প্রচ্ছদ প্রতিবেদন

খুলনার বিশাল জনসভায় শেখ হাসিনা উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে নৌকা মার্কায় ভোট দেয়ার উদাত্ত আহ্বান

মেজবাহউদ্দিন সাকিল
উন্নয়নের বার্তা দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ছড়িয়ে দিতে এবং ২ হাজার ৪১ কোটি টাকার ১০০টি প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ৩ মার্চ খুলনা সফর করেন। এ উপলক্ষে স্থানীয় আওয়ামী লীগ খুলনা সার্কিট হাউজ ময়দানে এক জনসভার আয়োজন করে। জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট দেয়ার উদাত্ত আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রী জনসভায় ভাষণ দেয়ার পূর্বে মঞ্চের পাশে তৈরি করা একটি বোর্ডে সুইচ টিপে ২ হাজার ৪১ কোটি টাকার ১০০টি প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এর মধ্যে ৬৭৫ দশমিক ৩৭ কোটি টাকার ৪৮টি
প্রকল্পের উদ্বোধন এবং ১ হাজার ৩৩৬ কোটি ৪ লাখ টাকার ৫১টি নতুন প্রকল্পের নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। এ সময় মুহুর্মুহু করতালিতে জনসভায় আসা মানুষ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।
এর আগে খালিশপুরের ঈদগাহ ময়দানে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে খুলনা নগরীতে ছিল সাজ সাজ রব। দ্বিতীয় মেয়াদে সরকার গঠনের পর এটি খুলনায় প্রধানমন্ত্রীর দ্বিতীয় সফর। এর আগে ২০১৫ সালে তিনি খুলনা শিপইয়ার্ডে এক অনুষ্ঠানে এসেছিলেন। সর্বশেষ জনসভায় ভাষণ দেন ২০১৩ সালে। সে হিসাবে দীর্ঘ ৫ বছর পর তিনি ৩ মার্চ খুলনার জনসভায় বক্তব্য রাখেন। প্রধানমন্ত্রীর আগমনে নগরজুড়ে তিনস্তরের নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করা হয়। সার্বিক নিরাপত্তায় মোতায়েন ছিল সাড়ে ৩ হাজার পুলিশ সদস্য। পাশাপাশি সাদা পোশাকে নিরাপত্তা রক্ষীরা দায়িত্ব পালন করেন। তিনটি স্থানে স্থাপিত ২৪টি সিসি ক্যামেরা নিয়ন্ত্রণ করে পুরো জনসভাস্থলকে।
বৃহত্তর খুলনাসহ বিভাগের ১০ জেলা ও গোপালগঞ্জ জেলা থেকেও জনসভায় লোক আসে। বিপুল মানুষের স্রোতে জনসভাটি রীতিমতো জনসমুদ্রে রূপ নেয়। প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় উপস্থিত থাকার কথা ছিল বেলা ৩টায়। কিন্তু সকাল ১০টা থেকেই বাগেরহাট, গোপালগঞ্জ ও সাতক্ষীরাসহ খুলনার আশপাশের জেলা থেকে নেতাকর্মীরা ব্যানার, ফেস্টুন ও নৌকা প্রতীক নিয়ে জনসভাস্থলে আসতে থাকেন। বেলা ২টার মধ্যে জনসভা জনসমুদ্রে রূপ নেয়। শেখ হাসিনা যখন জনসভাস্থলে এসে পৌঁছান, জয় বাংলা স্লোগান ও তুমুল করতালি দিয়ে তাকে স্বাগত জানানো হয়। প্রধানমন্ত্রীও হাত নেড়ে অভিনন্দনের জবাব দেন। জনসভাস্থলে জায়গা না হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ শুনতে ৫ কিলোমিটর জুড়ে লোক সমাগম ঘটে।
খুলনা সার্কিট হাউজ ময়দানের বিশাল জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে চলমান উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে নৌকা মার্কায় ভোট দেয়ার উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা বলেন, আমরা বাংলাদেশকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। বাংলাদেশকে উন্নত-সমৃদ্ধিশালী করতে চাই। আগামী নির্বাচনে নৌকার জয় হবে, ইনশাআল্লাহ! উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকবে।
খুলনা জেলা এবং মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নয়নের ধারা বজায় রাখতে হলে নৌকায় ভোট দেয়া ছাড়া কোনো বিকল্প নেই; এটা এখন দেশবাসী বুঝতে সক্ষম হয়েছে। আমরা চাই বাংলাদেশকে আরও উন্নত করতে। নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে স্বাধীনতা পেয়েছেন। মাতৃভাষায় কথা বলার অধিকার পেয়েছেন। আপনারা দেশের উন্নয়ন পেয়েছেন। গত নির্বাচনে নৌকায় ভোট দিয়েছিলেন, উন্নয়ন হয়েছে। আগামীতে নির্বাচন। আমি আপনাদের কাছে জানতে চাই, এই উন্নয়নের ধারা বজায় রাখতে চান? যদি চান, তাহলে নৌকা মার্কায় ভোট দিতে হবে। আপনারা বলেন, দুই হাত