতিকৃতি।
ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে আয়োজিত এ সমাবেশ আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শুরু হয়। সমাবেশ পরিচালনায় ছিলেন দলের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ এবং সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল। পবিত্র ধর্মগ্রন্থগুলো পাঠের মাধ্যমে বিশাল সমাবেশের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। এর আগে জনসভা মঞ্চে সকাল থেকেই বঙ্গবন্ধুর ভাষণ, দেশাত্মবোধক গান বাজানো হয়। জনসভা শুরুর আগে দলের এমপি মমতাজ সংগীত পরিবেশন করেন।
ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দেয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পদাঙ্ক অনুসরণ করে আর্থসামাজিক উন্নয়নসহ সব ধরনের উন্নয়নে সঠিক পথে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। স্বাধীনতাবিরোধী ও যুদ্ধাপরাধী শক্তি আর কখনোই এদেশের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এসে দেশের উন্নয়ন ও প্রগতির ধারাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না। যারা মানবতাবিরোধী কাজ করেছে, যারা এ দেশের মানুষকে হত্যা করেছে, লুটপাট করেছে, অগ্নিসংযোগ করেছে, মা-বোনদের ইজ্জত লুটেছে এবং তাদের পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে তুলে দিয়েছে, তাদের ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবেÑ এই খুনিরা যেন আর কোনোদিন ক্ষমতায় আসতে না পারে, দেশকে আর যেন ধ্বংস করতে না পারে। যারা স্বাধীনতায়, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় এবং দেশের উন্নয়নে বিশ্বাস করেন, তারা এ ব্যাপারে সজাগ থাকবেন।
ভাষণের এই পর্যায়ে শেখ হাসিনা বলেন, যারা এতিমের টাকা চুরি করে, দেশের টাকা বিদেশে পাচার করে, যারা দেশের মানুষকে হত্যা করে, আগুন দিয়ে মানুষ পোড়ায়, ২৭ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যকে হত্যা করেÑ এদের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আর যে উন্নয়নের কাজ আমরা করেছি, সাধারণ মানুষের কাছে সেটা তুলে ধরতে হবে। আমাদের নেতাকর্মী যারা আছে তাদের আমি এই আহ্বান জানাবোÑ আপনারা গ্রামে-গঞ্জে প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় আমাদের উন্নয়ন কর্মকা-কে জনগণের কাছে তুলে ধরবেন।
ভবিষ্যতে যে কাজ আমরা করব সেটাও মানুষের কাছে তুলে ধরবেন উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা মেট্রোরেল তৈরি করছি, কর্নফুলী নদীর তলদেশে টানেল তৈরি করছি, মানুষের জন্য ঘর-বাড়ি তৈরি করে দিচ্ছি। একটা মানুষও আজকে কুঁড়েঘরে বসবাস করে না। জাতির পিতার গুচ্ছগ্রাম প্রকল্প এবং তাঁর সরকারের আশ্রয়ণ প্রকল্প এবং গৃহায়ন তহবিল থেকে এসব বাড়িঘর নির্মাণ করে দেয়া হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী এ সময় তাঁর সরকারের শাসনামলে দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের তথ্য তুলে ধরে উন্নয়নের এই ধারা যেন বজায় থাকে তা নিশ্চিত করার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান। শেখ হাসিনা বলেন, আজকের বাংলাদেশ জাতির পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে ধাপে ধাপে এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা আজকে মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে সারাবিশ্বে সম্মান পেতে যাচ্ছি। শিগগিরই বাংলাদেশ এই সম্মান পাবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা কারো কাছে মাথা নত করে চলব না, বিশ্বসভায় মর্যাদার সাথে চলব। জাতির পিতা আমাদের সেই শিক্ষাই দিয়ে গেছেন।
প্রধানমন্ত্রী সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে তাঁর সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির কথা পুনরুল্লেখ করে বলেন, এই সভায় যারা আছেন, সারা বাংলাদেশের সবার কাছে আমার আহ্বান থাকবে এই বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস এবং মাদক যাতে আমাদের যুব সমাজকে নষ্ট করতে না পারে, তার জন্য আপনারা সজাগ থাকবেন। আজকে আওয়ামী লীগ সরকার থাকায় দেশের যে উন্নয়ন হচ্ছে তেমনটি জিয়া, খালেদা বা এরশাদ ক্ষমতায় থাকার সময় হয়নি। কারণ তারা দেশের স্বাধীনতাতেই বিশ্বাস করত না, তারা যুদ্ধাপরাধীদের নিয়েই রাষ্ট্র চালাতে চাইত। যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতাই চায়নি, তারা দেশের উন্নয়ন করবে কেন?
