রাজনীতি

জাতীয় নির্বাচন ইস্যুতে উন্নয়নের বার্তা নিয়ে জনগণের দোরগোড়ায় আওয়ামী লীগ : স্বস্তিতে চাঙা দলের সকল স্তরের নেতাকর্মী

নিজস্ব প্রতিবেদক
আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। সরকারের মেয়াদের শেষ বছরে পা রেখে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষার পাশাপাশি দলকে সুসংগঠিত করে নির্বাচনের ফসল ঘরে তুলতে নানামুখী উদ্যোগ নিচ্ছে দলটি। ইতোমধ্যে কেন্দ্র থেকে নির্বাচনের পূর্ব প্রস্তুতি নেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে তৃণমূলে। নির্বাচন ইস্যুতে উন্নয়নের বার্তা নিয়ে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের জনগণের দোরগোড়ায় যেতে বলেছে আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব। তৈরি করা হয়েছে নির্বাচনি ছকও। তবে কৌশল হিসেবে নির্বাচনি কার্যক্রম এখনই দৃশ্যমান করবে না দলটি।
সূত্রমতে, নির্বাচনি প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে আওয়ামী লীগ। এ লক্ষ্যে দেশব্যাপী দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সাংগঠনিক সফর যথারীতি শুরু হয়েছে। দলের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, সফরের মাধ্যমে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল মেটাতে সর্বাত্মক উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। কারণ বিদ্রোহী প্রার্থী একটি বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিগত স্থানীয় নির্বাচনের প্রতিটি স্তরে একাধিক বিদ্রোহীর কারণে নৌকার ভরাডুবি হয়েছে। তাই আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগেই এসব সমস্যার সমাধান করতে নানামুখী তৎপরতা চালাচ্ছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। নির্বাচনে দল যাকে মনোনয়ন দেবে, তার পক্ষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নামতে হবেÑ দলীয় হাইকমান্ডের কঠোর এই হুঁশিয়ারি পৌঁছে দেবেন কেন্দ্রীয় নেতাদের ১৫ টিমের সদস্যরা। পাশাপাশি বিগত ৯ বছরে সরকারের উন্নয়ন এবং উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য আবারো আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনতে জনগণের দোরগোড়ায় তৃণমূলকে পৌঁছানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে উন্নয়নের বিভিন্ন চিত্রসংবলিত পোস্টার, ভিডিওচিত্র তৈরি করে জনগণের সামনে তুলে ধরা হচ্ছে। সেই সঙ্গে বিএনপি-জামায়াতের আমলের নানা দুঃসময়ের বিষয়গুলো তুলে ধরে নৌকার পাল্লা ভারী করতে জনগণের মন গলানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। বিভাগীয় শহরসহ গুরুত্বপূর্ণ জেলা শহরগুলোতে সফরের অংশ হিসেবে দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতোমধ্যে সিলেট, রাজশাহী, বরিশাল ও খুলনায় বিশাল জনসভা করেছেন। জনসভাগুলোতে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার জন্য আবারো নৌকা মার্কার পক্ষে ভোট চেয়েছেন এবং জনগণও সমস্বরে নৌকা মার্কায় ভোট দেয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।
এদিকে নির্বাচন নিয়ে তৎপরতা শুরু হওয়ায় দলের তৃণমূলের সম্ভাব্য প্রার্থীরাও নড়েচড়ে বসেছেন। অংশ নিচ্ছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে। সামাজিক কর্মকা-েও বেড়েছে তাদের সক্রিয় তৎপরতা। নানাভাবে কেন্দ্রীয় নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছেন তারা।