তুলে দেখান, কোন মার্কায় ভোট দেবেনÑ ওয়াদা করেন। এ সময় উপস্থিত লাখো জনতা দু’হাত তুলে সমস্বরে স্লোগান দিয়ে নৌকায় ভোট প্রদানের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আদালতের রায় প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়া দুর্নীতি করেছেন। আদালতের রায়ে তিনি কারাগারে। এখানে সরকার বা আওয়ামী লীগের কিছু করার নেই। দুর্নীতি করলে তাকে শাস্তি পেতেই হবে। অপরাধী যেই হোক তাকে শাস্তি পেতেই হবে। ২৪ মিনিটের বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি। এই বাংলাদেশের মাটিতে রাজাকার, আলবদর, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করেছি। জাতির পিতার হত্যাকারীদের বিচার করেছি।
প্রধানমন্ত্রী লাখো জনতার উদ্দেশে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন, আওয়ামী লীগ দেশের উন্নয়ন করে। অন্যদিকে বিএনপি-জামায়াত কী করে? নির্বাচন ঠেকানোর নামে তারা ক্ষমতায় যাওয়ার লোভে কত মানুষকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করেছে। বিএনপি নেত্রী (খালেদা জিয়া) তার নিজের অফিসে বসে থেকে ঘোষণা দিয়েছিল, আওয়ামী লীগ সরকারকে উৎখাত না করে তিনি নাকি ঘরে ফিরবেন না। প্রায় তিন মাসের কাছাকাছি অফিসে বসেছিলেন। উনি (খালেদা জিয়া) অফিসে বসে বিরিয়ানি খান আর মানুষ পোড়ানোর হুকুম দেন।
ওই সময়ের ভয়াল তা-বের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মা তার চোখের সামনে দেখে তার মেয়ে পুড়ে মারা যাচ্ছে। তার স্বামী পুড়ে মারা যাচ্ছে। বাবা চোখের সামনে দেখে তার ছেলে পুড়ে যাচ্ছে, কিছু করতে পারে না। সিএনজি চালক থেকে শুরু করে গাড়ির ড্রাইভার, বাসের চালক, ড্রাইভার, কনডাক্টর, ট্রাকের ড্রাইভার কাউকে বাদ দেয়া হয়নি। এমনকি আমি বিদ্যুৎ কেন্দ্র বানাই, সেই বিদ্যুৎ কেন্দ্র বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসীরা পুড়িয়ে দিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পুলিশ কী অপরাধ করেছে? ২৭ পুলিশকে তারা হত্যা করেছে। বিজিবির লোক হত্যা করেছে। প্রায় ৫০০ মানুষকে ওই খালেদা জিয়া আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যা করেছে। প্রায় সাড়ে ৩ হাজার মানুষ আগুনে পুড়ে আহত হয়েছে। তাদের জীবন-জীবিকার কোনো পথ নেই। তাদের সব পথ বন্ধ। লঞ্চে আগুন দিয়েছে। সরকারি অফিস আগুন দিয়ে পুড়িয়েছে। আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিএনপির তুলনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা উন্নয়নে বিশ্বাস করি। অন্যদিকে বিএনপি কী করে? বিএনপির কাজই ছিল সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ সৃষ্টি, মানুষ হত্যা করা, মানুষকে খুন করা। আগুনে পুড়িয়ে পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করা। ওরা যখনই ক্ষমতায় ছিল, সেই জিয়ার আমল থেকে শুরু করে প্রতিবার মানুষ হত্যা ছাড়া আর কিছুই করেনি।
খুলনা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপির সময় এই খুলনা ছিল সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের অভয়ারণ্য। প্রতিদিন মানুষ খুন হতো, প্রতি মুহূর্তে মায়ের কোল খালি হতো। এখানে যেন আর কোনো ধরনের সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে সেজন্য তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করে বলেন, ইমাম থেকে মাদ্রাসার শিক্ষক, সমাজের বিশিষ্টজন, মা-বোন যারা আছেন তারা আপনাদের ছেলেমেয়ে ঠিকমতো পড়াশুনা করে কি না, মাদকাসক্ত হলো কি না, জঙ্গিবাদে জড়াল কি না তা দেখতে হবে। তারা যেন এসবে কখনো সম্পৃক্ত হতে না পারে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, খুলনার সার্বিক উন্নয়নের ওয়াদা করেছিলাম। আজ (৩ মার্চ) ১০০টি প্রকল্পর উদ্বোধন করেছি, যেন খুলনার উন্নয়ন হয়। এই অঞ্চলকে আরও উন্নত করতে চাই। জুট মিল থেকে শুরু করে বিভিন্নœ কলকারখানার উৎপাদন শুরু করেছি। জাপান সরকারের সহযোগিতায় রূপসা ব্রিজ শুরু করেছিলাম। আজ সেটা