হত্যার বিচার যে কেউ চাইতে পারলেও আমাদের সে বিচার চাওয়ার কোনো অধিকার ছিল না উল্লেখ করে বাষ্পরুদ্ধ কণ্ঠে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতার মৃত্যুর পর ৬ বছর পর্যন্ত আমাদের দেশে আসতে দেয়া হয়নি। ১৯৮১ সালে দেশে ফিরে থানায় মামলা করতে গেলে সে মামলা নেয়া হয়নি। কারণ ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স জারি করে জিয়া জাতির পিতার বিচারের পথকে রুদ্ধ করে রেখেছিলেন। উপরন্তু জিয়াউর রহমান বিশ্বের বিভিন্ন দূতাবাসে বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনিদের চাকরি দিয়ে পুরস্কৃত করেন।
প্রধানমন্ত্রী এ সময় সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়ার মৃত্যুর পর তার কিছুই ছিল না, কেবল ভাঙা স্যুটকেস আর ছেঁড়া গেঞ্জি রেখে গিয়েছেন বলে বিএনপি যে অপপ্রচার চালিয়েছিল তারও তীব্র সমালোচনা করেন। প্রধানমন্ত্রী জিয়া পরিবারের বিত্তবৈভবের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, তাহলে ভাঙা স্যুটকেস কি জাদুর বাক্স হয়ে গেছে, আর ছেঁড়া গেঞ্জি থেকে ফ্রেঞ্চ শিফন বের হচ্ছে (খালেদা জিয়ার দামি শাড়ি)। কিন্তু দেশের মানুষের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি, তারা করেনি।
প্রধানমন্ত্রী এ সময় তথাকথিত আন্দোলনের নামে ২০১৩, ২০১৪ এবং ২০১৫ সালে বিএনপির সন্ত্রাস, নৈরাজ্য এবং আগুন দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে হত্যার কঠোর সমালোচনা করে একে খালেদা জিয়ার আগুন দিয়ে মানুষ পোড়ানোর উৎসব বলে উল্লেখ করেন।
দেশ স্বনির্ভরতার পথে এগিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী এ সময় ১০ লাখের অধিক রোহিঙ্গা শরণার্থীকে বাংলাদেশে আশ্রয় প্রদানে তাঁর সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরে বলেন, মিয়ানমারের জনগণের ওপর অকথ্য অত্যাচার হওয়ায় প্রায় ১০ লাখের ওপর মানুষ বাংলাদেশে আশ্রয় চেয়েছে। মানবিক কারণে তাদেরকে সরকার আশ্রয় দিয়েছে। রিলিফ এবং থাকার ব্যবস্থাও সরকার করে দিচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের আশ্রয়দানের কারণ সম্পর্কে বলেন, একাত্তরের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় যখন আমাদের দুর্দিন ছিল পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর কারণে আমাদের ১ কোটি শরণার্থী ভারতের মাটিতে আশ্রয় গ্রহণ করেছিল, সে কারণে তাদের আমরা আশ্রয় দিয়েছি, তাদের আমরা খাদ্য দিচ্ছি। এ সময় বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, আজকে সারাবিশ্ব বাংলাদেশের পক্ষে আছে, বাংলাদেশকে আজ তারা সম্মান ও সাধুবাদ জানাচ্ছেÑ কারণ আমরা মানবতার জন্য কাজ করি।
’৭৫-এ জাতির পিতাকে হত্যার পর নিষিদ্ধ থাকার পরও আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা এবং সাধারণ জনগণ বিভিন্ন বিশেষ দিবসে জীবনের ঝুঁকি নিয়েও বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ বাজিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ জন্য বাংলার জনগণকে স্যালুট জানাই। আজকে এই ভাষণ ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড মেমোরি রেজিস্টারে বিশ্বের অমূল্য প্রামাণ্য দলিল হিসেবে অন্তর্ভুক্তিতে সমগ্র বিশ্বে বাঙালি জাতির মর্যাদা বৃদ্ধি পেয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর এ ভাষণ ছিল তাঁর মনের কথা এবং চিন্তা থেকে উৎসারিত। এ ভাষণে ২৩ বছরে বাঙালির অত্যাচার-নির্যাতনের কথা যেমন উঠে এসেছে, তেমনি মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য কী কী করণীয় জাতির পিতা তাও বলে গিয়েছিলেন। এই ভাষণের মধ্য দিয়ে সমগ্র বাংলাদেশের মানুষ উদ্বুদ্ধ হয়েছিল এবং মুক্তিযুদ্ধ করে বিজয় অর্জন করে স্বাধীন জাতি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছিল। তাই বিশ্বের অন্য যেকোনো ভাষণের চেয়েও অনন্য এই ভাষণ।

প্রধানমন্ত্রীর ৫ সংস্থাকে ৭ মার্চের ভাষণের ইউনেস্কো প্রত্যয়নপত্র হস্তান্তর