সূত্র জানায়, জনপ্রিয় প্রার্থী হিসেবে মাঠপর্যায়ের জরিপ প্রতিবেদন এখন দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার হাতে। আগামী নির্বাচনের আগে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা, জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ, বেসরকারি গবেষণা সংস্থা, দলীয় বিভিন্ন শাখার মাধ্যমে আসনভিত্তিক একাধিক জরিপ করা হয়। সব জরিপের ফল একসঙ্গে বিশ্লেষণ করে কিছু আসনের প্রার্থী প্রাথমিকভাবে চূড়ান্ত করা হয়েছে। যেসব আসনে মনোনয়ন পরিবর্তন হতে পারে এখন ওই আসনগুলো নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে। এ বিষয়ে দলের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, সবার কাছে গ্রহণযোগ্য এবং জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি এমন প্রার্থীই আমরা চাইব। দলের প্রস্তুতি বিষয়ে তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে জনসংযোগকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। মাঠপর্যায়ের কর্মীদের চাঙা করতে ইতোমধ্যেই আমরা জেলায় জেলায় কর্মিসভা করেছি। আরো কর্মিসভা, সদস্য নবায়নের প্রক্রিয়া ও সদস্য সংগ্রহ অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি। এসব কাজে আমাদের জনসম্পৃক্ততা থাকবে। পাশাপাশি প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে। প্রার্থী ও নির্বাচনের মাঠ সম্পর্কে প্রতি তিন মাস পরপরই জরিপ চালানো হচ্ছে। প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে মনোনয়ন বোর্ডকে সাহায্য করবে এসব তথ্য। সব মিলিয়ে আমাদের নির্বাচনি প্রস্তুতির কাজ চলছে পুরোদমে।
আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, বিএনপি নয়, উগ্র সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদ নিয়ে তারা চিন্তিত ও সেই বিষয়ে সতর্ক থাকবে আওয়ামী লীগ। তাই নির্বাচনি বছরে দলের নেতাকর্মী ও জনগণের মধ্যকার দূরত্ব কমিয়ে দলকে সুসংগঠিত করবে আওয়ামী লীগ। আর উন্নয়ন, অগ্রগতি ও অর্জনের সাথে জনগণের সেতুবন্ধ ঘটিয়ে আগামী জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি সারবে দলটি। সরকার কর্তৃক পরিচালিত দরিদ্র ও দুস্থভাতাসহ বিভিন্ন প্রকল্প ও উন্নয়নের সুফল জনগণের জন্য নিশ্চিত করতে বেশকিছু উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। সুসংগঠিত দল নিয়ে উন্নয়নের প্রচারণার মধ্য দিয়ে জাতীয় নির্বাচনের আগেই মাঠ নিজেদের পক্ষে নেয়ার টার্গেট আওয়ামী লীগের। আর আগামী জাতীয় নির্বাচনে স্বচ্ছ ইমেজের অপেক্ষাকৃত তরুণ প্রার্থীর মনোনয়ন নিয়েও ব্যাপক চিন্তাভাবনা রয়েছে দলটির। নির্বাচনের মাত্র আট-নয় মাস বাকি থাকায় এপ্রিলের মধ্যেই নির্বাচনকেন্দ্রিক গ্রাউন্ড ওয়ার্ক সম্পন্ন করতে চায় ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্ব। এরই অংশ হিসেবে আওয়ামী লীগ গত ২৬ জানুয়ারি থেকে দেশব্যাপী সাংগঠনিক সফর শুরু করেছে। এ লক্ষ্যে সংগঠনকে গতিশীল ও নির্বাচনমুখী করার প্রত্যয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের নেতৃত্বে ১৫টি শক্তিশালী টিম গঠন করা হয়েছে। এই টিমগুলো জেলা, মহানগর, উপজেলা ও থানা পর্যায়ে সাংগঠনিক সফরে যাচ্ছে এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভা-কর্মিসভায় অংশ নেয়া শুরু করেছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের আওয়ামী লীগ নেতাদের দেশব্যাপী এই সাংগঠনিক সফরকে সফল করার লক্ষ্যে সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের নির্দেশনা দিয়েছেন।