বাস্তবায়ন হয়েছে। সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর মাধ্যমে বিভিন্ন ভাতার ব্যবস্থা করেছি। ৬৮ লাখ মা-বোন ভাতা পাচ্ছেন। ছেলেমেয়েদের বই কেনার দায়িত্ব নিয়েছি। জানুয়ারি মাসের ১ তারিখ বই উৎসব হয়। স্বাস্থ্য সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করেছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের বাংলাদেশ ডিজিটাল বাংলাদেশ। আওয়ামী লীগ সরকার আসার আগে কারও হাতে হাতে মোবাইল ফোন ছিল না। আমরা ক্ষমতায় এসে তা হাতে হাতে তুলে দিয়েছি। এর মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা থেকে শুরু করে আরও অনেক সেবা নিতে পারছেন। আমাদের লক্ষ্য উন্নয়ন। বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল তখন ওই মংলাবন্দর বন্ধ করে দিয়েছিল। এই অঞ্চল এক সময় উন্নত ছিল। এখন আবার উন্নয়নে পদক্ষেপ নিয়েছি। উন্নয়নের জন্য আমরা সব কাজ করে দিচ্ছি। ভোলায় অনেক গ্যাস পাওয়া গেছে। সেই গ্যাস পাইপলাইনের মাধ্যমে বরিশাল ও খুলনায় আনার ব্যবস্থা করা হবে।
শেখ হাসিনা বলেন, ইসলাম শান্তির ধর্ম। এটি হত্যা আর অশান্তির ধর্ম নয়। আমাদের ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া করবে, বিভিন্ন দেশে চাকরি করবেÑ এটাই আমরা চাই। আমাদের ছেলেমেয়েরা কেন বিপথে যাবে? তাদের উন্নয়নে নানা পদক্ষেপ নিয়েছি। প্রত্যেক ঘরে ঘরে আলো জ্বালাতে চাই। ইনশাআল্লাহ ২০২১ সালের মধ্যে কোনো ঘর অন্ধকার থাকবে না। সব ঘরে আলো জ্বলে সেই ব্যবস্থা আমরা নিয়েছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা যা ওয়াদা দিয়েছিলাম এর বাইরেও যে সমস্ত কাজ জনগণের জন্য কল্যাণকর সেগুলো আমরা করেছি। আমাদের লক্ষ্য উন্নয়ন। বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল, আপনারা জানেন ওই মংলাবন্দর বন্ধ করে দিয়েছিল। তিনি বলেন, মংলাবন্দর পর্যন্ত যেন রেললাইন যায়, পদ্মাসেতু থেকে শুরু করে যশোর-বাগেরহাট হয়ে মংলাবন্দর পর্যন্ত রেললাইন যাবে সে প্রকল্প বাস্তবায়নে তাঁর সরকার কাজ শুরু করেছে। কেউ কুঁড়েঘরে থাকবে না জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, একটা মানুষও গৃহহারা থাকবে না। প্রত্যেকটা মানুষের ঘর-বাড়ি তৈরি করে দেয়ার ব্যবস্থা নিয়েছি। আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় দেড় লাখ মানুষকে ঘর করে দিয়েছি।
খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হারুনুর রশীদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, ডা. দীপু মনি, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, সংসদ সদস্য শেখ হেলাল উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আফজাল হোসেন, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, কেন্দ্রীয় সদস্য বেগম মুন্নুজান সুফিয়ান, সাবেক মেয়র তালুকদার আবদুল খালেক, খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান, অ্যাডভোকেট নুরুল হক, মহিলা আওয়ামী লীগের মাহমুদা বেগম, স্বেচ্ছাসেবক লীগের পংকজ দেবনাথ, যুব মহিলা লীগের নাজমা আকতার, ছাত্রলীগের এস এম জাকির হোসাইন প্রমুখ। জনসভা পরিচালনা করেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা এস এম কামাল হোসেন।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, অর্থ উপদেষ্টা মশিউর রহমান, আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য পীযুষ কান্তি ভট্টাচার্য, আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর বেসরকারি খাত বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, মৎস্য ও প্রাণী সম্পদমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেক, সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী আফম রুহুল হক, তথ্য ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক, বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি এবং বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট সালাম মুর্শেদী প্রমুখ।