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণকে স্বীকৃতিদানকারী ইউনেস্কো প্রত্যয়নপত্র ৫টি সংস্থার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ প্রত্যয়নপত্র হস্তান্তর করেন। সংস্থাগুলো হলো তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ, বাংলাদেশ বেতার, চলচ্চিত্র প্রকাশনা অধিদপ্তর, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ও বাংলাদেশ ফিল্মস আর্কাইভ।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এবং মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের পক্ষ থেকে জাদুঘরের ট্রাস্টিরা প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে প্রত্যয়নপত্র গ্রহণ করেন। চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম, সচিব মো. নাসির উদ্দিন আহমেদ ও চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ইশতিয়াক হোসেন প্রত্যয়নপত্র গ্রহণ করেন।
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও আইসিটি মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার, আইসিটি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক ও সচিব সুবির কিশোর চৌধুরী আইসিটি বিভাগের পক্ষ থেকে প্রত্যয়নপত্র গ্রহণ করেন।
বাংলাদেশ বেতারের পক্ষ থেকে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম, সচিব মো. নাসির উদ্দিন আহমেদ ও বাংলাদেশ বেতারের মহাপরিচালক নারায়ণ চন্দ্র শীল প্রত্যয়নপত্র গ্রহণ করেন।
তথ্যমন্ত্রী হাসানুল ইনু, প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম, সচিব মো. নাসির উদ্দিন ও বাংলাদেশ ফিল্মস আর্কাইভের মহাপরিচালক সচিন্দ্রনাথ হালদার বাংলাদেশ ফিল্মস আর্কাইভের পক্ষ থেকে প্রত্যয়নপত্র গ্রহণ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব নজিবুর রহমান অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশে ইউনেস্কোর প্রধান ও প্রতিনিধি বি কালদুন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রীবর্গ, সংসদ সদস্য, মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষাবিদ, সম্পাদক, লেখক, অভিনেতা, কণ্ঠশিল্পী, কবি, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সিনিয়র সাংবাদিকরা অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে জাতিসংঘের শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা-ইউনেস্কো বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণকে স্বীকৃতি দিয়ে বাংলাদেশের ৫টি প্রত্যয়নপত্র প্রেরণ করে। ইউনেস্কো মহাপরিচালক স্বাক্ষরিত প্রত্যয়নপত্রগুলো সম্প্রতি ফ্রান্সে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও ইউনেস্কোতে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি কাজী ইমতিয়াজ হোসেনের মাধ্যমে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করে। ইউনেস্কো এ প্রসঙ্গে ফ্রান্সে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের কাছে একটি চিঠিও পাঠায়। চিঠিতে ইউনেস্কোর ইউনিভার্সাল অ্যাক্সেস ও প্রিজারভেশন সেকশনের প্রধান বোয়ান রাদয়কভ বলেন, আমি আনন্দের সাথে আপনাকে জানাচ্ছি যে, গত ২৪ থেকে ২৭ অক্টোবর ২০১৭ সালে প্যারিসে ইউনেস্কো সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড কর্মসূচির আন্তর্জাতিক উপদেষ্টা কমিটির ১৩তম সভার সুপারিশক্রমে সংস্থার মহাপরিচালক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১৯৭১ সালে ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের লেখ্যপাঠ অনুমোদন করেছেন। চিঠিতে আরো বলা হয়, মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড রেজিস্টারে এই প্রামাণ্য ঐতিহ্য অন্তর্ভুক্তি এর ব্যতিক্রমধর্মী মূল্য প্রতিফলিত করে এবং এই তাৎপর্য তুলে ধরে যে মানবতার কল্যাণের জন্য এটি সংরক্ষণ করা উচিত। চিঠিতে বলা হয়, এটি সামষ্টিক স্মৃতির গুরুত্বের দিকে মনোযোগ দেয়ার চমৎকার সুযোগ প্রদান করে এবং এটি যত বেশি সংখ্যক সম্ভব লোককে ভাষণটি দেখার ও পড়ার সুযোগ করে দেয়ার রক্ষাকবচ।