জানুয়ারিতে সরকারের ৪ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন গণভবন থেকে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই ভাষণেও প্রধানমন্ত্রী সুস্পষ্ট করে বলেছেন, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার চলতি মেয়াদে চার বছর অতিক্রম করেছে। আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি। জনগণের প্রতি আমাদের পূর্ণ আস্থা আছে। আমাদের নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী একাদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের প্রার্থীর জনপ্রিয়তার মাপকাঠি যাচাই, সঠিক প্রার্থী বাছাই, তৃণমূলে প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিতকরণ, দলীয় অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসন, নির্বাচন পর্যন্ত মাঠের রাজনীতির করণীয়, নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করা, বহির্বিশ্বের সহযোগিতা পাওয়াসহ সামনে যেসব বাধা আছে বলে মনে হচ্ছে সেগুলো দূর করার চেষ্টায় কাজ শুরু করেছেন দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ দলের শীর্ষ অনেক নেতা বিভিন্ন সভা-সমাবেশ ও আলোচনায় বরাবরই বলছেন, সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে। আর সেই নির্বাচনে বিএনপিসহ দেশের সব রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করবে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ একটি নিয়মতান্ত্রিক গণতান্ত্রিক দল। সংবিধানের বাইরে দলটি যাবে না।
দলীয় সূত্র জানিয়েছে, বিএনপি অন্যান্য স্থানীয় নির্বাচনের ন্যায় জাতীয় নির্বাচনেও অংশগ্রহণ করবে সেরকম চ্যালেঞ্জ নিয়েই মাঠে কাজ করছে আওয়ামী লীগ। তারা মনে করছে আগামী নির্বাচনের জন্য দল অনেকটা প্রস্তুত। এখন চলছে শেষ মুহূর্তের চূড়ান্ত প্রস্তুতি। চলতি বছরে আওয়ামী লীগের পরিকল্পনার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে ধরা হয়েছে প্রার্থী বাছাই। কারণ নির্বাচনের বাকি আছে মাত্র আট মাস, যা একটি জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতির জন্য খুব পর্যাপ্ত সময় নয়। এ কারণে দ্রুতই প্রার্থী ঠিক করে ফেলতে চায় ক্ষমতাসীনরা। আর প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হবে প্রার্থীর জনপ্রিয়তা ও তুলনামূলক স্বচ্ছ ইমেজ।
সড়ক যোগাযোগ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের দলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই আওয়ামী লীগে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার বিষয়ে জোর দিয়েছেন। তিনি নেতাকর্মীদের বারবার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলছেন, আগামী নির্বাচনে ক্ষমতায় আসতে হলে দলে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হবে। নেতাকর্মীদের সংশোধিত হতে হবে। জনগণের সঙ্গে ভালো আচরণ করতে হবে।
দলীয় নেতাকর্মীদের আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, আগামী নির্বাচনের আর বেশি দেরি নেই। এ জন্য আমাদের প্রস্তুত হতে হবে। দলকে একটি সুশৃঙ্খল, কলহ-কোন্দলমুক্ত শক্তি হিসেবে আমাদের তৈরি হতে হবে। দলের মধ্যে কেউ বিপথগামী হলে সংশোধন করা হবে। সংশোধন করা সম্ভব না হলে তাকে দল থেকে বের করে দিতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। গুটিকয়েক কর্মীর জন্য শেখ হাসিনার উন্নয়নকে মøান করতে দেয়া যাবে না।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরো বলেন, আগামী নির্বাচনের জন্য সকল নেতাকর্মীকে প্রস্তুত হতে হবে। জণগণের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করবেন না। এখন যাদের শাস্তি দিচ্ছেন তখন তারা আমাদের ভালো প্রার্থীকেও ভোটের মাধ্যমে শাস্তি দিয়ে দিবে। যেকোনো কাজ করেনÑ মানুষের চোখের ভাষা, মনের ভাষা বুঝতে হবে। এই দিন দিন নয়, আরো দিন আছে। যে কাজই করেন না কেনো, জনগণের চোখের ভাষা এবং মনের ভাষা বুঝে চলতে হবে। তা না হলে তারা নির্বাচনের মাধ্যমে উপযুক্ত জবাব দিয়ে দেবে। যেমনটি বিএনপিকে দিয়েছে।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় এক সাংগঠনিক সম্পাদক সাপ্তাহিক স্বদেশ খবরকে বলেন, প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কে কোন মাপের নেতা, সেটা বিবেচ্য বিষয় হবে না। কারণ আওয়ামী লীগের লক্ষ্য হলো নির্বাচনে জয়ী হয়ে আসা। দল জয়ী হয়ে আসতে পারলে সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলে তখন সবাই ক্ষমতা ব্যবহার করতে পারবে। আর তাতে যদি দল ব্যর্থ হয়; তাহলে যত বড় নেতাই নির্বাচিত হোক না কেন, কোনো কাজে আসবে না।
দলীয় সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সফরে দলীয় কোন্দল মেটানোকেও বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। টানা দুইবার ক্ষমতায় থাকার কারণে দলে নেতার সংখ্যাও ব্যাপক হারে বেড়েছে। তবে সবাই এলাকায় জনপ্রিয়তা অর্জন করতে পারেনি। অধিকাংশ জেলায় সংসদ সদস্য এবং জেলা নেতাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব ও গ্রুপিং রয়েছে। এ বিষয়গুলো সামনে রেখে সব সমস্যা সমাধানে কাজ চলছে। দলের অপর একটি সূত্র জানিয়েছে, বিগত সময়ে দলের ক্রাইসিস মুহূর্তে কার কী ভূমিকা ছিল, তা বিচার-বিবেচনা করা হবে আগামী নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে। বিশেষ করে স্থানীয় পর্যায়ে নির্বাচনগুলোতে (ইউনিয়ন পরিষদ, জেলা পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন) নেতাদের ভূমিকা গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে। কার কারণে দলীয় প্রার্থীর পরাজয় হয়েছে, সে বিষয়গুলোও এরই মধ্যে নির্ধারণ করা হয়েছে। সর্বশেষ বিভিন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্তের পরও দলীয় প্রার্থীর পক্ষে যারা কাজ করেনি তাদের সম্পর্কে ইতোমধ্যে দলীয় প্রধানকে অবহিত করা হয়েছে। ইতোমধ্যেই অনেককে সতর্ক করা হয়েছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নের সময়ও বিতর্কিত ও সন্দেহভাজনদের বিষয়টি মাথায় রাখা হবে।
স্বচ্ছ ইমেজের নেতা নির্বাচনে প্রাথমিক কাজ গত বছরের মাঝামাঝি থেকেই শুরু হয়েছে। দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা বিশ্বস্তদের দিয়ে সারাদেশের জাতীয় নির্বাচনের আসনভিত্তিক প্রাথমিক জরিপ করিয়েছেন। বাকি কাজও দ্রুত শেষ করা হবে। এসবের অংশ হিসেবে সারাদেশে তৃণমূলের দ্বন্দ্ব নিরসনে মাঠে নেমেছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। এর পাশাপাশি তারা নেতাদের জনপ্রিয়তাও যাচাই করছেন। এখন থেকেই দলের সিনিয়র নেতাদের নির্বাচন জরিপ সংক্রান্ত কাজের সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে। আর জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে চলতি বছরে সংগঠন গোছানো, কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত সংগঠনের অভ্যন্তরীণ দলাদলি দূর করা, ঝিমিয়ে পড়া নেতাকর্মীদের চাঙা করার মতো কর্মসূচি নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ। নেতারা মনে করেন, দল টানা দু’বার ক্ষমতায় থাকার ফলে সংগঠন অনেকাংশে অসংগঠিত হয়ে পড়েছে। নির্বাচনের আগেই তাই দলকে গুছিয়ে নিতে হবে। নেতাকর্মীদের মধ্যে টানাপড়েন রেখে নির্বাচন মোকাবিলা করা এবং তাতে বিজয় ছিনিয়ে আনা কষ্টসাধ্য হবে। নির্বাচনে দলের সর্বশক্তি প্রয়োগ করবে আওয়ামী লীগ। বিশেষ করে নির্বাচনকেন্দ্রিক কাজের পাশাপাশি সরকারের উন্নয়ন কর্মকা- জনগণের দৃষ্টিগোচর করতে কাজ করবে আওয়ামী লীগ। আর সারাদেশে সরকারের উন্নয়ন কর্মকা-ের পাল্লা বেশ ভারী হওয়ায় নির্বাচকেন্দ্রিক জনগণের দৃষ্টি আকর্ষণ করাটা আওয়ামী লীগের জন্য অনেকটা সহজ বলে স্বস্তিতে চাঙা রয়েছে দলের তৃণমূল নেতাকর্মীরা।